অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৩ | Class 8 History First Unit Test Question with Answer Set-3 wbbse

FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 8 (VIII) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER

Set-3

অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৩ | Class 8 History First Unit Test Question with Answer Set-3 wbbse

∆ পাঠ্যসূচি—

অধ্যায় – ২. আঞ্চলিক শক্তির উত্থান
অধ্যায় – ৩. ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
অষ্টম শ্রেণি
বিষয় : ইতিহাস
পূর্ণমান-৩০                              সময় : ১ ঘণ্টা 

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১x৬=৬

(i) বন্দিবাসের যুদ্ধ কত সালে হয়- (a) ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ, (৮) ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ, (c) ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দ, (d) ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দ

উত্তরঃ (a) ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।

(ii) ভারতের কোথায় প্রথম পাটের কল চালু হয়- (a) রিষড়ায়, (b) কলকাতায়, (c) চেন্নাই (d) দিল্লি।

উত্তরঃ (a) রিষড়ায়।

(iii) ভারতে রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হয়- (a) ১৫৫৩ খ্রিস্টাব্দে, (b) ১৬৫৩ খ্রিস্টাব্দে, (c) ১৭৫৩ খ্রিস্টাব্দে, (d) ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে।

উত্তরঃ (d) ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে।

(iv) অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি প্রবর্তন করেন কে- (a) লর্ড ক্লাইভ, (b) লর্ড ডালহৌসি, (c) লর্ড ওয়েলেসলি, (d) ডেভিড হেয়ার।

উত্তরঃ (c) লর্ড ওয়েলেসলি

(v) পলাশীর যুদ্ধ কাদের মধ্যে হয়- (a) ইংরেজ ও ঔরঙ্গজেব, (b) ইংরেজ ও বাবর, (c) ইংরেজ ও সিরাজউদ্দৌলা, (d) ইংরেজদের সঙ্গে মারাঠাদের।

উত্তরঃ (c) ইংরেজ ও সিরাজউদ্দৌলা।

(vi) হিন্দু কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করে-‌ (a) উইলিয়াম কেরি, (b) জোনাথন ডানকান, (c) ডেভিড হেয়ার (d) মেকলে

উত্তরঃ (c) ডেভিড হেয়ার।

২। নির্দেশ অনুসারে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও (যে-কোনো চারটি) : ১×৪=৪

(i) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নাম কী ?

উত্তরঃ স্যার এলিজা ইম্পে।

(ii) ঔরঙ্গজেব কত সালে মারা যান ?

উত্তরঃ ১৭০৭ খ্রিষ্টাব্দে।

(iii) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কে প্রবর্তন করেন ?

উত্তরঃ লর্ড কর্নওয়ালিস (১৭৯৩ সালে)।

(iv) ঠগি দস্যুদের কে দমন করেন ?

উত্তরঃ ক্যাপ্টেন উইলিয়াম স্লিম্যান (লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নির্দেশে)।

৩। নিচের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যে-কোনো দুটি) : ২x২=৪

(i) অন্ধকূপ হত্যা কাকে বলে ?

উত্তরঃ হলওয়েল নামক জনৈক ইংরেজ কর্মচারীর বর্ণনা অনুসারে, সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণের পর ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের একটি ছোট ঘরে (১৮ ফুট লম্বা ও ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি চওড়া) ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে আটকে রাখেন। পরদিন সকালে দেখা যায় অসহ্য গরমে ও শ্বাসকষ্টে ১২৩ জন মারা গেছেন। এই ঘটনাকে ‘অন্ধকূপ হত্যা’ বলা হয়। যদিও আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে এই ঘটনা অতিরঞ্জিত।

(ii) পলাশীর লুন্ঠন কাকে বলে ?

উত্তরঃ ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে জয়ের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার রাজকোষ থেকে বিপুল পরিমাণ ধনরত্ন ও অর্থ আত্মসাৎ করে নিজেদের দেশে পাঠাতে শুরু করে। কোম্পানি এবং তার কর্মচারীদের এই সীমাহীন সম্পদ আহরণ ও বাংলার অর্থনৈতিক শোষণকে ঐতিহাসিক পার্সিভাল স্পিয়ার ‘পলাশীর লুণ্ঠন’ (Plassy Plunder) বলে অভিহিত করেছেন।

(iii) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর কাকে বলে ?

উত্তরঃ বাংলা ১১৭৬ সনে (ইংরেজি ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে) বাংলায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল তাকে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বলা হয়। কোম্পানির দ্বৈত শাসন, রাজস্বের উচ্চ হার এবং অনাবৃষ্টির ফলে এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

৪। নিচের প্রশ্নগুলি ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও (যে-কোনো দুটি) : ৩×২=৬

(i) ফারুকশিয়ার ফরমানের গুরুত্ব গুলি কী কী ?

উত্তরঃ ফারুকশিয়ারের ফরমানের গুরুত্ব: ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট ফারুকশিয়ার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে যে রাজকীয় ফরমান দিয়েছিলেন, তার গুরুত্ব অপরিসীম—

বিনা শুল্কে বাণিজ্য: কোম্পানি বছরে মাত্র ৩,০০০ টাকার বিনিময়ে বাংলায় বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকার পায়।

দস্তকের ব্যবহার: কোম্পানি নিজস্ব ‘দস্তক’ (বাণিজ্যের ছাড়পত্র) ব্যবহারের অনুমতি পায়, যা তাদের পণ্য চলাচলে সুবিধা দেয়।
নিজস্ব মুদ্রা: কোম্পানিকে বোম্বাইয়ের টাঁকশালে মুদ্রা তৈরির অধিকার দেওয়া হয়, যা সারা মুঘল সাম্রাজ্যে গ্রহণযোগ্য হয়।

রাজনৈতিক ভিত: এই ফরমান কোম্পানিকে ভারতের মাটিতে বৈধ বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি প্রদান করে।

(ii) এশিয়াটিক সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেন এর উদ্দেশ্য গুলি কী কী ?

উত্তরঃ ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় স্যার উইলিয়াম জোন্স এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল উদ্দেশ্যগুলি ছিল—

প্রাচ্য বিদ্যাচর্চা: ভারতসহ এশিয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রাচীন সাহিত্য এবং বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করা।

পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ: ভারতের অমূল্য প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা।
অনুবাদ: সংস্কৃত ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলি ইংরেজিতে অনুবাদ করে পশ্চিমি দুনিয়ায় পৌঁছে দেওয়া।

প্রশাসনিক সুবিধা: ব্রিটিশ আধিকারিকদের ভারতীয় সমাজ ও আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া, যাতে শাসন পরিচালনা সহজ হয়।

(ii) অন্ধকূপ হত্যা সম্পর্কে যা জানো লিখো ?

উত্তরঃ অন্ধকূপ হত্যা হলো ব্রিটিশ কর্মচারী হলওয়েলের বর্ণিত একটি বিতর্কিত ঐতিহাসিক ঘটনা—

ঘটনা: ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা জয় করার পর ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের একটি ছোট ঘরে (১৮ ফুট × ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি) ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে আটকে রাখা হয়।

পরিণতি: পরদিন সকালে দেখা যায় অসহ্য গরমে ও শ্বাসকষ্টে ১২৩ জন মারা গেছেন।

ঐতিহাসিক বিতর্ক: আধুনিক ঐতিহাসিকরা (যেমন অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়) মনে করেন এটি একটি সাজানো গল্প। এত ছোট ঘরে ১৪৬ জন মানুষকে রাখা গাণিতিক দিক থেকে অসম্ভব। মূলত ব্রিটিশদের উত্তেজিত করার জন্যই হলওয়েল এই বিবরণ দিয়েছিলেন।

(iv) পুলিশি ব্যবস্থা সম্পর্কে যা জানো লেখো ?

উত্তরঃ পুলিশি ব্যবস্থা: ব্রিটিশ শাসনে লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতে আধুনিক পুলিশি ব্যবস্থার সূচনা করেন:

থানা ব্যবস্থা: ১৭৯৩ সালে কর্নওয়ালিস জেলাগুলোকে কয়েকটি ‘থানা’ বা প্রশাসনিক এলাকায় ভাগ করেন এবং প্রতিটি থানায় একজন ‘দারোগা’ নিয়োগ করেন।

পুলিশ সুপার: পুলিশ বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ সুপারের (SP) পদ সৃষ্টি করা হয়।

উদ্দেশ্য: ব্রিটিশদের প্রধান লক্ষ্য ছিল অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং কোম্পানির বিরোধী যেকোনো বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করা।

ত্রুটি: তৎকালীন পুলিশ বাহিনী সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল না এবং দুর্নীতি ও অত্যাচারের জন্য কুখ্যাত ছিল।

৫। নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যে-কোনো দুটি) : ৫x২=১০

(i) ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারে খ্রিস্টান মিশনারীদের অবদান আলোচনা করো।

উত্তরঃ ১. প্রাথমিক উদ্যোগ: ঊনবিংশ শতকের শুরুতে ব্রিটিশ কোম্পানি ভারতে শিক্ষার প্রসারে আগ্রহী না হলেও খ্রিস্টান মিশনারিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের কাজ শুরু করেন।

২. শ্রীরামপুর ত্রয়ী: ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান এবং উইলিয়াম ওয়ার্ড শ্রীরামপুরে ‘ব্যাটপ্টিস্ট মিশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁরা ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ নামে পরিচিত ছিলেন।

৩. মুদ্রণ যন্ত্র ও পাঠ্যপুস্তক: মিশনারিরা শ্রীরামপুরে মুদ্রণ যন্ত্র স্থাপন করে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক ও বাইবেল অনুবাদ করে ছাপাতে শুরু করেন, যা শিক্ষার প্রসারে গতি আনে।

৪. স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা: কেরি ও তাঁর সহযোগীরা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় শিক্ষার জন্য শ্রীরামপুর কলেজ (১৮১৮) এবং বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।

৫. আলেকজান্ডার ডাফের ভূমিকা: স্কটিশ মিশনারি আলেকজান্ডার ডাফ কলকাতায় ‘জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন’ (বর্তমান স্কটিশ চার্চ কলেজ) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে বড় ভূমিকা নেয়।

৬. নারীশিক্ষা: মিশনারিরাই প্রথম ভারতে প্রাতিষ্ঠানিক নারীশিক্ষার উদ্যোগ নেন এবং মেয়েদের জন্য আলাদা বিদ্যালয় গড়ে তোলেন।

৭. উদ্দেশ্য: যদিও তাঁদের প্রধান লক্ষ্য ছিল খ্রিস্টধর্ম প্রচার করা, তবুও তাঁদের মাধ্যমেই ভারতীয়দের মধ্যে আধুনিক বিজ্ঞান, দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।

পরিশেষে বলা যায়, মিশনারিদের এই প্রচেষ্টাই পরবর্তীকালে ভারতে সরকারিভাবে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনের পথ প্রশস্ত করেছিল।

(ii) দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার সম্পর্কে যা জানো লেখো।

উত্তরঃ ১. উৎপত্তি: ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার ‘দেওয়ানি’ (রাজস্ব আদায়ের অধিকার) লাভ করলে বাংলায় এক অদ্ভুত শাসন কাঠামো তৈরি হয়, যা ‘দ্বৈত শাসন’ নামে পরিচিত।

২. ক্ষমতা ও দায়িত্বের বিভাজন: এই ব্যবস্থায় শাসনের দায়িত্ব দুটি পক্ষের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। একদিকে রাজস্ব আদায় ও সামরিক রক্ষার পূর্ণ ক্ষমতা বা ‘দেওয়ানি’ ছিল ইংরেজ কোম্পানির হাতে। অন্যদিকে, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল নবাবের হাতে।

৩. দায়িত্বহীন ক্ষমতা: কোম্পানির হাতে ছিল প্রচুর অর্থ ও ক্ষমতা, কিন্তু শাসনের বা প্রজাসাধারণের ভালো-মন্দের কোনো নৈতিক ‘দায়িত্ব’ ছিল না।

৪. ক্ষমতাহীন দায়িত্ব: বাংলার নবাবের হাতে ছিল শাসনের যাবতীয় দায়িত্ব, কিন্তু সেই কাজ করার জন্য তাঁর হাতে কোনো ‘অর্থ’ বা ‘ক্ষমতা’ ছিল না।

৫. কুফল ও দুর্ভিক্ষ: এই ব্যবস্থার ফলে কোম্পানির কর্মচারীরা যথেচ্ছ রাজস্ব আদায় ও লুণ্ঠন শুরু করে। এর ফলে বাংলার অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ) ভয়াবহ ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

৬. অবসান: পরিশেষে, ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস এই চরম অরাজক ও ক্ষতিকর শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে সরাসরি কোম্পানির শাসন প্রবর্তন করেন।

(iii) বক্সারের যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল ?

উত্তরঃ যুদ্ধের কারণ: বাংলার নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের হাতের পুতুল হয়ে থাকতে চাননি। তিনি কোম্পানির কর্মচারীদের দস্তকের অপব্যবহার ও অবৈধ ব্যক্তিগত বাণিজ্য বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এছাড়া তিনি নিজের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলার সাথে একটি সম্মিলিত বাহিনী গঠন করেন। ইংরেজদের আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোই ছিল এই যুদ্ধের মূল কারণ।

যুদ্ধের ফলাফল: ১. সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব: ১৭৬৪ সালের এই যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে সম্মিলিত বাহিনী পরাজিত হয়, যা প্রমাণ করে যে ব্রিটিশ সামরিক শক্তি তৎকালীন ভারতীয় শক্তিগুলোর চেয়ে অনেক উন্নত।

২. দেওয়ানি লাভ: এই যুদ্ধের পর ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে এলাহাবাদের চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার ‘দেওয়ানি’ বা রাজস্ব আদায়ের আইনি অধিকার লাভ করে।

৩. রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ: বক্সারের যুদ্ধের ফলে কোম্পানি ভারতের রাজনীতিতে একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে ওঠে। অযোধ্যার নবাব এবং মুঘল সম্রাট কার্যত কোম্পানির আশ্রিত ব্যক্তিতে পরিণত হন।

৪. ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি: পলাশীর যুদ্ধ যদি ব্রিটিশ শাসনের সূচনা করে থাকে, তবে বক্সারের যুদ্ধ সেই শাসনকে ভারতে স্থায়ী ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দেয়।

(iv) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে কৃষকদের উপর প্রভাব গুলো আলোচনা কর।

উত্তরঃ ১. মালিকানা স্বত্ব হারানো: এই ব্যবস্থায় জমির চূড়ান্ত মালিকানা জমিদারদের হাতে চলে যায়। ফলে বংশপরম্পরায় চাষ করে আসা কৃষকরা জমির মালিক থেকে কেবল ‘ভাড়াটে চাষি’ বা প্রজায় পরিণত হয়।

২. খাজনার উচ্চ হার: জমিদারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব সরকারকে দিতে হতো। নিজের মুনাফা বাড়াতে জমিদাররা কৃষকদের ওপর চড়া হারে খাজনার বোঝা চাপিয়ে দিতেন।

৩. অত্যাচার ও শোষণ: নির্দিষ্ট সময়ে খাজনা দিতে না পারলে কৃষকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করা হতো এবং অনেক সময় তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হতো।

৪. ঋণগ্রস্ততা: খাজনা মেটানোর জন্য কৃষকরা গ্রাম্য মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হতো। এর ফলে তারা চিরঋণী হয়ে পড়ত এবং মহাজনদের শোষণের শিকার হতো।

৫. নিরাপত্তাহীনতা: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে জমিদারের অধিকার সুরক্ষিত থাকলেও কৃষকদের অধিকার বা স্বার্থ রক্ষার কোনো আইনি ব্যবস্থা রাখা হয়নি, যা তাদের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছিল।

পরিশেষে বলা যায়, এই ব্যবস্থার ফলে বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ে এবং কৃষকরা চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়ে।

📌আরও পড়ুনঃ

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply