অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-২ | Class 8 History First Unit Test Question with Answer Set-2 wbbse

FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 8 (VIII) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER

Set-2

অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-২ | Class 8 History First Unit Test Question with Answer Set-2 wbbse

পাঠ্যসূচি—

অধ্যায় – ২. আঞ্চলিক শক্তির উত্থান
অধ্যায় – ৩. ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
অষ্টম শ্রেণি
বিষয় : ইতিহাস

পূর্ণমান-৩০                 সময় : ১ ঘণ্টা মিনিট

Baidyanathpur High School
Pandaveswar, Paschim Bardhaman
1st Summative Evaluation, 2025
Class – VIII
Subject – History

F.M. 30                          Time-1 Hr.

1. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : 1×6=6

(i) মোগল সম্রাট ফারুখশিয়র একটি আদেশ বা ফরমান জারি করেছিলেন—
(ক) ১৭১৭ সালে
(খ) ১৭২২ সালে
(গ) ১৭২৩ সালে
(ঘ) ১৭২৭ সালে

উত্তরঃ (ক) ১৭১৭ সালে

(ii) ‘অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি’ চালু করেছিলেন—
(ক) রবার্ট ক্লাইভ
(খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
(গ) লর্ড ওয়েলেসলি
(ঘ) লর্ড ডালহৌসি

উত্তরঃ (গ) লর্ড ওয়েলেসলি

(iii) সলবাই এর চুক্তি হয়েছিল—
(ক) ১৭৬৫ সালে
(খ) ১৭৭০ সালে
(গ) ১৭৮২ সালে
(ঘ) ১৮০২ সালে

উত্তরঃ (গ) ১৭৮২ সালে

(iv) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল—
(ক) ১৭৯৩ সালে
(খ) ১৮০০ সালে
(গ) ১৮০২ সালে
(ঘ) ১৮২৩ সালে

উত্তরঃ (খ) ১৮০০ সালে

(v) এশিয়াটিক সোসাইটি কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—
(ক) উইলিয়াম কেরি
(খ) উইলিয়াম জোনস
(গ) লর্ড ওয়েলেসলি
(ঘ) লর্ড কর্ণওয়ালিশ

উত্তরঃ (খ) উইলিয়াম জোনস।

(vi) পলাশির যুদ্ধ হয়েছিল—
(ক) ১৭০৯ সালে
(খ) ১৭৪০ সালে
(গ) ১৭৫৭ সালে
(ঘ) ১৭৬৮ সালে

উত্তরঃ (গ) ১৭৫৭ সালে।

2. অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 1×4=4

(i) বন্দিবাসের যুদ্ধ কবে কাদের মধ্যে সংঘটিত হয় ?

উত্তরঃ ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ বাহিনী ও ফরাসি বাহিনীর মধ্যে বন্দিবাসের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

(ii) আলিনগরের সন্ধি হয়েছিল কাদের মধ্যে ?

উত্তরঃ আলিনগরের সন্ধি হয়েছিল বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির (রবার্ট ক্লাইভ) মধ্যে (৯ ফেব্রুয়ারি, ১৭৫৭)।

(iii) কে, কবে হায়দরাবাদের আঞ্চলিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ?

উত্তরঃ ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে মীর কমর-উদ-দিন খান সিদ্দিকী (যিনি ‘নিজাম-উল-মুলক’ বা ‘আসাফ জাহ’ নামে পরিচিত) হায়দরাবাদে আঞ্চলিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

(iv) কলকাতায় হিন্দু কলেজ কত খ্রীষ্টাব্দে স্থাপিত হয় ?

উত্তরঃ ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় হিন্দু কলেজ স্থাপিত হয়।

3. দু-তিনটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : 2×2=4

(i) অন্ধকূপ হত্যা কী ?

উত্তরঃ হলওয়েল নামে এক ব্রিটিশ কর্মচারীর প্রচার অনুযায়ী, ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করে ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি চওড়া একটি ছোট ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে আটকে রেখেছিলেন। পরদিন সকালে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এদের মধ্যে ১২৩ জন মারা যান। এই ঘটনা ইতিহাসে ‘অন্ধকূপ হত্যা’ নামে পরিচিত। (যদিও বর্তমান অনেক ঐতিহাসিক এই ঘটনাকে অতিশয়োক্তি বলে মনে করেন)।

অথবা, বক্সারের যুদ্ধ কত খ্রীষ্টাব্দে কাদের মধ্যে হয়েছিল ?

উত্তরঃ ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধ হয়েছিল একদিকে বাংলার নবাব মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সম্মিলিত বাহিনীর সঙ্গে এবং অন্যদিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে।

(ii) পলাশির লুঠন কাকে বলে ?

উত্তরঃ ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধের পর মির্জাফর নবাব হলে ব্রিটিশ কোম্পানিকে নগদ ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা এবং প্রচুর সম্পদ প্রদান করেন। এছাড়া কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মচারীরাও ব্যক্তিগতভাবে বিপুল ধনসম্পদ লাভ করেন। এইভাবে যুদ্ধের পর বাংলার সম্পদকে নিয়মহীনভাবে ব্রিটেনে পাচার করাকেই ঐতিহাসিকরা ‘পলাশির লুঠন’ বলে অভিহিত করেছেন।

অথবা, ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ কাকে বলে ?

উত্তরঃ বাংলায় ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ) এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, যা ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত। কোম্পানির শাসনের অধীনে অতিরিক্ত রাজস্বের চাপ এবং পরপর কয়েক বছর অনাবৃষ্টির ফলে শস্যহানি হওয়ার কারণে এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

4. নীচের প্রশ্নদুটির উত্তর দাও : 3×2=6

(i) দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বলতে কী বোঝ ?

উত্তরঃ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা—

১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার ‘দেওয়ানি’ (রাজস্ব আদায়ের অধিকার) লাভ করে। এর ফলে বাংলায় এক অদ্ভুত শাসনব্যবস্থার সৃষ্টি হয়:
বিভাগ: বাংলার শাসন ক্ষমতা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একদিকে রাজস্ব আদায় ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব থাকে কোম্পানির হাতে, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ প্রশাসনের দায়িত্ব থাকে নবাবের হাতে।

ক্ষমতা ও দায়িত্বের বিভাজন: এই ব্যবস্থায় কোম্পানির হাতে ছিল প্রচুর অর্থ ও প্রকৃত ক্ষমতা, কিন্তু কোনো দায়িত্ব ছিল না। অন্যদিকে, নবাবের হাতে শাসনের দায়িত্ব থাকলেও তা পালন করার মতো কোনো অর্থ বা ক্ষমতা ছিল না।

পরিণতি: এই শাসনব্যবস্থার ফলে বাংলার অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। কৃষকদের ওপর রাজস্বের চাপ অসহনীয় হয়ে ওঠে, যার চরম পরিণতি ছিল ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দের (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) ভয়াবহ ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’।

অথবা, ফারুখশিয়রের ফরমানের গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তরঃ ফারুকশিয়রের ফরমানের গুরুত্ব : ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট ফারুকশিয়রের ফরমানটি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ—

আইনি স্বীকৃতি: এই ফরমানের মাধ্যমেই ব্রিটিশ কোম্পানি প্রথম ভারতে (বিশেষত বাংলায়) আইনসম্মতভাবে নিজেদের বাণিজ্য করার অধিকার পায়। এর ফলে তাদের ব্যবসায়িক ভিত্তি অনেক মজবুত হয়।

বাণিজ্যিক একাধিপত্য: মাত্র বার্ষিক ৩,০০০ টাকার বিনিময়ে বাংলায় বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকার পাওয়ায় কোম্পানি অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকদের (যেমন—ফরাসি বা ওলন্দাজ) তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

নবাবের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত: ফরমানের অপব্যবহার করে কোম্পানির কর্মচারীরা যখন ব্যক্তিগত বাণিজ্যেও ‘দস্তক’ (ছাড়পত্র) ব্যবহার করতে শুরু করে, তখন বাংলার রাজস্বের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই দস্তকের অপব্যবহারই পরবর্তীকালে বাংলার নবাবদের (যেমন—মুর্শিদকুলি খান থেকে সিরাজউদ্দৌলা) সঙ্গে ইংরেজদের সংঘাতের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

উপসংহার: এই ফরমান কোম্পানিকে বাণিজ্যিক সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পরোক্ষভাবে বাংলায় ব্রিটিশ রাজনৈতিক ক্ষমতা বিস্তারের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল।

(ii) মেকলে মিনিটস কী ?

উত্তরঃ মেকলে মিনিটস—

১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে বড়লাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আইন সচিব ও শিক্ষা কমিটির সভাপতি টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ভারতে শিক্ষা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন, যা ইতিহাসে ‘মেকলে মিনিট’ নামে পরিচিত।

∆ এর প্রধান বিষয়গুলি ছিল—

পাশ্চাত্য শিক্ষার সমর্থন: মেকলে ভারতে প্রাচ্য বা দেশীয় শিক্ষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষা (বিজ্ঞান ও ইংরেজি সাহিত্য) প্রসারের জোরদার সুপারিশ করেন।

প্রাচ্য শিক্ষার সমালোচনা: তিনি প্রাচ্য বিদ্যাকে অত্যন্ত নিচু মানের বলে মনে করতেন। তাঁর মতে, ইউরোপের কোনো একটি ভালো লাইব্রেরির একটা আলমারির বইয়ের তাক ভারত ও আরবের সমস্ত সাহিত্যের সমান।

চুইয়ে পড়া নীতি: মেকলে মনে করতেন, সমাজের উচ্চবিত্তদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ছড়িয়ে দিলে তা পর্যায়ক্রমে সাধারণ মানুষের মধ্যে পৌঁছে যাবে। একেই ‘চুইয়ে পড়া নীতি’ বলা হয়।

ফলাফল: মেকলের এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ৭ই মার্চ লর্ড বেন্টিঙ্ক ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারি নীতি হিসেবে গ্রহণ করেন।

অথবা, রেগুলেটিং অ্যাক্টের মূল বক্তব্য কী ছিল ?

উত্তরঃ রেগুলেটিং অ্যাক্টের মূল বক্তব্য (১৭৭৩)—

ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্রিটিশ সরকার এই আইনটি পাস করে। এর প্রধান বিষয়গুলি ছিল—

কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা: এই আইনের মাধ্যমে বাংলার গভর্নরকে ‘গভর্নর জেনারেল’ পদে উন্নীত করা হয়। বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির ওপর বাংলার গভর্নর জেনারেলের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল।

পরিষদ বা কাউন্সিল গঠন: গভর্নর জেনারেলকে শাসনকার্যে সহায়তা করার জন্য চারজন সদস্য নিয়ে একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়।

সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন: এই আইনের অন্যতম প্রধান বক্তব্য ছিল কলকাতায় একটি সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন করা। সেই অনুযায়ী ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্যার এলিজা ইম্পে এর প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন।

দুর্নীতি রোধ: কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাণিজ্য করা এবং উপহার বা ঘুষ গ্রহণ করা এই আইনের মাধ্যমে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।

উপসংহার: এই আইনের মাধ্যমেই ভারতে কোম্পানির শাসনের ওপর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নজরদারি ও আইনি নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়।

5. নীচের প্রশ্নগুলির আট-দশটি বাক্যে উত্তর দাও (যে কোন দুটি) : 5×2=10

(i) টীকা : অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি।

উত্তরঃ অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি—

ভারতের ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তার এবং দেশীয় রাজ্যগুলোকে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি (১৭৯৮-১৮০৫) ‘অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি’ প্রবর্তন করেন।

১. মূল উদ্দেশ্য: এই নীতির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় রাজ্যগুলোকে ইংরেজদের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা এবং ফরাসি প্রভাব থেকে ভারতকে মুক্ত রাখা।

২. প্রধান শর্তাবলি:

মিত্রতা ও সৈন্যরক্ষা: এই নীতি গ্রহণকারী দেশীয় রাজ্যকে কোম্পানির সঙ্গে এক মিত্রতায় আবদ্ধ হতে হতো। সেই রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য সেখানে একদল ইংরেজ সৈন্য মোতায়েন করা হতো।

খরচ বহন: ওই ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর যাবতীয় ভরণপোষণের খরচ সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে নগদ টাকায় অথবা নিজের রাজ্যের অংশ ছেড়ে দিয়ে মেটাতে হতো।

রেসিডেন্ট নিয়োগ: মিত্রতা চুক্তিবদ্ধ রাজ্যে একজন ব্রিটিশ রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা ‘রেসিডেন্ট’ থাকতেন, যিনি রাজদরবারের সব খবর কোম্পানিতে পাঠাতেন।

বৈদেশিক সম্পর্ক: কোম্পানির অনুমতি ছাড়া ওই রাজ্য অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে যুদ্ধ, সন্ধি বা কোনো ইউরোপীয়কে চাকরিতে নিয়োগ করতে পারত না।

৩. ফলাফল: এই নীতির ফলে হায়দ্রাবাদের নিজাম, অযোধ্যার নবাব ও মারাঠা পেশোয়ারা তাঁদের স্বাধীনতা হারান। প্রকৃতপক্ষে, দেশীয় রাজ্যগুলো ব্রিটিশদের আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হয়।

উপসংহার: লর্ড ওয়েলেসলির এই কূটকৌশলের ফলে ইংরেজরা কোনো যুদ্ধ ছাড়াই ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল।

(ii) চার্লস উড কে ছিলেন ? উডের প্রতিবেদন কী ?

উত্তরঃ চার্লস উড ও তাঁর প্রতিবেদন (১৮৫৪)—

পরিচয়: চার্লস উড ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ সভার বা বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি। ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি রূপরেখা বা প্রতিবেদন পেশ করেন, যা তাঁর নামানুসারে ‘উডের ডেসপ্যাচ’ বা ‘উডের প্রতিবেদন’ নামে পরিচিত।

∆ উডের প্রতিবেদনের প্রধান দিকসমূহ—

শিক্ষার কাঠামো: উড সুপারিশ করেন যে ভারতে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত একটি সুসংবদ্ধ শিক্ষা কাঠামো তৈরি করতে হবে। একদম নিচে থাকবে গ্রাম্য পাঠশালা এবং শীর্ষে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: তাঁর অন্যতম প্রধান সুপারিশ ছিল লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে ভারতের তিনটি প্রেসিডেন্সি শহর— কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা।

শিক্ষা বিভাগ গঠন: ভারতের প্রতিটি প্রদেশে শিক্ষার তদারকি করার জন্য একটি করে ‘শিক্ষা বিভাগ’ বা ‘ডিপার্টমেন্ট অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন’ (DPI) তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়।

শিক্ষায় অনুদান: সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য সরকারি অনুদান বা ‘গ্রান্ট-ইন-এইড’ প্রথা চালুর কথা বলা হয়।

নারীশিক্ষা ও শিক্ষক শিক্ষণ: চার্লস উড তাঁর প্রতিবেদনে নারীশিক্ষার গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ বিদ্যালয় বা ট্রেনিং স্কুল তৈরির পরামর্শ দেন।

গুরুত্ব: এই প্রতিবেদনকে ভারতের ‘পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের মহাসনদ’ বা ‘ম্যাগনা কার্টা’ বলা হয়। উডের এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ভারতের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে ওঠে।

(iii) টীকা : ইজারদারি ব্যবস্থা।

উত্তরঃ ইজারদারি ব্যবস্থা—

১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ভারতের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলায় রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যে নতুন ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, তাকে ‘ইজারদারি ব্যবস্থা’ বলা হয়।

১. পটভূমি ও প্রবর্তন: দেওয়ানি লাভের পর রাজস্ব আদায়ের সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম ছিল না। তাই কোম্পানি বেশি পরিমাণে রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি ব্যবস্থা চালু করে। হেস্টিংস ১৭৭২ সালে নদীয়ার এক ভ্রমণে গিয়ে ঘোষণা করেন যে, জমি নিলামে যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দেওয়ার ডাক দেবে, তাকেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জমির বন্দোবস্ত দেওয়া হবে।

পাঁচশালা বন্দোবস্ত: প্রথমে এই ব্যবস্থা ৫ বছরের জন্য করা হয়েছিল বলে একে ‘পাঁচশালা বন্দোবস্ত’ বলা হয়। ইজারাদাররা মূলত জমির মালিক ছিলেন না, তারা ছিলেন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য রাজস্ব আদায়ের অধিকারী বা ‘ঠিকাদার’।

৩. ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য ও ত্রুটি—

নিলাম পদ্ধতি: এই ব্যবস্থায় বংশানুক্রমিক জমিদারদের পরিবর্তে নিলামে সর্বোচ্চ ডাক দেওয়া ব্যক্তিদের জমি ইজারা দেওয়া হতো।
অত্যধিক রাজস্ব: বেশি লাভের আশায় ইজারাদাররা অনেক সময় বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জমি নিতেন।

কৃষকদের ওপর শোষণ: ইজারা টিকিয়ে রাখতে ইজারাদাররা কৃষকদের ওপর প্রচণ্ড অত্যাচার চালাতেন এবং জোর করে রাজস্ব আদায় করতেন।

৪. অবসান: এই ব্যবস্থা সফল হয়নি কারণ অনেক ইজারাদারই সময়মতো রাজস্ব মেটাতে পারতেন না। ফলে ১৭৭৭ সালে এই পাঁচশালা বন্দোবস্ত তুলে দিয়ে হেস্টিংস ‘একশালা বন্দোবস্ত’ (এক বছরের জন্য) প্রবর্তন করেন।

উপসংহার: ইজারদারি ব্যবস্থা গ্রামীণ অর্থনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিল। কৃষকদের এই দুর্দশা ও রাজস্ব আদায়ের অনিশ্চয়তা থেকেই পরবর্তীকালে লর্ড কর্নওয়ালিস ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ প্রবর্তনের কথা ভাবেন।

(iv) মেকলের প্রতিবেদন।

📌আরও পড়ুনঃ

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply