অষ্টম শ্রেণির ভূগোল প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-২ | Class 8 Geography First Unit Test Question with Answer Set-2 wbbse

FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 8 (VIII) WBBSE
GEOGRAPHY QUESTION PAPER

Set-2

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-২ | Class 8 Geography First Unit Test Question with Answer Set-2 wbbse

∆ পাঠ্যসূচি—

অধ্যায় – ১. পৃথিবীর অন্দরমহল
অধ্যায় – ২. অস্থিত পৃথিবী
অধ্যায় – ৩. শিলা
অধ্যায় – ৮. ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক।

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
অষ্টম শ্রেণি
বিষয় : ভূগোল

পূর্ণমান-৩০              সময় : ১ ঘণ্টা মিনিট

JAYNAGAR INSTITUTION (H.S.)
1st Summative Evaluation – 2025
Class: Vill
Subject: Geography

FuII Marks: 30                Time: 1 Hr.

1. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে পূর্ণ বাক্যে উত্তর দেবে : 1×6=6

(ক) তরল মাধ্যমে প্রবাহিত হতে পারে না- (I-তরঙ্গ / P-তরঙ্গ / S-তরঙ্গ)।

উত্তরঃ S-তরঙ্গ।

(খ) পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্তটি হল (রবিনসন ডিপ / কোলা / মারিয়ানা খাত)।

উত্তরঃ কোলা।

(গ) পৃথিবীর মহাসাগর গুলির তলদেশ গঠিত হয়েছে (লোহা ও ম্যাগনেশিয়াম দিয়ে / লোহা ও নিকেল দিয়ে / সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়াম দিয়ে / নিকেল ও সিলিকন দিয়ে)।

উত্তরঃ সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়াম দিয়ে।

(ঘ) উচ্চ প্রস্রবনের জল গরম হয় (ভূতাপ শক্তির জন্য / সূর্য্যে আলো থেকে তাপ গ্রহণ করে / সরাসরি লাভার সংস্পর্শে থাকার জন্য / কয়লা খনিতে থাকার জন্য)।

উত্তরঃ ভূতাপ শক্তির জন্য।

(ঙ) অন্তঃকেন্দ্র মন্ডল ও বহিঃকেন্দ্র মণ্ডলের মধ্য রয়েছে (কনরাড / লেহম্যান / গুটেনবার্গ / মোহো বিযুক্তি রেখা)।

উত্তরঃ লেহম্যান বিযুক্তি রেখা।

(চ) পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ হল (6,300 কিমি / 6,450 কিমি / 6370 কিমি / 6,730 কিমি)।

উত্তরঃ 6370 কিমি।

2.A শূন্যস্থান পূরণ করে পূর্ণ বাক্যে উত্তর দেবে : 1×2=2

(ক) ভারত শ্রীলঙ্কা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে _____________ প্রণালী দ্বারা।

উত্তরঃ পক।

(খ) __________ মায়ানমারের প্রধান ভাষা।

উত্তরঃ বার্মিজ।

2.B পূর্ণবাক্যে লিখে শুদ্ধ / অশুদ্ধ উত্তর দেবে : 1×2=2

(ক) ভুটানের প্রধান ভাষা জাংথা।

উত্তরঃ শুদ্ধ।

(খ) বাংলাদেশের প্রধান নদী মানস।

উত্তরঃ অশুদ্ধ (সঠিক উত্তর হবে পদ্মা)।

3. অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দেবে : 2×2=4

(ক) ক্যারেজ প্রথা কী ?

উত্তরঃ পাকিস্তানের শুষ্ক এবং মরুপ্রায় অঞ্চলে কৃষিকাজে জলসেচের জন্য মাটির নিচে সুড়ঙ্গ কেটে জল নিয়ে যাওয়ার যে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তাকেই ক্যারেজ প্রথা বলে।

উদ্দেশ্য : এটি মরুভূমি এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলের অপচয় রুখতে ব্যবহৃত একটি প্রাচীন ও কার্যকর ‘জলসেচ ব্যবস্থা’।

(খ) SAARC কী ?

উত্তরঃ দক্ষিণ এশিয়ার আটটি প্রতিবেশী দেশ নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক সংগঠন হলো SAARC (South Asian Association for Regional Cooperation)। এর সদর দপ্তর নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত।

সদস্য দেশ: ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তান।

উদ্দেশ্য: সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

4. সংক্ষিপ্ত উত্তর দেবে : 3×2=6

(ক) টীকা লেখঃ সিসমোগ্রাফ

উত্তরঃ সিসমোগ্রাফ (Seismograph)—

১. সংজ্ঞা: ভূমিকম্পের তরঙ্গ পরিমাপ করার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বা ভূমিকম্প লিখন যন্ত্র বলা হয়। গ্রিক শব্দ ‘Seismos’ (অর্থাৎ কম্পন) থেকে এই শব্দটির উৎপত্তি।

২. কার্যপদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্য: এই যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্পের তীব্রতা, উৎপত্তিস্থল এবং তরঙ্গের প্রকৃতি (যেমন: P, S বা L তরঙ্গ) রেকর্ড করা হয়। ভূমিকম্পের সময় ভূমি কম্পিত হলে যন্ত্রের ভেতরে থাকা পেন বা লেখনীটি একটি ঘূর্ণায়মান ড্রামের ওপর রাখা গ্রাফ কাগজের ওপর আঁকাবাঁকা দাগ কাটে। এই আঁকাবাঁকা রেখাযুক্ত গ্রাফ কাগজটিকে বলা হয় সিসমোগ্রাম।

৩. গুরুত্ব: সিসমোগ্রাফের সাহায্যে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন এবং স্তরবিন্যাস সম্পর্কে ধারণা পান। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র (Epicenter) নির্ণয় করতে এই যন্ত্র অপরিহার্য।

(খ) টীকা লেখ: প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা।

উত্তরঃ প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা—

১. সংজ্ঞা: প্রশান্ত মহাসাগরের চারদিকের উপকূলীয় অঞ্চল বরাবর যে ঘোড়ার খুরের মতো আকৃতির বলয়ে পৃথিবীর অধিকাংশ জীবন্ত আগ্নেয়গিরিগুলি অবস্থান করছে, তাকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা বলা হয়।

২. ভৌগোলিক বিস্তার ও কারণ: এটি দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা থেকে শুরু করে উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতমালা, জাপানের আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জ হয়ে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত।

এই অঞ্চলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের সাথে অন্যান্য পাতের (যেমন: আমেরিকা পাত, ইউরেশীয় পাত) সংঘর্ষ ঘটে। পাত সঞ্চালনের এই তীব্রতার কারণেই এখানে প্রচুর আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।

৩. বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব—

সংখ্যা: পৃথিবীর প্রায় ৭০% থেকে ৭৫% আগ্নেয়গিরি এই মেখলা বা বলয়ে অবস্থিত (প্রায় ৪৫০টিরও বেশি আগ্নেয়গিরি)।

প্রধান আগ্নেয়গিরি: মাউন্ট ফুজিয়ামা (জাপান), পিনাতুবো (ফিলিপাইন), সেন্ট হেলেন্স (আমেরিকা) প্রভৃতি এই বলয়ের অন্তর্গত।

ভূমিকম্প প্রবণতা: আগ্নেয়গিরির আধিক্যের পাশাপাশি এই অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা।

5. বর্ণনামূলক প্রশ্ন (যে কোন দুটি) : 5×2=10

(ক) পাললিক শিলার পাঁচটি বিশেষত্ব লেখ।

উত্তরঃ পাললিক শিলার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ—

পলি সঞ্চিত হয়ে এই শিলা গঠিত হয় বলে একে পাললিক শিলা বলা হয়। এর পাঁচটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:

১. স্তরবিন্যাস বা স্তরায়ন: পাললিক শিলা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে গঠিত হয়। তাই এই শিলার মধ্যে অনুভূমিক স্তরবিন্যাস স্পষ্টভাবে দেখা যায়। সমুদ্র বা হ্রদের নিচে পলি একটার ওপর একটা থিতিয়ে পড়ে এই স্তরগুলো তৈরি করে।

২. জীবাশ্মের উপস্থিতি: এটি পাললিক শিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। পলি সঞ্চয়ের সময় কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহাবশেষ দুই স্তরের মাঝে চাপা পড়ে পাথরে পরিণত হয়, যাকে জীবাশ্ম (Fossil) বলে। অন্য কোনো শিলায় (আগ্নেয় বা রূপান্তরিত) জীবাশ্ম দেখা যায় না।

৩. সচ্ছিদ্রতা ও ভঙ্গুরতা: আগ্নেয় শিলার তুলনায় পাললিক শিলা অনেক বেশি নরম, হালকা এবং সহজে ভেঙে যায়। এই শিলার দানার মধ্যে সূক্ষ্ম ছিদ্র বা ফাঁক থাকে (সচ্ছিদ্রতা), যার ফলে এই শিলার মধ্য দিয়ে জল সহজেই প্রবেশ করতে পারে।

৪. কেলাসের অভাব: আগ্নেয় শিলা যেমন কেলাসিত (Crystalline) হয়, পাললিক শিলা কিন্তু তেমন নয়। এই শিলা সাধারণত কেলাসবিহীন হয় এবং দানাদার বা মিহি কাদার মতো প্রকৃতির হয়ে থাকে।

৫. খনিজ তেল ও কয়লার উপস্থিতি: পৃথিবীর অধিকাংশ খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লা এই পাললিক শিলার স্তরেই পাওয়া যায়। এই শিলা স্তরে জৈব পদার্থের পচনের ফলেই এই মূল্যবান খনিজ সম্পদগুলি সৃষ্টি হয়।

(খ) মনে করো এই মুহূর্তে হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলো। এরকম পরিস্থিতিতে তুমি প্রথমেই কী করবে ?

উত্তরঃ ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় যা মুহূর্তের মধ্যে বড় ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে ভয় না পেয়ে শান্ত থেকে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিত।

১. দ্রুত বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসা: ভূমিকম্প অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে কোনো খোলা জায়গায় (মাঠ বা চাতাল) চলে যেতে হবে। বেরোনোর সময় কোনোভাবেই লিফট ব্যবহার করা যাবে না, কেবল সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে।

২. ‘ড্রপ-কভার-হোল্ড’ (Drop-Cover-Hold) পদ্ধতি: যদি ঘর থেকে বেরোনোর মতো পরিস্থিতি না থাকে, তবে ঘরের ভেতরেই কোনো মজবুত আসবাবপত্র যেমন— টেবিল বা খাটের নিচে ঢুকে পড়তে হবে। এক হাত দিয়ে মাথার পেছন দিক ঢেকে রাখতে হবে এবং অন্য হাত দিয়ে টেবিলের পা শক্ত করে ধরে থাকতে হবে।

৩. বিপদজনক বস্তু থেকে দূরে থাকা: ঘরের ভেতর থাকাকালীন জানলার কাচ, আয়না, ঝোলানো আলমারি বা ভারী ফ্যান থেকে দূরে থাকতে হবে। বাইরে থাকলে বড় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, ল্যাম্পপোস্ট বা বহুতল ভবনের কাছ থেকে দূরে খোলা জায়গায় দাঁড়াতে হবে।

৪. শান্ত থাকা ও অন্যদের সতর্ক করা: আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করা যাবে না। শান্ত থেকে পরিবারের অন্যদের (বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের) সাবধানে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

৫. বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা:
যদি সম্ভব হয়, ভূমিকম্পের শুরুতেই বাড়ির মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে এবং গ্যাসের রেগুলেটর বন্ধ করতে হবে। এর ফলে ভূমিকম্পের পরবর্তী আগুন লাগার মতো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

(গ) শিলা কী ভাবে চক্রাকারে আর্বতিত হয়, চিত্রসহ বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ সংজ্ঞা: প্রকৃতিতে শিলার উৎপত্তি ও এক শিলা থেকে অন্য শিলায় রূপান্তর একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে চলেছে। শিলার এই চক্রাকার আবর্তনকে শিলাচক্র বলে।

পর্যায়সমূহ: শিলাচক্রের আবর্তন মূলত নিচের পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে ঘটে—

১. আগ্নেয় শিলার উৎপত্তি: পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা শীতল ও কঠিন হয়ে প্রথমে আগ্নেয় শিলা (যেমন: গ্র্যানাইট, ব্যাসাল্ট) তৈরি করে। এটিই পৃথিবীর প্রথম শিলা।

২. পাললিক শিলার গঠন: নদী, বায়ু বা হিমবাহের প্রভাবে আগ্নেয় শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পলি হিসেবে সমুদ্র বা হ্রদের নিচে জমা হয়। কোটি কোটি বছর ধরে এই পলি স্তরে স্তরে জমে ও চাপে কঠিন হয়ে পাললিক শিলা (যেমন: বেলেপাথর, চুনাপাথর) তৈরি করে।

৩. রূপান্তরিত শিলার গঠন: অত্যধিক তাপ ও চাপের ফলে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা—উভয়ই তাদের আদি রূপ পরিবর্তন করে রূপান্তরিত শিলায় (যেমন: মার্বেল, স্লেট) পরিণত হয়।

৪. চক্রের পূর্ণতা: এই রূপান্তরিত শিলা বা পাললিক শিলা ভূ-আন্দোলনের ফলে ভূগর্ভের গভীরে চলে গেলে প্রচণ্ড তাপে পুনরায় গলে ম্যাগমার সৃষ্টি করে। সেই ম্যাগমা আবার শীতল হয়ে আগ্নেয় শিলা তৈরি করে। এভাবেই শিলাচক্রটি পূর্ণ হয়।

উপসংহার: এই প্রক্রিয়ায় কোনো শিলাই স্থায়ী নয়, বরং সময়ের সাথে সাথে এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়ে চলেছে।

📌আরও পড়ুনঃ

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply