অষ্টম শ্রেণির বাংলা প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৫ | Class 8 Bengali First Unit Test Question with Answer Set-5 wbbse

FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 8 (VIII) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER

Set-5

অষ্টম শ্রেণির বাংলা প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৫ | Class 8 Bengali First Unit Test Question with Answer Set-5 wbbse

∆ পাঠ্যসূচি—

∆ সাহিত্যমেলাঃ

গদ্য– অদ্ভুত আতিথেয়তা, বনভোজনের ব্যাপার, চিঠি, পথচতি,

পদ্য– বোঝাপড়া, সবুজ জামা, পরবাসী, একটি চড়ুই পাখি।

নাটক– চন্দ্রগুপ্ত।

∆ ছোটদের পথের পাঁচালী– প্রথম থেকে অষ্টম পরিচ্ছেদ।

∆ ভাষাচর্চা– দল, ধ্বনি পরিবর্তন, প্রবাদ প্রবচন।

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

Gadheyar Kuthi High School (XII)
1st Summative Evaluation – 2025
Class-VIII
Sub.-Bengali
F. M.-30                       Time: 60 Min.

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর : ৬×১=৬

(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বোঝাপড়া’ কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ? (মানসী / সোনার তরী / ক্ষণিকা / পূরবী)।

(খ) কোন্ বিষয়ে পৃথিবীতে কোনো জাতিই আরবদিগের তুল্য নহে ? (আতিথেয়তা / যুদ্ধবিগ্রহ / দয়াপ্রদর্শন / চতুরতায়)।

(গ) পথ কীসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে ?
(মাটির / প্রকৃতির / নদীর / বাতাসের) সঙ্গে।

(ঘ) ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকটির কাল ছিল- (দুপুর / সকাল / রাত্রি / সন্ধ্যা)।

(ঙ) বেঞ্চ > বেঞ্চি- এখানে ধ্বনি পরিবর্তনটি হলো- (আদিস্বরাগম / মধ্যস্বরাগম / অন্ত্যস্বরাগম / কোনোটিই নয়)।

(চ) ‘বিদ্যাসাগর’ শব্দটির মধ্যে আছে- (একটি মুক্তদল / দুটি মুক্তদল / তিনটি মুক্তদল / সবগুলিই মুক্তদল)।

২। দু-এক কথায় উত্তর দাও : ৬×১=৬

(ক) ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা গল্পে কোন্ কোন্ সেনাপতির প্রসঙ্গ আছে ?

(খ) ইচ্ছে হলেই চড়ুই পাখি কোথায় কোথায় চলে যেতে পারে ?

(গ) নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের কোন্ বিখ্যাত চরিত্রের সৃষ্টিকর্তা ?

(ঘ) ‘কথাকলি’ কোন্ রাজ্যের নৃত্যশৈলি ?

(ঙ) মুক্তদলকে স্বরান্ত অক্ষর বলা হয় কেন ?

অথবা, ‘ক্ষ’ ও ‘জ’-জাত অপিনিহিতির একটি করে উদাহরণ দাও।

(চ) সমাক্ষরলোপ কী ? অথবা, সমীভবনের প্রতিশব্দ লেখ।

৩। কমবেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও : ৩+৩=৬

(ক) ‘সন্ধিহানচিত্তে শয়ন করিলেন।’- কে শয়ন করিলেন ? তাঁর মনে সন্দেহের কারণ কী ?

অথবা, বনভোজনের প্রথম তালিকায় কী কী খাদ্যের উল্লেখ ছিল ? তা বাতিল হল কেন ?

(খ) “দোহাই তবে এ কাজটা / যত শীঘ্র পারো সারো।”- কোন্ কাজটা, কেন শীঘ্র সারতে বলেছেন কবি ? ১+২=৩

অথবা, ‘সবুজ জামা’ কবিতায় তোতাই-এর সবুজ জামা চাওয়ার মাধ্যমে কবি কী বলতে চেয়েছেন ?

৪। কমবেশি ১২৫টি শব্দে উত্তর দাও : ১x৫=৫

(ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে লেখা মধুসূদন দত্তের চিঠিটি কবে লেখা ? এই চিঠির বিষয়বস্তু কী ?

অথবা, ‘পরবাসী’ কবিতায় কবি নিজেকে পরবাসী বলেছেন কেন ? কবিতাটির নাম পরবাসী দেওয়ার ক্ষেত্রে কবির কোন্ কোন্ চিন্তা কাজ করেছে ?

৫। দু-এক কথায় উত্তর দাও (৪টি) : ১x৪=৪

(ক) অপুর মায়ের নাম কী ?

(খ) অপুর দিদির বয়স কত ?

(গ) সাহেবদের কুঠিটি কোথায় ছিল ?

(ঘ) অপুদের বাড়ির পাশে ভিটাটির নাম কী ছিল ?

(ঙ) হরিহর কোথায় কাজ করতেন ?

(চ) সত্যবাবু কে ?

৬। যে কোনো ৩টি প্রবাদকে অর্থসহ বাক্যে প্রয়োগ করো : ৩x১=৩

এঁচোড়ে পাকা, অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট, তুলসিবনের বাঘ, অকাল কুষ্মাণ্ড, গোঁয়ো যোগী ভিখ পায় না।

(সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হল)

১। (ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বোঝাপড়া’ কবিতাটি ক্ষণিকা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
(খ) আতিথেয়তা বিষয়ে পৃথিবীতে কোনো জাতিই আরবদিগের তুল্য নহে।
(গ) পথ নদীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে।
(ঘ) ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকটির কাল ছিল— সন্ধ্যা।
(ঙ) বেঞ্চ > বেঞ্চি— এখানে ধ্বনি পরিবর্তনটি হলো— অন্ত্যস্বরাগম (শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি ‘ই’ এসেছে)।
(চ) ‘বিদ্যাসাগর’ শব্দটির মধ্যে আছে— দুটি মুক্তদল (বিদ্-দ্যা-সা-গোর্; এখানে ‘দ্যা’ এবং ‘সা’ হলো মুক্তদল)।

২। (ক) ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে আরব সেনাপতি এবং মুর সেনাপতির প্রসঙ্গ আছে।
(খ) ইচ্ছে হলে চড়ুই পাখি জানলার কার্নিশে, ঘরের আনাচে-কানাচে বা পাশের বাড়ির খড়খড়িতে চলে যেতে পারে।
(গ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত চরিত্র টেনিদাব সৃষ্টিকর্তা।
(ঘ) ‘কথাকলি’ কেরল রাজ্যের নৃত্যশৈলী।
(ঙ) মুক্তদলের শেষে স্বরধ্বনি থাকে এবং এটি টেনে উচ্চারণ করা যায় বলে একে স্বরান্ত অক্ষর বলা হয়।
অথবা, ‘ক্ষ’-জাত অপিনিহিতি: রক্ষিয়া > রইক্ষ্যা; ‘জ’-জাত অপিনিহিতি: কজ্য (কার্য) > কইজ্য।
(চ) শব্দের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি সমধ্বনির একটি লুপ্ত হলে তাকে সমাক্ষরলোপ বলে (যেমন: বড়দিদি > বড়দি)।
অথবা, সমীভবনের প্রতিশব্দ হলো ব্যঞ্জনসংগতি।

৩। (ক) কথোপকথনের মাঝে আরব সেনাপতির হঠাৎ বিবর্ণ মুখে চলে যাওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ দেখা না মেলায় মুর সেনাপতির মনে সন্দেহ জাগে। একদিকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অনুপস্থিত থাকা, অন্যদিকে ভোরে দ্রুতগামী ঘোড়া সাজিয়ে বিদায় জানানোর প্রতিশ্রুতি—আরব সেনাপতির এই বৈপরীত্যমূলক আচরণ ও রহস্যময় গতিবিধিই বিপক্ষ শিবিরে থাকা মুর সেনাপতির মনে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছিল।

অথবা,

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্পে প্রথম তালিকায় বিরিয়ানি, পোলাও, কোর্মা, কোপ্তা, কাবাব (দু-রকম), মাছের চপ ইত্যাদি রাজকীয় পদের উল্লেখ ছিল। অত্যধিক ব্যয়বহুল হওয়ায় এবং চারজনের চাঁদা মাত্র ১০ টাকা ৬ আনায় এই বিপুল খাবারের খরচ জোগাড় করা অসম্ভব ছিল বলে সেই তালিকা বাতিল করা হয়েছিল।

প্রথম তালিকা: বিরিয়ানি, পোলাও, কোর্মা, কোপ্তা, কাবাব, মাছের চপ, ইত্যাদি ।

বাতিলের কারণ: তালিকার খাবারের খরচ ছিল অনেক বেশি, যা তাদের বাজেটের বাইরে ছিল

(খ) এখানে ‘বোঝাপড়া’ বলতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে জীবনকে সহজভাবে গ্রহণ করার মানসিক প্রস্তুতিকে বোঝানো হয়েছে।

মানুষের পরমায়ু অল্প এবং জীবন অনিশ্চিত। তাই বৃথা হাহাকার বা মান-অভিমান করে সময় নষ্ট করা অর্থহীন। জীবনের বাকি সময়টুকু শান্তিতে কাটাতে এবং দুঃখ ভুলে আনন্দের স্বাদ নিতেই কবি মনের সঙ্গে এই সমঝোতা দ্রুত সেরে নিতে বলেছেন।

অথবা,

বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘সবুজ জামা’ কবিতায় তোতাই-এর সবুজ জামা চাওয়া আসলে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার বাসনা। এর মাধ্যমে কবি কৃত্রিম নাগরিক শিক্ষা ও জড়তা কাটিয়ে প্রাণের সজীবতা, মুক্তি ও সহজাত সারল্যকে ছুঁতে চেয়েছেন। তোতাইয়ের এই সবুজ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা মূলত শান্তিকামী ও প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা এক সুন্দর, সতেজ এবং অকৃত্রিম মানসতত্ত্বের প্রতীকী প্রকাশ।

৪। মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম চিঠিটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে লেখা হয়েছিল ১৮৬৪ সালের ১৮ই ডিসেম্বর। কবি তখন ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে সপরিবারে অত্যন্ত অর্থকষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।

এই চিঠিতে মধুসূদন বিদ্যাসাগরের প্রতি তাঁর গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিদেশ বিভুঁইয়ে যখন তাঁর পরিবার চরম অর্থাভাব ও অনাহারে দিন কাটাচ্ছিল, তখন বিদ্যাসাগর মহাশয় নিজের পুঁজি থেকে টাকা পাঠিয়ে কবিকে উদ্ধার করেন। চিঠিতে তিনি বিদ্যাসাগরকে ‘দয়ার সাগর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া, তিনি চিঠিতে ইউরোপের হাড়কাঁপানো শীতের বর্ণনা দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে সময় নষ্ট না করে তিনি ফরাসি, জার্মান ও ইতালিয় ভাষা শিখছেন। মূলত কৃতজ্ঞতা স্বীকার এবং ভবিষ্যতে তাঁর পরিবারের পাশে থাকার অনুরোধই ছিল এই চিঠির মূল বিষয়

অথবা,

বিষ্ণু দে-র ‘পরবাসী’ কবিতায় কবি নিজেকে ‘পরবাসী’ বলেছেন কারণ আধুনিক সভ্যতার আগ্রাসনে প্রকৃতি আজ বিপন্ন। নিজের দেশেই বন্যপ্রাণী ও বনভূমি হারিয়ে যাওয়ায় এবং মানুষের লালসায় প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হওয়ায় কবি এক গভীর বিচ্ছিন্নতা বোধ করছেন। নিজের বাসভূমি যখন অচেনা ও শ্রীহীন হয়ে পড়ে, তখন শিল্পীমন সেখানে নিজেকে আগন্তুক বা ‘পরবাসী’ বলে মনে করে।

নামকরণের সার্থকতা:
কবিতাটির নামকরণের পেছনে কবির কয়েকটি বিশেষ চিন্তা কাজ করেছে:

১. প্রকৃতিবিচ্যুতি: মানুষ প্রকৃতি থেকে দূরে সরে গিয়ে যান্ত্রিকতাকে আপন করেছে।

২. উদ্বাস্তু চেতনা: জঙ্গল কেটে বসতি গড়ায় বন্যপ্রাণীরা আজ ঘরছাড়া, যা কবির মনে গৃহহীনতার হাহাকার তৈরি করেছে।

৩. আক্ষেপ ও প্রতিবাদ: মানুষ কেন নিজের দেশ গড়ায় উদ্যোগী না হয়ে কেবল ধ্বংসের পথ বেছে নিচ্ছে— এই ক্ষোভ থেকে কবি নাম দিয়েছেন ‘পরবাসী’।

সব মিলিয়ে, প্রকৃতির সৌন্দর্য হারানো এবং মানুষের উদাসীনতাকে ব্যঙ্গ করতেই এই নামকরণ অত্যন্ত সার্থক হয়েছে।

৫। (ক) অপুর মায়ের নাম সর্বজয়া।

(খ) অপুর দিদি দুর্গার বয়স দশ-এগারো বছর।

(গ) সাহেবদের কুঠিটি (নীলকুঠি) ইছামতী নদীর তীরে মোল্লাহাটিতে ছিল।

(ঘ) অপুদের বাড়ির পাশের ভিটাটির নাম ছিল ‘রায়বাড়ির ভিটা’ (বা নীলমণি রায়ের ভিটা)।

(ঙ) হরিহর রায় নিশ্চিন্দিপুরের অদূরে দশঘরা গ্রামের অন্নদা রায়ের বাড়িতে গোমস্তার কাজ করতেন।

(চ) সত্যবাবু ছিলেন অপুর পাঠশালার শিক্ষক।

৬। ∆এঁচোড়ে পাকা—

অর্থ: সময়ের আগে পক্বতা লাভ করা বা অল্প বয়সে বেশি চালাকি করা।

বাক্য: আজকালকার অনেক ছেলেমেয়েই বড়দের কথায় এমনভাবে ফোড়ন কাটে যে দেখলে মনে হয় একেকটি এঁচোড়ে পাকা।

∆অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট—

অর্থ: কোনো কাজে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লোক নিয়োগ করলে কাজের ক্ষতি হয়।

বাক্য: ছোট একটা কাজ করার জন্য তোমরা দশজন মিলে কেন এসেছ? শেষ পর্যন্ত ওই অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হবে।

∆তুলসিবনের বাঘ—

অর্থ: সাধুবেশে শয়তান বা ভণ্ড লোক।

বাক্য: লোকটিকে দেখে খুব ধার্মিক মনে হলেও আসলে সে একটি তুলসিবনের বাঘ, ওর ওপর ভরসা কোরো না।

∆অকাল কুষ্মাণ্ড—

অর্থ: অপদার্থ বা অকেজো ব্যক্তি।

বাক্য: তোমার মতো এমন অকাল কুষ্মাণ্ড ছেলে আমি আর দেখিনি, কোনো কাজই ঠিকমতো গুছিয়ে করতে পারো না।

∆গোঁয়ো যোগী ভিখ পায় না—

অর্থ: নিজের দেশে বা নিজের কাছের গুণের কদর না হওয়া।

বাক্য: বিদেশের মাটিতে অর্কর গানের খুব প্রশংসা হলেও নিজের গ্রামে তাকে কেউ চেনেও না; একেই বলে গোঁয়ো যোগী ভিখ পায় না।

📌আরও পড়ুনঃ

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply