সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় অধ‍্যায় প্রশ্ন উত্তর | Class 7 History Question Answer Ch-2 wbbse

সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় অধ‍্যায় প্রশ্ন উত্তর | Class 7 History Question Answer Ch-2 wbbse

দ্বিতীয় অধ্যায়

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের কয়েকটি ধারা
খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক

📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের কয়েকটি ধারা : খ্রিষ্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক | WBBSE Class 7 History Second Chapter Question Answer

ভেবে দেখো, খুঁজে দেখো প্রশ্নোত্তর : দ্বিতীয় অধ‍্যায় সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস | Class 7 History Chapter 2 Question Answer

১। শূন্যস্থান পূরণ করো :

(ক) বঙ্গ নামের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ____________ গ্রন্থে। (ঐতরেয় আরণ্যক / আইন-ই-আকবরি / অর্থশাস্ত্র)।

উত্তরঃ ঐতরেয় আরণ্যক।

(খ) প্রাচীন বাংলার সীমানা তৈরি হয়েছিল _________, _________, এবং______। (ভাগীরথী, পদ্মা, মেঘনা / গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু‌ / কৃষ্ণা, কাবেরী, গোদাবরী) নদী দিয়ে।

উত্তরঃ ভাগীরথী, পদ্মা, মেঘনা।

(গ) সকলোত্তরপথনাথ উপাধি ছিল ________ (শশাঙ্কের / হর্ষবর্ধনের / ধর্মপালের)।

উত্তরঃ হর্ষবর্ধনের।

(ঘ) কৈবর্ত বিদ্রোহের একজন নেতা ছিলেন __________ (ভীম / রামপাল / প্রথম মহীপাল)।

উত্তরঃ ভীম।

(ঙ) সেন রাজাৎ________ (বিজয়সেনের / বল্লালসেনের / লক্ষ্মণসেনের) আমলে বাংলায় তুর্কি আক্রমণ ঘটে।

উত্তরঃ লক্ষ্মণসেনের।

(চ) সুলতানি যুগের একজন ঐতিহাসিক ছিলেন _________ (মহম্মদ ঘুরি / মিনহাজ-ই সিরাজ / ইখতিয়ার উদ্দিন‌ / মহম্মদ বখতিয়ার খলজি)।

উত্তরঃ মিনহাজ-ই সিরাজ।

২। ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো :

ক-স্তম্ভ খ-স্তম্ভ
বজ্রভূমি বৌদ্ধ বিহার
লো-টো-মো-চিহ আধুনিক চট্টগ্রাম
গঙ্গাইকোন্ডচোল বাপতিরাজ
গৌড়বহো উত্তর রাঢ়
হরিকেল অল বিরুনি
কিতাব অল-হিন্দ প্রথম রাজেন্দ্র

উত্তরঃ

ক-স্তম্ভ খ-স্তম্ভ
বজ্রভূমি উত্তর রাঢ়
লো-টো-মো-চিহ বৌদ্ধ বিহার
গঙ্গাইকোন্ডচোল প্রথম রাজেন্দ্র
গৌড়বহো বাপতিরাজ
হরিকেল আধুনিক চট্টগ্রাম
কিতাব অল-হিন্দ অল বিরুনি

৩। সংক্ষেপে (৩০-৫০টি শব্দের মধ্যে) উত্তর লেখো :

(ক) এখনকার পশ্চিমবঙ্গের একটা মানচিত্র দেখো। তাতে আদি মধ্যযুগের বাংলায় কোন-কোন্ নদী দেখতে পাবে ?

উত্তরঃ এখনকার পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের আদি-মধ্যযুগের নদ-নদী হল গঙ্গা নদী, এর শাখানদী ভাগীরথী তথা হুগলী নদী। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের নদীগুলি হল– মহানন্দা, পুনর্ভবা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর রাঢ় অঞ্চলের নদীগুলি হল— ময়ূরাক্ষী, অজয়, দামোদর, রূপনারায়ণ, কাঁসাই এবং সুবর্ণরেখা।

(খ) শশাঙ্কের আমলে বাংলার আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল তা ভেবে লেখো।

উত্তরঃ শশাঙ্ক মগধের গৌড়ে স্বাধীন রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর রাজত্বকালে অর্থনীতির ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটেছিল যা হিউয়েন সাঙ্ এর বিবরণী থেকে জানা যায়। শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। কর্ণসুবর্ণর সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় ছিল। শশাঙ্কের আমলে অর্থনীতির অন্যতম নিদর্শন হল সোনার মুদ্রার প্রচলন। তবে এর মান অনেক পড়ে গিয়েছিল। তার রাজত্বের শেষের দিকে ব্যবসা বাণিজ্য কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়লেও কৃষিকার্যে অভাবনীয় উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। ফলে সমাজে জমির চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। অর্থনীতি হয়ে পড়ে কৃষি নির্ভর। কৃষির গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় সমাজ ক্রমশ গ্রামকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছিল।

(গ) মাৎস্যন্যায় কী ?

উত্তরঃ পুকুরের বড়ো মাছ যেমন ছোটো মাছকে খেয়ে ফেলে, ওরা যখন তার সময়ে তেমনি শক্তিশালী লোক লোক ইচ্ছেমতো দুর্বল ও দরিদ্রদের শোষণ ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, তাকেই ঐতিহাসিকরা মাৎস্যন্যায় বলে অভিহিত করেছেন।

শশাঙ্কের মৃত্যুর পরে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের মধ্যভাগ থেকে অষ্টম শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত একশো বছর ছিল বাংলার ইতিহাসে একটা পরিবর্তনের যুগ। ঐ যুগে প্রত্যেক ক্ষত্রিয়, সম্ভ্রান্ত লোক, ব্রাহ্মণ এবং বণিক ইচ্ছামতো নিজের নিজের এলাকা শাসন করত। বাংলায় কোনো কেন্দ্রীয় শাসক ছিল না। বছরের পর বছর এই অবস্থা চলার পরে বাংলার প্রভাবশালী লোকেরা মিলে খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকের মধ্যভাগে গোপাল নামে একজনকে রাজা নির্বাচন করে (আনুমানিক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ)। ঐ সময় থেকে বাংলায় পাল বংশের রাজত্ব শুরু হয়।

(ঘ) খ্রিস্টীয় সপ্তম ও অষ্টম শতকের আঞ্চলিক রাজ্যগুলি কেমন ভাবে গড়ে উঠেছিল ?

উত্তরঃ খ্রিস্টীয় সপ্তম ও অষ্টম শতকে বাংলার বাইরে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতে বেশ কিছু নতুন আঞ্চলিক রাজ্যের উদ্ভব ঘটে। যাদের মধ্যে অন্যতম ছিল উত্তর ভারতের পাল, গুর্জর-প্রতিহার এবং দক্ষিণ ভারতের রাষ্ট্রকূট বংশ। এই সকল আঞ্চলিক রাজ্যগুলি নিজেদের শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্থানীয় শক্তিশালী ব্যক্তিদের অস্তিত্ব মেনে নিয়েছিল। এমন কি বহু ক্ষেত্রে বড়ো বড়ো জমির মালিক ও যোদ্ধা নেতাদের সামন্ত, মহাসামন্ত বা মহামণ্ডলেশ্বর উপাধিতে ভূষিত করে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রসাশনিক দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। পরিবর্তে এরা উক্ত সামন্ত মহাসামন্ত, থেকে খাজনা ও উপঢৌকন পেত। এমনকি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সামন্ত, মহাসামন্তরা ঐসকল আঞ্চলিক রাজাদের সৈন্য দিয়ে সাহায্য করত। এই ভাবেই খ্রিস্টীয় সপ্তম ও অষ্টম শতকে গড়ে ওঠা আঞ্চলিক রাজ্যগুলি নিজেদের শাসনতান্ত্রিক অস্তিত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে সম্ভবপর হয়েছিল।

(ঙ) সেন রাজাদের আদি নিবাস কোথায় ছিল ? কী ভাবে তারা বাংলায় শাসন কায়েম করেছিলেন ?

উত্তরঃ সেন রাজাদের আদি বাসস্থান ছিল দক্ষিণ ভারতের কর্ণাট অঞ্চল, অর্থাৎ মহীশূর ও তার আশেপাশের এলাকায়। একাদশ শতকের কোনো এক সময় সামন্তসেন কর্ণাট থেকে রাঢ় অঞ্চলে চলে এসে সেন বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেন পালরাজাদের দুর্বলতার সুযোগে রাঢ় অঞ্চলে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর হেমন্তসেনের পুত্র বিজয় সেন রাঢ়, গৌড়, পূর্ববঙ্গ ও মিথিলা জয় করে সেন রাজ্যের বিস্তার ঘটান। পরবর্তী শাসক বল্লালসেন পাল রাজা গোবিন্দ পালকে পরাস্ত করে পালরাজ্যের কিছু অংশ কায়েম করেছিলেন।

(চ) সুলতান মাহমুদ ভারত থেকে লুঠ করা ধনসম্পদ কীভাবে ব্যবহার করেছিলেন ?

উত্তরঃ গজনির সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভারত আক্রমণ করেছিলেন। তার ভারত আক্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতের মন্দিরগুলি থেকে ধনসম্পদ লুঠ করা। তিনি ভারত থেকে যে সম্পদ লুঠ করেছিলেন। তা নিজের দেশের ভালো কাজে ব্যয় করেছিলেন। যেমন—
(১) তিনি রাজধানী গজনি ও অন্যান্য শহরকে সুন্দর করে। সাজিয়েছিলেন।

(২) তিনি অনেক প্রাসাদ, মসজিদ, গ্রন্থাগার, বাগিচা, খাল, জলাধার এবং আমু দরিয়ার ওপর বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন।

(৩) একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষকদের বেতন ও ছাত্রদের বৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।

৪। বিশদে (১০০-১২০ শব্দের মধ্যে) উত্তর লেখো : 

(ক) প্রাচীন বাংলার রাঢ়-সুহ্ম এবং গৌড় অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিচয় দাও।

উত্তরঃ প্রাচীন বাংলার জনপদগুলির মধ্যে অন্যতম জনপদ হল রাঢ়, সুহ্ম ও গোঁড়। এই জন পদগুলির প্রকৃত অবস্থান অনুধাবনে প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক ভূসংস্থানগত পরিবেশের ওপর আলোকপাত করা প্রয়োজন।

রাঢ়-সুহ্ম : লেখগত ও সাহিত্যগত প্রমাণাদি থেকে প্রাচীন রাঢ় বা লাঢ় অঞ্চলের দুটো বিভাগের কথা জানা যায়— উত্তর রাঢ় ও দক্ষিণ রাঢ়। জৈন সাহিত্য আচারঙ্গ সূত্র অনুযায়ী উত্তর রাঢ় ছিল বজুভূমি (বজ্রভূমি) ও দক্ষিণ রাঢ় ছিল সুবভ ভূমি (সুহ্মভূমি) এলাকা।

উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ের মধ্যে সীমা রেখা তৈরি করেছে অজয় নদ। বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রমাণাদির ভিত্তিতে বলা যায় যে, বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার পশ্চিমভাগ, সমগ্র বীরভূম জেলা, সাঁওতাল পরগনার কিছু অংশ, এবং বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার উত্তরভাগ নিয়ে উত্তর রাঢ় জনপদটি গঠিত হয়েছিল। দক্ষিণ রাঢ় বলতে আজকের হাওড়া, হুগলি ও বর্ধমান জেলার বাকি অংশকে বোঝায়। ‘মহাভারত’ মহাকাব্যে এবং কালিদাসের কাব্য থেকে জানা যায় যে, এই অঞ্চলটি ভাগীরথী ও কাঁসাই (কংসাবতী) নদীর মাঝে সমুদ্র পর্যন্ত বিরাট এলাকা এর অন্তর্গত ছিল।

গৌড় : প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক এলাকা ছিল গৌড়। বরাহমিহিরের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান জেলার পশ্চিম অংশ নিয়ে প্রাচীন গৌড় অঞ্চল গঠিত ছিল।

তবে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে রাজা শশাঙ্কের আমলে গৌড়ের সীমা বেড়ে গিয়েছিল। সমকালীন হিউয়েন সাঙের বিবরণ অনুযায়ী শশাঙ্কের আমলে গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। ভাগীরথীর পশ্চিম পাড়ে আজকের মুর্শিদাবাদই ছিল সেকালের গৌড়ের প্রধান এলাকা। শশাঙ্কের আমলে গৌড়ের ভৌগোলিক বিস্তার পুণ্ড্রবর্ধন (উত্তরবঙ্গ) থেকে ওড়িশার উপকূল পর্যন্ত হয়েছিল। খ্রিস্টীয় অষ্টম-নবম শতকে কখনো কখনো গৌড় বলতে সমগ্র পাল সাম্রাজ্যকেও বোঝানো হত।

(খ) শশাঙ্কের সঙ্গে বৌদ্ধদের সম্পর্ক কেমন ছিল, সে বিষয়ে তোমার মতামত দাও।

উত্তরঃ শশাঙ্কের সঙ্গে বৌদ্ধদের সম্পর্ক ছিল বিতর্কিত ও জটিল। কিছু বৌদ্ধ গ্রন্থ যেমন আর্যমঞ্জ শ্রীমূলকল্প এবং চীনা পর্যটক সুয়ান জাং-এর বিবরণে শশাঙ্ককে ‘বৌদ্ধবিদ্বেষী’ বলা হয়েছে। অভিযোগ আছে যে তিনি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের হত্যা করেছিলেন এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় স্মারক ধ্বংস করেছিলেন। এছাড়া হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্ট তাঁর রচনা হর্ষচরিত-এ শশাঙ্ককে নিন্দা করেছেন, যা রাজনৈতিক বিরোধের ফলও হতে পারে।

অন্যদিকে, শশাঙ্কের মৃত্যুর কয়েক দশক পরে কর্ণসুবর্ণের কাছে রক্তমৃত্তিকা বৌদ্ধবিহারের সমৃদ্ধি লক্ষ করা যায় এবং চীনা পর্যটক ই-ৎসিঙ্ বাংলায় বৌদ্ধধর্মের উন্নতির কথা উল্লেখ করেন। যদি শশাঙ্ক সম্পূর্ণভাবে বৌদ্ধবিদ্বেষী হতেন, তবে এ ধরনের উন্নতি সম্ভব হতো না। তাই বলা যায়, শশাঙ্কের প্রতি কিছু লেখকের মতামত অতিরঞ্জিত ও পক্ষপাতদুষ্ট ছিল। সম্ভবত তিনি শৈব হলেও নির্বিচারে বৌদ্ধবিদ্বেষী ছিলেন না।

(গ) ত্রিশক্তি সংগ্রাম কাদের মধ্যে হয়েছিল ? এই সংগ্রামের মূল কারণ কী ছিল ?

উত্তরঃ হর্ষবর্ধনের পরবর্তীযুগে আর্যাবর্তের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু কনৌজের ওপর আধিপত্য স্থাপনের উদ্দেশ্যে মালবের গুর্জর-প্রতিহার, দক্ষিণ ভারতের রাষ্ট্রকূট ও বাংলার পালবংশের মধ্যে এক প্রবল ত্রি-শক্তি সংগ্রাম হয়েছিল। এই সংগ্রাম প্রায় ২০০ বছর ধরে চলেছিল।

কারণঃ সম্রাট হর্ষবর্ধনের সময় থেকে কনৌজ ভারতের রাজনৈতিক আধিপত্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। মূলত এই কনৌজের ওপর কর্তৃত্ব দখলের আকাঙ্ক্ষাই পরম শক্তিশালী তিন শক্তি গুর্জর-প্রতিহার, রাষ্ট্রকূট ও পালদের মধ্যে ত্রিশক্তি সংগ্রামের সূচনা করে। এই শক্তিগুলির কাছে কনৌজের ওপর অধিকার স্থাপন ছিল মর্যাদার প্রতীক। একইভাবে কনৌজের অর্থনৈতিক গুরুত্বও ভারতীয় রাজাদের কনৌজ দখলে প্ররোচিত করেছিল। যে কনৌজ নিয়ন্ত্রণ করবে সেই গাঙ্গেয় উপত্যকা দখলে রাখতে পারবে। এই অঞ্চলের নদী ভিত্তিক বাণিজ্য ও খনিজ দ্রব্য ছিল আর্থিক দিক থেকে লোভনীয়। এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে কনৌজ শেষ পর্যন্ত কে দখলে রাখতে পারবে, এই নিয়ে অষ্টম শতাব্দী থেকে পাল, গুর্জর-প্রতিহার ও দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট বংশের মধ্যে টানা লড়াই চলেছিল, যা ইতিহাসে ত্রি-শক্তি সংগ্রাম নামে পরিচিত। দীর্ঘ দুশো বছর ধরে চলা এই দ্বন্দ্বে তিনটি বংশেরই শক্তি শেষ হয়ে যায়।

(ঘ) ছক ২.১ ভালো করে দেখো। এর থেকে পাল ও সেন শাসনের সংক্ষিপ্ত তুলনা করো।

উত্তরঃ পাল ও সেন শাসন ছিল মধ্যযুগীয় বাংলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাসনপর্ব, তবে তাদের মধ্যে নানা দিক থেকে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। পাল শাসনের সময়কাল ছিল আনুমানিক ৭৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত, আর সেন শাসন শুরু হয় খ্রিস্টীয় একাদশ শতক থেকে ত্রয়োদশ শতকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত। পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল মাৎস্যন্যায়ের মতো অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে সিংহাসনে আরোহণ করেন, অন্যদিকে সেন বংশের সূচনা হয় সামন্ত সেন ও হেমন্ত সেনের কর্ণাট থেকে আগমনের মাধ্যমে। পাল রাজারা হিন্দু হলেও বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং শিক্ষা, শিল্প ও স্থাপত্যের বিকাশ ঘটান; বিপরীতে সেন রাজারা ব্রাহ্মণ্য ধর্মকে সমর্থন করেন এবং বল্লাল সেন কৌলীন্য প্রথা চালু করে বর্ণব্যবস্থাকে কঠোর করেন। পাল যুগে কৈবর্ত বিদ্রোহ দেখা গেলেও সেন শাসনের পতন ঘটে তুর্কি আক্রমণের ফলে। অর্থনীতিতে পাল যুগে রৌপ্য মুদ্রার প্রচলন ছিল, কিন্তু সেন আমলে কড়ি বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

(ঙ) দক্ষিণ ভারতে চোল শক্তির উত্থানের পটভূমি বিশ্লেষণ করো। কোন কোন অঞ্চল চোল রাজ্যের অন্তর্গত ছিল ?

উত্তরঃ দক্ষিণ ভারতের আঞ্চলিক রাজ্যগুলির অন্যতম ছিল চোল রাজ্য। কাবেরী এবং তার শাখা নদীগুলির ব-দ্বীপকে ঘিরে চোর রাজ্য গড়ে উঠেছিল। সেখানকার রাজা মুট্টাবাইয়াকে সরিয়ে বিজয়ালয় ৮৪৬-৮৭১ খ্রিস্টাব্দে চোলরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং থাঞ্জাভুর বা তাঞ্জোর দখল করে তাঞ্জোরকে চোলদের রাজধানী হিসেবে ঘোষিত করেন।

প্রথম রাজরাজ (৯৮৫-১০১৪ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন চোলরাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজা। তিনি কেরল, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চোল প্রতিপত্তি বাড়ান। এ ছাড়া চের ও পাণ্ড্যরাজ্যও তিনি দখল করেন। সিংহলের রাজা পঞ্চম মহেন্দ্রও তাঁর কাছে পরাজিত হন। এ ছাড়া তিনি নৌ-অভিযান চালিয়ে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের বহু দ্বীপ অধিকার করেন। রাজরাজেশ্বর মন্দির তাঁর স্থাপত্যকীর্তির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

প্রথম রাজরাজের পুত্র রাজেন্দ্র চোল বা প্রথম রাজেন্দ্র চোল ছিলেন চোলবংশের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা। তিনি কল্যাণীর চালুক্যশক্তিকে পরাজিত করেন। তিনি সিংহলদ্বীপ, জাভা, সুমাত্রা এবং মালয় দ্বীপ জয় করেন। তিনি পূর্ববঙ্গে অভিযান চালিয়ে গোবিন্দচন্দ্র, মহীপালকে পরাজিত করে গঙ্গাইকোণ্ডচোল উপাধি গ্রহণ করেন। প্রথম রাজেন্দ্র চোলের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হল সুমাত্রার শৈলেন্দ্র বংশের বিরুদ্ধে নৌ অভিযান। শৈলেন্দ্র বংশীয় রাজা শ্রী বিজয়ের রাজধানী দখল করার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় চোল সাম্রাজ্যের প্রতিপত্তি স্থাপিত হয়। প্রথম রাজরাজ এবং রাজেন্দ্র চোল উভয় দলই নৌবাহিনী তৈরি করেন। তার ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতীয় বাণিজ্যকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা চোলদের পক্ষে সম্ভব হয়।

(চ) ইসলাম ধর্মের প্রচারের আগে আরব দেশের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। ইসলাম ধর্মের প্রচার আরব দেশে কী বদল এনেছিল‌ ?

উত্তরঃ ভারতের পশ্চিমে অবস্থিত আরবসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে আরবদেশের অবস্থান। এখানকার বেশিরভাগ অংশই মরুভূমি বা শুকনো ঘাস জমি। এর পশ্চিমে লোহিত সাগর, দক্ষিণে আরব সাগর এবং পূর্বদিকে পারস্য উপসাগর। এখানে বৃষ্টিপাত খুবই কম হয়।। এখানকার যাযাবর অধিবাসীদের বেদুইন বলা হত।

আরবদেশের দুটি উল্লেখযোগ্য শহর হল মক্কা ও মদিনা। এই অঞ্চলের অধিবাসীরা উট পালন করত। খেজুর এবং উটের দুধ ছিল এদের অন্যতম খাদ্য। এখানকার উপজাতি গোষ্ঠীর মানুষের প্রধান উপজীবিকা ছিল ব্যাবসা। মক্কা শহরের দখলকে কেন্দ্র করে – উপজাতিদের মধ্যে সর্বদাই সংঘর্ষ লেগে থাকত।

ইসলাম ধর্ম প্রচারের পর আরবদেশের বদল হজরত মহম্মদ প্রবর্তিত ইসলাম ধর্মের ব্যাপক প্রচার শুরু হয় খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে। এই ধর্ম মক্কা-মদিনাসহ আরবদেশের সর্বত্র প্রচারিত হয়। ফলস্বরূপ উপজাতিদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অবসান ঘটে এবং তাদের মধ্যে ঐক্যবোধের সৃষ্টি হয়।

∆ কল্পনা করে লেখো (১০০-১৫০ শব্দের মধ্যে) :

(ক) মনে করো তুমি রাজা শশাঙ্কের আমলে একজন পর্যটক। তুমি তাম্রলিপ্ত থেকে কর্ণসুবর্ণ যাচ্ছ। পথে তুমি কোন্ কোন্ অঞ্চল ও নদী দেখতে পাবে ? ‘কর্ণসুবর্ণে’ গিয়েই বা তুমি কী দেখবে ?

উত্তরঃ আমি রাজা শশাঙ্কের আমলের একজন পর্যটক। তাম্রলিপ্ত হলো প্রাচীনকালের একটি বিখ্যাত বান্দর এবং কর্ণসুবর্ণ হল গৌড় অধিপতি রাজা শশাঙ্কের রাজধানী। তাম্রলিপ্ত দক্ষিণ রাঢ়ের শেষ প্রান্তে অবস্থিত আর কর্ণসুবর্ণ উত্তর রাঢ়ে অবস্থিত।

গৌড় অধিপতি শশাঙ্কের আমলে একজন পর্যটক হিসেবে আমি তাম্রলিপ্ত থেকে কর্ণসুবর্ণ যাত্রাকালে যে সমস্ত অঞ্চলগুলি দেখতে পাব সেগুলি হল— দক্ষিণ রাঢ়, উত্তর রাঢ়, বঙ্গ, গৌড়, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি। এ ছাড়া যে সমস্ত নদী ও নদ দেখা যাবে তা হল—ভাগীরথী, রূপনারায়ণ, দামোদর, অজয়, ময়ূরাক্ষী প্রভৃতি।

আমি পথে দেখতে পেলাম রূপনারায়ণ নদী। এই নদী পেরিয়ে দামোদর নদের দিকে এগিয়ে গেলাম। পরে দামোদর ও অজয়নদী পেরিয়ে ময়ূরাক্ষী নদীর দিকে এগিয়ে গেলাম। ময়ূরাক্ষীর পাশ দিয়ে পৌঁছে গেলাম কর্ণসুবর্ণে, যা ময়ূরাক্ষী ও ভাগীরথীর সংগমস্থলে অবস্থিত। কর্ণসুবর্ণে গিয়ে আমি দেখলাম– (১) রাজা শশাঙ্কের রাজধানী, (২) রক্তমৃত্তিকা বৌদ্ধবিহার, (৩) রাজা শশাঙ্কের প্রাসাদ ও তাঁর দরবার (৪) কর্ণসুবর্ণের প্রশাসনিক ও বাণিজ্য কেন্দ্র।

আরও দেখলাম এই দেশটি জনবহুল এবং এখানকার মানুষেরা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে জমি নীচু ও আর্দ্র, নিয়মিত কৃষিকাজ হয়, অঢেল ফুল-ফল পাওয়া যায়, জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ এবং এখানকার মানুষজনের চরিত্র ভালো ও তাঁরা শিক্ষাদীক্ষার পৃষ্ঠপোষক। কর্ণসুবর্ণে বৌদ্ধ এবং শৈব উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই বসবাস করে।

(খ) মনে করো দেশে মাৎস্যন্যায় চলছে। তুমি ও তোমার শ্রেণির বন্ধুরা দেশের রাজা নির্বাচন করতে চাও। তোমাদের বন্ধুদের মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

উত্তরঃ জলাশয়ের বড়ো মাছ যেমন ছোটো মাছকে গিলে ফেলে, তেমনটি বাহুবলের দ্বারা অভিজাত শ্রেণি দুর্বলের ওপর অত্যাচার, নৈরাজ্য চালিয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে সেটাই ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে পরিচিত। ইতিহাস বইতে পাল শাসনের পূর্বে এই রকম ‘মাৎস্যন্যায়ের’ কথা আমরা পড়েছি। এই মাৎস্যন্যায়-এর অবসান ঘটিয়ে দেশের রাজা নির্বাচনের মাধ্যমে আমি ও আমার বন্ধুরা শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা যা করব তারই একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নীচে মেলে ধরলাম।

আমি : কিরে শুভম আমাদের বাংলাদেশে যে অরাজক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চলছে তার থেকে পরিত্রাণে কী করা যায় বলে তোর মনে হয় ?

শুভম : আমার তো মনে হয় একজন যোগ্য শাসক বা রাজার প্রয়োজন।

আমি : হ্যাঁ। তুই ঠিকই বলেছিস কিন্তু আমরা যে রাজাকে ক্ষমতায় বসাবো তাঁকে অবশ্যই ক্ষমতাশালী হতে হবে, যাতে তিনি সিংহাসনে বসেই সমস্ত কিছু কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

শুভম : আমার তো মনে হয় এর পাশাপাশি তাঁকে অসীম প্রতিভার অধিকারী হতে হবে, যিনি রাজ্যকে একটি দৃঢ় শাসনের ওপর দাঁড় করাতে পারবেন।

আমি : আমাদের এমন একজনকে রাজা রূপে নির্বাচন করতে হবে যিনি নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে, সমস্ত সমস্যার মোকাবিলা করে রাজ্যে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। এমনকি রাজ্যের প্রজাকল্যাণে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করবেন। এবং বাংলায় একটি দীর্ঘকালীন শাসন ব্যবস্থার ভিত গড়ে দেবেন।

শুভম : আমাদের এমন রাজা নির্বাচন করতে হবে যিনি ক্ষমতা লোভী নন। অর্থাৎ রাজ্যপরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁকে বিশেষ প্রশাসক গোষ্ঠী গড়ে তুলতে হবে। যাদের মতামত তিনি শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্রহণ করবেন।

(গ) মনে করো তুমি কৈবর্ত নেতা দিব্য। পাল রাজাদের বিরুদ্ধে তোমার অভিযোগগুলি কী কী থাকবে ? কীভাবেই বা তুমি তোমার বিদ্রোহী সৈন্যদল গঠন ও পরিচালনা করবে তা লেখো।

উত্তরঃ আমি পাল রাজাদের আমলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৈবর্ত নেতা দিব্য। আমার অভিযোগ– (১) পালরাজা দ্বিতীয় মহীপাল অত্যন্ত অত্যাচারী, অযোগ্য, কুচক্রী ও অকর্মণ্য। (২) তিনি অত্যন্ত আরামপ্রিয় ও বিলাসী এবং অমিতব্যয়ী। (৩) প্রজাদের কাছ থেকে জোর করে কর আদায় করছেন। (৪) তিনি শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্ম গ্রহণে কৈবর্তদের বাধা দিচ্ছেন। (৫) কৈবর্তদের মাছ ধরার ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করেছেন। (৬) প্রজাদের জন্য কল্যাণকামী কাজে বিরত। (৭) তিনি স্বজনপোষণ করেন। (৮) তিনি ন্যায় বিচারে অক্ষম।

বিদ্রোহী সেনাদল গঠনঃ আমি প্রথমে অত্যাচারী রাজা দ্বিতীয় মহীপালের করভারে জর্জরিত প্রজা, কৈবর্তদের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় পীড়িত প্রজা, ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত- এই সমস্ত অত্যাচারে অতিষ্ট মানুষ নিয়ে সৈন্যবাহিনী গঠন করে অত্যাচারী রাজার বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি সুস্থ ও সুন্দর রাজ্য গঠন করবো।

সৈন্যদল পরিচালনাঃ যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে পুরো সৈন্যবাহিনীকে কয়েকটি ছোটো ছোটো দলে বিভক্ত করে নেবো এবং প্রতিটি দলের দায়িত্বে থাকবেন একজন দক্ষ সেনানায়ক। যে দলটিকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে সুষ্ঠভাবে নিয়ন্ত্রণ ও চালিত করতে পারবে। কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য সৈন্যবাহিনীর চাতুরতার ওপর জোর দিতে হবে এবং সেনাদলগুলিকে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও সাজসরঞ্জামে সুসজ্জিত করা হবে। সৈন্যদলকে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে আমরা রাজার বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করব এবং এক নতুন দেশ গঠনের পথে অগ্রসর হব। সাথে জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাল রাজাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করব।

(ঘ) মনে করো তুমি বাংলায় তুর্কি আক্রমণের দিন দুপুরবেলায় নদিয়া শহরের রাজপথ দিয়ে যাচ্ছিলে। সেই সময় কী দেখলে ?

উত্তরঃ আমি বাংলায় তুর্কি আক্রমনের দিন দুপুরবেলায় নদিয়া শহরের রাজপথ দিয়ে হাঁটছি।

সময়ঃ দুপুরবেলা।

আমার দেখা দৃশ্যঃ দুপুরবেলা সূর্যের প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে নদিয়ার রাজপথ ধরে এগিয়ে চলেছি। রাস্তায় খুব বেশি লোকজন নেই। রাজবাড়ির সিংহদুয়ারের কাছে আসতেই দেখলাম এক রোমহর্ষক দৃশ্য। আঠারো জন অশ্বারোহী সশস্ত্র অবস্থায় হঠাৎ করে রাজবাড়ির মধ্যে প্রবেশ করল। আর রাজার রক্ষীরা প্রাণপণে ওই বিদেশাগত অশ্বারোহী বাহিনীকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। রাস্তার একপাশে সরে গিয়ে এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে আমার হাত-পা কাঁপতে লাগল। প্রথমে আমার মনে হয়েছিল এরা রাজার সেনাদল। কিন্তু পরে বুঝলাম এরা ঘোড়া-ব্যবসায়ী সেজে রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করেছে। আসলে এরা বিদেশি আক্রমণকারী। বেগতিক দেখে প্রাণপণে সেখান থেকে পালিয়ে গেলাম।

📌 আরো দেখুনঃ

📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌সপ্তম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ

📌 সপ্তম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি গণিত সমাধান Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply

  • Post comments:0 Comments
  • Reading time:14 mins read