FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 7 (VII) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER
Set-3
সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৩ | Class 7 History First Unit Test Question with Answer Set-3 wbbse
পাঠ্যসূচি / SYLLABUS
অধ্যায় – ২ : ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের কয়েকটি ধারা খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক।
অধ্যায় – ৩ : ভারতের সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক।
Siliguri Boys’ High School (H.S)
প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
অষ্টম শ্রেণি
বিষয় : ইতিহাস
পূর্ণমান-৩০ সময় : ১ ঘণ্টা মিনিট
1. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : 1×6=6
(i) কৈবর্ত বিদ্রোহের একজন নেতা ছিলেন- (a) ভীম, (b) রামপাল, (c) মহীপাল।
উত্তরঃ (a) ভীম।
(ii) সেন রাজা ________ এর আমলে বাংলায় তুর্কি আক্রমণ ঘটে- (a) বিজয় সেন, (b) বল্লাল সেন, (c) লক্ষ্মণ সেন।
উত্তরঃ (c) লক্ষ্মণ সেন।
(iii) ‘গঙ্গাইকোন্ডচোল’ উপাধি নিয়েছিলেন- (ক) রাজেন্দ্র চোল, (b) হর্ষবর্ধন, (c) শশাঙ্ক।
উত্তরঃ (ক) রাজেন্দ্র চোল।
(iv) ‘রামচরিত’ কাব্য রচনা করেন- (a) সন্ধ্যাকর নন্দী, (b) রামপাল, (c) মহীপাল।
উত্তরঃ (a) সন্ধ্যাকর নন্দী।
(v) শশাঙ্কের শাসনকালে গৌড়ে যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তাকে বলা হত – (a) গৌড়তন্ত্র, (b) সামন্ততন্ত্র, (c) প্রজাতন্ত্র।
উত্তরঃ (a) গৌড়তন্ত্র।
(vi) সেন যুগে ________ আমলে সবচেয়ে বিখ্যাত সাহিত্যিক ছিলেন কবি জয়দেব। (a) লক্ষ্মণসেনের, (b) বল্লালসেনের, (c) সামন্তসেনের।
উত্তরঃ (a) লক্ষ্মণসেনের।
2. সত্য / মিথ্যা নিরূপণ করো : 1×2=2
(i) ‘সকলোত্তর পথনাথ’ উপাধি নিয়েছিলেন শশাঙ্ক।
উত্তরঃ মিথ্যা (উপাধিটি হর্ষবর্ধনের ছিল)।
(ii) পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গোপাল।
উত্তরঃ সত্য।
3. একটি বাক্যে উত্তর দাও : 1×2=2
(i) প্রাচীন বাংলার অঞ্চলগুলির মধ্যে কোন্ অঞ্চলটি সবচেয়ে বড়ো ?
উত্তরঃ প্রাচীন বাংলার অঞ্চলগুলির মধ্যে পুণ্ড্রবর্ধন অঞ্চলটি সবচেয়ে বড়ো ছিল।
(ii) ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ কার লেখা ?
উত্তরঃ ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ সেন রাজা বল্লাল সেনের লেখা।
4. নীচের যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (দু-তিনটি বাক্যে) : 2×2=4
(i) আরবি ভাষায় ‘হিজরত’ কী ?
উত্তরঃ ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় হজরত মহম্মদের দেশান্তরী হওয়াকে আরবি ভাষায় ‘হিজরত’ বলা হয়। এই ঘটনার বছর থেকেই মুসলিমদের ‘হিজরি’ অব্দ গণনা শুরু হয়।
(ii) বৌদ্ধ দার্শনিকদের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলির নাম লেখো।
উত্তরঃ বৌদ্ধ দার্শনিকদের প্রধান জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছিল বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার বা মহাবিহার, যেমন— নালন্দা, বিক্রমশীল, ওদন্তপুরী, সোমপুরী এবং জগদ্দল মহাবিহার।
(iii) পাল ও সেন যুগের প্রধান ফসলগুলির নাম লেখো।
উত্তরঃ এই যুগের প্রধান ফসল ছিল ধান। এ ছাড়াও সরষে, আখ, নীল, কার্পাস তুলা এবং পান-সুপারি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, কলা ও নারকেল ছিল প্রধান।
5. নীচের যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (চার-পাঁচটি বাক্যে) : 3×2=6
(i) ‘ত্রি-শক্তি সংগ্রাম’ কী ?
উত্তরঃ অষ্টম শতাব্দীতে কনৌজ দখলকে কেন্দ্র করে ভারতের তিনটি প্রধান শক্তির মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে যে লড়াই চলেছিল, তাকেই ইতিহাসবিদরা ‘ত্রি-শক্তি সংগ্রাম’ বলেন। এই তিনটি শক্তি ছিল বাংলার পাল, দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট এবং পশ্চিম ভারতের গুর্জর-প্রতিহার বংশ। এই লড়াই প্রায় ২০০ বছর ধরে চলেছিল।
(ii) চর্যাপদ কী ?
উত্তরঃ পাল যুগে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের লেখা কবিতা ও গানের সংকলন হলো চর্যাপদ। এটি হলো খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে লেখা আদি বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন। ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে এই পুথিটি আবিষ্কার করেন।
(ii) ‘মাৎস্যন্যায়’ কাকে বলে ?
উত্তরঃ পুকুরের বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, তেমনি শশাঙ্কের মৃত্যুর পর (সপ্তম শতকের মাঝামাঝি) থেকে পাল বংশের প্রতিষ্ঠার আগে পর্যন্ত বাংলার অরাজক পরিস্থিতিকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলা হয়। এই সময় দেশে কোনো কেন্দ্রীয় শাসন ছিল না এবং শক্তিশালী লোকেরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করত।
6. নীচের যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (আট-দশটি বাক্যে) : 5×2=10
(i) শশাঙ্কের কৃতিত্ব লেখো।
উত্তরঃ প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে গৌড়রাজ শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন সার্বভৌম শাসক। তাঁর কৃতিত্বগুলি হলো—
গৌড় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা: তিনি গুপ্ত রাজাদের অধীনে সামন্ত মহাসামন্ত ছিলেন। ৬০৬ খ্রিস্টাব্দের কিছু আগে তিনি গৌড়ের সিংহাসনে বসেন এবং কর্ণসুবর্ণকে রাজধানী করে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।
রাজ্য বিস্তার: শশাঙ্ক মগধ, ওড়িশা ও কঙ্গোদ জয় করে তাঁর সীমানা বৃদ্ধি করেন। কনৌজের রাজা গ্রহবর্মা এবং স্থাণেশ্বরের রাজা রাজ্যবর্ধনকে পরাজিত করে তিনি উত্তর ভারতে প্রভাব বিস্তার করেন।
প্রশাসনিক দক্ষতা: শশাঙ্কের সময় বাংলায় এক শক্তিশালী শাসনকাঠামো গড়ে ওঠে, যাকে ‘গৌড়তন্ত্র’ বলা হয়। তিনি কেন্দ্রীয় শাসনের ভিত শক্ত করেছিলেন।
অর্থনৈতিক অবদান: তাঁর রাজত্বকালে বাংলায় সোনার মুদ্রার প্রচলন ছিল, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। যদিও সেই মুদ্রায় খাদের পরিমাণ বেশি ছিল, তবুও তা মুদ্রাব্যবস্থার সক্রিয়তার প্রমাণ।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: হর্ষবর্ধনের মতো শক্তিশালী রাজার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে তিনি বাংলার সম্মান বৃদ্ধি করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরই বাংলায় দীর্ঘকাল অরাজকতা বা ‘মাৎস্যন্যায়’ চলেছিল।
(iii) দক্ষিণ ভারতে চোল শক্তির উত্থানের পটভূমি বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ পাল যুগের প্রায় চারশো বছরের শাসনে শিল্প ও সংস্কৃতির অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছিল—
স্থাপত্য ও ভাস্কর্য: পাল যুগে অসংখ্য বৌদ্ধ বিহার ও স্তূপ নির্মিত হয়েছিল (যেমন—ওদন্তপুরী, বিক্রমশীল)। ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে পাথরের খোদাই করা মূর্তি এবং পোড়ামাটির বা ‘টেরাকোটা’র কাজ ছিল বিশ্ববিখ্যাত।
চিত্রকলা: পুথির অলঙ্করণের জন্য পাল যুগের সূক্ষ্ম চিত্রশৈলী পরিচিত। ‘অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা’ পুথির রঙিন ছবিগুলি এই সময়ের উন্নত চিত্রকলার প্রমাণ দেয়।
ধাতু শিল্প: এই যুগে তামা ও ব্রোঞ্জ দিয়ে মূর্তি তৈরির শিল্পে ধীমান ও তাঁর পুত্র বীটপাল ছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী। তাঁদের তৈরি ব্রোঞ্জ মূর্তিগুলো আজও বিস্ময় জাগায়।
শিক্ষা ও সাহিত্য: নালন্দা ও বিক্রমশীল মহাবিহার ছিল বিশ্বখ্যাত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। এই যুগেই আদি বাংলা ভাষার নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ রচিত হয়েছিল।
ধর্মীয় সমন্বয়: পাল রাজারা বৌদ্ধ হলেও তাঁরা হিন্দু ধর্ম ও ব্রাহ্মণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, যা এক মিশ্র সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছিল।
(ii) পাল আমলের শিল্প ও সংস্কৃতির কী পরিচয় পাওয়া যায় লেখো।
উত্তরঃ নবম শতাব্দীতে দক্ষিণ ভারতে চোল রাজবংশের পুনরুত্থান ভারতের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। এর প্রধান পটভূমিগুলি হলো—
পাণ্ড্য ও পল্লবদের পতন: দাক্ষিণাত্যের পল্লব ও পাণ্ড্য শক্তি দুর্বল হয়ে পড়লে সেই শূন্যস্থানে চোলরা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ৮৫০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ বিজয়ালয় এই বংশের ভিত স্থাপন করেন।
দক্ষ ও শক্তিশালী শাসক: প্রথম রাজরাজ এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্র চোল ছিলেন অসাধারণ যোদ্ধা। তাঁরা চোল সাম্রাজ্যকে গঙ্গা নদী থেকে শুরু করে মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
নৌ-শক্তির আধিপত্য: চোলদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল তাদের শক্তিশালী নৌবাহিনী। এর সাহায্যে তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বাণিজ্য ও রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম করে এবং বঙ্গোপসাগরকে ‘চোল হ্রদে’ পরিণত করে।
উন্নত গ্রাম শাসন: চোলদের উত্থানের পেছনে তাদের মজবুত গ্রাম পঞ্চায়েত বা স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা বড় ভূমিকা রেখেছিল, যা রাজাকে নিরবচ্ছিন্ন রাজস্ব ও স্থিতিশীলতা দিত।
জলসেচ ও কৃষি: কাবেরী নদীকে কেন্দ্র করে উন্নত সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলায় কৃষিতে উদ্বৃত্ত তৈরি হয়, যা চোলদের বিশাল সেনাবাহিনী ও মন্দির তৈরির খরচ জোগাত।
📌আরও দেখোঃ
📌সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ
📌 সপ্তম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি গণিত সমাধান Click Here
