FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 7 (VIII) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER
Set-2
সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-২ | Class 7 History First Unit Test Question with Answer Set-2 wbbse
∆ পাঠ্যসূচি—
দ্বিতীয় অধ্যায় : ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের কয়েকটি ধারা খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক।
তৃতীয় অধ্যায় : ভারতের সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক।
📌সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
অষ্টম শ্রেণি
বিষয় : ইতিহাস
পূর্ণমান-৩০ সময় : ১ ঘণ্টা মিনিট
১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১x৬=৬
(i) হযরত মুহাম্মদ জন্মগ্রহণ করেন- (a) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ, (৮) ৫৮০ খ্রিষ্টাব্দ, (c) ৬৭০ খ্রিষ্টাব্দ, (d) ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তরঃ (a) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ।
(ii) ‘খলিফা’ কথাটির অর্থ কী – (a) রাজা (b) প্রতিনিধি, (c) কর্মচারী, (d) সেনাপতি।
উত্তরঃ (b) প্রতিনিধি।
(iii) আহমেদ নগরের প্রধানমন্ত্রী কে ছিল- (a) মালিক অম্বর, (b) বৈরাম খাঁ, (c) টোডরমল, (d) আবুল ফজল।
উত্তরঃ (a) মালিক অম্বর।
(iv) ভারতবর্ষের প্রথম মোগল বাদশাহ কে- (a) হুমায়ুন, (b) আকবর, (c) বাবর, (d) শাহজাহান।
উত্তরঃ (c) বাবর।
(৬) পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে-(a) ধর্মপাল, (b) দেবপাল, (c) গোপাল, (d) রামপাল।
উত্তরঃ (c) গোপাল।
(vi) শশাঙ্কের রাজধানী- (a) পুরুষপুর, (b) পেশোয়ার (c) সমতট, (d) কর্ণসুবর্ণ
উত্তরঃ (d) কর্ণসুবর্ণ।
২। নির্দেশ অনুসারে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও (যেকোনো চারটি) : ১×৪=৪
(i) কে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন ?
উত্তরঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
(ii) ‘রামচরিত’ কাব্যের রচয়িতা কে ?
উত্তরঃ সন্ধ্যাকর নন্দী।
(iii) গীতগোবিন্দম কার লেখা ?
উত্তরঃ জয়দেব।
(iv) পাল যুগে একজন বিখ্যাত শিল্পীর নাম কী ?
উত্তরঃ ধীমান।
৩। নিচের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যেকোনো দুটি) : ২×২=৪
(i) ‘ব্রহ্মদেয় ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝায় ?
উত্তরঃ দক্ষিণ ভারতের রাজারা ব্রাহ্মণদের যে জমি দান করতেন তার জন্য ব্রাহ্মণদের কোন কর দিতে হত না। ব্রাহ্মণরা সেই জমি আবাদ করে নতুন বসতি গড়ে তুলতেন। রাজার এই জমিদানের ব্যবস্থাকেই ব্রহ্মদেয় ব্যবস্থা বলা হয়।
(ii) মাৎসন্যায় কাকে বলে ?
উত্তরঃ পুকুরের বড়ো মাছ যেমন ছোটো মাছকে খেয়ে ফেলে, ওরা যখন তার সময়ে তেমনি শক্তিশালী লোক লোক ইচ্ছেমতো দুর্বল ও দরিদ্রদের শোষণ ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, তাকেই ঐতিহাসিকরা মাৎস্যন্যায় বলে অভিহিত করেছেন।
(iii) পঞ্চরত্ন কাদের বলা হয় ?
উত্তরঃ বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণসেনের রাজসভায় পাঁচজন বিখ্যাত কবি ছিলেন, এঁদের একসঙ্গে ‘পঞ্চরত্ন’ বলা হত। পাঁচজন বিখ্যাত কবি বা ‘পঞ্চরত্ন’ হলেন- জয়দেব, ধোয়ী, গোবর্ধন, উমাপতি ধর ও শরণ।
(iv) গৌড় তন্ত্র বলতে কী বোঝো ?
উত্তরঃ গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক গৌড় রাজ্যে যে শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন তাকে বলা হয় গৌড়তন্ত্র। এই ব্যবস্থায় রাজকর্মচারী বা আমলারা গ্রামস্তর পর্যন্ত প্রশাসনিক কাজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখত। অর্থাৎ, ঐ আমলের গৌড় রাজ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে সরকার পরিচালনা করা হতো।
৪। নিচের প্রশ্নগুলি ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও (যেকোনো দুটি) : ৩×২=৬
(i) নালন্দা মহাবীহারের সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তরঃ নালন্দা মহাবীহার সম্ভবত গুপ্ত সম্রাটদের আমলে খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে বর্তমান বিহার রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই নালন্দা সমগ্র এশিয়ায় শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে।
হর্ষবর্ধন ও পাল রাজাদের শাসনামলে এই মহাবিহার রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। এখানে পড়াশোনার জন্য তিব্বত, চিন, কোরিয়া ও মোঙ্গলিয়া থেকে ছাত্ররা আসত এবং তাদের বিনা খরচে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্ররাই এখানে পড়ার সুযোগ পেত এবং একসময় প্রায় দশ হাজার আবাসিক ভিক্ষু নালন্দায় বাস করত। ত্রয়োদশ শতকে তুর্কি আক্রমণের ফলে নালন্দা মহাবীহারের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং এর গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
(ii) দক্ষিণ ভারতের কৃষিতে জলসেচ ব্যবস্থা কেমন ছিল বর্ণনা করো।
উত্তরঃ উত্তর দক্ষিণ ভারতে চোলরা কৃষির উন্নতির জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিলেন।
• খাল কেটে সেচব্যবস্থা : চোল রাজারা তামিলনাড়ু অঞ্চলে কাবেরী ও তার শাখানদী থেকে খাল কেটে জমিতে জলসেচের ব্যবস্থা করেছিলেন।
• বৃষ্টির জল ধরে রেখে সেচব্যবস্থা : যেখানে নদী থেকে সেচের ব্যবস্থা কম ছিল সেখানে পুকুর কেটে বৃষ্টির জল ধরে রেখে সেচের কাজ করা হত।
• কুয়ো খুঁড়ে সেচব্যবস্থা : কোথাও কোথাও কুয়ো খুঁড়ে কৃষিতে জলসেচের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
(iii) অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তরঃ বাঙালি বৌদ্ধ আচার্যদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ও শ্রেষ্ঠ পন্ডিত ছিলেন দীপঙ্কর-শ্রীজ্ঞান (অতীশ)। তাঁর আসল নাম অতীশ। ওদন্তপুরী বিহারের আচার্য শীলরক্ষিতের কাছে দীক্ষা নিয়ে তিনি ‘দীপঙ্কর-শ্রীজ্ঞান’ নামে ভূষিত হন।
জন্ম ও জন্মস্থান: ৯৮০ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গাল অঞ্চলের বিক্রমমণিপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্রাহ্মণ্য মতবাদের বিরোধী ছিলেন বলে তাঁর জন্মভিটা (বাড়ি) ‘নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা’ নামে পরিচিত ছিল।
মহাবিহারের অধ্যক্ষরূপে অতীশ দীপঙ্কর-শ্রীজ্ঞান (অতীশ) সম্ভবত বিক্রমশীল, ওদন্তপুরী ও সোমপুরী মহাবিহারের আচার্য ও অধ্যক্ষ ছিলেন।
তিব্বতে অতীশ : তিব্বতের রাজা জ্ঞানপ্রভের আমন্ত্রণে তিনি ১০৪০ খ্রিস্টাব্দে তিব্বতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মহাযান বৌদ্ধধর্মের প্রচার করে বৌদ্ধধর্মকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। তিব্বতে তিনি বুদ্ধের অবতাররূপে পূজিত হন। তিব্বতের রাজধানী লাসায় তাঁর সমাধিস্থল আজও বৌদ্ধদের কাছে তীর্থক্ষেত্র।
(iv) টীকা লেখঃ কৈবর্ত বিদ্রোহ।
উত্তরঃ পালশাসনে একাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে বাংলায় কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। সন্ধ্যাকর নন্দীর ‘রামচরিত’ কাব্যে এই বিদ্রোহের কথা লেখা আছে। কৈবর্তরা ছিল নৌকার মাঝি বা জেলে। বৌদ্ধধর্মাবলম্বী পালরাজারা অহিংসার আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন বলে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেন। ফলত, জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৈবর্তরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এদের নেতৃত্ব দেয় দিব্য, রুদোক এবং ভীম। এই সময় পালবংশের রাজা ছিলেন দ্বিতীয় – মহীপাল। দ্বিতীয় মহীপাল এই বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে নিহত হন। মহীপালের পর – তাঁর ছোটো ভাই রামপাল ভীমকে পরাজিত এবং হত্যা করেন। রামপাল পুনরায় বরেন্দ্র অঞ্চলে পাল-শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলের রামাবতী নগরে রাজধানী স্থাপন করেন।
৫। নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যেকোনো দুটি) : ৫x২=১০
(i) শশাঙ্কের কৃতিত্ব আলোচনা করো ?
উত্তরঃ রাজা শশাঙ্কের কৃতিত্ব—
প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্ক এক স্মরণীয় নাম। তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম নরপতি। সপ্তম শতকের শুরুতে (আনুমানিক ৬০৬ খ্রিস্টাব্দ) তিনি গৌড় রাজ্যে নিজের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তার কৃতিত্বের প্রধান দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো—
গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠা: গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর শশাঙ্ক গৌড়ের ক্ষমতা দখল করেন। তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার কর্ণসুবর্ণকে তাঁর রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন। তাঁর শাসনেই গৌড় ভারতের ইতিহাসে একটি শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
রাজ্য বিস্তার: শশাঙ্ক তাঁর রাজ্যের সীমানা বহুদূর বিস্তৃত করেছিলেন। উত্তরে মগধ থেকে শুরু করে দক্ষিণে ওড়িশার কঙ্গোদ এবং পশ্চিমে বারাণসী পর্যন্ত তাঁর আধিপত্য ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি কনৌজের রাজা গ্রহবর্মা এবং স্থাণ্বেশ্বরের রাজা রাজ্যবর্ধনকেও পরাজিত করেছিলেন।
শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা: শশাঙ্ক কেবল যুদ্ধজয়ে দক্ষ ছিলেন না, তিনি বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোকেও শক্তিশালী করেছিলেন। তিনি সামন্তদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলেন এবং গৌড়ের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
অর্থনৈতিক অবদান: তাঁর রাজত্বকালে বাংলায় সোনার মুদ্রার প্রচলন ছিল, যা তাঁর সমৃদ্ধ শাসনের পরিচয় দেয়। যদিও মুদ্রার মান আগের চেয়ে কিছুটা কমেছিল, তবুও ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
একীভূত শাসন: শশাঙ্কের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো বাংলার বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোকে (বিশেষ করে গৌড় ও পুণ্ড্রবর্ধন) একটি একক রাজনৈতিক শাসনের অধীনে আনার চেষ্টা করা। এজন্য তাঁকে অনেক ঐতিহাসিকভাবে ‘গৌড়রাজ’ বলা হয়।
উপসংহার: হিউয়েন সাং এবং বাণভট্টের লেখায় শশাঙ্ক সম্পর্কে কিছুটা নেতিবাচক মন্তব্য থাকলেও, বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন স্বাধীন ও শক্তিশালী শাসক হিসেবে শশাঙ্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(ii) দক্ষিণ ভারতের চোল শক্তির উত্থান সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তরঃ দক্ষিণ ভারতের চোল শক্তির উত্থান—
প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাসে দক্ষিণ ভারতের চোল রাজবংশ এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। কাবেরী নদীর বদ্বীপ অঞ্চলে এই শক্তির মূল কেন্দ্র ছিল।
শক্তির প্রতিষ্ঠা: নবম শতাব্দীতে বিজয়ালয় চোল রাজ্যের পুনরুত্থান ঘটান। তিনি ‘তাঞ্জাভুর’ বা তাঞ্জোর শহরে রাজধানী স্থাপন করেন।
রাজারাজ ও প্রথম রাজেন্দ্র চোল: চোল বংশের প্রকৃত শক্তিশালী রাজা ছিলেন প্রথম রাজরাজ (৯৮৫-১০১৪ খ্রি.)। তিনি পান্ড্য, চের এবং চালুক্যদের পরাজিত করে চোল সাম্রাজ্যের সীমানা বিস্তার করেন। তাঁর পুত্র প্রথম রাজেন্দ্র চোল আরও এক ধাপ এগিয়ে গঙ্গা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল (বাংলা) জয় করেন এবং ‘গঙ্গাইকোণ্ডচোল’ উপাধি গ্রহণ করেন।
নৌবাহিনীর গুরুত্ব: চোলদের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল তাদের শক্তিশালী নৌবাহিনী। এই নৌবাহিনীর সাহায্যে তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহ (যেমন— জাভা, সুমাত্রা) এবং শ্রীলঙ্কায় প্রভাব বিস্তার করেছিল। ফলে ভারত মহাসাগরের বাণিজ্যে চোলদের একাধিপত্য তৈরি হয়।
রাজস্ব ও কৃষি: চোল রাজারা কৃষির উন্নতির জন্য সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছিলেন। কাবেরী নদী থেকে খাল কেটে সেচের ব্যবস্থা করা হতো। কৃষকদের গ্রামকে বলা হতো ‘উর’ এবং এই গ্রামগুলির সমষ্টিকে বলা হতো ‘নাডু’।
শাসনব্যবস্থা (স্বায়ত্তশাসন): চোলদের শাসনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন। গ্রামবাসীরা নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করত। গ্রাম শাসনের জন্য ‘সভা’ ও ‘সমিতি’ গঠিত হতো, যা তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত উন্নত ছিল।
মূল্যায়ন: শিল্প, স্থাপত্য (যেমন— তাঞ্জাভুরের রাজরাজেশ্বর মন্দির) এবং ব্রোঞ্জ মূর্তিশিল্পের বিকাশেও চোলদের অবদান অপরিসীম। দক্ষিণ ভারতে প্রায় চারশ বছরেরও বেশি সময় চোলরা গৌরবময় শাসন চালিয়েছিল।
(iii) পাল ও সেন যুগে ধন সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে বর্ণনা কর।
উত্তরঃ পাল ও সেন যুগে বাংলার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি ছিল কৃষি। তবে এই সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ধন-সম্পত্তির বন্টনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি: এই যুগে বাংলার মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি। ধান, সরষে এবং নানারকম ফল (যেমন— আম, কাঁঠাল, কলা, নারকেল) প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো। কার্পাস তুলোর চাষও হতো খুব বেশি। উৎপন্ন ফসলের একটি নির্দিষ্ট অংশ (সাধারণত এক-ষষ্ঠাংশ) কৃষকরা রাজাকে কর হিসেবে দিত।
ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দা: পাল যুগের শুরুর দিকে সমুদ্র-বাণিজ্যের কিছুটা গুরুত্ব থাকলেও, ধীরে ধীরে বাংলার বাণিজ্যে ভাটা পড়ে। বিশেষ করে সেন যুগে বাণিজ্যের গুরুত্ব কমে যায় এবং অর্থনীতি অনেক বেশি ভূমি-নির্ভর হয়ে পড়ে। ফলে বণিকদের সামাজিক মর্যাদা আগের চেয়ে হ্রাস পায়।
মুদ্রার অভাব ও কড়ির ব্যবহার: পাল ও সেন যুগে সোনা বা রুপোর মুদ্রার প্রচলন খুব একটা দেখা যায় না। প্রাচীন বাংলার মুদ্রার বদলে এই সময়ে কেনাবেচার প্রধান মাধ্যম ছিল ‘কড়ি’। বড় অংকের হিসাবের জন্য ‘চূর্ণী’ বা রুপোর গুঁড়ো ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়।
ধন-সম্পত্তির বৈষম্য: সমাজের সাধারণ কৃষক ও কারিগররা কঠোর পরিশ্রম করলেও তাদের জীবনযাত্রার মান খুব একটা উন্নত ছিল না। অন্যদিকে, রাজপরিবার, সামন্ত ও উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের হাতে প্রচুর ধন-সম্পদ জমা ছিল। এই অবস্থাকে বর্তমানের বিচারে ‘আর্থিক বৈষম্য’ বলা যায়।
শিল্প ও কারিগরি: কৃষিপ্রধান হলেও বস্ত্রশিল্পে বাংলা এই যুগেও খ্যাতি ধরে রেখেছিল। এ ছাড়া ধাতব শিল্প, কাষ্ঠ শিল্প এবং মৃৎশিল্পের বিকাশ ঘটেছিল। পাল যুগে পাথরের ও ব্রোঞ্জের মূর্তি তৈরির শিল্প বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিল।
মূল্যায়ন: সামগ্রিকভাবে পাল ও সেন যুগে বাংলার অর্থনীতি ছিল গ্রামকেন্দ্রিক এবং কৃষিনির্ভর। ব্যবসা-বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ার ফলে সমাজের উপরিস্তরে ধন-সম্পদ পুঞ্জীভূত থাকলেও সাধারণ মানুষ সহজ-সরল ও সাধারণ জীবনযাপন করত।
(iv) ত্রিশক্তি সংগ্রাম কাদের মধ্যে হয়েছিল ? এই সংগ্রামের মূল কারণ কী ছিল ?
উত্তরঃ হর্ষবর্ধনের পরবর্তীযুগে আর্যাবর্তের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু কনৌজের ওপর আধিপত্য স্থাপনের উদ্দেশ্যে মালবের গুর্জর-প্রতিহার, দক্ষিণ ভারতের রাষ্ট্রকূট ও বাংলার পালবংশের মধ্যে এক প্রবল ত্রি-শক্তি সংগ্রাম হয়েছিল। এই সংগ্রাম প্রায় ২০০ বছর ধরে চলেছিল।
কারণঃ সম্রাট হর্ষবর্ধনের সময় থেকে কনৌজ ভারতের রাজনৈতিক আধিপত্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। মূলত এই কনৌজের ওপর কর্তৃত্ব দখলের আকাঙ্ক্ষাই পরম শক্তিশালী তিন শক্তি গুর্জর-প্রতিহার, রাষ্ট্রকূট ও পালদের মধ্যে ত্রিশক্তি সংগ্রামের সূচনা করে। এই শক্তিগুলির কাছে কনৌজের ওপর অধিকার স্থাপন ছিল মর্যাদার প্রতীক। একইভাবে কনৌজের অর্থনৈতিক গুরুত্বও ভারতীয় রাজাদের কনৌজ দখলে প্ররোচিত করেছিল। যে কনৌজ নিয়ন্ত্রণ করবে সেই গাঙ্গেয় উপত্যকা দখলে রাখতে পারবে। এই অঞ্চলের নদী ভিত্তিক বাণিজ্য ও খনিজ দ্রব্য ছিল আর্থিক দিক থেকে লোভনীয়। এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে কনৌজ শেষ পর্যন্ত কে দখলে রাখতে পারবে, এই নিয়ে অষ্টম শতাব্দী থেকে পাল, গুর্জর-প্রতিহার ও দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট বংশের মধ্যে টানা লড়াই চলেছিল, যা ইতিহাসে ত্রি-শক্তি সংগ্রাম নামে পরিচিত। দীর্ঘ দুশো বছর ধরে চলা এই দ্বন্দ্বে তিনটি বংশেরই শক্তি শেষ হয়ে যায়।
📌আরও দেখোঃ
📌সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ
📌 সপ্তম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি গণিত সমাধান Click Here
