সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-১ | Class 7 History First Unit Test Question with Answer Set-1 wbbse

FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 7 (VII) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER

Set-1

সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-১ | Class 7 History First Unit Test Question with Answer Set-1 wbbse

∆ পাঠ্যসূচি—

দ্বিতীয় অধ্যায় : ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের কয়েকটি ধারা খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক।

তৃতীয় অধ্যায় : ভারতের সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক।

📌সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
সপ্তম শ্রেণি
বিষয় : ইতিহাস

পূর্ণমান-৩০         সময় : ১ ঘণ্টা মিনিট

DAKSHIN BARASAT S.A. HIGH SCHOOL (H.S.)
1st Summative Evaluation – 2025
Sub – History
Class – VII

Time – 1 hrs          Full Marks – 30

১। নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : 1×7=7

(ক) চোল রাজাদের রাজধানীর নাম কী ছিল ?

উত্তরঃ তাঞ্জোর (বা তঞ্জাবুর)।

(খ) ‘পবন দূত’ কে রচনা করেছিলেন ?

উত্তরঃ কবি ধোয়ী (লক্ষণ সেনের সভাকবি)।

(গ) ‘বঙ্গাল’ কাকে বলে ?

উত্তরঃ প্রাচীন বাংলার জনপদগুলির মধ্যে একেবারে দক্ষিণে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাকে ‘বঙ্গাল’ বলা হতো।

(ঘ) চর্যাপদের পুঁথি কে উদ্ধার করেছিলেন ?

উত্তরঃ চর্যাপদের পুঁথি উদ্ধার করেছিলেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (নেপালের রাজদরবার থেকে ১৯০৭ সালে)।

(ঙ) ‘গৌড়বহ’ কাব্যগ্রন্থ কে রচনা করেছিলেন ?

উত্তরঃ রাজা যশোবর্মণের সভাকবি বাক্পতিরাজ।

(চ) আবুল ফজলের লেখা গ্রন্থের নাম কী ?

উত্তরঃ আইন-ই-আকবরি’ (বা আকবরনামা)।

(ছ) বাংলার প্রাচীন অঞ্চলগুলির মধ্যে দুটির নাম লেখো।

উত্তরঃ পুন্ড্রবর্ধন এবং রাঢ়।

২। শূন্যস্থান পূরণ করো : 1×3=3

(ক) ________ ও _______ নদীর মধ্যবর্তী এলাকা বরেন্দ্র নামে পরিচিত।

উত্তরঃ করতোয়া, মহানন্দা।

(খ) দক্ষিন রাঢ় ছিল ____________।

উত্তরঃ ভুরিশ্রেষ্ঠী।

(গ) ইতিহাসের একটি উপাদান হল ____________।

উত্তরঃ লিপি (বা মুদ্রা/স্থাপত্য)।

৩। স্তম্ভ মেলাও : 1×4=4

বামস্তম্ভ ডানস্তম্ভ
(ক) হাঁড়িতে ভাত নেই নিত্য উপবাস (১) বিক্রমপুরী
(খ) সাহিত্য (২) রক্ত মৃত্তিকা বৌদ্ধ বিহার
(গ) বৌদ্ধ জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র (৩) চর্যাপদের কবিতার একটি বাক্য
(ঘ) লো-টো-মো-চিহ্ন (৪) সমাজের আয়না।

উত্তরঃ

বামস্তম্ভ  ডানস্তম্ভ
(ক) হাঁড়িতে ভাত নেই নিত্য উপবাস (৩) চর্যাপদের কবিতার একটি বাক্য

(খ) সাহিত্য (৪) সমাজের আয়না

(গ) বৌদ্ধ জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র (১) বিক্রমপুরী

(ঘ) লো-টো-মো-চিহ্ন (২) রক্ত মৃত্তিকা বৌদ্ধ বিহার

৪। দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও : (যে-কোন ৩টি) : 2×3=6

(ক) ‘পঞ্চরত্ন’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ? কোন রাজবংশের আমলে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন ?

উত্তরঃ বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষণ সেনের রাজসভায় পাঁচজন বিখ্যাত কবি অলংকৃত করতেন। এই পাঁচজন কবিকে একত্রে ‘পঞ্চরত্ন’ বলা হয়। তাঁরা হলেন- ১. জয়দেব ২. ধোয়ী ৩. গোবর্ধন ৪. উমাপতিধর ৫. শরণ

এই ‘পঞ্চরত্ন’ কবিরা সেন রাজবংশের আমলে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। মূলত রাজা লক্ষণ সেনের রাজত্বকালেই তাঁরা সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন

(খ) ‘আঙ্কোরভাট’ মন্দির’টি কোথায় অবস্থিত ? এবং কোন দেবতার মন্দির ?

উত্তরঃ অবস্থান: আঙ্কোরভাট মন্দিরটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কম্বোডিয়া (প্রাচীন নাম কম্বুজ) দেশে অবস্থিত। দ্বাদশ শতাব্দীতে খমের রাজা দ্বিতীয় সূর্যবর্মণ এটি নির্মাণ করেছিলেন।

দেবতা: আঙ্কোরভাট মূলত হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর মন্দির। তবে পরবর্তীকালে এটি বৌদ্ধ মন্দিরে রূপান্তরিত হয়েছিল।

(গ) কে, কখন, গঙ্গাইকোল্ড চোল উপাধি গ্রহন করেছিলেন ?

উত্তরঃ চোল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা প্রথম রাজেন্দ্র চোল ‘গঙ্গাইকোন্ড চোল’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।

গঙ্গা নদীর তীরবর্তী পাল বংশীয় রাজা মহীপালকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর এবং বাংলার গঙ্গা অববাহিকা পর্যন্ত চোল সাম্রাজ্যের বিজয় অভিযানের স্মৃতিতে তিনি এই উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।

(ঘ) প্রাচীন ভারতে “গৌড়তন্ত্র” বলতে কী বোঝ ?

উত্তরঃ প্রাচীন বাংলায় গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের শাসনকালে রাজ্যে এক বিশেষ ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। শশাঙ্ক ছিলেন গৌড়ের প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম নরপতি। তাঁর অধীনে আমলা বা কর্মচারীরা একটি সুসংবদ্ধ শাসন প্রণালী গড়ে তুলেছিলেন, যা ইতিহাসে ‘গৌড়তন্ত্র’ নামে পরিচিত।

৫। নিচের যেকোন ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও : 5×2=10

(ক) প্রাচীন ভারতে ত্রি-শক্তি সংগ্রামের কারণ গুলি কী কী এবং এর ফলাফল কী ছিল ?

উত্তরঃ ত্রিশক্তি সংগ্রাম—

হর্ষবর্ধনের পরবর্তী সময়ে উত্তর ভারতের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে অষ্টম শতাব্দীতে বাংলার পাল, গুর্জর-প্রতিহার এবং দক্ষিণ ভারতের রাষ্ট্রকূট—এই তিনটি বংশের মধ্যে যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চলেছিল, তাকেই ইতিহাসে ‘ত্রিশক্তি সংগ্রাম’ বলা হয়। এই লড়াই প্রায় ২০০ বছর ধরে চলেছিল।

∆ সংগ্রামের কারণসমূহ—

১. কনৌজের গুরুত্ব: হর্ষবর্ধনের সময় থেকেই কনৌজ ছিল উত্তর ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। যে শক্তি কনৌজ দখল করতে পারত, তাকেই সমগ্র উত্তর ভারতের অধিপতি বলে গণ্য করা হতো।

২. গঙ্গা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ: কনৌজ গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় এটি ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। এই অঞ্চলের উর্বর জমি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দখলের লোভ তিনটি রাজবংশের মধ্যেই ছিল।

৩. রাজনৈতিক আধিপত্য: পাল, প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট— এই তিন রাজবংশই নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে চেয়েছিল এবং উত্তর ভারতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চেয়েছিল।

∆ সংগ্রামের ফলাফল—

১. সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়: দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে লাগাতার যুদ্ধ চলার ফলে তিনটি রাজবংশেরই সামরিক শক্তি ও কোষাগারের অর্থ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল।

২. রাজবংশগুলির পতন: এই যুদ্ধের ফলে পাল, প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট তিন পক্ষই অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই স্থায়ীভাবে কনৌজ দখল করে রাখতে পারেনি এবং এই দুর্বলতার সুযোগে এই রাজবংশগুলোর পতন ঘটে।

৩. আঞ্চলিক শক্তির উত্থান: কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগে ভারতে ছোট ছোট আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ঘটে এবং বহিরাগত আক্রমণের (যেমন তুর্কি আক্রমণ) পথ প্রশস্ত হয়।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, কনৌজকে কেন্দ্র করে চলা এই লড়াই ভারতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ভারতের সামগ্রিক শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছিল।

(খ) কৈবর্ত বিদ্রোহ কেন হয়েছিল ? পাল-সেন যুগে বাংলার সম্পদের পরিচয় দাও।

উত্তরঃ একাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে বাংলার পাল রাজা দ্বিতীয় মহীপালের রাজত্বকালে উত্তরবঙ্গে (বরেন্দ্র অঞ্চলে) যে বিদ্রোহ হয়েছিল, তা ইতিহাসে কৈবর্ত বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি ছিল—

১. অত্যাচার ও দুর্বল শাসন: দ্বিতীয় মহীপাল ছিলেন পাল বংশের একজন দুর্বল শাসক। তাঁর ভুল শাসননীতি এবং প্রজাদের ওপর অত্যাচারের ফলে সাধারণ মানুষ ও সামন্ত রাজারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

২. অস্তিত্বের সংকট: কৈবর্তরা মূলত ছিল মৎস্যজীবী বা নৌকার মাঝি। সম্ভবত চাষবাসের সঙ্গেও তারা যুক্ত ছিল। পাল রাজাদের নতুন নতুন করের বোঝা বা জীবিকার ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে তারা বিদ্রোহের পথ বেছে নেয়।

৩. বিদ্রোহী নেতৃত্ব: দিব্য (বা দিব্যক) নামক একজন উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীর নেতৃত্বে কৈবর্তরা সংগঠিত হয় এবং দ্বিতীয় মহীপালকে যুদ্ধে পরাজিত ও হত্যা করে বরেন্দ্র ভূমি দখল করে নেয়।

পাল ও সেন যুগে বাংলার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিভিত্তিক, তবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পেরও যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল। সম্পদের প্রধান উৎসগুলি ছিল নিম্নরূপ—

কৃষিজ সম্পদ: বাংলার মাটি উর্বর হওয়ায় এখানে প্রচুর পরিমাণে ধান, সরষে এবং পান-সুপারি চাষ হতো। এছাড়া কার্পাস তুলা ও আখের চাষ ছিল অত্যন্ত লাভজনক।

শিল্প সম্পদ: এই যুগে বাংলার সুতি বস্ত্র (কাপড়) পৃথিবীবিখ্যাত ছিল। এছাড়া ধাতব শিল্প (ব্রোঞ্জ ও সোনা), শঙ্খশিল্প এবং কাঠের কাজ থেকেও প্রচুর সম্পদ অর্জিত হতো।

বাণিজ্যিক সম্পদ: বাংলার তাম্রলিপ্তের মতো বন্দর দিয়ে সমুদ্রপথে বিদেশের সঙ্গে বাণিজ্য চলত। মসলা, সুতি কাপড় এবং চাল রপ্তানি করে বাংলা প্রচুর সম্পদ অর্জন করত।

(গ) শাসক হিসাবে শশাংকের কৃতিত্ব লেখো এবং অতীশ দীপঙ্কর স্মরনীয় কেন ?

উত্তরঃ প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে সপ্তম শতকের শাসক শশাঙ্ক এক অবিস্মরণীয় নাম। শাসক হিসেবে তাঁর প্রধান কৃতিত্বগুলি হলো—

১. স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা: শশাঙ্ক ছিলেন গৌড়ের প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা। তিনি ছোট ছোট অনেক উপজাতি ও সামন্ত রাজাদের পরাজিত করে বাংলার একটি বড় অংশকে একত্রিত করেছিলেন।

২. সাম্রাজ্য বিস্তার: তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। তিনি কেবল বাংলা নয়, মগধ, ওড়িশা এবং গঞ্জাম পর্যন্ত নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন।

৩. গৌড়তন্ত্রের প্রবর্তন: শশাঙ্ক একটি সুসংবদ্ধ প্রশাসনিক কাঠামো বা আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, যা ইতিহাসে ‘গৌড়তন্ত্র’ নামে পরিচিত। এর ফলে গৌড়ের শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছিল।

৪. মুদ্রা ব্যবস্থা: শশাঙ্ক তাঁর রাজত্বকালে প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেছিলেন, যা তাঁর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পরিচয় দেয়।

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন জগৎবিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত ও ভিক্ষু। তাঁর স্মরণীয় হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো—

বৌদ্ধ ধর্মের সংস্কার: তিনি বিক্রমশীল মহাবিহারের আচার্য ছিলেন। তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য তিনি তিব্বতের রাজার আমন্ত্রণে সেখানে যান এবং তিব্বতে বৌদ্ধ ধর্মের সংস্কার সাধন করেন।

তিব্বতে ধর্মপ্রচার: তিব্বতে বৌদ্ধ ধর্মের যে বিকৃত রূপ দেখা দিয়েছিল, তা দূর করে তিনি বিশুদ্ধ বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেন। আজও তিব্বতিরা তাঁকে ‘বুদ্ধের অবতার’ হিসেবে শ্রদ্ধা করে।

জ্ঞানচর্চা ও গ্রন্থ রচনা: তিনি প্রায় ২০০-এর বেশি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, যা ভারতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শনকে সমৃদ্ধ করেছে।

📌আরও দেখোঃ

📌সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ

📌 সপ্তম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি গণিত সমাধান Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply