ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর | Class 6 History Question Answer Ch-3 wbbse

ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর | Class 6 History Question Answer Ch-3 wbbse

ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস
তৃতীয় অধ্যায়
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন
ইতিহাসের ধারা

প্রথম পর্যায় : আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০-১৫০০ অব্দ

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

ভেবে দেখো খুঁজে দেখো প্রশ্নোত্তর : ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের ধারা তৃতীয় অধ্যায় ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস | Class 6 History Question Answer Ch-3 wbbse

১। বেমানান শব্দটি খুঁজে বের করো :

১.১ তামা, কাঁসা, পাথর, লোহা।

উত্তরঃ পাথর।

১.২ ঘোড়া, হাতি, গন্ডার, ষাঁড়।

উত্তরঃ ষাঁড়।

১.৩ কালিবঙ্গান, মেহেরগড়, বানাওয়ালি, ঢোলাবিরা।

উত্তরঃ মেহেরগড়।

২। নীচের বাক্যগুলির কোনটি ঠিক কোনটি ভুল লেখো :

২.১ লিপির ব্যবহার সভ্যতার একটি বৈশিষ্ট্য।

উত্তরঃ ঠিক।

২.২ মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন দয়ারাম সাহানি।

উত্তরঃ ভুল।

২.৩ হরপ্পা সভ্যতা প্রাক-ঐতিহাসিক যুগের সভ্যতা।

উত্তরঃ ভুল।

২.৪ হরপ্পার মানুষ লিখতে জানতেন।

উত্তরঃ ঠিক।

৩। সঠিক শব্দ বেছে নিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো :

৩.১ হরপ্পা সভ্যতার বাড়িঘরগুলি তৈরি হতো (পাথর দিয়ে / পোড়া ইট দিয়ে / কাঠ দিয়ে)।

উত্তরঃ পোড়া ইট দিয়ে।

৩.২ হরপ্পা সভ্যতা ছিল (পাথরের যুগের / লোহার যুগের / তামা ও ব্রোঞ্জ যুগের) সভ্যতা।

উত্তরঃ তামা ও ব্রোঞ্জ যুগের।

৩.৩ ভারতীয় উপমহাদেশে হরপ্পাতেই (প্রথম নগর / প্রথম গ্রাম / দ্বিতীয় নগর) দেখা গিয়েছিল।

উত্তরঃ প্রথম নগর।

৪। নিজের ভাষায় ভেবে লেখো (তিন / চার লাইন) :

৪.১ তোমার জানা কোনো একটি শহরের সঙ্গে হরপ্পা সভ্যতার শহরের মিল-অমিলগুলি খুঁজে বার করো।

উত্তরঃ আমার জানা একটি শহর হল চন্দননগর।

• মিল : হরপ্পা সভ্যতার শহরের সঙ্গে চন্দননগরের যে মিল রয়েছে তার মধ্যে দুটি হল- চওড়া রাস্তা ও সরু গলিপথ, উন্নত জলনিকাশি ব্যবস্থা।

• অমিল : যেদিক দিয়ে অমিল রয়েছে তার মধ্যে দুটি হল- বিশাল শস্যের গোলা চন্দননগরে নেই, বড়ো স্নানাগারও চন্দননগরে নেই।

৪.২ সিন্ধুনদীর তীরে হরপ্পা সভ্যতার শহরগুলি কেন গড়ে উঠেছিল বলে তোমার মনে হয় ?

উত্তরঃ সিন্ধুনদীর তীরে হরপ্পা সভ্যতার শহরগুলি গড়ে ওঠার কারণসমূহগুলি হল—

• জলসেচের সুবিধা : শহরের নীচু এলাকায় কৃষিজমির জলসেচের সুবিধা।

• পানীয় জলের ব্যবস্থা : পানীয় জলের সুবিধা।

• যাতায়াতের সুবিধা : জলপথে সহজে যাতায়াতের সুবিধা।

• বহন খরচ কম : পালতোলা নৌকো করে জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার খরচ ছিল খুবই সস্তা।

৪.৩ হরপ্পা সভ্যতায় কী ধরনের বাড়িঘর পাওয়া গেছে ? সেগুলিতে কারা থাকতেন বলে মনে হয় ?

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতায় পোড়া মাটির ইটের তৈরি নানা আকারের বাড়িঘর দেখা যায়, যেমন- বড়ো বাড়ি, যেগুলি ছিল দোতলা বা তিনতলা এবং ছোটো বাড়ি, যেগুলি সারিবদ্ধভাবে গড়ে উঠেছিল।

বড়ো বড়ো ঘর বাড়িগুলি দেখে মনে হয়, সেগুলিতে ধনী মানুষেরা বসবাস করতেন এবং ছোটো বাড়িগুলিতে গরিব মানুষেরা থাকতেন।

৪.৪ তোমার কি মনে হয়, হরপ্পা সভ্যতার মানুষ স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন ? তোমার স্থানীয় অঞ্চলে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হরপ্পার মানুষের থেকে কোন কোন বিষয় তুমি শিখবে ?

উত্তরঃ এ ধরনের প্রশ্ন না আসার সম্ভাবনাই বেশি।

৫। হাতেকলমে করো :

৫.১ হরপ্পা সভ্যতায় শহর ও মানুষের জীবন কেমন ছিল ? তার ছবি দিয়ে চার্ট তৈরি করো।

৫.২ হরপ্পা সভ্যতার বিভিন্ন প্রত্ন-নিদর্শনগুলি মাটি, পিচবোর্ড বা থার্মোকল দিয়ে বানাও। ঐ প্রত্ন-নিদর্শনগুলি হরপ্পা সভ্যতার ইতিহাস জানতে কীভাবে সাহায্য করে ?

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর : ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের ধারা ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস | Extra Question Answer History Ch-3 Class 6 wbbse

∆ সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১

১. আদিম মানুষ সভ্য হয়ে উঠেছিল যার জোরে তা হল– (বুদ্ধি / জ্ঞান / বিবেক / নির্বাচন শক্তি)।

উত্তরঃ বুদ্ধি।

২. খাবারের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ানো মানুষ একসময়– (স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শিখলো / আগের ব্যবহার শিখলো / রান্না করা শিখল / যাতায়াত করতে শিখলো)।

উত্তরঃ স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শিখলো।

৩. যে কোন সভ্যতার একটি দিক হলো—
(শাসন কাঠামো / রাজনৈতিক পরিস্থিতি /
ধর্মীয় বিষয়ে / অর্থনৈতিক পরিস্থিতি)।

উত্তরঃ শাসন কাঠামো।

৪. চাকার ব্যবহার শুরু হয়— (পুরনো পাথরের যুগের / নতুন পাথরের যুগে / মাঝের পাথরের যুগে / লৌহ যুগে)।

উত্তরঃ নতুন পাথরের যুগে।

৫. যে কোন সভ্যতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো— (সমাজ গঠন / পারস্পারিক নির্ভরতা / অর্থনৈতিক উন্নতি / যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি)।

উত্তরঃ পারস্পারিক নির্ভরতা।

৬. মেহেরগড় সভ্যতা যে পাথরের যুগের নিদর্শন পাওয়া গেছে তা হলো— (পুরনো পাথরের যুগ / মাঝের পাথরের যুগ / নতুন পাথরের যুগ / ধাতু রোগের)।

উত্তরঃ নতুন পাথরের যুগ।

৭. মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন—
(জাঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজ / স্যার জন মার্শাল /
রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় / দয়ারাম সাহানি)।

উত্তরঃ জাঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজ।

৮. মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়– (1922 খ্রিস্টাব্দে / 1924 খ্রিস্টাব্দে / 1974 খ্রিস্টাব্দে / 1982 খ্রিস্টাব্দে)।

উত্তরঃ 1974 খ্রিস্টাব্দে

৯. তামা ও পাথর ব্যবহারের সময়কালকে বলা হয়— (তামা পাথরের যুগ / ধাতু যুগ / পাথরের যুগ / তামার যুগ)।

উত্তরঃ তামা পাথরের যুগ

১০. মেহেরগড় সভ্যতা ভারতীয় উপমহাদেশে যে বসতির প্রথম চিহ্ন পাওয়া যায় তা হল– (শহুরে বসতি / গ্রামীণ বসতি / শহরের ও গ্রামীণ বসতি / শুধু বস্তি)।

উত্তরঃ গ্রামীণ বসতি।

১১. শুরুতে হরপ্পা সভ্যতার নাম ছিল– (হরপ্পা সভ্যতা / গ্রামীণ সভ্যতা / সিন্ধু সভ্যতা / হরপ্পা-সিন্ধু সভ্যতা)।

উত্তরঃ সিন্ধু সভ্যতা।

১২. এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো কার্পাস চাষের নমুনা পাওয়া গেছে– (মেহেরগড়ে / মহেঞ্জোদারোতে / হরপ্পায় / ইথিওপিয়ায়)।

উত্তরঃ মেহেরগড়ে।

১৩. হরপ্পা সভ্যতা যে যুগের সভ্যতা তা হল– (ঐতিহাসিক যুগের / প্রায় ঐতিহাসিক যুগের / প্রাগৈতিহাসিক যুগের / মধ্যযুগের)।

উত্তরঃ প্রায় ঐতিহাসিক যুগের

১৪. হরপ্পা সভ্যতার বিস্তৃতি ঘটে ছিল প্রায়– (10 লক্ষ / 8 লক্ষ / 7 লক্ষ / 20 লক্ষ) বর্গ কিমি জুড়ে।

উত্তরঃ 7 লক্ষ বর্গ কিমি জুড়ে।

১৫. হরপ্পা সভ্যতা আবিষ্কৃত প্রথম কেন্দ্রটি হল– (কালিবঙ্গান / হরপ্পা / দৈমাবাদ / লোথল)।

উত্তরঃ হরপ্পা।

১৬. বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার পর প্রাচীন মানবসমাজে প্রথম চালু হলো– (রাজার / আইনের / প্রজার ) শাসন।

উত্তরঃ আইনের।

১৭. সভ্যতার সবচেয়ে বড়ো বৈশিষ্ট্য হল– (লিপির / চিত্রের / ধাতুর ) ব্যবহার।

উত্তরঃ লিপির।

১৮. ধাতুর যুগ বলা হয় সেই সময়কালকে যে সময় মানুষ– (পাথর / ধাতু / তামা) ব্যবহার করত।

উত্তরঃ ধাতু।

১৯. মেহেরগড় (খাইবার / বোলান / ওলদুভাই) গিরিপথের ধারে অবস্থিত ।

উত্তরঃ বোলান।

২০. মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন জাঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজ নামে এক (ফরাসি / ইংরেজ / পোর্তুগিজ ) প্রত্নতাত্ত্বিক।

উত্তরঃ ফরাসি।

২১. মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কারের ক্ষেত্রে জারিজকে সাহায্য করেন ( রিচার্ড মেডো / শাঁপোলিয় / কানিংহাম )।

উত্তরঃ রিচার্ড মেডো।

২২. হরপ্পা সভ্যতার অন্যতম আবিষ্কারক ছিলেন ( রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় / জেমস প্রিন্সেপ / রিচার্ড মেডো )।

উত্তরঃ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।

২৩. হরপ্পা সভ্যতা দক্ষিণে মহারাষ্ট্রের (কালিবঙ্গান / লোথাল / দৈমাবাদ ) পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল ।

উত্তরঃ দৈমাবাদ।

২৪. নতুন পাথরের শেষের দিকে। (ধাতুর / নৌকার / চাকার) ব্যবহার শুরু হয়।

উত্তরঃ চাকার।

২৫. মেহেরগড় সভ্যতা ছিল (ব্রোঞ্জ / তামা-পাথরের / লোহা) যুগের।

উত্তরঃ তামা-পাথরের।

২৬. মেহেরগড় মূলত একটি (নগরকেন্দ্রিক / পশুপালনভিত্তিক / কৃষিনির্ভর) সভ্যতা।

উত্তরঃ কৃষিনির্ভর।

২৭. পৃথিবীতে সবথেকে পুরোনো (ধান / গম / কার্পাস) চাষের নমুনা মেহেরগড়ে পাওয়া গেছে।

উত্তরঃ কার্পাস।

২৮. মেহেরগড়ে মৃতদেহকে সমাধি দেওয়া হত (লাল কাপড় / চাদর / শাল) জড়িয়ে।

উত্তরঃ লাল কাপড়।

২৯. সিন্ধু সভ্যতার সবথেকে বড়ো কেন্দ্র হল (ঢোলাবিরা / মহেনজোদাড়ো / হরপ্পা)।

উত্তরঃ হরপ্পা।

৩০. ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেন-‌ (আলেকজান্ডার কানিংহাম / জন মার্শাল / চার্লস ম্যাসন) হরপ্পা সভ্যতা সম্পর্কে।

উত্তরঃ জন মার্শাল।

∆ শূন্যস্থান পূরণ করো : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১

১. হরপ্পার নগরগুলির উঁচু এলাকা _______ নামে পরিচিত ছিল।

উত্তরঃ সিটাডেল।

২. ভারতবর্ষের দক্ষিণে মহারাষ্ট্রের _______ অঞ্চলে হরপ্পা সভ্যতার চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়েছে।

উত্তরঃ দৈমাবাদ।

৩. হরপ্পার মানুষ ________ ব্যবহার জানত না।

উত্তরঃ লোহার।

৪. হরপ্পা সভ্যতার বাড়িগুলি তৈরি হত __________ দিয়ে।

উত্তরঃ পোড়া ইঁট

৫. হরপ্পা সভ্যতা ছিল ________ ও ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা।

উত্তরঃ তামা

৬. হরপ্পাবাসীর প্রধান গৃহপালিত পশু ছিল _________ ।

উত্তরঃ উট।

৭. হরপ্পার লোকেরা ________ ব্যবহার জানত না।

উত্তরঃ ঘোড়ার।

৮. হরপ্পাবাসী মৃতদেহকে ________ দিত।

উত্তরঃ কবর।

৯. _________ জাহাজঘাটা ও সমাধিক্ষেত্র পাওয়া গেছে।

উত্তরঃ লোথালে।

১০. হরপ্পা সভ্যতার প্রতিটি বাড়িতে থাকতে কুঁয়ো ও _________।

উত্তরঃ শৌচাগার

১১. হরপ্পা সভ্যতার ইতিহাস জানার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান __________ ।

উত্তরঃ সিলমোহর।

১২. হরপ্পা সভ্যতায় ________ পুজা প্রচলিত ছিল।

উত্তরঃ মাতৃ।

১৩. মহেনজোদাড়োর প্রভূত ক্ষতি হয়েছিল ________ বন্যায়।

উত্তরঃ সিন্ধুনদের।

১৪. লোথাল কথার অর্থ ____________।

উত্তরঃ মৃতের স্থান।

১৫. কালিবঙ্গানে ইটের তৈরি __________ দেখা যায়।

উত্তরঃ সমাধি।

∆ সত্য / মিথ্যা নির্বাচন করো : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১

১. একসময় মানুষ কৃষির পাশাপাশি পশুপালনও করতে শুরু করল।

উত্তরঃ সত্য।

২. মানুষ যখন জোট বেঁধে থাকত, তখন তাদের মধ্যে মতের অমিল হত না।

উত্তরঃ মিথ্যা

৩. সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল ধাতুর ব্যবহার।

উত্তরঃ মিথ্যা।

৪. মেহেরগড় সভ্যতা পুরোনো পাথরের যুগের সভ্যতা।

উত্তরঃ মিথ্যা।

৫. লোহার যুগ থেকে মানুষ জোট বাঁধতে শুরু করেছিল।

উত্তরঃ মিথ্যা।

৬. মেহেরগড় সভ্যতার তৃতীয় পর্যায়ে গম ও যব চাষ করা হত।

উত্তরঃ সত্য।

৭. মেহেরগড় সভ্যতায় মৃতদেহ সমাধি দেওয়া হত না।

উত্তরঃ মিথ্যা।

৮. হরপ্পা সভ্যতা ছিল লোহার যুগের সভ্যতা।

উত্তরঃ মিথ্যা

৯. হরপ্পা সভ্যতার সমাজ ছিল শ্রেণিভিত্তিক।

উত্তরঃ সত্য।

১০. হরপ্পা সভ্যতায় লেখাপড়ার চল ছিল ।

উত্তরঃ সত্য।

১১. হরপ্পা সভ্যতা ছিল মাতৃতান্ত্রিক।

উত্তরঃ সত্য।

১২. লোথালে বন্দরের নিদর্শন পাওয়া গেছে।

উত্তরঃ সত্য।

১৩. হরপ্পা সভ্যতায় অশ্বত্থ গাছকে পুজো করা হত।

উত্তরঃ সত্য।

১৪. ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে মহেনজোদাড়ো আবিষ্কৃত হয়।

উত্তরঃ মিথ্যা।

১৫. হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলিতে বণিকদের বিশেষ মর্যাদা ছিল না।

উত্তরঃ মিথ্যা

১৬. হরপ্পা সভ্যতায় মালার দানা বানানোর কারখানা ছিল।

উত্তরঃ সত্য।

১৭. হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলির নর্দমা ঢাকা থাকত ।

উত্তরঃ সত্য।

১৮. হরপ্পা সভ্যতার নগর-পরিকল্পনা পরিকল্পনা মাফিক ছিল না।

উত্তরঃ মিথ্যা।

১৯. হরপ্পা সভ্যতার একটি সমকালীন সভ্যতা হল মেসোপটেমিয়া সভ্যতা ।

উত্তরঃ সত্য।

২০. লিপির ব্যবহার সভ্যতার একটি বৈশিষ্ট্য।

উত্তরঃ সত্য।

২১. মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন দয়ারাম সাহানি।

উত্তরঃ মিথ্যা।

২২. কুমোরের চাকার আবিষ্কার হয় হরপ্পা সভ্যতায়।

উত্তরঃ মিথ্যা।

২৩. খাদ্যশস্য শুকনো ও তাজা রাখার জন্য হরপ্পা সভ্যতায় শস্যাগার গড়ে তোলা হয়েছিল।

উত্তরঃ সত্য।

২৪. মেহেরগড় সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র ছিল ঢোলাবিরা।

উত্তরঃ মিথ্যা।

২৫. হরপ্পা সভ্যতায় নীলচে লাপিস লাজুলি পাথরের ব্যবহার দেখা যায়।

উত্তরঃ সত্য।

২৬. সূক্ষ্ম ওজন মাপার জন্য হরপ্পায় বাটখারার ব্যবহার হত।

উত্তরঃ সত্য।

২৭. হরপ্পা সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-নগর ছিল চানহুদাড়ো।

উত্তরঃ মিথ্যা।

২৮. হরপ্পার মানুষ লিখতে জানতেন।

উত্তরঃ সত্য।

২৯. হরপ্পা সভ্যতা প্রাক্-ঐতিহাসিক যুগের সভ্যতা

উত্তরঃ মিথ্যা।

∆ বেমানান শব্দটি খুঁজে বার করো : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১

১. গম, যব, কার্পাস, আলু।

উত্তরঃ আলু। (আলু হরপ্পা সভ্যতায় চাষ হতো না, বাকি তিনটি চাষ হতো)

২. ঘোড়া, হাতি, গন্ডার, ষাঁড়।

উত্তরঃ ঘোড়া। (হরপ্পাবাসিরা ঘোড়ার ব্যবহার জানতো না)

৩. গ্রাম, স্থাপত্য, লিপি, আদিম।

উত্তরঃ আদিম। (আদিম শব্দের অর্থ পুরনো, আর বাকি তিনটি সভ্যতার নানা দিক)

৪. ছাগল, ভেড়া, ষাঁড়, সিংহ।

উত্তরঃ সিংহ। (সিংহ বন্যপ্রাণী, বাকি তিনটি হরপ্পার গৃহপালিত পশু)

৫. তামা, কাঁসা, পাথর, লোহা।

উত্তরঃ লোহা। (লোহা বাদে বাকি তিনটির ব্যবহার হরপ্পা বাসি জানতো)

৬. কালিবঙ্গান, মেহেরগড়, ঢোলাবিরা, বানাওয়ালি।

উত্তরঃ মেহেরগড়। (মেহেরগড় অন্য একটি সভ্যতা, বাকি তিনটি হরপ্পা সভ্যতার বিভিন্ন কেন্দ্র)

৭. ষাঁড়, নারীমূর্তি, অশ্বত্থ গাছ, সিলমোহর।

উত্তরঃ সিলমোহর। (বাণিজ্যিক লেনদেনের কাজে ব্যবহার হতো)

৮. দয়ারাম সাহানি, রিচার্ড মেডো, জন মার্শাল, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।

উত্তরঃ রিচার্ড মেডো। (মেহেরগড় সভ্যতার আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত বাকি তিনজন হরপ্পা সভ্যতা আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত)

৯. পশুপালন, কৃষিকাজ, সিটাডেল, বাণিজ্য।

উত্তরঃ সিটাডেল। (এটি হলো নগর পরিকল্পনার একটি অঙ্গ)

∆ ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো :

(ক) মহারাষ্ট্র– (১) লোথাল

(খ) পাকিস্তান– (২) ঢোলাবিরা

(গ) গুজরাট– (৩) দৈমাবাদ

(ঘ) জলাধার– (৪) বেলুচিস্তান

(ঙ) কাঠের লাঙল– (৫) হরপ্পা আবিষ্কার

(চ) ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ– (৬) কালিবঙ্গান

(ছ) ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ– (৭) মহেঞ্জোদাড়ো আবিষ্কার

উত্তরঃ

(ক) মহারাষ্ট্র– (৩) দৈমাবাদ

(খ) পাকিস্তান– (৪) বেলুচিস্তান

(গ) গুজরাট– (১) লোথাল

(ঘ) জলাধার– (২) ঢোলাবিরা

(ঙ) কাঠের লাঙল– (৬) কালিবঙ্গান

(চ) ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ– (৫) হরপ্পা আবিষ্কার

(ছ) ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ– (৭) মহেঞ্জোদাড়ো আবিষ্কার

∆ বিবৃতির সঙ্গে ব্যাখ্যা মেলাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১

১. বিবৃতি : একসময় জিনিস কেনাবেচা সহজ হল।
ব্যাখ্যা ১ : মানুষ আর গরিব রইল না।
ব্যাখ্যা ২ : মানুষ মুদ্রা আবিষ্কার করল।
ব্যাখ্যা ৩ : মানুষ অর্থ দিয়ে জমি কেনাবেচা শুরু করল।

উত্তরঃ ব্যাখ্যা ২ : মানুষ মুদ্রা আবিষ্কার করল ।

২. বিবৃতি : জোটবদ্ধ মানুষের মধ্যে একসময় মতের অমিল দেখা দিল।
ব্যাখ্যা ১ : জমি দখলকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়েছিল।
ব্যাখ্যা ২ : বাড়ি তৈরি নিয়ে বিবাদ শুরু হয়েছিল।
ব্যাখ্যা ৩ : খাবার নিয়ে বিবাদ শুরু হয়েছিল।

উত্তরঃ ব্যাখ্যা ১ : জমি দখলকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়েছিল।

৩. বিবৃতি : গ্রাম ও নগরকে কেন্দ্র করে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
ব্যাখ্যা ১ : গ্রাম ও নগরে প্রচুর মানুষ বাস করত এবং এগুলিতে নানা সুযোগসুবিধা পাওয়া যেত।
ব্যাখ্যা ২ : গ্রাম ও নগরে প্রচুর টাকা পাওয়া যেত।
ব্যাখ্যা ৩ : গ্রাম ও নগরে প্রচুর জমি পাওয়া যেত।

উত্তরঃ ব্যাখ্যা ১ : গ্রাম ও নগরে প্রচুর মানুষ বাস করত এবং এগুলিতে নানা সুযোগসুবিধা পাওয়া যেত।

৪. বিবৃতি : হরপ্পা সভ্যতা প্রায়-ঐতিহাসিক যুগের সভ্যতা।
ব্যাখ্যা ১ : এই সভ্যতায় লিখিত উপাদান পাওয়া গেছে।
ব্যাখ্যা ২ : এই সভ্যতায় লিখিত উপাদান পাওয়া যায়নি।
ব্যাখ্যা ৩ : এই সভ্যতায় লিখিত উপাদান পাওয়া গেলেও, তা পড়া যায়নি।

উত্তরঃ ব্যাখ্যা ৩ : এই সভ্যতায় লিখিত উপাদান পাওয়া গেলেও, তা পড়া যায়নি।

৫. বিবৃতি : হরপ্পা সভ্যতাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম নগরায়ণ হয়।
ব্যাখ্যা ১ : ভারতীয় উপমহাদেশে হরপ্পা সভ্যতায়ই প্রথম নগর গড়ে ওঠে।
ব্যাখ্যা ২ : হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলি ছিল উন্নত।
ব্যাখ্যা ৩ : হরপ্পা সভ্যতাকে নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা বলে।

উত্তরঃ ব্যাখ্যা ১ : ভারতীয় উপমহাদেশে হরপ্পা সভ্যতায়ই প্রথম নগর গড়ে ওঠে।

৬. বিবৃতি : হরপ্পা সভ্যতার নাগরিক সমাজে ভেদাভেদ ছিল।
ব্যাখ্যা ১ : এই সভ্যতার সমাজে ধনী ও গরিবের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা ২ : এই সভ্যতায় নানা জাতের মানুষ বাস করত।
ব্যাখ্যা ৩ : এই সভ্যতায় কেবল ধনীরাই বাস করত।

উত্তরঃ ব্যাখ্যা ১ : এই সভ্যতার সমাজে ধনী ও গরিবের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

৭. বিবৃতি : হরপ্পা সভ্যতায় বণিকদের বিশেষ মর্যাদা ছিল।
ব্যাখ্যা ১ : হরপ্পা সভ্যতার বাণিজ্য ছিল উন্নত।
ব্যাখ্যা ২ : হরপ্পা সভ্যতার বণিকরা ছিল ধনী।
ব্যাখ্যা ৩ : হরপ্পা সভ্যতার বণিকরা ছিল প্রভাবশালী।

উত্তরঃ ব্যাখ্যা ১ : হরপ্পা সভ্যতার বাণিজ্য ছিল উন্নত।

৮. বিবৃতি : হরপ্পা সভ্যতার সিলমোহরগুলি নানা কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাখ্যা ১ : এগুলি ছিল বিনিময়ের মাধ্যম।
ব্যাখ্যা ২ : এইসব সিলমোহরে খোদিত লিপি ও মূর্তি হরপ্পা সভ্যতার বৈশিষ্ট্য বহন করে।
ব্যাখ্যা ৩ : এগুলি ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হত।

উত্তরঃ ব্যাখ্যা ২ : এইসব সিলমোহরে খোদিত লিপি ও মূর্তি হরপ্পা সভ্যতার বৈশিষ্ট্য বহন করে।

∆ একটি বাক্যে উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১. আদিম গোষ্ঠী সমাজে কীসের ভিত্তিতে মানুষ জোট বাঁধত ?

উত্তরঃ আদিম গোষ্ঠী সমাজে মানুষ রক্তের সম্পর্ক এবং আত্মীয়তার ভিত্তিতে জোট বাঁধত।

২. মেহেরগড় সভ্যতার পুরোনো পর্যায়কালটি লেখো।

উত্তরঃ মেহেরগড় সভ্যতার পুরোনো পর্যায়কাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০ – খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দ পর্যন্ত।

৩. মেহেরগড় কোথায় অবস্থিত ?

উত্তরঃ বর্তমান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের বোলান গিরিপথের ধারে ঝোব নদীর তীরে কাচ্ছি সমভূমিতে মেহেরগড় অবস্থিত।

৪. মেহেরগড় সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য কী ছিল ?

উত্তরঃ মেহেরগড় সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তার সমাধিপ্ৰথা।

৫. মেহেরগড় সভ্যতার কোন্ পর্বে কাস্তের ব্যবহার শুরু হয় ?

উত্তরঃ মেহেরগড় সভ্যতার দ্বিতীয় পর্বে কাস্তের ব্যবহার শুরু হয়।

৬. কে সর্বপ্রথম সিন্ধু উপত্যকায় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন ?

উত্তরঃ চার্লস ম্যাসন সর্বপ্রথম সিন্ধু উপত্যকায় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন।

৭. কে প্রথম মহেনজোদাড়োতে খোঁড়াখুড়ি শুরু করেন ?

উত্তরঃ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম মহেনজোদাড়োতে খোঁড়াখুড়ি শুরু করেন।

৮. হরপ্পা কোথায় অবস্থিত ?

উত্তরঃ বর্তমান পাকিস্তানের মন্টগোমারি জেলায় হরপ্পা অবস্থিত।

৯. হরপ্পা সভ্যতায় জাহাজঘাটার অস্তিত্ব কোথায় পাওয়া গেছে ?

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার লোথালে জাহাজঘাটার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

১০. ‘লোথাল’ কথাটির অর্থ কী ?

উত্তরঃ ‘লোথাল’ কথাটির অর্থ মৃতের স্থান।

১১. হরপ্পা সভ্যতার নীচু এলাকায় কী ছিল ?

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার নীচু এলাকায় ছিল মূল হরপ্পা বসতি।

১২. হরপ্পা সভ্যতার নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি কী কী ?

উত্তরঃ সভ্যতার নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি হল উন্নত প্রয়ঃপ্রণালী ও বাণিজ্য – ব্যবস্থা।

১৩. লোথাল কোথায় অবস্থিত ?

উত্তরঃ গুজরাটের ভোগাবোর নদীর তীরে লোথাল অবস্থিত।

১৪. হরপ্পা সভ্যতার কারিগরি উন্নতির নজির কীসের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় ?

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার কারিগরি উন্নতির নজির খুঁজে পাওয়া যায় তার নানারকম মাটির পাত্রের মধ্যে।

১৫. হরপ্পা সভ্যতার কোন্ প্রত্নস্থলে লাঙলের হদিস পাওয়া যায় ?

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার কালিবঙ্গানে লাঙলের হদিস পাওয়া যায়।

১৬. হরপ্পার অধিবাসীরা কোন্ পশুর ব্যবহার জানত না ?

উত্তরঃ হরপ্পার অধিবাসীরা ঘোড়ার ব্যবহার জানত না।

১৭. হরপ্পা সভ্যতার মানুষ কীসের পুজো করত ?

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার মানুষ জীবজন্তু ও গাছপালার পুজো করত।

১৮. কবে নাগাদ হরপ্পার সঙ্গে মেসোপটেমিয়ার বাণিজ্যে ভাটা পড়ে ?

উত্তরঃ খ্রিস্টপূর্ব ১৯০০ অব্দের পর থেকে হরপ্পার সঙ্গে মেসোপটেমিয়ার বাণিজ্যে ভাটা পড়ে।

১৯. ঋগ্‌বেদের ভাষায় কোন্ ভাষার প্রভাব দেখা যায় ?

উত্তরঃ ঋগ্‌গ্বেদের ভাষায় দ্রাবিড় ভাষার প্রভাব দেখা যায়।

∆ সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ২

১. কালে কালে মানুষের নানা দিক কীভাবে বদলে গেল ?

উত্তরঃ একসময় মানুষ খাবারের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াত। পরে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শিখল। ধীরে ধীরে তারা কৃষিকাজ এবং পশুপালনও শিখল। এভাবেই মানুষের জীবনযাত্রা নানাভাবে বদলে গেল।

২. জোট বেঁধে বাস করতে থাকা মানুষদের মধ্যে মতের অমিল দেখা দেওয়ায় তার ফল কী হল ?

উত্তরঃ জোট বেঁধে বাস করতে থাকা মানুষদের মধ্যে একসময় মতের অমিল দেখা দিল। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তাদের বিবাদ মিটিয়ে নিল এবং ঠিক করল যে, সবাই মিলে তারা নিয়মের শাসন মেনে চলবে। এভাবেই নিয়মের শাসন চালু হল।

৩. সভ্যতার বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী ?

উত্তরঃ একটি সভ্যতায় গ্রাম ও নগর থাকতে হবে। নির্দিষ্ট শাসনব্যবস্থা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে শিল্প ও স্থাপত্য থাকতে হবে। এ ছাড়াও থাকতে হবে মানুষের নিজস্ব বর্ণমালা বা লিপি।

৪. আদিম যুগে মানুষ কীভাবে জোট বাঁধত ?

উত্তরঃ আদিম যুগে মানুষ রক্তের সম্পর্কে ও আত্মীয়তার ভিত্তিতে জোট বাঁধত। আবার কোনো কোনো সময় পারস্পরিক সুযোগসুবিধা পেতেও তারা জোট বাঁধত।

৫. মেহেরগড়ে কী ধরনের শিল্প নিদর্শন পাওয়া গেছে ?

উত্তরঃ মেহেরগড় সভ্যতার নানা পর্বে বিভিন্ন ধরনের শিল্প নিদর্শন পাওয়া গেছে। যেমন— নানা ধরনের মৃৎপাত্র, তৈজসপত্র, পুতি, আংটি, ছুরি, ছুঁচ, বড়শিজাতীয় জিনিস, পশুর লোম, উলের কাপড় প্রভৃতি।

৬. মেহেরগড় সভ্যতার দ্বিতীয় পর্বে কী কী কৃষিজ ফসলের নিদর্শন পাওয়া গেছে ?

উত্তরঃ মেহেরগড় সভ্যতার দ্বিতীয় পর্বটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্বে কৃষিজ ফসলের মধ্যে গম, যব ও কার্পাসের নিদর্শন পাওয়া গেছে। পণ্ডিতদের অনুমান পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কার্পাস চাষের নমুনা মেহেরগড়েই পাওয়া গেছে।

৭. মেহেরগড় সভ্যতায় মৃতদেহকে কীভাবে সমাধি দেওয়া হত ?

উত্তরঃ মেহেরগড় সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তার সমাধিক্ষেত্র। সমাধিতে মৃতদেহ সোজাসুজি বা কাত করে শুইয়ে দেওয়া হত এবং তার সঙ্গে দেওয়া হত নানা জিনিসপত্র, যেমন— শাঁখ বা পাথরের গয়না ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এমনকি মৃতের সঙ্গে গৃহপালিত পশু ও মূল্যবান পাথরের অলংকারও সমাধি দেওয়া হত।

৮. মেহেরগড়বাসীরা কী কী জীবিকা গ্রহণ করেছিল ?

উত্তরঃ মেহেরগড় থেকে পাওয়া বিভিন্ন প্রত্ননিদর্শন থেকে এখানকার অধিবাসীদের জীবিকা সম্বন্ধে একটি ধারণা পাওয়া যায়। কৃষি ছিল মেহেরগড় বাসীদের প্রধান জীবিকা। তার পাশাপাশি ছিল পশুপালন, গয়না তৈরি, মাটির পাত্র তৈরি প্রভৃতি জীবিকাও।

৯. হরপ্পা সভ্যতাকে কেন তামা-ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা বলা হয় ?

উত্তরঃ বিভিন্ন প্রত্নবস্তুর ওপর ভিত্তি করে জানা যায় যে, হরপ্পা সভ্যতার মানুষ তামা ও ব্রোঞ্জ উভয় ধাতুরই ব্যবহার জানত। যেহেতু তারা তামা ও ব্রোঞ্জ ব্যবহার করত, সেই কারণে এই সভ্যতাকে তামা-ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা বলা হয়।

১০. হরপ্পা সভ্যতার স্নানাগারের পরিচয় দাও।

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র মহেনজোদাড়োয় একটি স্নানাগারের নিদর্শন পাওয়া গেছে। এই স্নানাগারটি ছিল দৈর্ঘ্যে ১৮০ ফুট ও প্রস্থে ১০৮ ফুট। এই স্নানাগারের চারিদিকে রয়েছে ৮ ফুট উঁচু ইটের দেয়াল। এর মাঝখানে ছিল একটি জলাশয়। আবার এই স্নানাগারে অপরিশুদ্ধ জল বার করে দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল।

১১. লাল-কালো মাটির পাত্র কী ?

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীরা মাটির পাত্রের গায়ে চকচকে লাল পালিশ করে, তার ওপর উজ্জ্বল কালো রঙের নকশা আঁকতেন। ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রে এই পাত্রগুলি লাল-কালো মাটির পাত্র নামে পরিচিত।

১২. হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীদের বৃক্ষপূজার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার বিভিন্ন সিলমোহর ও মাটির পাত্রে অশ্বত্থ গাছ ও পাতার ছবি দেখা যায়। তা থেকে অনুমান করা যায় যে, হরপ্পায় জীবজন্তু ও মাতৃপুজোর পাশাপাশি বৃক্ষপূজাও করা হত। এইসময় সম্ভবত অশ্বত্থ গাছকে দেবতা হিসেবে পুজো করা হত।

১৩. মেহেরগড় সভ্যতার ঘরবাড়ি কেমন ছিল ?

উত্তরঃ মেহেরগড়ের বাড়িগুলি ছিল ইট এবং মাটি দিয়ে তৈরি। বাড়িগুলির একের বেশি ঘর থাকত। কয়েকটি ইমারত সাধারণ বাড়ির থেকে অনেক বড়ো ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এগুলিকে শস্য মজুত রাখার বাড়ি বলে মনে করেছেন।

১৪. হরপ্পা সভ্যতার লিপির বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী ?

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতায় প্রাপ্ত সিলমোহরে উৎকীর্ণ লিপি পাওয়া গেলেও, সেগুলি এখনও পড়া যায়নি। এই লিপিগুলি সাংকেতিক। এগুলিতে ৩৭৫ থেকে ৪০০ টি চিহ্ন পাওয়া গেছে। এইসব লিপি সম্ভবত ডান দিক থেকে বাম দিকে লেখা হত।

১৫. সিন্ধু সভ্যতাকে হরপ্পা সভ্যতা বলা হয় কেন ?

উত্তরঃ সিন্ধু সভ্যতাকে হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়, কারণ—
(i) এই সভ্যতার প্রধান দুটি কেন্দ্র হরপ্পা ও মহেনজোদাড়ো সিন্ধু উপত্যকায় অবস্থিত হলেও, সিন্ধু উপত্যকার বাইরেও এই সভ্যতার অনেক কেন্দ্রের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।
(ii) হরপ্পাতেই এই সভ্যতার প্রথম কেন্দ্রটি আবিষ্কৃত হয়েছিল।
(iii) হরপ্পাই হল এই সভ্যতার সবচেয়ে বড়ো কেন্দ্র।

১৬. হরপ্পা সভ্যতাকে প্রায়-ঐতিহাসিক যুগের সভ্যতা বলা হয় কেন ?

উত্তরঃ ইতিহাসে প্রায়-ঐতিহাসিক যুগ বলে সেই সময়কে বোঝায়, যে সময় ইতিহাসের লিখিত উপাদান পাওয়া গেলেও তা আজও পড়া যায়নি। হরপ্পা সভ্যতাও প্রায় ঐতিহাসিক যুগের একটি সভ্যতা কেননা এখনও হরপ্পার লিপি পড়া সম্ভব হয়নি।

∆ সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৩

১. ‘মেহেরগড়’ সভ্যতার আবিষ্কার সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ ভারতের একটি প্রাচীনতম সভ্যতা হল মেহেরগড়। ঐতিহাসিকদের অনুমান মেহেরগড় সভ্যতা হরপ্পা সভ্যতার ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।

আবিষ্কার : ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি প্রত্নতত্ত্ববিদ জাঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজ রিচার্ড মেডোকে সঙ্গে নিয়ে বালুচিস্তান ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে খননকার্য চালান। তাঁদের চেষ্টায় বোলান গিরিপথের ধারে কাচ্ছি সমভূমিতে মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।

২. মেহেরগড় সভ্যতার সবচেয়ে প্রাচীন পর্যায় বলতে কী বোঝ ?

উত্তরঃ মেহেরগড় সভ্যতার যে পর্যায়টি সবচেয়ে প্রাচীন রূপে চিহ্নিত, তার সময়কাল হল খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দ। এই পর্যায়ের মানুষ কৃষিকাজ জানত এবং তারা গম ও যব উৎপাদন করত। তারা পশুপালনও করত। ছাগল, ভেড়া, কুঁজযুক্ত ষাঁড় ছিল তাদের গৃহপালিত পশু। এসময়ের মানুষ জাঁতা, শস্য পেষাই যন্ত্র, পাথরের ছুরি ও পশুর হাড়ের নানা যন্ত্রপাতি বানাতে পারত।

৩. মেহেরগড়বাসীর শিল্পকীর্তির পরিচয় দাও।

উত্তরঃ মেহেরগড়ের অধিবাসীরা নানা শিল্পে বিশেষ পারদর্শী ছিল। এই শিল্পগুলির মধ্যে মৃৎশিল্প, ধাতুশিল্প, অলংকার শিল্প ও বয়নশিল্প ছিল প্রধান। মেহেরগড় সভ্যতার দ্বিতীয় পর্ব থেকে মাটির নানা ধরনের জিনিসপত্র তৈরি করা হতে থাকে। এই সভ্যতার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে তামা গলিয়ে পুতি, আংটি, ছুরি, ছুঁচ ও বড়শি জাতীয় জিনিস তৈরি করা হয়। মেহেরগড়বাসীরা পাথর ও শাঁখের অলংকার তৈরি করত। এখানকার সমাধিগুলি থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া মেহেরগড় সভ্যতায় পশুর লোম ও উলের কাপড়ও বোনা হত।

৪. হরপ্পা সভ্যতার আবিষ্কার বিষয়ে কী জান লেখো।

উত্তরঃ ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে প্রত্নতাত্ত্বিক দয়ারাম সাহানি হরপ্পায় খোঁড়াখুড়ি করে হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন খুঁজে পান। পরের বছর রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় মহেনজোদাড়োতেও খোঁড়াখুড়ি করে এই সভ্যতার নিদর্শন পান। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের অধিকর্তা জন মার্শাল হরপ্পা ও মহেনজোদাড়ো বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেন। এভাবেই খ্রিস্টের জন্মের তিন-আড়াই হাজার বছর আগের সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।

৫. হরপ্পা সভ্যতার শস্যাগারের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতায় মহেনজোদাড়ো ও হরপ্পা উভয় স্থানেই শস্যাগার পাওয়া গেছে। হরপ্পার শস্যাগারটি রাভি নদীর প্রাচীন খাতের কাছে অবস্থিত ছিল।

গঠন : শস্যাগারটির ভেতরে দুই সারি মঞ্চ রয়েছে। এর দক্ষিণ দিকে রয়েছে একটি বড়ো মঞ্চ, যাতে কতকগুলি গোলাকার গর্তের দাগ পাওয়া গেছে।

বৈশিষ্ট্য : শস্যাগারে সংরক্ষিত শস্য সতেজ রাখার জন্য ঘুলঘুলির মাধ্যমে হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল এবং শস্যাগারে শস্য ঝাড়াই বাছাইয়েরও ব্যবস্থা ছিল।

৬. হরপ্পা সভ্যতার বাড়িঘর থেকে সেসময়ের সমাজ সম্পর্কে কী কী তথ্য পাওয়া যায় ?

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতায় যেমন দুই কামরা বিশিষ্ট বাড়ি পাওয়া গেছে, তেমনই পাওয়া গেছে তিরিশ কামরাবিশিষ্ট প্রাসাদের মতো বড়ো বাড়ির নিদর্শন। বড়ো বাড়িগুলি ছিল এক, দুই বা তিনতলাবিশিষ্ট। মনে হয় সমাজের উঁচুতলার ধনী ও অভিজাতরাই এই সমস্ত বাড়িতে বাস করত। ছোটো বসতবাড়িতে বাস করত গরিব মানুষরা। এর থেকে হরপ্পার নগরজীবনে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ছিল বলে অনুমান করা হয়। এ ছাড়া বেশ কয়েকটা বসতবাড়িতে প্রচুর ঘর থাকা সত্ত্বেও একটি রান্নাঘরের অস্তিত্ব দেখে অনুমান করা যায় যে, হরপ্পা সভ্যতায় যৌথ পরিবার ছিল।

৭. হরপ্পা সভ্যতার যোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন ছিল ?

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতা সম্পর্কে স্যার মর্টিমার হুইলার মনে করেন যে, হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীরা পরিবহণের মাধ্যম হিসেবে উট, গাধা ও ঘোড়ার ব্যবহার করত। খেলনাগাড়ির নিদর্শন থেকে বোঝা যায় যে, এখানে দু-চাকাওয়ালা ঠেলাগাড়ি এবং গোরু, ষাঁড় ও গাধায় টানা গাড়ি চলত। এই সভ্যতায় প্রাপ্ত নিদর্শনগুলির মধ্যে সিলমোহরে নৌকা, মাঝি, মাস্তুল ও জাহাজের প্রতিকৃতি পাওয়া যায়। এর ফলে স্থল ও জলপথে হরপ্পা সভ্যতার বাণিজ্যিক রূপটিও আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ।

৮. হরপ্পা সভ্যতায় বাণিজ্য কেমন ছিল ?

উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতায় দেশের মধ্যে এবং বাইরে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাণিজ্য চলত।

দেশের মধ্যে বাণিজ্য : হরপ্পা সভ্যতায় লোথাল, রোপার, কোটডিজি প্রভৃতি এলাকার মধ্যে বাণিজ্য চলত।

দেশের বাইরে বাণিজ্য : হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীদের সঙ্গে পশ্চিম এশিয়া, বালুচিস্তান, মেসোপটেমিয়া, মিশর, পারস্য ও আফগানিস্তানের বাণিজ্যিক যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল।

আমদানি-রপ্তানি দ্রব্য : হরপ্পা সভ্যতায় সোনা, রুপো, তামা, দামি পাথর, হাতির দাঁতের অলংকার প্রভৃতি আমদানি করা হত এবং রপ্তানি করা হত যব, ময়দা, তেল ও পশমজাত দ্রব্য প্রভৃতি।

বাণিজ্য পথ : হরপ্পা সভ্যতায় সমুদ্রপথে বাণিজ্য চলত। স্থলপথে বাণিজ্য চলত মহীশূর, গুজরাট, কাশ্মীর ও নীলগিরি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধরে।

∆ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-৫

১. মেহেরগড় সভ্যতার অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লেখো।

উত্তরঃ ভূমিকা : ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা হল মেহেরগড় সভ্যতা। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক জাঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজ এই সভ্যতা আবিষ্কার করেন। এই ব্যাপারে তাঁকে সাহায্য করেন রিচার্ড মেডো।

(1) অবস্থান : বর্তমান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের বোলান গিরিপথের ধারে কাচ্ছি সমভূমিতে এই সভ্যতার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে ।

(2) বৈশিষ্ট্য : (i) এই সভ্যতা নতুন পাথরের যুগের সভ্যতা।
(ii) এই সভ্যতা প্রাক্‌ – ইতিহাস যুগের সভ্যতা । কেন – না মেহেরগড়ে কোনো লিখিত উপাদানের নিদর্শন পাওয়া যায় না।
(iii) এই সভ্যতার সূচনাকাল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০ অব্দ।
(iv) এই সভ্যতা হরপ্পা সভ্যতার ভিত্তিভূমি নির্মাণ করেছিল।
(v) এই সভ্যতা তামা পাথরের যুগের সভ্যতা।
(vi) এটি মূলত একটি কৃষিনির্ভর সভ্যতা।
(vii) এই সভ্যতার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এখানকার সমাধিপ্রথা।

২. মেহেরগড় সভ্যতার নানা পর্বের কী ধরনের নিদর্শন পাওয়া গেছে ?

উত্তরঃ ভূমিকা : মেহেরগড় সভ্যতা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।

(1) প্রাচীনতম পর্ব : এই সভ্যতার প্রাচীনতম পর্বের কাল ধরা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০ অব্দ – খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দ। এই পর্বের গম ও যবজাতীয় শস্য এবং ছাগল, ভেড়া, কুঁজওয়ালা ষাঁড় প্রভৃতি গৃহপালিত পশু ও পাথরের জাঁতা ও শষ্য পেষার যন্ত্র প্রভৃতির নিদর্শন পাওয়া গেছে।

(2) দ্বিতীয় পর্ব : মেহেরগড় সভ্যতার দ্বিতীয় পর্বের কালসীমা হল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দ – খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দ পর্যন্ত । এই পর্বের গম, যব এবং কার্পাস চাষের নিদর্শন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কাস্তে ও নানা মৃৎপাত্র, পাথর ও শাঁখা দিয়ে তৈরি অলংকার প্রভৃতিও পাওয়া গেছে।

(3) তৃতীয় পর্ব : মেহেরগড় সভ্যতার তৃতীয় পর্ব ধরা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪৩০০ অব্দ – খ্রিস্টপূর্ব ৩৮০০ অব্দ পর্যন্ত সময়কে। এসময় নানা ধরনের গম ও যব চাষ করা হত। এই পর্বে কুমোরের চাকার সাহায্যে মৃৎপাত্র তৈরি করার এবং তামা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই পর্বে বিশেষভাবে হরপ্পা সভ্যতার ভিত্তিভূমি নির্মিত হয়েছিল।

৩. হরপ্পা সভ্যতার নগর-পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ ভূমিকা : হরপ্পার উন্নত নগর-পরিকল্পনার বৈশিষ্ট্যগুলি পাওয়া যায় এর বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, উন্নত জলনিকাশি ব্যবস্থা, স্নানাগার এবং শস্যাগারের নিদর্শন থেকে।

(1) বাড়িঘর : হরপ্পা সভ্যতায় বাড়িগুলি তৈরি করা হত পোড়ানো ইট কিংবা রোদে শুকানো ইট দিয়ে। বড়ো রাস্তা বা গলিপথের ধারে বাড়িগুলি তৈরি করা হয়েছিল। বাড়িগুলি তৈরি করা হত একতলা বা দোতলা রূপে এবং প্রতিটি বাড়িতে রান্নাঘর, শোবার ঘর, স্নানঘর, আঙিনা, কুঁয়ো প্রভৃতি থাকত।

(2) রাস্তাঘাট : হরপ্পা সভ্যতার রাস্তাঘাট সাধারণত উত্তর দক্ষিণ বরাবর ছিল। বড়ো রাস্তা থেকে অনেক সরু গলি পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত ছিল। রাস্তার ধারে ছিল খোলা নর্দমা এবং রাস্তাগুলিতে আলোরও ব্যবস্থা ছিল।

(3) জলনিকাশি ব্যবস্থা বা পয়ঃপ্রণালী : হরপ্পা সভ্যতায় প্রতিটি বাড়ির নর্দমার সঙ্গে প্রধান নর্দমা যুক্ত ছিল। এ ছাড়া কুয়োর সাহায্যে মেটানো হত পানীয় জলের সমস্যা।

(4) স্নানাগার : হরপ্পা কেন্দ্র মহেনজোদাড়োতে স্নানাগারের নিদর্শন পাওয়া গেছে। এর আয়তন ১৮০ ফুট × ১০৮ ফুট। এর মাঝামাঝি অংশে একটি বড়ো জলাশয় ছিল। জলাশয় থেকে অতিরিক্ত জল বার করার এবং জল ঢোকানোর ব্যবস্থা ছিল।

(5) শস্যাগার : হরপ্পা সভ্যতার বিভিন্ন নগরে শস্যাগারের নিদর্শন পাওয়া গেছে। হরপ্পার শস্যাগারটির ভেতরে ছিল দুই সারিতে ভাগ করা মোট বারোটা বড়ো তাক। সেখানে হাওয়া চলাচলের জন্য ঘুলঘলিও ছিল। তাই সেখানে খাদ্যশস্য শুকনো ও তাজা রাখা সম্ভব হত।

৪. হরপ্পাবাসীদের অর্থনৈতিক জীবন কেমন ছিল ?

উত্তরঃ ভূমিকা : হরপ্পাবাসীদের অর্থনৈতিক জীবন ছিল বহুমুখী। তারা কৃষি, পশুপালন, ব্যবসা ও নানা শিল্পের কাজ করত।

(1) কৃষিকাজ : হরপ্পার অধিবাসীরা মূলত কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তারা গম, যব, তুলো, তিল, নানা ধরনের ডাল, জোয়ার বাজরা, সরষে, খেজুর, বাদাম প্রভৃতি ফসলের চাষ করত। সাধারণভাবে খাদ্যশস্যের জন্য শহরের অধিবাসীদের গ্রামের ওপর নির্ভর করতে হত।

(2) পশুপালন : হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীরা পশুপালনে অভ্যস্ত ছিল। তারা ষাঁড়, ভেড়া, ছাগল প্রভৃতি পালন করত। কিন্তু হরপ্পাবাসীরা ঘোড়ার ব্যবহার জানত না।

(3) ব্যাবসাবাণিজ্য : হরপ্পার অধিবাসীরা মেসোপটেমিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য করত। সম্ভবত বিদেশ থেকে সোনা, রুপো, তামা, দামি পাথর, হাতির দাঁতের তৈরি চিরুনি, পাখির মূর্তি প্রভৃতি আমদানি করা হত ও রপ্তানি করা হত বার্লি, ময়দা, তেল, পশমজাত দ্রব্য প্রভৃতি। বাণিজ্য চলত স্থলপথে ও জলপথে।

(4) জীবিকা : হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীরা বস্ত্রবয়ন শিল্প; সোনা, রুপো, তামা ও ব্রোঞ্জ শিল্প; মৃৎশিল্প; ইটশিল্প ও কাষ্ঠশিল্পের কাজকে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেছিল।

৫. হরপ্পাবাসীর ধর্মীয় জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তরঃ ভূমিকা : হরপ্পা সভ্যতার ধর্মীয় জীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। এই সভ্যতায় প্রাপ্ত নিদর্শন থেকে হরপ্পাবাসীর ধর্মীয় জীবনের একটা পরিপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়।

(1) মূর্তিপুজো : হরপ্পার নানা কেন্দ্র থেকে পোড়ামাটির নারীমূর্তি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মহেনজোদাড়োতে প্রাপ্ত একটি সিলমোহরের গায়ে যোগীর মূর্তি খোদাই করা আছে, যাকে শিবের আদিম রূপ পশুপতি বলে অনুমান করা হয়। এ থেকে মনে হয় যে, হরপ্পা সভ্যতায় মাতৃপুজো ও শিবপুজোর প্রচলন ছিল।

(2) জীবজন্তু ও গাছপালার পুজো : হরপ্পা সভ্যতায় একশিংওয়ালা কাল্পনিক পশুমূর্তির পুজো হত সবচেয়ে বেশি। হরপ্পা সভ্যতার সিলমোহরে ষাঁড়ের মূর্তি দেখে মনে হয় যে, এই সমাজে বৃষ বা ষাঁড়ের পুজোর প্রচলন ছিল। তা ছাড়া একটি পাত্রে ও সিলমোহরে অশ্বত্থ গাছ ও পাতার প্রতীক পাওয়া যায়, যা থেকে মনে হয় এই সমাজে বৃক্ষপুজোর প্রচলন ছিল।

(3) জলের ব্যবহার : হরপ্পাবাসীদের ধর্মীয় জীবনে জলের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। হয়তো মহেনজোদাড়োর জলাশয়টি ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা হত।

(4) সমাধিপ্রথা : হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীরা মৃতদেহ সমাধি দিতেন। সমাধিতে মৃতদেহকে উত্তর দিক করে শুইয়ে রাখা হত এবং মৃতের সঙ্গে দেওয়া হত মাটির পাত্র ও অলংকার।

৬. হরপ্পা সভ্যতার অবনতির কারণ কী ছিল ?

উত্তরঃ ভূমিকা : খ্রিস্টপূর্ব ১৭৫০ অব্দের পরে হরপ্পা সভ্যতার অস্তিত্ব ক্রমশ লোপ পেতে থাকে। বেশ কিছু ঘটনার কারণে হরপ্পা সভ্যতার অবনতি হয়েছিল। এগুলি হল—

(1) বন্যা : মহেনজোদাড়ো নগরের পাঁচিলটিতে একই জায়গায় অনেকবার মেরামতির ছাপ দেখা যায়। এ ছাড়া পাঁচিলে কাদার চিহ্নও পাওয়া গেছে। ওই জমে থাকা কাদা সম্ভবত বন্যার ফলে এসেছিল। তাই সিন্ধুনদের বন্যায় এই অঞ্চলের ক্ষতি হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

(2) আবহাওয়ার পরিবর্তন : খ্রিস্টপূর্ব ২২০০ অব্দ থেকে এশিয়া মহাদেশের অনেক জায়গাতেই বৃষ্টিপাত কমতে থাকে। যার ফলে শুষ্ক জলবায়ু দেখা দেয়। সে কারণে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হরপ্পা সভ্যতার কৃষিকাজও এই সমস্যা থেকে রেহাই পায়নি বলে অনুমান করা হয়। অন্যদিকে এই সভ্যতায় ইট পোড়ানোর জন্য চুল্লির জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার করা হত, যার জোগান আসত গাছ থেকে। তাই ব্যাপকভাবে গাছ কাটার ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যায় ।

(3) বহির্বাণিজ্যে ভাটা : আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৯০০ অব্দের পরে মেসোপটেমিয়ার সঙ্গে হরপ্পার বাণিজ্যে ভাটা পড়ে। ফলে হরপ্পার অর্থনীতি ক্রমশ সমস্যার মুখে পড়ে। ওপরের কারণগুলি ছাড়া হরপ্পার দুর্বল নগর শাসন ব্যবস্থা এই সভ্যতার অবনতির একটা অন্যতম কারণ ছিল।

📌 আরো দেখুনঃ

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply

  • Post comments:0 Comments
  • Reading time:25 mins read