ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর | Class 6 History Question Answer Ch-2 wbbse
ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস
দ্বিতীয় অধ্যায়
ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
ভেবে দেখো খুঁজে দেখো প্রশ্নোত্তর : ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ দ্বিতীয় অধ্যায় ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস | Class 6 History Question Answer Ch-2 wbbse
১। সঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো :
১.১ আদিম মানুষ প্রথমে ____________ (রান্না করা খাবার / পোড়া মাংস / কাঁচামাংস ও ফলমূল) খেত।
উত্তরঃ কাঁচামাংস ও ফলমূল।
১.২ আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার ছিল ___________ (ভোঁতা পাথর / হালকা ছুঁচালো পাথর / পাথরের কুঠার)।
উত্তরঃ ভোঁতা পাথর।
১.৩ আদিম মানুষের জীবনে প্রথম জরুরি আবিষ্কার __________ (ধাতু / চাকা / আগুন)।
উত্তরঃ আগুন।
২। ক-স্তম্ভের সঙ্গে খ-স্তস্ত মিলিয়ে লেখো :
| ‘ক’-স্তম্ভ | ‘খ’-স্তম্ভ |
| কৃষিকাজ | মধ্যপ্রদেশ |
| পশুপালন | নতুন পাথরের যুগ |
| ভীমবেটকা | মাঝের পাথরের যুগে |
| হুন্সগি | কর্ণাটক |
উত্তরঃ
| ‘ক’-স্তম্ভ | ‘খ’-স্তম্ভ |
| কৃষিকাজ | মাঝের পাথরের যুগে |
| পশুপালন | নতুন পাথরের যুগ |
| ভীমবেটকা | মধ্যপ্রদেশ |
| হুন্সগি | কর্ণাটক |
৩। নিজের ভাষায় ভেবে লেখো (তিন/চার লাইন) :
৩.১ আদিম মানুষ যাযাবর ছিল কেন ?
উত্তরঃ আদিম মানুষ প্রথম দিকে খাদ্য উৎপাদন করতে জানত না। তারা ছিল খাদ্যসংগ্রাহক। পশুপালনও তাদের জান ছিল না। শিকার করে ও ফলমূল সংগ্রহ করেই তারা পেট ভরাত। তাই খাদ্যের সন্ধানে আদিম মানুষকে এব জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হত। ঋতুপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ফলমূল জন্মাত। ফলে তাদেরকেও ঋতুপরিবর্তনের সাথে সাথে স্থানান্তর করতে হত। তাই আদিম মানুষ যাযাবর ছিল।
৩.২ আগুনে জ্বালাতে শেখার পর আদিম মানুষের কী কী সুবিধা হয়েছিল ?
উত্তরঃ আগুনের ব্যবহার আদিম মানুষের জীবনযাত্রার মানকে বদলে দিয়েছিল। আগুনের ব্যবহার তাদের নানাভাবে সুবিধা দিয়েছিল। যেমন—
(ক) প্রচণ্ড ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় পাওয়া গেল।
(খ) হিংস্র প্রাণীর মোকাবিলা করা সুবিধা হল। কারণ আগুনকে সব প্রাণী ভয় পায়।
(গ) আগুন জ্বালাতে শেখার পর আদিম মানুষ কাঁচা মাংস খাওয়ার বদলে আগুনে ঝলসানো মাংস খাওয়া শুরু করল।
৩.৩ আদিম মানুষ কেন জোট বেঁধেছিল ? এর ফলে তার কী লাভ হয়েছিল ?
উত্তরঃ আদিম মানুষ আনুমানিক ২৬ লক্ষ থেকে ১৭ লক্ষ বছর আগে থেকেই দলবদ্ধভাবে থাকত। মূলত নিজেদের নিরাপত্তা ও খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্যই তারা জোটবদ্ধ হয়েছিল। জোটবদ্ধভাবে হিংস্র প্রাণীকে মোকাবিলা করা সুবিধা এবং দলবদ্ধভাবে শিকার করা সহজ। তাই খাদ্যের অভাবও আর থাকল না। জোটবদ্ধ থাকার ফলে পরবর্তী সময়ে তারা একটা নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে তোলে এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ হয়।
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর : ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ দ্বিতীয় অধ্যায় ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস | Class 6 History Question Answer Ch-2 wbbse
∆ সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখ : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১. আদিম মানুষ প্রধানত কোন অঙ্গটি বেশি ব্যবহার করত?
(হাত / লেজ / ডানা)
উত্তরঃ হাত
২. মানুষকে অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করেছে কোন বৈশিষ্ট্যটি?
(দু-পায়ে হাঁটা / চার পায়ে হাঁটা / লেজ থাকা)
উত্তরঃ দু-পায়ে হাঁটা
৩. মানুষের মেরুদণ্ডের উপরে কোন অঙ্গটি বড়ো আকারের?
(মস্তিষ্ক / হৃদপিণ্ড / ফুসফুস)
উত্তরঃ মস্তিষ্ক
৪. এপ (Ape) প্রাণীদের কোন বৈশিষ্ট্যটি ছিল?
(লেজ ছিল না / ডানা ছিল / শিং ছিল)
উত্তরঃ লেজ ছিল না
৫. আদিম মানুষের সবচেয়ে পুরোনো নিদর্শন পাওয়া গেছে কোথায়?
(পূর্ব আফ্রিকা / ইউরোপ / অস্ট্রেলিয়া)
উত্তরঃ পূর্ব আফ্রিকা
৬. অস্ট্রালোপিথেকাসরা মূলত কী খেত?
(শক্ত বাদাম ও ফল / রান্না করা খাবার / শস্য)
উত্তরঃ শক্ত বাদাম ও ফল
৭. হোমো হাবিলিসকে বলা হয়—
(দক্ষ মানুষ / বুদ্ধিমান মানুষ / সোজা মানুষ)
উত্তরঃ দক্ষ মানুষ
৮. কোন প্রজাতি প্রথম পাথরের অস্ত্র তৈরি করেছিল?
(হোমো হাবিলিস / হোমো স্যাপিয়েন্স / অস্ট্রালোপিথেকাস)
উত্তরঃ হোমো হাবিলিস
৯. আদিম মানুষ প্রথমে কী খেত?
(কাঁচামাংস ও ফলমূল / রান্না করা খাবার / শস্যদানা / দুধ)
উত্তরঃ কাঁচামাংস ও ফলমূল।
১০. আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার ছিল—
(ভোঁতা পাথর / ধাতব অস্ত্র / হালকা ছুঁচালো পাথর / চাকা)
উত্তরঃ ভোঁতা পাথর।
১১. আদিম মানুষের জীবনের প্রথম জরুরি আবিষ্কার কী?
(আগুন / চাকা / ধাতু / কাগজ)
উত্তরঃ আগুন।
১২. মানুষ কোন প্রাণী থেকে ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে আসে? (এপ / বাঘ / ঘোড়া / কুকুর)
উত্তরঃ এপ।
১৩. দু-পায়ে দাঁড়াতে শেখা আদিম মানুষ কোন প্রজাতি?
(অস্ট্রালোপিথেকাস / হোমো স্যাপিয়েন্স / নিয়ানডারথাল / হোমো হ্যাবিলিস)।
উত্তরঃ অস্ট্রালোপিথেকাস
১৪. ‘দক্ষ মানুষ’ নামে পরিচিত—
(হোমো হ্যাবিলিস / হোমো ইরেকটাস / অস্ট্রালোপিথেকাস / হোমো স্যাপিয়েন্স)
উত্তরঃ হোমো হ্যাবিলিস
১৫. আগুনের ব্যবহার প্রথম শেখে—
(হোমো ইরেকটাস / হোমো স্যাপিয়েন্স / অস্ট্রালোপিথেকাস / হোমো হ্যাবিলিস)
উত্তরঃ হোমো ইরেকটাস।
১৬. ‘বুদ্ধিমান মানুষ’ বলা হয়—
(হোমো স্যাপিয়েন্স / হোমো ইরেকটাস / এপ / অস্ট্রালোপিথেকাস)
উত্তরঃ হোমো স্যাপিয়েন্স।
১৭. পাথরের যুগকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
(তিনটি / দুটি / চারটি / একটি)
উত্তরঃ তিনটি
১৮. পুরোনো পাথরের যুগের মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করত?
(যাযাবর / স্থায়ী বসতি / শহরকেন্দ্রিক / কারখানাভিত্তিক)।
উত্তরঃ যাযাবর
১৯. মাঝের পাথরের যুগে কোন কাজ শুরু হয়?
(পশুপালন / ধাতু ব্যবহার / লিপি / মুদ্রা)
উত্তরঃ পশুপালন
২০. নতুন পাথরের যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
(কৃষিকাজ / শিকার / গুহাবাস / যাযাবর জীবন)
উত্তরঃ কৃষিকাজ
২১. ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম পাথরের অস্ত্র পাওয়া গেছে—
(সোয়ান উপত্যকা / ভীমবেটকা / হরপ্পা / লোথাল)
উত্তরঃ সোয়ান উপত্যকা
২২. নর্মদা উপত্যকায় কী পাওয়া গেছে?
(মানুষের মাথার খুলি / লিপি / তামার অস্ত্র / ইট)
উত্তরঃ মানুষের মাথার খুলি
২৩. ভীমবেটকা বিখ্যাত—
(গুহাচিত্রের জন্য / নগর সভ্যতার জন্য / মুদ্রার জন্য / লিপির জন্য)
উত্তরঃ গুহাচিত্রের জন্য
২৪. ভীমবেটকা কোথায় অবস্থিত?
(মধ্যপ্রদেশ / রাজস্থান / বিহার / গুজরাট)
উত্তরঃ মধ্যপ্রদেশ
২৫. লুসি কোন প্রজাতির ছিল?
(অস্ট্রালোপিথেকাস / হোমো ইরেকটাস / হোমো স্যাপিয়েন্স / এপ)
উত্তরঃ অস্ট্রালোপিথেকাস
২৬. লুসির কঙ্কাল পাওয়া যায়—
(ইথিওপিয়া / ভারত / চিন / জাভা)
উত্তরঃ ইথিওপিয়া
২৭. মাঝের পাথরের যুগের ছোটো হাতিয়ারকে বলা হয়—
(মাইক্রোলিথ / হাতকুঠার / চপার / কুঠার)
উত্তরঃ মাইক্রোলিথ
২৮. সরাই নহর রাই কোথায় অবস্থিত?
(উত্তরপ্রদেশ / মধ্যপ্রদেশ / রাজস্থান / মহারাষ্ট্র)
উত্তরঃ উত্তরপ্রদেশ
২৯. আদমগড় কোন উপত্যকায় অবস্থিত?
(নর্মদা / গঙ্গা / সিন্ধু / ব্রহ্মপুত্র)
উত্তরঃ নর্মদা
৩০. পশুপালনের ফলে কী প্রয়োজন হয়েছিল?
(মাটির পাত্র / ধাতু / লিপি / মুদ্রা)
উত্তরঃ মাটির পাত্র
৩১. নতুন পাথরের যুগে মানুষ কী ছেড়ে দেয়?
(যাযাবর জীবন / খাদ্য / আগুন / হাতিয়ার)
উত্তরঃ যাযাবর জীবন
৩২. কৃষিকাজ শুরু হওয়ার ফলে কী গড়ে ওঠে?
(স্থায়ী বসতি / গুহাবাস / যাযাবরতা / শিকার)
উত্তরঃ স্থায়ী বসতি
৩৩. আদিম মানুষের সমাজে শুরুতে কী ছিল না?
(ভেদাভেদ / সহযোগিতা / দলবদ্ধতা / ভাগাভাগি)
উত্তরঃ ভেদাভেদ
৩৪. অতিরিক্ত ফসলের ফলে কী পেশা তৈরি হয়?
(কারিগর / শিকারি / যাযাবর / মৎস্যজীবী)
উত্তরঃ কারিগর
৩৫. মানুষের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে কী বলা হয়?
(সংস্কৃতি / সভ্যতা / প্রকৃতি / জৈবিকতা)
উত্তরঃ সংস্কৃতি
৩৬. স্থায়ী বসতির সঙ্গে ধীরে ধীরে কী গড়ে ওঠে?
(সভ্যতা / যাযাবর জীবন / গুহাবাস / শিকার)
উত্তরঃ সভ্যতা
∆ একটি-দুটি শব্দে প্রশ্ন-উত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১. আদিম কথার অর্থ কী?
উত্তরঃ খুব পুরোনো
২. মানুষের সবচেয়ে পুরোনো নিদর্শন কোথায় পাওয়া গেছে?
উত্তরঃ পূর্ব আফ্রিকা
৩. মানুষের বড়ো মস্তিষ্ক থাকে কোথায়?
উত্তরঃ মাথার খুলিতে।
৪. প্রথম দু-পায়ে দাঁড়াতে পারা প্রজাতি কোনটি?
উত্তরঃ অস্ট্রালোপিথেকাস।
৫. ‘দক্ষ মানুষ’ কাকে বলা হয় ?
উত্তরঃ হোমো হ্যাবিলিস।
৬. আগুনের ব্যবহার প্রথম কে শিখেছিল?
উত্তরঃ হোমো ইরেকটাস।
৭. বুদ্ধিমান মানুষ কোন প্রজাতি?
উত্তরঃ হোমো স্যাপিয়েন্স।
৮. পাথরের যুগ কয়টি ভাগে বিভক্ত?
উত্তরঃ তিনটি।
৯. পাথরের যুগের সবচেয়ে দীর্ঘ পর্যায় কোনটি?
উত্তরঃ পুরোনো পাথরের যুগ।
১০. আগুন মানুষকে কোন বিপদ থেকে রক্ষা করত?
উত্তরঃ শীত।
১১. আগুন ব্যবহারে মানুষের কোন অঙ্গ ছোটো হতে থাকে?
উত্তরঃ চোয়াল।
১২. ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাচীনতম হাতিয়ার কোথায় পাওয়া গেছে?
উত্তরঃ সোয়ান উপত্যকা।
১৩. নর্মদা উপত্যকায় কী পাওয়া গেছে?
উত্তরঃ মাথার খুলি।
১৪. ভীমবেটকা কেন বিখ্যাত?
উত্তরঃ গুহাচিত্র।
১৫. লুসি কোন মহাদেশে পাওয়া যায়?
উত্তরঃ আফ্রিকা।
১৬. মাঝের পাথরের যুগের ছোটো হাতিয়ারকে কী বলা হয় ?
উত্তরঃ মাইক্রোলিথ।
১৭. আদিম মানুষ প্রথমে কী ধরনের জীবনযাপন করত?
উত্তরঃ যাযাবর।
১৮. কৃষিকাজ কোন পাথরের যুগে শুরু হয়?
উত্তরঃ নতুন পাথরের যুগ।
১৯. কৃষিকাজ শুরু হলে মানুষ কোথায় থাকতে শুরু করে?
উত্তরঃ স্থায়ী বসতিতে।
২০. পশুপালনের ফলে কোন জিনিসের প্রয়োজন হয়?
উত্তরঃ মাটির পাত্র।
২১. মানুষের কাজকর্ম ও অভ্যাসকে কী বলা হয়?
উত্তরঃ সংস্কৃতি।
২২. স্থায়ী বসতির সঙ্গে ধীরে ধীরে কী গড়ে ওঠে?
উত্তরঃ সভ্যতা।
২৩. আদিম মানুষ প্রথম কোথায় থাকত?
উত্তরঃ গুহায়।
২৪. পুরোনো পাথরের যুগের প্রধান হাতিয়ার কী ছিল ?
উত্তরঃ হাতকুঠার।
২৫. মাঝের পাথরের যুগে কোন প্রাণী প্রথম পোষ মানানো হয়?
উত্তরঃ কুকুর।
২৬. আদিম মানুষের আঁকা ছবিগুলো সাধারণত কী বিষয় নিয়ে ছিল?
উত্তরঃ শিকার।
২৭. খাদ্য উৎপাদনের ফলে সমাজ কীভাবে বদলে যায় ?
উত্তরঃ জটিল হয়।
∆ সংক্ষেপে উত্তর দাও (২০ থেকে ৩০টি শব্দের মধ্যে) : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ২
১. আদিম মানুষ বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ আদিম মানুষ বলতে খুব প্রাচীন কালের সেই মানুষদের বোঝায় যারা আধুনিক মানুষের মতো উন্নত ছিল না। তারা পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করত, শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করে জীবনযাপন করত। ধীরে ধীরে শারীরিক গঠন, বুদ্ধি ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আধুনিক মানুষ গড়ে ওঠে।
২. মানুষ কীভাবে এপ থেকে আলাদা হয়ে গেল?
উত্তরঃ আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে জঙ্গল কমে গেলে কিছু এপ গাছ ছেড়ে মাটিতে নামতে বাধ্য হয়। তারা দু-পায়ে দাঁড়াতে শেখে, হাত ব্যবহার শুরু করে এবং খাবার খোঁজে নতুন কৌশল নেয়। এই ধীর পরিবর্তনের মাধ্যমেই মানুষ এপ থেকে আলাদা হয়ে হোমিনিড পরিবারে পরিণত হয়।
৩. দু-পায়ে হাঁটা মানুষের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
উত্তরঃ দু-পায়ে হাঁটার ফলে মানুষের দুই হাত মুক্ত হয়। হাত ব্যবহার করে তারা খাবার সংগ্রহ, অস্ত্র তৈরি ও নানা কাজ করতে পারে। এর ফলে মানুষের বুদ্ধির বিকাশ ঘটে এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। এটি মানব বিবর্তনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
৪. অস্ট্রালোপিথেকাস প্রজাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তরঃ অস্ট্রালোপিথেকাস প্রায় ৪০ থেকে ৩০ লক্ষ বছর আগে বাস করত। তারা কোনোক্রমে দু-পায়ে দাঁড়াতে পারত। শক্ত বাদাম ও ফল খেত। চোয়াল ছিল শক্ত। গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করা ও পাথর ছোড়ার মতো কাজ করতে পারত, যা মানব বিবর্তনের প্রাথমিক ধাপ।
৫. হোমো হ্যাবিলিসকে ‘দক্ষ মানুষ’ বলা হয় কেন ?
উত্তরঃ হোমো হ্যাবিলিস প্রথম পাথরের হাতিয়ার তৈরি করতে শিখেছিল। একটি পাথর দিয়ে আরেকটি পাথরে আঘাত করে ধারালো অস্ত্র বানাত। দলবদ্ধভাবে থাকত এবং ফলমূলের পাশাপাশি কাঁচা মাংস খেত। এই দক্ষতার জন্যই তাদের ‘দক্ষ মানুষ’ বলা হয়।
৬. আগুনের আবিষ্কার মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আনে?
উত্তরঃ আগুনের আবিষ্কার মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। আগুন শীত থেকে রক্ষা করত ও হিংস্র পশু দূরে রাখত। খাবার ঝলসে খাওয়ার ফলে চোয়াল ও দাঁতের গঠন বদলায়। আগুন ব্যবহারে মানুষের বুদ্ধি ও সামাজিক জীবন আরও উন্নত হয়।
৭. পাথরের যুগকে কেন মানুষের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়?
উত্তরঃ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করেছে। শিকার, খাবার কাটা ও দৈনন্দিন কাজে পাথরের অস্ত্র ছিল প্রধান ভরসা। এই সময়েই মানুষের জীবনযাপন, দলবদ্ধতা ও প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে। তাই পাথরের যুগ মানুষের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৮. পুরোনো পাথরের যুগের মানুষের জীবন কেমন ছিল ?
উত্তরঃ পুরোনো পাথরের যুগের মানুষ যাযাবর ছিল। তারা শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করে বাঁচত। ভারী পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করত। গুহা বা খোলা আকাশের নিচে থাকত। জীবন ছিল কষ্টকর ও অনিশ্চিত, তবে দলবদ্ধভাবে থেকে তারা একে অপরকে সাহায্য করত।
৯. ভীমবেটকা কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নক্ষেত্র?
উত্তরঃ ভীমবেটকা মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নক্ষেত্র। এখানে পুরোনো পাথরের যুগ থেকে মানুষের বসবাসের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গুহার দেয়ালে শিকার, পশু ও মানুষের ছবি আঁকা রয়েছে। এই গুহাচিত্রগুলি আদিম মানুষের শিল্পচেতনা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
১০. মাঝের পাথরের যুগে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়?
উত্তরঃ মাঝের পাথরের যুগে ছোটো ও ধারালো পাথরের হাতিয়ার তৈরি হয়। আবহাওয়া উষ্ণ হতে থাকে। মানুষ গুহা ছেড়ে ছোটো বসতি বানাতে শুরু করে। শিকারের পাশাপাশি পশুপালনের সূচনা হয়, যা মানুষের জীবনযাত্রাকে কিছুটা স্থিতিশীল করে।
১১. সরাই নহর রাই প্রত্নক্ষেত্র থেকে কী জানা যায়?
উত্তরঃ সরাই নহর রাই থেকে ধারালো ছুরি, হাড়ের তিরের ফলা ও পশুর হাড় পাওয়া গেছে। আগুন ব্যবহারের প্রমাণও মেলে। সেখানে সমাধি পাওয়া যাওয়ায় বোঝা যায়, মানুষ মৃতদের বিশেষভাবে সমাধিস্থ করত, যা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।
১২. পশুপালন মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আনে?
উত্তরঃ পশুপালনের ফলে মানুষ নিয়মিত দুধ ও খাবার পেতে শুরু করে। খাদ্যসংগ্রহ কিছুটা নিশ্চিত হয়। পশু রাখার জন্য পাত্র ও বাসস্থানের প্রয়োজন পড়ে। এর ফলে মানুষ ধীরে ধীরে স্থায়ী জীবনের দিকে এগিয়ে যায়।
১৩. নতুন পাথরের যুগে কৃষিকাজ কেন গুরুত্বপূর্ণ ?
উত্তরঃ নতুন পাথরের যুগে কৃষিকাজ শুরু হওয়ায় মানুষ নিজের খাদ্য নিজে উৎপাদন করতে পারে। খাদ্যের নিশ্চয়তা বাড়ে। যাযাবর জীবন ছেড়ে মানুষ স্থায়ী বসতি গড়ে তোলে। কৃষিকাজ সমাজব্যবস্থাকে আরও জটিল ও সংগঠিত করে তোলে।
১৪. কৃষিকাজের ফলে সমাজে কী ধরনের পরিবর্তন আসে?
উত্তরঃ কৃষিকাজের ফলে জমির মালিকানা তৈরি হয়। অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়। সবাইকে চাষ করতে হয় না, ফলে কারিগরের মতো নতুন পেশা গড়ে ওঠে। সমাজে ধীরে ধীরে অসমতা ও জটিলতা দেখা দেয়।
১৫. আদিম মানুষের সমাজে ভেদাভেদ কেন কম ছিল ?
উত্তরঃ আদিম মানুষ শিকার ও খাদ্য সংগ্রহ করে যা পেত, তা সবাই ভাগ করে নিত। ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা জমির ধারণা ছিল না। সবাই একে অপরের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাই সমাজে ধনী-গরিব বা বড়ো ভেদাভেদ দেখা যেত না।
১৬. সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ সংস্কৃতি বলতে মানুষের জীবনযাপনের সব দিক বোঝায়। খাওয়া, পোশাক, বাসস্থান, হাতিয়ার তৈরি ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি সবই সংস্কৃতির অংশ। আদিম মানুষের পাথরের হাতিয়ার বানানোও তাদের সংস্কৃতির উদাহরণ।
১৭. সংস্কৃতি মানুষকে টিকে থাকতে কীভাবে সাহায্য করেছে?
উত্তরঃ সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষ পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখেছে। শীত থেকে বাঁচতে পোশাক, আগুনের ব্যবহার ও বাসস্থান তৈরি করেছে। নানা আবহাওয়ায় টিকে থাকার কৌশল গড়ে তুলেছে। এজন্য মানুষ অন্যান্য অনেক প্রাণীর মতো বিলুপ্ত হয়নি।
১৮. সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তরঃ সংস্কৃতি মানুষের জীবনযাপনের সব অভ্যাস ও কাজকর্মকে বোঝায়। আর সভ্যতা গড়ে ওঠে স্থায়ী বসতি, কৃষি, সামাজিক নিয়ম ও উন্নত ব্যবস্থার মাধ্যমে। সংস্কৃতি আগে গড়ে ওঠে, আর তার ভিত্তিতেই ধীরে ধীরে সভ্যতার জন্ম হয়।
১৯. ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষের প্রমাণ কীভাবে পাওয়া যায়?
উত্তরঃ ভারতীয় উপমহাদেশে খুব পুরোনো মানুষের হাড় কম পাওয়া গেছে। তবে বিভিন্ন জায়গা থেকে পাথরের হাতিয়ার, গুহাবাস ও চিত্র পাওয়া গেছে। এসব হাতিয়ার ও প্রত্নস্থল বিশ্লেষণ করে উপমহাদেশে আদিম মানুষের উপস্থিতির প্রমাণ মেলে।
২০. যাযাবর জীবন থেকে স্থায়ী জীবনে পরিবর্তন কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
উত্তরঃ স্থায়ী জীবনে আসার ফলে মানুষ নিয়মিত খাদ্য উৎপাদন করতে পারে। বসতি, পরিবার ও সমাজ গড়ে ওঠে। কাজের বিভাজন শুরু হয়। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই মানুষ ধীরে ধীরে সভ্যতার পথে এগিয়ে যায়।
∆ সংক্ষেপে উত্তর দাও (৩০ থেকে ৫০টি শব্দের মধ্যে) : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৩
১. আদিম মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য কীভাবে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ?
উত্তরঃ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে আদিম মানুষের শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটে। গাছ থেকে মাটিতে নামার ফলে দু-পায়ে হাঁটার অভ্যাস তৈরি হয়। এতে হাত মুক্ত হয়ে নানা কাজে ব্যবহারযোগ্য হয়। মেরুদণ্ড সোজা ও শক্তিশালী হয়। ধীরে ধীরে মাথার খুলি বড়ো হয় এবং মস্তিষ্কের আকার বৃদ্ধি পায়। আগুন ব্যবহারের ফলে চোয়াল ও দাঁতের গঠনেও পরিবর্তন দেখা যায়।
২. আবহাওয়ার পরিবর্তন মানব বিবর্তনে কী ভূমিকা নেয় ?
উত্তরঃ আবহাওয়ার পরিবর্তন মানব বিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জলবায়ু শুষ্ক হওয়ায় ঘন জঙ্গল কমে যায় এবং ফলমূলের অভাব দেখা দেয়। ফলে কিছু এপ গাছ ছেড়ে মাটিতে নামতে বাধ্য হয়। খাদ্যের সন্ধানে তারা দূরে দূরে চলাচল করতে শেখে। এই সময় দু-পায়ে হাঁটা, হাতের ব্যবহার এবং নতুন খাদ্য সংগ্রহের কৌশল গড়ে ওঠে, যা মানুষকে ধীরে ধীরে এপ থেকে আলাদা করে তোলে।
৩. হোমো ইরেকটাস প্রজাতির জীবনযাত্রার বিবরণ দাও।
উত্তরঃ হোমো ইরেকটাস ছিল আদিম মানুষের একটি উন্নত প্রজাতি। তারা সম্পূর্ণভাবে দু-পায়ে সোজা হয়ে হাঁটতে পারত। দলবদ্ধভাবে গুহায় বসবাস করত এবং শিকার করাই ছিল তাদের প্রধান খাদ্য সংগ্রহের উপায়। তারা আগুনের ব্যবহার জানত এবং আগুন দিয়ে খাবার ঝলসানো, শীত থেকে রক্ষা পাওয়া ও হিংস্র পশু দূরে রাখত। এছাড়া তারা হাতকুঠারসহ উন্নত পাথরের অস্ত্র তৈরি করতে পারত।
৪. পাথরের যুগের হাতিয়ার তৈরির কৌশলের পরিবর্তন বোঝাও।
উত্তরঃ পাথরের যুগে হাতিয়ার তৈরির কৌশল ধীরে ধীরে উন্নত হয়। প্রথমদিকে আদিম মানুষ ভারী ও ভোঁতা নুড়ি পাথর ব্যবহার করত। পরে তারা বড়ো পাথরের গায়ে আঘাত করে ছোটো ও ধারালো টুকরো তৈরি করতে শেখে। এতে হাতিয়ার হালকা ও কার্যকর হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাতিয়ারের আকার, ধার ও ব্যবহার আরও উন্নত হয়। এই পরিবর্তনের ভিত্তিতেই পাথরের যুগের বিভিন্ন পর্যায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫. ভীমবেটকার গুহাচিত্র থেকে আদিম মানুষের জীবন সম্পর্কে কী জানা যায় ?
উত্তরঃ ভীমবেটকার গুহাচিত্র থেকে আদিম মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এসব ছবিতে শিকার, পশু, পাখি ও মানুষের নানা দৃশ্য আঁকা রয়েছে। দলবদ্ধ শিকার, নৃত্য, মুখোশ পরা মানুষ এবং কুকুরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এতে বোঝা যায় আদিম মানুষ সামাজিকভাবে বসবাস করত। রঙ ব্যবহারের দক্ষতা ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে তাদের শিল্পচেতনা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পরিচয় পাওয়া যায়।
৬. মাঝের পাথরের যুগে মানুষের জীবনে কী কী নতুন পরিবর্তন আসে ?
উত্তরঃ মাঝের পাথরের যুগে মানুষের জীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। এই সময় ছোটো ও ধারালো পাথরের হাতিয়ার তৈরি হয়, যেগুলিকে কাঠ বা হাড়ের ডালের সঙ্গে জুড়ে ব্যবহার করা হতো। আবহাওয়া উষ্ণ হওয়ায় খাদ্য সংগ্রহ কিছুটা সহজ হয়। শিকারের পাশাপাশি পশুপালনের সূচনা ঘটে। মানুষ নদীর ধারে বা অনুকূল স্থানে ছোটো ছোটো বসতি গড়ে তুলতে শুরু করে।
৭. পশুপালনের প্রভাব আদিম মানুষের সমাজে কী ছিল ?
উত্তরঃ পশুপালনের ফলে আদিম মানুষের সমাজে বড়ো পরিবর্তন আসে। গবাদি পশু থেকে দুধ, মাংস ও চামড়া পাওয়া যেত, ফলে খাদ্যের জোগান বৃদ্ধি পায়। পশু রক্ষার প্রয়োজন থেকে মানুষ এক জায়গায় বেশি দিন বসবাস শুরু করে। এতে স্থায়ী জীবনের দিকে ঝোঁক বাড়ে। পশুপালনের সঙ্গে সঙ্গে দুধ সংরক্ষণের জন্য পাত্রের প্রয়োজন হয়, যা মাটির পাত্র বা মৃৎশিল্পের সূচনায় সাহায্য করে।
৮. নতুন পাথরের যুগে কৃষিকাজ শুরু হওয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ নতুন পাথরের যুগে কৃষিকাজ শুরু হওয়া মানব ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। মানুষ তখন নিজে খাদ্য উৎপাদন করতে শেখে, ফলে খাদ্যের অনিশ্চয়তা কমে যায়। কৃষিকাজের জন্য ক্ষেতের পাশে স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে। যাযাবর জীবনধারার অবসান ঘটে। সমাজে কাজের বিভাজন শুরু হয় এবং অতিরিক্ত ফসলের ফলে ব্যবসা ও নতুন পেশার জন্ম হয়, যা সভ্যতার বিকাশে সহায়ক হয়।
৯. আদিম মানুষের সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়, উদাহরণসহ লেখো।
উত্তরঃ আদিম মানুষের সংস্কৃতি বলতে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের পদ্ধতি, অভ্যাস ও চিন্তাভাবনাকে বোঝায়। পাথরের হাতিয়ার তৈরি, আগুনের ব্যবহার, গাছের ছাল বা পশুর চামড়া দিয়ে পোশাক বানানো ছিল তাদের সংস্কৃতির অংশ। গুহাচিত্র আঁকা, দলবদ্ধ শিকার ও সামাজিকভাবে বসবাসও সংস্কৃতির পরিচয় দেয়। এসব অভ্যাস মানুষকে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটিয়েছিল।
১০. যাযাবর জীবন থেকে স্থায়ী জীবনে রূপান্তর মানব ইতিহাসে কেন গুরুত্বপূর্ণ ?
উত্তরঃ যাযাবর জীবন থেকে স্থায়ী জীবনে রূপান্তর মানব ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিবর্তনের ফলে মানুষ কৃষিকাজ ও পশুপালনের মাধ্যমে নিয়মিত খাদ্য পেতে শুরু করে। স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে এবং পরিবার ও সমাজের ধারণা শক্তিশালী হয়। কাজের বিভাজন, সামাজিক নিয়ম ও নেতৃত্বের সৃষ্টি হয়। এই ধাপেই মানব সমাজ ধীরে ধীরে সংগঠিত সভ্যতার পথে অগ্রসর হয়।
∆ রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (১০০ থেকে ১২০টি শব্দের মধ্যে) : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৫
১. মানুষ কীভাবে এপ থেকে আলাদা হয়ে আধুনিক মানুষের দিকে এগিয়ে গেল-ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ লক্ষ লক্ষ বছর আগে আফ্রিকার পূর্ব অংশে ঘন জঙ্গলে এপরা বসবাস করত। আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে জঙ্গল কমে গেলে ফলমূল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তখন কিছু এপ গাছ ছেড়ে মাটিতে নেমে আসে। মাটিতে চলাচলের সুবিধার জন্য তারা ধীরে ধীরে দু-পায়ে হাঁটতে শেখে। ফলে হাত দুটি মুক্ত হয়ে যায় এবং হাত দিয়ে খাবার ধরা, পাথর ছোড়া ও হাতিয়ার বানানোর কাজ শুরু হয়। এই সময় মেরুদণ্ড সোজা হয় এবং মাথার খুলি বড়ো হয়ে মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটে। ধীরে ধীরে অস্ট্রালোপিথেকাস, হোমো হ্যাবিলিস, হোমো ইরেকটাস হয়ে হোমো স্যাপিয়েন্সের আবির্ভাব ঘটে। এই দীর্ঘ বিবর্তনের মধ্য দিয়েই মানুষ এপ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে ওঠে।
২. আগুনের আবিষ্কার আদিম মানুষের জীবনে কী কী পরিবর্তন এনেছিল?
উত্তরঃ আগুনের আবিষ্কার আদিম মানুষের জীবনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। আগুনের সাহায্যে মানুষ শীতের হাত থেকে রক্ষা পায় এবং হিংস্র পশু দূরে রাখতে পারে। আগুনে খাবার ঝলসে খাওয়ার ফলে কাঁচা খাবারের ওপর নির্ভরতা কমে যায়। ঝলসানো খাবার সহজে চিবোনো যায় বলে চোয়াল ও দাঁতের গঠন ধীরে ধীরে বদলে যায়। আগুন রাতের অন্ধকার দূর করে নিরাপত্তা বাড়ায় এবং মানুষের সামাজিক জীবনকে শক্তিশালী করে। আগুনের চারপাশে বসে মানুষ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়, ফলে যোগাযোগ ও বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। এই আবিষ্কার মানব সভ্যতার অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
৩. পুরোনো পাথরের যুগে ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষের জীবনযাপন কেমন ছিল ?
উত্তরঃ পুরোনো পাথরের যুগে ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ প্রধানত যাযাবর জীবনযাপন করত। তারা ভারী ও ভোঁতা পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করে শিকার করত এবং বনের ফলমূল সংগ্রহ করে খেত। পশুপালন বা কৃষিকাজ তখনও শুরু হয়নি। থাকার জন্য তারা প্রাকৃতিক গুহা ব্যবহার করত অথবা খোলা আকাশের নিচে বাস করত। দলবদ্ধভাবে শিকার করে খাবার ভাগ করে খেত। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে পশুর চামড়া বা গাছের ছাল গায়ে জড়াত। জীবন ছিল কঠিন ও অনিশ্চিত, তবু পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তারা টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছিল।
৪. মাঝের পাথরের যুগ থেকে নতুন পাথরের যুগে মানুষের জীবনে কী কী বড় পরিবর্তন ঘটে ?
উত্তরঃ মাঝের পাথরের যুগে মানুষের হাতিয়ার ছোটো, হালকা ও ধারালো হয়ে ওঠে। শিকারের পাশাপাশি পশুপালনের সূচনা হয় এবং মানুষ ছোটো বসতি গড়ে তুলতে শুরু করে। নতুন পাথরের যুগে এসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটে কৃষিকাজের মাধ্যমে। মানুষ প্রথমবার নিজের খাদ্য নিজে উৎপাদন করতে শেখে। এর ফলে যাযাবর জীবন শেষ হয়ে স্থায়ী বসতির সৃষ্টি হয়। কৃষির সঙ্গে পশুপালন আরও সহজ হয় এবং খাদ্যের নিশ্চয়তা বাড়ে। অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের ফলে কাজের বিভাজন, কারিগরি পেশা ও জটিল সমাজব্যবস্থার সচনা ঘটে। এই সময় থেকেই সভ্যতার পথ প্রশস্ত হয়।
৫. আদিম মানুষের সংস্কৃতি কীভাবে মানব সভ্যতার ভিত্তি তৈরি করে-আলোচনা করো।
উত্তরঃ আদিম মানুষের সংস্কৃতি বলতে তাদের জীবনযাপনের সমস্ত পদ্ধতিকে বোঝায়। পাথরের হাতিয়ার তৈরি, আগুনের ব্যবহার, শিকার ও বাসস্থানের কৌশল-সবই সংস্কৃতির অংশ। এসব অভ্যাস মানুষকে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে পোশাকের ব্যবহার, নিরাপত্তার জন্য দলবদ্ধ থাকা ও খাবার ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। এই সংস্কৃতিই মানুষের টিকে থাকার শক্তি দেয়। ধীরে ধীরে স্থায়ী বসতি, কৃষিকাজ ও সামাজিক নিয়মের মাধ্যমে সংস্কৃতি থেকেই সভ্যতার জন্ম হয়। তাই বলা যায়, আদিম মানুষের সংস্কৃতিই মানব সভ্যতার মূল ভিত্তি।
📌 আরো দেখুনঃ
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here
