FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 6 (VI) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER
Set-4
ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৪ | Class 6 History First Unit Test Question with Answer Set-4
পাঠ্যসূচী / Syllabus
2. ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ 3.ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের ধারা
প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন-২০২৫
শ্ৰেণি : ষষ্ঠ
বিষয় : ইতিহাস
পূর্ণমান : ৩০ সময় : ১ ঘণ্টা।
1. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : 1×6=6
(ক) আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার ছিল- (ভোঁতা পাথর/ হালকা ছুঁচালো পাথর/ পাথরের কুঠার)।
উত্তরঃ ভোঁতা পাথর।
(খ) মানুষই একমাত্র প্রাণী যারা হাতের (বুড়ো / মধ্যমা / অনামিকা) আঙ্গুলকে কোন কিছু ধরতে ব্যবহার করে।
উত্তরঃ বুড়ো
(গ) শস্য পেষাইয়ের জাঁতা পাওয়া গেছে উত্তরপ্রদেশের (মহাদহাতে / সরাই নহর রাইতে / আদমগড়ে)।
উত্তরঃ সরাই নহর রাইতে।
(ঘ) ভারতীয় উপমহাদেশে হরপ্পাতেই (প্রথম নগর / প্রথম গ্রাম / দ্বিতীয় নগর) দেখা গিয়েছিল।
উত্তরঃ প্রথম নগর।
(ঙ) মেহেরগড় মূলত একটি (নগরকেন্দ্রিক / পশুপালনভিত্তিক / কৃষিনির্ভর) সভ্যতা।
উত্তরঃ কৃষিনির্ভর।
(চ) হরপ্পা সভ্যতার ইতিহাস জানার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান (মুদ্রা/ লিপি / সিলমোহর)।
উত্তরঃ সিলমোহর।
2. দু-এক কথায় উত্তর দাও : 1×4=4
2.1 ‘ট্যরো-ট্যরো’ কথার অর্থ কী ?
উত্তরঃ ষাঁড় ষাঁড়।
2.2 কোন্ যুগে মানুষ চাকার ব্যবহার শেখে ?
উত্তরঃ নতুন পাথরের যুগে।
2.3 কত খ্রিস্টাব্দে মহেনজোদাড়ো আবিষ্কৃত হয় ?
উত্তরঃ ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে।
2.4 হরপ্পাবাসী কোন্ ধাতুর ব্যবহার জানত না ?
উত্তরঃ লোহা।
3. যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৩-৪টি বাক্যে) : 2×2=4
3.1 মানুষের মধ্যে জমির জন্য লড়াই শুরু হয়েছিল কেন ?
উত্তরঃ নতুন পাথরের যুগে মানুষ চাষের কাজ শিখেছিল। এ যুগে চাষের কাজ জানা মানুষের প্রয়োজন হল চাষের জমি ও স্থায়ী বসতবাড়ি। এই সময় থেকে মানুষের মধ্যে জমির জন্য লড়াই শুরু হয়েছিল।
3.2 হরপ্পা সভ্যতায় কীভাবে মৃতদেহ সমাধি দেওয়া হত ?
উত্তরঃ মৃতদেহের মাথা উত্তর দিকে রেখে শুইয়ে দেওয়া হত। সমাধির ভিতর মৃতদেহের পাশে মাটির পাত্র, গয়না বা অন্যান্য জিনিস রেখে দেওয়া হত।
3.3 মানুষের মধ্যে কীভাবে নিয়মের শাসন চালু হয়েছিল ?
উত্তরঃ মানুষ যখন জোট বেঁধে বসবাস করত তখন তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে মতের অমিল দেখা দিত। তখন তারা নিজেদের মধ্যে বিবাদ করত। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বিবাদ নিয়ে তো বেশি দিন চলা যায় না। তাই তারা নিজেদের বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করল। সবাই মিলে তৈরি করল নিয়ম। আর ঠিক করল সবাই নিয়ম মেনে চলবে। এভাবেই চালু হল নিয়মের শাসন।
3.4 হরপ্পা সভ্যতাকে ‘প্রায়-ঐতিহাসিক যুগের সভ্যতা’ বলা হয় কেন ?
উত্তরঃ প্রায়-ইতিহাস যুগ: প্রায়-ইতিহাস যুগ বলতে সেই সময়কে বোঝায় যে সময়ের মানুষ লিখতে শিখেছে বা লিপির ব্যবহার শিখেছে। হরপ্পা সভ্যতাকে প্রায়-ইতিহাস যুগের সভ্যতা বলা হয়, কারণ হরপ্পা সভ্যতার মানুষ লিখতে জানত। তবে হরপ্পা সভ্যতার লিপি আজও পড়া সম্ভব হয়নি। ।
4. যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫-৬টি বাক্যে) : 3×2=6
4.1 আদিম মানুষ কীভাবে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল বলে মনে হয় ?
উত্তরঃ আদিম মানুষ কীভাবে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তবে অনুমান করা যায় যে, তারা প্রকৃতির বিভিন্নভাবে জ্বলে ওঠা আগুন দেখেই আগুন জ্বালাতে শিখেছিল।
দাবানলের আগুন দেখে : বনে কাঠের সঙ্গে কাঠ ঘষা লেগে আদিম মানুষ আগুন জ্বলতে দেখত। হয়তো কাঠে কাঠে ঘষে আদিম মানুষ প্রথম আগুন জ্বালিয়েছিল।
পাথরের ঠোকাঠুকিতে : আদিম মানুষ পাথর দিয়ে পাথর ঠুকে পাথরের হাতিয়ার তৈরি করত। পাথরের হাতিয়ার তৈরি করতে গিয়ে চকমকি জাতীয় পাথরের ঠোকাঠুকিতে যে আগুন জ্বলে ওঠে তা দেখেই হয়তো মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখেছিল।
4.2 হোমো স্যাপিয়েন্স (বুদ্ধিমান মানুষ) এর বৈশিষ্ট্য কী ছিল ?
উত্তরঃ হোমো স্যাপিয়েন্স (বুদ্ধিমান মানুষ) এখন থেকে প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার বছর আগে পৃথিবীতে ছিল।
হোমো স্যাপিয়েন্সদের বৈশিষ্ট্য ছিল—
(i) এরা দল বেঁধে বড়ো বড়ো পশুশিকার করতে পারত। এরা পশুর চামড়া পরতে শিখেছিল।
(ii) এরা পশুর মাংস আগুনে পুড়িয়ে খেতে শিখেছিল।
(iii) এরা পাথর দিয়ে ছোটো তীক্ষ্ণ ও ধারালো অস্ত্র বানাতে শিখেছিল।
4.3 হরপ্পা সভ্যতার মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন ও পরিবেশ সচেতন ছিল। -মন্তব্যটি যুক্তি দিয়ে আলোচনা করো।
উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার মানুষ ছিল স্বাস্থ্য সচেতন ও পরিবেশ সচেতন। হরপ্পা সভ্যতায় শৌচাগার, স্নানাগার ও পাকা নর্দমা দিয়ে জল নিকাশির ব্যবস্থা ছিল।
শৌচাগার : হরপ্পা সভ্যতার মানুষ যে স্বাস্থ্য সচেতন ও পরিবেশ সচেতন ছিল তার একটি বড়ো প্রমাণ ছিল শৌচাগারের ব্যবহার। হরপ্পার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার ছিল। এর থেকে মনে হয় যে, সাধারণভাবে নগরগুলি পরিষ্কার ছিল।
স্নানাগার : হরপ্পা সভ্যতার মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতার আর-একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল স্নানাগারের ব্যবহার। এর থেকে মনে হয় হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীরা নিয়মিত স্নান করত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকত। মহেনজোদাড়োতে ইট দিয়ে বাঁধানো উঁচু ইটের দেয়াল দিয়ে ঘেরা একটি সুন্দর স্নানাগার পাওয়া গেছে।
পাকা নর্দমা : হরপ্পা সভ্যতায় পাকা নর্দমা দিয়ে নোংরা জল নিকাশির ব্যবস্থা ছিল। প্রতিটি বাড়ি থেকে ছোটো নালা দিয়ে নোংরা জল বড়ো নর্দমায় এসে পড়ত। বড়ো নর্মদা দিয়ে নোংরা জল নগরের বাইরে বেরিয়ে যেত। আবার বড়ো নর্দমাগুলি ঢাকা দিয়ে রাখার ব্যবস্থা ছিল।
4.4 মেহেরগড় কোথায় অবস্থিত ? কত খ্রিস্টাব্দে, কে মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন ?
উত্তরঃ মেহেরগাড়ের অবস্থান: বর্তমান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে মেহেরগড় অবস্থিত। বোলান গিরিপথের ধারে ও কোয়েটা শহর থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে মেহেরগড় অবস্থিত।
আবিষ্কার : ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে মেহেরগড়ে তামা-পাথরের যুগের একটি সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়েছে।
মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক জাঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজ। তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন রিচার্ড মেডো।
5. যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৮-১০টি বাক্যে) : 5×2=10
5.1 মানুষের সংস্কৃতি কীভাবে তাকে যুগে যুগে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে বলে তোমার মনে হয় ?
উত্তরঃ মানুষের চেয়ে বৃহৎ ও শক্তিশালী প্রাণী প্রকৃতির দাপটে একসময় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যেমন– এক্ষেত্রে আমরা ডাইনোসোরের কথা উল্লেখ করতে পারি। কিন্তু মানুষ আদিম কাল থেকে আজ পর্যন্ত টিকে আছে, এর মূল কারণ তার সংস্কৃতি।
সংস্কৃতির পরিচয় : ‘সংস্কৃতি’ বলতে মূলত নাচ-গান, পোষাক-পরিচ্ছদ, শিল্প-সাহিত্য প্রভৃতিকে বোঝায় কিন্তু মানবজীবনের খাওয়াদাওয়া ও ঘুম-বিশ্রাম প্রভৃতিকেও সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মও সংস্কৃতির অংশ।
উন্নত মন্ত্রিস্তযুক্ত জীর মানুষ : মানুষ অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় ছোটো ও কম শক্তিশালী হলেও তার বুদ্ধি বেশি। মানুষ তার বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে ক্রমে উন্নতির দিকে ধাবিত হয়েছে। শক্তি কম থাকলেও বড়ো বড়ো প্রাণীকে মানুষ তার প্রয়োজনে পোষ মানিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে মানুষের সংস্কৃতি।
পরিবেশের সঞ্চেগ খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা : মানুষ প্রাকৃতিক পরিবেশকে নিজের মতো করে ব্যবহার করতে পারে। একসময় মানুষও পশুপাখির মতো বৃষ্টি-শীত প্রভৃতি প্রাকৃতিক কারণে কষ্ট পেত কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষ শীত থেকে বাঁচতে গাছের ছাল, মৃত পশুর চামড়া গায়ে জড়াতে শুরু করল।
দলবদ্ধতা : মানুষ দলবদ্ধভাবে বাস করতে শুরু করে। ফলে একে অন্যের কাছ থেকে সহজেই কর্মপদ্ধতি আয়ত্ব করতে পারে। মানুষের পারস্পরিক ভাবের আদানপ্রদান সংস্কৃতিরই অংশ, যা মানুষকে প্রকৃতিতে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। তাই বলা যায়, সংস্কৃতি মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি, যা মানুষকে যুগে যুগে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। সংস্কৃতি মানুষের জীবনের ক্লেশ, দুঃখ, অলসতা কাটিয়ে সতেজতা ও স্ফূর্তি দান করে।
5.2 আদিম মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল ?
উত্তরঃ আদিম মানুষ পশুর মতো বনে-জঙ্গলে বিচরণ করত। গুহাবাসী মানুষ এই সময় বন থেকে ফলমূল, লতাপাতা ও পশুর কাঁচা মাংস আহার করে ক্ষুধা নিবৃত্ত করত। আদিম মানুষের জীবন ছিল বিপদসংকুল ও কষ্টকর। ক্রমশ মানুষ তার বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে সভ্যতার দিকে এগিয়ে যায়।
বাসসম্মান : আদিম মানুষ ঘরবাড়ি বানাতে জানত না। তারা পাহাড়ের গুহায়, গাছের ডালে বা জলাশয়ের ধাবে বসবাস করত। বনে-জঙ্গলে হিংস্র পশুর আক্রমণের সম্ভাবনা থাকত সবসময়।
খাদ্য : আদিম মানুষ ছিল খাদ্য সংগ্রাহক। এরা বনে-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে ফলমূল সংগ্রহ করত। পশুপাখি ও বিভিন্ন ধরনের প্রাণী শিকার করে তার কাঁচা মাংস খেত।
বিপদসংকুল জীবন : আদিম মানুষের জীবন ছিল খুবই বিপদসংকুল। হিংস্র পশুর সঙ্গে লড়াই মানুষকে বেঁচে থাকতে হত। অনেক মানুষ পশুর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে অকালে মারা যেত। এ ছাড়া মানুষ অখাদ্য, কুখাদ্য গ্রহণের কারণেও নানারকম রোগে আক্রান্ত হত।
অসহায়তা : আদিম মানুষ প্রকৃতির কাছে ছিল অসহায়। ঝড়-বৃষ্টি, ভূমিকম্প, তুষারপাত, বজ্রপাত, প্রবল শীতে মানুষ প্রচন্ড কষ্ট পেত।
5.3 হরপ্পাবাসীর অর্থনৈতিক জীবনের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ হরপ্পা নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা হলেও কৃষি ও পশুপালন মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল। কিছু মানুষ শিল্পের কাজ করতেন আবার লোথাল বন্দরের নিদর্শন ব্যাবসাবাণিজ্যেরও প্রমাণ বহন করে।
অর্থনৈতিক জীবন—
কৃষিকাজ : হরপ্পা সভ্যতার মানুষ লাঙ্গলের ব্যবহার জানত না, তারা নিড়ানির মাধ্যমে চাষ করত। সেচের প্রকৃত ধারণা এই উপত্যকার মানুষের ছিল না। তবুও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যশস্য উৎপাদিত হত। এই অঞ্চলে উৎপন্ন ফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ধান, গম, যব, বার্লি, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, তিল, রাই, তুলা, সরিষা প্রভৃতি।
পশুপালন: কৃষির মতো পশুপালন করেও হরপ্পা সভ্যতার অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতেন। পশুকে তারা পেআ, মানিয়ে তাকে পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হত। অন্যদিকে খাদ্যের প্রয়োজনে কিছু পশুপালন করা হত। উল্লেখযোগ্য পালিত পশু ছিল- গোরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি, গাধা, উট, হাতি, ষাঁড়, বলদ ইত্যাদি।
ব্যাবসাবাণিজ্য : ব্যাবসাবাণিজ্য হরপ্পা অঞ্চলের সমৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বণিক সম্প্রদায় ব্যাবসাবাণিজ্যের কাজে নিযুক্ত থাকতেন। জল-সাল উভয় পথে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য চলত। মিশর, সুমের, মেসোপটেমিয়া, ব্যাবিলন, পারস্য বেলুচিস্তান প্রভৃতি এলাকার সঙ্গে বাণিজ্য চলত। লোথাল ছিল বহিঃবাণিজ্যের কেন্দ্র বন্দর। বিনিময়প্রথার মাধ্যমে বাণিজ্য চলত।
অন্যান্য পেশা: তাঁতিরা পশম ও সূতীবস্ত্র বুনত, মৃৎ শিল্পের মাধ্যমে কিছু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত। ইট দিয়ে বাড়ি তৈরি ও ছুতারের কাজও করত কেউ কেউ। সোনা, রুপো দিয়ে গয়নার কাজ করত স্বর্ণকারেরা। কারিগরি শিল্পেও হরপ্পা সভ্যতা উন্নত ছিল।
হরপ্পা সভ্যতার মানুষ কোনো একটি নির্দিষ্ট পেশার মাধ্যমে উপার্জন করত তা নয়, বিভিন্ন পেশার মানুষ এই সভ্যতায় বাস করত।
5.4 হরপ্পার ধর্ম সম্পর্কে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে কী কী জানা যায় ?
উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার ধর্ম সম্পর্কে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যায়।
বিভিন্ন কেন্দ্রে পোড়ামাটির বহু নারীমূর্তি পাওয়া গেছে, যা থেকে মনে করা হয় মাতৃপূজার প্রচলন ছিল। মহেঞ্জোদাড়ো-তে পাওয়া এক সিলমোহরে জোড়াসনে বসা এক যোগীর মূর্তি ও তার চারপাশে বন্যপ্রাণীর ছবি দেখা যায়। একসময় একে পশুপতি শিবের আদিরূপ বলা হলেও, তার যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
হরপ্পাবাসীরা বিভিন্ন প্রাণী ও গাছের পূজা করত। সিলমোহরে একশিংওলা কাল্পনিক পশু ও ষাঁড়ের ছবি পাওয়া যায়। অশ্বত্থ গাছের ছবিও দেখা যায়, যা থেকে গাছপূজার ধারণা করা হয়। ধর্মীয় কাজে জলের ব্যবহার ছিল এবং সম্ভবত মহেঞ্জোদাড়োর জলাশয়টি ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হতো।
এছাড়া মৃতদেহ সমাধি দেওয়ার প্রথা ছিল; মৃতদেহের সঙ্গে গয়না ও মাটির পাত্রও রাখা হতো। সুতরাং, হরপ্পা ধর্ম ছিল মূলত মাতৃপূজা, প্রাণী ও প্রকৃতি উপাসনাভিত্তিক।
📌 আরো দেখোঃ
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here
