FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 6 (VI) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER
Set-2
পাঠ্যসূচী / Syllabus :
2. ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ
3.ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের ধারা
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন-২০২৫
শ্ৰেণি : ষষ্ঠ
বিষয় : ইতিহাস
পূর্ণমান : ৩০ সময় : ১ ঘণ্টা।
1. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো : 1×6=6
(i) প্রথম আগুনের ব্যবহার শিখেছিল (অস্ট্রালোপিথেকাস / হোমো হাবিলিস / হোমো ইরেকটাস / হোমো স্যাপিয়েন্স)।
উত্তরঃ হোমো ইরেকটাস
(ii) আদিম মানুষ প্রথমে (পোড়া মাংস / কাঁচা মাংস ও ফলমূল / মাছ / রান্না করা খাবার) খেত।
উত্তরঃ কাঁচা মাংস ও ফলমূল।
(iii) আলতামিরা গুহা অবস্থিত (ভারতে / জার্মানিতে / স্পেনে / লন্ডনে)।
উত্তরঃ স্পেনে।
(iv) ‘লোথাল’ শব্দের অর্থ হল (মৃতদেহ / মৃতের স্থান / মৃতের স্তূপ / সমাধিক্ষেত্র)।
উত্তরঃ মৃতের স্থান।
(v) হরপ্পা সভ্যতার মানুষ (লোহার / তামার / ব্রোঞ্জের / পাথরের) ব্যবহার জানত না।
উত্তরঃ লোহার।
(vi) মহেনজোদাড়োতে প্রথম খনন কাজ শুরু করেছিলেন- (জন মার্শাল / রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় / দয়ারাম সাহানি / চার্লস ম্যাসন)।
উত্তরঃ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
2. নির্দেশ অনুসারে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যে কোনো চারটি) : 1×4=4
(i) ‘এপ’ কারা ?
উত্তরঃ লেজহীন বড় বানরদের ‘এপ’ বলা হয়, যারা ছিল মানুষের পূর্বপুরুষ।
(ii) সত্য/মিথ্যা লেখোঃ বুদ্ধিমান মানুষের প্রজাতি হল হোমো ইরেকটাস।
উত্তরঃ মিথ্যা (বুদ্ধিমান মানুষের প্রজাতি হলো হোমো স্যাপিয়েন্স)।
(iii) হরপ্পা সভ্যতা কোন্ নদীর ধারে অবস্থিত ?
উত্তরঃ সিন্ধু নদ এবং তার শাখা নদীগুলির তীরে (বিশেষ করে রবি নদীর তীরে হরপ্পা কেন্দ্রটি অবস্থিত)।
(iv) হরপ্পা সভ্যতার বাড়িঘর গুলি কী দিয়ে তৈরি করা হত ?
উত্তরঃ পোড়ানো ইট দিয়ে।
(v) সত্য / মিথ্যা নির্ণয় করো : মহেনজোদাড়োর নগর সভ্যতাকে ভারতের দ্বিতীয় নগরায়ন বলা হয়।
উত্তরঃ মিথ্যা (হরপ্পা সভ্যতা ভারতের প্রথম নগরায়ন)।
3. নীচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (দু-তিনটি বাক্যের মধ্যে) : 2×2=4
(i) নতুন পাথরের যুগের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তরঃ (i) নতুন পাথরের যুগের বৈশিষ্ট্য: ক) মানুষ কৃষিকাজ ও পশুপালন শেখে। খ) পাথর ঘষে মসৃণ ও ধারালো অস্ত্র তৈরি করা শুরু হয়।
(ii) ‘লুসি’ কী ?
উত্তরঃ আফ্রিকার ইথিওপিয়াতে পাওয়া একটি মেয়ে ‘অস্ট্রালোপিথেকাস’ কঙ্কালের নাম হলো লুসি। এটি প্রায় ৩২ লক্ষ বছর আগের পুরনো।
(iii) হরপ্পা সভ্যতায় নির্মিত সিটাডেল এলাকাটির দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তরঃ সিটাডেলের বৈশিষ্ট্য : (ক) এটি শহরের উঁচু এলাকা ছিল যেখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন থাকত। (খ) সাধারণত এই এলাকাটি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা থাকত।
4. নীচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (চার-পাঁচটি বাক্যের মধ্যে) : 3×2=6
(i) অস্ট্রালোপিথেকাস কারা ? এদের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তরঃ (১) অস্ট্রালোপিথেকাস: এরা ছিল আদিম মানুষের একটি প্রজাতি যারা প্রায় ৪০ থেকে ২০ লক্ষ বছর আগে বাস করত।
বৈশিষ্ট্য : (ক) এরা দুই পায়ে ভর দিয়ে কোনোমতে দাঁড়াতে পারত। (খ) এদের চোয়াল ছিল শক্ত এবং মস্তিষ্ক ছিল অনেক ছোট।
(২) হরপ্পার সিলমোহর: হরপ্পা সভ্যতায় মাটি ও পাথরের তৈরি প্রচুর সিলমোহর পাওয়া গেছে। এগুলোর ওপর লিপি এবং বিভিন্ন পশুপাখির (যেমন একশৃঙ্গ ষাঁড়) ছবি খোদাই করা থাকত। এগুলি মূলত বাণিজ্যের কাজে ব্যবহৃত হতো।
(৩) মহেনজোদাড়োর স্নানাগার: এটি ছিল একটি বিশাল বাঁধানো জলাশয়। এর চারপাশে ছোট ছোট ঘর ছিল। মেঝেতে বিটুমিন ব্যবহার করা হতো যাতে জল চুঁইয়ে না যায়। জল নিকাশের জন্য ড্রেন এবং জল ঢোকানোর জন্য কুয়োর ব্যবস্থা ছিল।
(ii) টীকা লেখো : হরপ্পা সভ্যতার সিলমোহর।
উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার সিলমোহর সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা নিচে দেওয়া হলো:
(১) উপাদান: হরপ্পা সভ্যতার সিলমোহরগুলি মূলত স্টিয়াটাইট বা নরম পাথর দিয়ে তৈরি করা হতো। এ ছাড়া পোড়ামাটি ও হাতির দাঁতের সিলমোহরও পাওয়া গেছে।
(২) আকৃতি ও লিপি: অধিকাংশ সিলমোহর ছিল চতুষ্কোণ। এগুলির উপরিভাগে এক সারিতে হরপ্পার লিপি বা চিত্রলিপি খোদাই করা থাকত।
(৩) প্রাণীর প্রতিরূপ: সিলমোহরগুলিতে ষাঁড়, গণ্ডার, বাঘ এবং একশৃঙ্গী পশুর (Unicorn) ছবি অত্যন্ত নিপুণভাবে খোদাই করা ছিল।
(৪) পশুপতি শিব: মহেঞ্জোদাড়োতে পাওয়া একটি বিশেষ সিলমোহরে যোগীবেষ্টিত একটি মূর্তিকে ‘পশুপতি শিব’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
(৫) ব্যবহার: এই সিলমোহরগুলি মূলত ব্যাবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনে পণ্যের গাঁট বা বস্তার ওপর ছাপ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো।
(iii) মহেনজোদাড়োর স্নানাগারটির সংক্ষেপে বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ মহেঞ্জোদাড়োর দুর্গ অঞ্চলে আবিষ্কৃত বিশাল স্নানাগারটি সিন্ধু সভ্যতার একটি বিস্ময়কর স্থাপত্য। এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
আকার ও গঠন: এটি ছিল একটি বিশাল আয়তাকার জলাশয়, যার দৈর্ঘ্য ১১.৮৮ মিটার, প্রস্থ ৭.০১ মিটার এবং গভীরতা প্রায় ২.৪৩ মিটার।
প্রবেশ পথ: স্নানাগারটির উত্তর ও দক্ষিণ দিকে পোড়া ইটের তৈরি দুটি চওড়া সিঁড়ি ছিল, যা দিয়ে জলাশয়ের নিচে নামা যেত।
জলরোধী ব্যবস্থা: জলাশয়ের তলা এবং দেয়ালগুলি পোড়া ইট ও জিপসামের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছিল এবং জল চুইয়ে পড়া আটকাতে বিটুমিনের (এক ধরনের প্রাকৃতিক আলকাতরা) আস্তরণ ব্যবহার করা হয়েছিল।
জল সরবরাহ ও নিষ্কাশন: স্নানাগারে জল আনার জন্য পাশে একটি বড় কুয়ো ছিল এবং ব্যবহৃত নোংরা জল বের করে দেওয়ার জন্য একটি বড় নর্দমার ব্যবস্থা ছিল।
ব্যবহার: স্নানাগারের চারদিকে ছোট ছোট ঘর ছিল, যা সম্ভবত পোশাক পরিবর্তনের কাজে ব্যবহৃত হতো। ঐতিহাসিকদের মতে, এটি মূলত কোনো বিশেষ ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে পবিত্র স্নানের জন্য ব্যবহৃত হতো
5. নীচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (আট-দশটি বাক্যের মধ্যে) : 5×2=10
(i) পুরানো পাথরের যুগের আদিম মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে লেখো।
উত্তরঃ
(১) পুরানো পাথরের যুগের জীবনযাত্রা : আদিম মানুষ দলবদ্ধভাবে যাযাবর জীবন কাটাত। তারা গুহায় থাকত এবং পাথর দিয়ে অমসৃণ হাতিয়ার তৈরি করত। পশু শিকার ও ফলমূল সংগ্রহই ছিল প্রধান কাজ। আগুনের ব্যবহার শেখার পর তাদের জীবনে বড় বদল আসে।
(২) হরপ্পা পতনের কারণ : ১. সিন্ধু নদের গতিপথ পরিবর্তন ও ভয়াবহ বন্যা। ২. আবহাওয়া পরিবর্তন ও বৃষ্টির অভাব।
কারিগরি শিল্প: তারা পোড়ামাটির পাত্র তৈরি, তামা ও ব্রোঞ্জের অলঙ্কার এবং মূর্তিনির্মাণে দক্ষ ছিল। বয়ন শিল্পেও তাদের পারদর্শিতা ছিল।
(৩) নগর পরিকল্পনা: শহরগুলি গ্রিড বা দাবার ছকের মতো পরিকল্পিত ছিল। রাস্তাগুলো একে অপরকে সমকোণে ছেদ করত। নিকাশি ব্যবস্থা ছিল আধুনিক-প্রতিটি বাড়ির জল ঢাকা ড্রেন দিয়ে বড় ড্রেনে গিয়ে পড়ত। শহরটি সিটাডেল (উঁচু) এবং সাধারণ জনপদ (নিচু)-এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল।
(ii) হরপ্পা সভ্যতা পতনের দুটি প্রধান কারণ লিখ। এই সভ্যতার কারিগরি শিল্পের সংক্ষেপে পরিচয় দাও।
উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতা পতনের দুটি প্রধান কারণ:
(১) প্রাকৃতিক বিপর্যয়: সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির গতিপথ পরিবর্তন এবং ভয়াবহ বন্যার ফলে অনেক নগর ধ্বংস হয়ে যায়।
(২) পরিবেশগত পরিবর্তন: অতিরিক্ত গাছ কাটার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং সিন্ধু নদের অববাহিকা ক্রমশ শুষ্ক ও মরুভূমিতে পরিণত হওয়া এই সভ্যতার পতনের অন্যতম কারণ।
কারিগরি শিল্পের পরিচয়: হরপ্পা সভ্যতার কারিগরি শিল্প ছিল অত্যন্ত উন্নত এবং বৈচিত্র্যময়—
ধাতু শিল্প: তামা ও ব্রোঞ্জ ব্যবহার করে কুঠার, ছুরি, তলোয়ার এবং বিভিন্ন গয়না তৈরি করা হতো।
মৃৎশিল্প: কুমোরের চাকা ব্যবহার করে পোড়ামাটির উজ্জ্বল লাল ও কালো রঙের পাত্র তৈরি এবং তাতে বিভিন্ন নকশা করার কাজে তারা দক্ষ ছিল।
মণি-মুক্তো ও অলঙ্কার: সোনা, রুপো এবং মূল্যবান পাথর (যেমন কার্নেলিয়ান) দিয়ে হার, বালা ও কানপাশা তৈরির বিশেষ কারখানা ছিল।
অন্যান্য: এছাড়া পাথর খোদাই করে সিলমোহর তৈরি এবং সুতি ও পশম শিল্পেরও ব্যাপক প্রচলন ছিল।
(iii) হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা কেমন ছিল ?
উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পন—
পরিকল্পিত শহর: হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং প্রাচীন পৃথিবীর প্রথম শ্রেষ্ঠ নগর কেন্দ্রিক সভ্যতা।
শহরের দুটি অংশ: নগরগুলি সাধারণত দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত ছিল—পশ্চিমের উঁচু এলাকাটি ছিল সিটাডেল বা দুর্গ এবং পূর্বের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাটি ছিল সাধারণ মানুষের বসবাসের জন্য নিম্নাঞ্চল
রাস্তাঘাট: শহরের রাস্তাগুলি ছিল সোজা ও চওড়া, যা একে অপরকে সমকোণে (৯০ ডিগ্রি) ছেদ করত।
গৃহ নির্মাণ: ঘরবাড়ি তৈরিতে পোড়া ইটের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। বাড়িগুলি একতলা বা বহুতলবিশিষ্ট ছিল এবং প্রতিটি বাড়িতেই স্নানাগার ও আঙিনা থাকত।
নিকাশি ব্যবস্থা: এই সভ্যতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল উন্নত ও ঢাকা দেওয়া নর্দমা ব্যবস্থা। প্রতিটি বাড়ির নোংরা জল ছোট ড্রেন দিয়ে রাস্তার বড় নর্দমায় গিয়ে মিশত
পাবলিক ভবন: শহরে বিশাল শস্যভাণ্ডার এবং মহেঞ্জোদাড়োতে একটি বিশাল স্নানাগারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
পরিচ্ছন্নতা: রাস্তার ধারের নর্দমাগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করার জন্য ম্যানহোল বা ঢাকনা দেওয়া ছিল, যা তাদের পরিচ্ছন্নতা বোধের পরিচয় দেয়।
সুরক্ষা: বহিরাগত আক্রমণ ও বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য শহরগুলিকে উঁচু মঞ্চের ওপর নির্মাণ এবং শক্ত পাঁচিল দিয়ে ঘিরে রাখা হতো।
📌 আরো দেখোঃ
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here
