FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 6 (VI) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER
Set-1
পাঠ্যসূচী / Syllabus :
2. ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ
3.ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের ধারা
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন-২০২৬
শ্ৰেণি : ষষ্ঠ
বিষয় : ইতিহাস
পূর্ণমান : ৩০ সময় : ১ ঘণ্টা।
1. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : 1×6=6
(i) আদিম মানুষের জীবনে প্রথম জরুরি আবিষ্কার হল–
(ক) ধাতু, (খ) চাকা, (গ) আগুন (ঘ) চাষাবাদ
উত্তরঃ (গ) আগুন।
(ii) হরপ্পা সভ্যতার বাড়িঘরগুলি তৈরি হত –
(ক) পাথর দিয়ে, (খ) পোড়া ইট দিয়ে,
(গ) কাঠ দিয়ে (ঘ) কাঁচা ইট দিয়ে
উত্তরঃ (খ) পোড়া ইট দিয়ে
(iii) ভীমবেটকা গুহা ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত ?
(ক) মধ্যপ্রদেশে (খ) উত্তরপ্রদেশে,
(গ) গুজরাটে (ঘ) উড়িষ্যা
উত্তরঃ (ক) মধ্যপ্রদেশে।
(iv) হোমো ইরেকটাস কথার অর্থ হলো –
(ক) এপ থেকে মানুষ,
(খ) সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারা মানুষ,
(গ) বুদ্ধিমান মানুষ,
(ঘ) দক্ষ মানুষ।
উত্তরঃ (গ) সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারা মানুষ।
(v) হরপ্পা সভ্যতা ছিল – (ক) পাথরের যুগের, (খ) লোহার যুগের, (গ) তাম্র যুগ (ঘ) তামা ও ব্রোঞ্জ যুগের।
উত্তরঃ (ঘ) তামা ও ব্রোঞ্জ যুগের।
(vi) লুসির কঙ্কাল প্রায় কত বছরের পুরনো ছিল– (ক) ১৬ লক্ষ (খ) ২০ লক্ষ (গ) ৩২ লক্ষ (ঘ) ৪০ লক্ষ
উত্তরঃ (গ) ৩২ লক্ষ
2. এক কথায় উত্তর দাও (যেকোনো ৪টি) : 1×4=4
(i) কত খ্রিস্টাব্দে আবিষ্কৃত হয় ?
উত্তরঃ ১৯৭৪ খ্রিঃ মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
(ii) হরপ্পার নগরের উঁচু এলাকাকে কী বলা হত ?
উত্তরঃ সিটাডেল।
(iii) আদিম মানুষ প্রথমে কি খেত ?
উত্তরঃ আদিম মানুষ প্রথমে কাঁচা মাংস ও ফলমূল খেত।
(iv) সবচেয়ে পুরোনো আদিম মানুষের খোঁজ কোথায় পাওয়া গেছে ?
উত্তরঃ পূর্ব আফ্রিকায়।
(v) আদিম মানুষের প্রথম গৃহপালিত পশুর নাম কি ?
উত্তরঃ কুকুর।
3. নীচের যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : 2×2=4
(i) আদিম মানুষ যাযাবর ছিল কেন ?
উত্তরঃ আদিম মানুষ ছিল যাযাবর, তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে দিন কাটাত। আদিম মানুষ নিজেদের খাবার নিজেরা বানাতে পারত না। তারা বনজঙ্গল থেকে খাবার সংগ্রহ করে খেত। শিকার করে ও ফলমূল জোগাড় করে খাবারের চাহিদা মেটাত। আর এই শিকার ও ফলমূলের খোঁজে তাদের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হত।
(ii) আগুন জ্বালাতে শেখার পর আদিম মানুষের কী কী সুবিধা হয়েছিল ?
উত্তরঃ আদিম মানুষ আগুন জ্বেলে প্রচণ্ড শীতের হাত থেকে রক্ষা পেত। সব প্রাণী আগুনকে ভয় পায়। আদিম মানুষ আগুন জ্বালাতে শেখার পর আগুন দিয়ে অন্য জীবজন্তুর আক্রমণের মোকাবিলা করত। কাঁচা মাংস খাওয়ার বদলে আগুন ঝলসানো মাংস খাওয়া শুরু করলো।
(iii) হরপ্পা সভ্যতাকে ‘প্রায়-ঐতিহাসিক যুগের সভ্যতা’ বলা হয় কেন ?
উত্তরঃ প্রায়-ইতিহাস যুগ বলতে সেই সময়কে বোঝায় যে সময়ের মানুষ লিখতে শিখেছে বা লিপির ব্যবহার শিখেছে। হরপ্পা সভ্যতাকে প্রায়-ইতিহাস যুগের সভ্যতা বলা হয়, কারণ হরপ্পা সভ্যতার মানুষ লিখতে জানত। তবে হরপ্পা সভ্যতার লিপি আজও পড়া সম্ভব হয়নি। তবে এই লিপিগুলির সঙ্গে ব্রাক্ষ্মী ও খরোষ্ঠী লিপির মিল আছে। ডান থেকে বামে এগুলি লেখা হত।
(iv) হরপ্পা সভ্যতায় কী ধরনের বাড়িঘর পাওয়া গেছে ?
উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতার নগরে দু-ধরনের বাড়িঘর পাওয়া গেছে- (১) উঁচু এলাকা বা সিটাডেলে শাসকদের বাড়িঘর ও (২) নীচু এলাকায় সাধারণ মানুষের বাড়িঘর। হরপ্পা সভ্যতায় বড়ো, মাঝারি, ছোটো ও বহুতল বাড়ি পাওয়া গেছে। একটি বাড়িতে অনেকগুলি ঘর থাকলেও হেঁসেল থাকত একটি। এর থেকে মনে হয় এখানে যৌথ পরিবার ছিল।
4. নীচের যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : 3×2=6
4.1 আগুন ব্যবহারের ফলে আদিম মানুষের জীবনে কী কী পরিবর্তন এসেছিল ?
অথবা, আগুন জ্বালাতে শেখার ফলে আদিম মানুষের কী কী সুবিধা হয়েছিল ?
উত্তরঃ সূচনা : আগুনের ব্যবহার শেখা মানুষের ইতিহাসে এক জরুরি বিষয় বলা চলে।
∆ আগুনের ব্যবহার শেখার পর আদিম মানুষের পরিবর্তন—
(a) জীবনযাপনগত পরিবর্তন : আগুনের ব্যবহার শেখার পর আদিম মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে যেসব পরিবর্তন এসেছিল, তা হল—
(i) শীতের হাত থেকে রক্ষা : আদিম মানুষকে প্রথমদিকে প্রচন্ড শীতের মধ্যে কষ্ট পেতে হত। পরে আগুনের ব্যবহার শুরু হলে মানুষ আগুন জ্বেলে প্রচন্ড শীতের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে শিখেছিল।
(ii) আত্মরক্ষা : আদিম মানুষ বন্যজন্তুর হঠাৎ আক্রমণে মারা যেত। তারা দেখেছিল আগুনকে বন্যজন্তুরা ভয় পায়। তাই রাত্রে গুহার মুখে তারা আগুন জ্বালিয়ে রাখত। এভাবে বন্যজন্তুর আক্রমণ থেকে তারা নিজেদেরকে রক্ষা করতে শিখেছিল।
(iii) খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন : আগুনের ব্যবহার শুরু হলে আদিম মানুষের খাওয়ার অভ্যাসও বদলে যায়। কাঁচা খাওয়ার বদলে তারা খাবার আগুনে ঝলসে খেতে শুরু করে।
(b) দৈহিক পরিবর্তন : ঝলসানো, নরম মাংস খেতে আদিম মানুষের চোয়াল ও দাঁতের জোর কম লাগত। তাই তাদের চোয়াল সরু হয়ে এল ও সামনের ধারালো, উঁচু দাঁত ছোটো হয়ে গেল।
4.2 টীকা : হরপ্পা সভ্যতার লিপি।
উত্তরঃ হরপ্পার অধিবাসীরা লিখতে পারতেন। প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের মাধ্যমে তাদের লিপি পাওয়া গেছে।
(i) সাংকেতিক : হরপ্পার লিপিগুলি ছিল সাংকেতিক। লিপিগুলিতে সর্বমোট ৩৭৫ থেকে ৪০০-টির মতো চিহ্ন বা সাংকেতিক আছে।
(ii) লিপি লেখার নিয়ম : হরপ্পার লিপিগুলি লেখা হত ডানদিক থেকে বামদিকে।
(iii) মাধ্যম : পাত্র, সিলমোহর, তামার ফলক-সহ নানা জিনিসের ওপরেই হরপ্পার লিপির নমুনা মিলেছে।
4.3 টীকা লেখো : হরপ্পা সভ্যতার সিলমোহর।
উত্তরঃ হরপ্পা সভ্যতায় প্রত্নতাত্ত্বিকরা অনেক সিলমোহর পেয়েছেন। সিলমোহরগুলিতে নানা লিপি ও প্রতীকচিহ্ন খোদাই করা হতো। বেশিরভাগ হরপ্পীয় সিলমোহর একধরনের নরম পাথর কেটে তৈরি। বেশিরভাগ সিলমোহরে একটা উলটো নকশা খোদাই করা হতো। নকশাটি সাধারণত কোনো না কোনো জীবজন্তুর। তার সঙ্গে একসারি লিপি খোদাই করা থাকত। ভিজে কাদামাটিতে ঐ সিলমোহরটার ছাপ দিলে তা সোজা হয়ে পড়ত। সিলগুলো বানাবার পরে সেগুলোতে একরকমের সাদা জিনিস মাখানো হতো। তারপরে সেগুলো পোড়ানো হতো। ফলে খুবই শক্ত হয়ে যেত সিলগুলি। বেশিরভাগ সিলমোহরে একশিংওলা একটি কল্পিত প্রাণীর ছাপ দেখা যায়। তাছাড়া অন্যান্য ছাপও সিলমোহরে আছে। শিংওলা মানুষ, ষাঁড়, গাছ ও জ্যামিতিক নকশা খোদাই করা সিলমোহর পাওয়া গেছে। সিলমোহরগুলি থেকে হরপ্পার অর্থনীতি ও ধর্মবিশ্বাস বিষয়ে অনেক কিছু জানা যায়।
4.4 আদিম মানুষ কেন জোট বেঁধেছিল ? এই জোট বাঁধার ফলে তাদের কী লাভ হয়েছিল ?
উত্তরঃ জোট বাঁধার কারণ : আদিম মানুষ প্রথমে একা থাকায় তার নিরাপত্তা ও খাদ্যের অভাব ছিল। তাই নিজের নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং খাদ্যের অভাব মেটানোর জন্য তারা জোটবদ্ধ হয়েছিল।
জোট বাঁধার ফল : জোটবদ্ধ হওয়ায় আদিম মানুষ সহজেই বন্যজন্তুর আক্রমণ রোধ করতে শিখেছিল। তা ছাড়া দলবদ্ধভাবে শিকার করা সহজ বলে খাদ্যের অভাব কমে এসেছিল। অনেকে মানুষের এই জোট বেঁধে থাকাকে আদিম সমাজ বলে মনে করেছেন।
4.5 টাকা লেখো : ভীমবেটকা গুহাচিত্র
উত্তরঃ অবস্থান : মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে কিছুটা দূরে বিন্ধ্য পর্বতের গা ঘেঁষে নির্জন জঙ্গলে ভীমবেটকা অবস্থিত।
∆ ভীমবেটকা গুহাচিত্র—
গুহার খোঁজ : ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে এখানে বেশ কিছু গুহার খোঁজ মেলে।
গুহার বৈশিষ্ট্য : (i) ভীমবেটকার গুহাগুলিতে পুরোনো পাথরের যুগ থেকে আদিম মানুষেরা বসবাস করত। (ii) গুহার দেয়ালে আদিম মানুষের আঁকা ছবি পাওয়া গেছে। ছবিগুলির প্রায় সবই শিকারের দৃশ্য। (iii) পাশাপাশি দেয়ালগুলিতে নানারকম বন্যপশুর ছবি, পাখি, মাছ, কাঠবিড়ালীর মতো প্রাণীর ছবিও দেখা যায়। (iv) এ ছাড়াও হাতে পায়ে গয়না এবং মুখোশ পরা মানুষ একা বা দলবেঁধে শিকারের ছবিও দেখা যায়। (v) অনেকক্ষেত্রে, মানুষের সঙ্গে কুকুরের ছবিও দেখা যায়। (vi) ভীমবেটকা গুহার দেয়ালে আঁকা ছবিগুলিতে সবুজ, হলুদ, সাদা ও লাল রং-এর ব্যবহার দেখা যায়।
5. যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : 5×2=10
5.1 হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তরঃ সূচনা : হরপ্পা, মহেন-জো-দারো, লোথাল, কালিবঙ্গান প্রভৃতি স্থানে পরিকল্পিত আধুনিক নগরের ধবংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
∆ হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা—
(i) নগর এলাকা : হরপ্পার নগরগুলিতে বসতি অঞ্চল দুভাগে বিভক্ত ছিল। শহরের উঁচু এলাকা বা সিটাডেল অবস্থিত ছিল নগরের উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিকে। নীচু বসতি এলাকাটি অবস্থিত ছিল পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব অংশে।
(ii) ঘরবাড়ি : হরপ্পা সভ্যতায় ঘরবাড়িগুলি ছিল পোড়া ইটের তৈরি। হরপ্পা সভ্যতায় যেমন দোতলা-তিনতলা বড়ো বাড়ি ছিল, তেমনই মাঝারি ও খুব ছোটো বাড়িও ছিল। বসত বাড়িগুলিতে বেশকিছু ঘর থাকলেও সেগুলিতে রান্নাঘর থাকত একটি করে যা থেকে অনুমান করা হয় যে সেই সময়ে যৌথ পরিবারের অস্তিত্ব ছিল।
(iii) রাস্তাঘাট : মহেন-জো-দারো ও হরপ্পার চওড়া, পাকা রাস্তাগুলি সাধারণত উত্তর-দক্ষিণ দিকে প্রসারিত ছিল। তুলনায় কম চওড়া রাস্তা ও সরু গলিগুলি ছিল পূর্ব-পশ্চিমে প্রসারিত। রাস্তাগুলির দুধারে বাঁধানো ফুটপাথও ছিল।
(iv) পয়ঃপ্রণালী : মহেন-জো-দারোর নীচু এলাকায় প্রায় ২০০০ বাড়ির জন্য অন্তত ২৭টি কুয়ো ছিল। তবে হরপ্পায় এত সংখ্যক কুয়ো না থাকলেও প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার ছিল। ঢাকা নর্দমার সাহায্যে সুপরিকল্পিত জলনিকাশি ব্যবস্থা ছিল হরপ্পায়। প্রতিটি বাড়ি থেকে ছোটো নালার জল গিয়ে মিশত বড়ো নর্দমাগুলিতে।
একটি আধুনিক নগরের যা যা বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত তার প্রায় সবই হরপ্পা সভ্যতায় বর্তমান ছিল।
5.2 হরপ্পা সভ্যতার ব্যাবসাবাণিজ্য কেমন ছিল ?
উত্তরঃ নগরকেন্দ্রিক সভ্যতার ভিত্তি কৃষি হলেও সিন্ধু উপত্যকার মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভূত উন্নতি করেছিল জল ও স্থলপথে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে হরপ্পবাসী সিদ্ধ অস্ত্র ছিল।
যোগোযোগ ব্যবস্থা : হরপ্পা সভ্যতায় যোগাযোগ ব্যবস্থার বিভিন্ন উপায় ছিল। স্থলপথ ও জলপথে রোজকার ব্যাবসাবাণিজ্য চলত।
স্থলপথ : স্থলপথে বলদ, গাধা ও উটের ব্যবহার হত। সম্ভবত গাধা ও উট ভারতীয় মহাদেশের বাইরে থেকে আনা হত। বলদে টানা দু-চাকার গাড়ির ব্যবহার হত। আবার অনেক চাকা লাগানো গাড়িও ছিল।
জলপথ : জলপথে নৌকার সাহায্যে যাতায়াত করা হত। নদীর স্রোত ও হাওয়ার সাহায্যে নৌকা চালানো হত। জলপথে যাতায়াত অনেক সস্তা ছিল। হরপ্পা সভ্যতায় পালতোলা নৌকার ব্যবহার হত। হরপ্পা সভ্যতার বাণিজ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থা অনেকটাই জলপথের উপর নির্ভর করত।
আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্য : হরপ্পা সভ্যতায় বিদেশ থেকে আমদানি করা হত- সোনা, রূপো, তামা, দামি পাথর, হাতির দাঁতের জিনিসপত্র প্রভৃতি।
হরপ্পা সভ্যতা থেকে রপ্তানি করা হত- বার্লি, ময়দা, তেল, প্রথম যত দ্রব্য প্রভৃতি।
মেসোপটেমিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য : হরপ্পা সভ্যতার সঙ্গে মেসোপটেমিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। হরপ্পার অনেক বণিক মেসোপটেমিয়াতে বসতিও গড়ে তুলেছিল। হরপ্পা সভ্যতার সঙ্গে জলপথে মেসোপটেমিয়ার বাণিজ্য চলত। হরপ্পা সভ্যতার আমলে পারস্য উপসাগরীয় এলাকা সমুদ্র-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
5.3 ভারতীয় উপমহাদেশে পুরোনো পাথরের যুগের মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে কী জানা যায় ?
উত্তরঃ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাচীন প্রস্তর যুগের বা পুরোনো পাথরের (Paleolithic Age) যুগের মানুষ ছড়িয়ে পড়েছিল। তার প্রমাণ পাওয়া গেছে কাশ্মীরের সোয়ান উপত্যকা, পাকিস্তানের পটোয়ার মালভূমি, হিমাচল প্রদেশের শিবালিক পর্বত অঞ্চল, কর্ণাটকের হুন্সগি উপত্যকা, রাজস্থানের দিদওয়ানা, মহারাষ্ট্রের নেভাসা, মধ্যপ্রদেশের নর্মদা উপত্যকা প্রভৃতি অঞ্চলে।
হাতিয়ারের ব্যবহার : পুরোনো পাথরের যুগের মানুষের হাতিয়ারগুলির বেশির ভাগই ছিল হাতকুঠার ও চপার জাতীয় হাতিয়ার। বেশিরভাগ হাতিয়ার ভারী নুড়ি পাথর দিয়ে তৈরি করা হত। পরবর্তীকালে পাথরের হাতিয়ার তৈরির পদ্ধতির বদল হয়। হাতিয়ারগুলি ছোটো, হালকা ও ধারালো হয়। ফলে এই সময় ভারী নুড়ি পাথরের হাতিয়ারের ব্যবহার কমতে থাকে। পুরোনো পাথরের যুগের মাঝের পর্বে প্রধান হাতিয়ার ছিল ছুরি। এই ছুরি জাতীয় হাতিয়ারের ব্যবহার পুরোনো পাথরের যুগের শেষপর্যন্ত চলেছিল।
খাবার জোগাড় করা : পুরোনো পাথরের যুগের মানুষ নিজেরা নিজেদের খাবার জোগাড় করতে পারত না। তারা বনের পশুশিকার করে ও ফলমূল জোগাড় করে খেত। তারা দল বেধে পশুশিকার করত ও সবাই মিলেমিশে খাবার ভাগ করে খেত।
বাসস্থান : পুরোনো পাথরের যুগের মানুষ কোনো এক জায়গায় পাকাপাকি বসতি গড়ে তোলেনি। কোনো কোনো সময়ে তারা প্রাকৃতিক গুহাতে থাকত। আবার তা না পেলে খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাত।
📌 আরো দেখোঃ
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here
