ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-১ | Class 6 Geography First Unit Test Question with Answer Set-1 wbbse

FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 6 (VI) WBBSE
GEOGRAPHY QUESTION PAPER

Set-1

ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-১ | Class 6 Geography First Unit Test Question with Answer Set-1

পাঠ্যসূচী / Syllabus

১. আকাশ ভরা সূর্য তারা (১)
২. পৃথিবী কি গোল (১৫)
৩. তুমি কোথায় আছো (১৯)
৪. পৃথিবীর আবর্তন (২৪)
১০.ভারতের সাধারণ পরিচয় (৬৫)
১০. ভারতের ভূপ্রকৃতি ও নদনদী (৬৯)

প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন-২০২৫
শ্ৰেণি : ষষ্ঠ
বিষয় : ভূগোল
পূর্ণমান : ৩০                             সময় : ১ ঘণ্টা।

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১×৬=৬

(i) সপ্তর্ষিমণ্ডল গঠিত হয়েছে কয়টি তারা দিয়ে ? (a) ছয়টি (b) সাতটি (c) আটটি (d) নয়টি

উত্তরঃ (b) সাতটি

(ii) কোন গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সবচেয়ে বেশি ? (a) পৃথিবী (b) শনি (c) বৃহস্পতি (d) নেপচুন

উত্তরঃ (c) বৃহস্পতি

(iii) পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস মেরু ব্যাস অপেক্ষা কত কিমি বেশি ? (a) ৪০ কিমি (b) ৪২ কিমি (c) ৪৬ কিমি (d) ৭০ কিমি

উত্তরঃ (b) ৪২ কিমি

(iv) সূর্যাস্তের ঠিক পরের সময়কে কী বলে ? (a) ঊষা (b) সন্ধ্যা (c) গোধূলি (d) সকাল

উত্তরঃ (c) গোধূলি

(v) ব্রহ্মপুত্রের উপনদী কোনটি ? (a) তিস্তা
(b) যমুনা (c) কোশী (d) গন্ডক

উত্তরঃ (a) তিস্তা

(vi) আয়তনে ভারত পৃথিবীর কততম দেশ ? (a) চতুর্থ (b) পঞ্চম (c) ষষ্ঠ (d) সপ্তম

উত্তরঃ (d) সপ্তম

২। নির্দেশ অনুসারে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : (যে-কোনো ৪টি) : ১×৪=৪

(i) ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ কোনটি ?

উত্তরঃ সিয়াচেন হিমবাহ

(ii) সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে ?

উত্তরঃ প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড

(iii) টাইটান কোন গ্রহের উপগ্রহ ?

উত্তরঃ শনিগ্রহের উপগ্রহ

(iv) গঙ্গা নদীর উৎস কোথায় ?

উত্তরঃ গঙ্গোত্রী হিমবাহ (গোমুখ), উত্তরাখণ্ড

(v) সূর্যের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রের নাম কী ?

উত্তরঃ প্রক্সিমা সেন্টাউরি।

(vi) পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী ?

উত্তরঃ মাউন্ট এভারেস্ট।

৩। সংক্ষেপে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও (যে-কোনো দুটি) : ২×২=৪

(i) সৌরঝড় কাকে বলে ?

উত্তরঃ সূর্যের বাইরের স্তরে ছোটোখাটো বিস্ফোরণ হলে প্রচুর পরিমাণে তড়িৎচুম্বকীয় কণা, গ্যাস ও রশ্মি মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। একেই সৌরঝড় বলে। এর ফলে পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ এবং বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় গোলযোগ দেখা দেয়।

(ii) গ্রহের দুটি বৈশিষ্ট্য লিখো।

১. গ্রহের নিজস্ব কোনো আলো বা উত্তাপ নেই, এরা নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয়।

২. গ্রহরা নির্দিষ্ট কক্ষপথে নক্ষত্রকে (যেমন সূর্যকে) কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে।

(iii) দুন কী ?

উত্তরঃ হিমালয়ের শিবালিক ও হিমাচল পর্বতের মাঝের সংকীর্ণ উপত্যকাগুলিকে দুন বলা হয়। যেমন— দেরাদুন।

৪। ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও (যে-কোনো দুটি) : ৩×২=৬

(i) অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লিখো।

উত্তরঃ

অক্ষরেখা দ্রাঘিমারেখা
এগুলি পূর্ণবৃত্ত। এগুলি অর্ধবৃত্ত।
পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত এবং পরস্পর সমান্তরাল। উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত এবং সমান্তরাল নয়।
সর্বোচ্চ মান ৯০° (উত্তর বা দক্ষিণ)। সর্বোচ্চ মান ১৮০° (পূর্ব বা পশ্চিম)

(ii) আকাশে তারা মিটমিট করে জ্বলে কেন ?

উত্তরঃ নক্ষত্র বা তারাগুলি পৃথিবী থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। তাদের আলো যখন পৃথিবীর ঘন বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আমাদের চোখে আসে, তখন বায়ুর বিভিন্ন স্তরের ঘনত্ব ও তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে আলোর প্রতিসরণ ঘটে। এর ফলে আলোর গতিপথ বারবার সামান্য পরিবর্তিত হয়, তাই আমাদের মনে হয় তারাগুলো মিটমিট করছে।

(iii) ভারতকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয় কেন ?

উত্তরঃ ভারতবর্ষের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায় জালের মতো অসংখ্য নদী ভারতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, গোদাবরী, নর্মদার মতো বড় নদী ছাড়াও ভারতে বহু ছোট নদী আছে। ভারতের জনজীবন, কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতি এই নদীগুলোর ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। নদীকে কেন্দ্র করেই ভারতের অধিকাংশ সভ্যতা ও শহর গড়ে উঠেছে, তাই ভারতকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়।

(iv) উপত্যকা ও গিরিপথ কাকে বলে ?

উত্তরঃ উপত্যকা: দুটি পাহাড় বা পর্বতের মাঝখানের নিচু সমতল বা ঢালু অংশকে উপত্যকা বলে।

গিরিপথ: দুটি পর্বতের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ প্রাকৃতিক পথ বা ফাটল, যা দিয়ে পাহাড় পারাপার করা যায়, তাকে গিরিপথ বলে।

৫। বিশদ প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : (যে-কোনো দুটি) : ৫×২=১০

(i) গঙ্গা নদীর গতিপথ বর্ণনা করো।

(ii) চিত্রসহ পৃথিবীর প্রধান প্রধান অক্ষরেখাগুলি দেখাও এবং পৃথিবীর কক্ষপথ কাকে বলে তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ পৃথিবীর ওপর পূর্ব-পশ্চিমে কল্পিত রেখাগুলিকে অক্ষরেখা বলে। এর মধ্যে পাঁচটি রেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—

(বিশেষ বিশেষ অক্ষরেখার ছবি আঁকতে হবে, ভূগোল বই পৃষ্ঠা-২০)

(১) নিরক্ষরেখা (০°) : এটি পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে বিস্তৃত প্রধান অক্ষরেখা, যা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুটি সমান গোলার্ধে ভাগ করে।

(২) কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩½° উত্তর) : উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা।

(৩) মকরক্রান্তি রেখা (২৩½° দক্ষিণ) : দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা।

(৪) সুমেরুবৃত্ত (৬৬½° উত্তর) : উত্তর মেরুর নিকটবর্তী অক্ষরেখা।

(৫) কুমেরুবৃত্ত (৬৬½° দক্ষিণ): দক্ষিণ মেরুর নিকটবর্তী অক্ষরেখা।

∆ পৃথিবীর কক্ষপথ—

সংজ্ঞা: মহাকাশে যে নির্দিষ্ট পথে পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর ঘুরতে ঘুরতে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, তাকে পৃথিবীর কক্ষপথ (Earth’s Orbit) বলা হয়।

∆ বৈশিষ্ট্য—

আকৃতি: পৃথিবীর কক্ষপথটি পুরোপুরি বৃত্তাকার নয়, এটি কিছুটা ডিম্বাকৃতি বা উপবৃত্তাকার।

পরিধি: এই কক্ষপথের দৈর্ঘ্য বা পরিধি প্রায় ৯৬ কোটি কিলোমিটার। পৃথিবী প্রতি বছর (৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে) একবার এই পথটি সম্পূর্ণ ঘোরে।

(iii) ভারতের উত্তরের নদী গঠিত সমভূমি অঞ্চলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তরঃ অবস্থান ও বিস্তার: ভারতের উত্তরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল এবং দক্ষিণের উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের মধ্যবর্তী অংশে এই বিশাল সমভূমি অবস্থিত। ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসাম—এই রাজ্যগুলির ওপর দিয়ে এই সমভূমি বিস্তৃত। এর গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার।

উৎপত্তি: এই সমভূমি অঞ্চলটি মূলত সিন্ধু, গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র—এই তিনটি প্রধান নদী এবং তাদের অসংখ্য উপনদীর দ্বারা গঠিত। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই নদীগুলি হিমালয় পর্বত থেকে প্রচুর পরিমাণে পলি, বালি, নুড়ি ও কাঁকর বয়ে এনে সঞ্চয় করার ফলে এই বিশাল উর্বর সমভূমিটি সৃষ্টি হয়েছে।

∆ বৈশিষ্ট্য ও জনজীবন—

উর্বর মৃত্তিকা: নদী গঠিত হওয়ায় এই অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত উর্বর (পলিমাটি)। এই কারণে এখানে ধান, গম, আখ ও পাটের মতো ফসলের চাষবাস খুব ভালো হয়।
ভূপ্রকৃতি: এই অঞ্চলটি সমতল হওয়ায় এখানে যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা (রাস্তাঘাট ও রেলপথ) গড়ে তোলা খুব সহজ।

জনবসতি: অনুকূল জলবায়ু, উন্নত কৃষিকাজ এবং সহজ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে এই অঞ্চলটি ভারতের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল। ভারতের বড় বড় শহর ও শিল্পকেন্দ্রগুলি এই সমভূমি অঞ্চলেই অবস্থিত।

নদীবহুল অঞ্চল: গঙ্গা ও যমুনার মতো বারোমাস জল থাকা নদীগুলি এই অঞ্চলের কৃষিকাজে ও জলসেচে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

(iv) ভারতে মরু অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিবরণ দাও।

উত্তরঃ অবস্থান ও পরিচিতি: ভারতের রাজস্থান রাজ্যের একেবারে পশ্চিম দিক বরাবর এই অঞ্চলটি অবস্থিত। এটি ভারতের বৃহত্তম মরুভূমি, যা ‘থর মরুভূমি’ নামে পরিচিত। বছরের পর বছর অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাতের কারণে এই অঞ্চলটি রুক্ষ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

∆ ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ—

বিস্তির্ণ বালুকা রাশি: এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মাইলের পর মাইল বিস্তৃত বালি এবং পাথর। বায়ুর কার্যের ফলে এখানে ছোট ছোট বালির পাহাড় বা ‘বালিয়াড়ি’ দেখা যায়।

স্বল্প উদ্ভিদ: জলের অভাবে এখানে বড় গাছপালা নেই বললেই চলে। মূলত কাঁটাঝোপ, ক্যাকটাস এবং বাবলা জাতীয় গাছ এখানে জন্মে।

নদনদী: এখানকার নদীগুলো মূলত বৃষ্টির জলে পুষ্ট এবং ক্ষণস্থায়ী বা অনিত্যবহ। মরু অঞ্চলের প্রধান নদী হলো লুনী। এই নদীগুলোতে জল খুব কম থাকায় এবং বাষ্পীভবন বেশি হওয়ায় এগুলো কোনো সমুদ্রে পৌঁছাতে পারে না, বরং মরুভূমির মাঝেই হারিয়ে যায়।

শুষ্ক জলবায়ু ও চাষবাস: সারাবছর বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে, যার ফলে মাটি বালুকাময় ও চাষবাসের অনুপযোগী। কেবল মরুউদ্যানকে (Oasis) কেন্দ্র করে সামান্য চাষবাস হয়।

জনজীবন: অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়া, জলের অভাব এবং অনুর্বর মাটির কারণে এখানে মানুষের বসবাস খুবই কম। এখানকার মানুষ সাধারণত যাযাবর প্রকৃতির হয় এবং পশুপালনই তাদের প্রধান জীবিকা।

📌 আরো দেখোঃ

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply