2ND SEMESTER EXAMINATION
CLASS 11 (XI) WBCHSE
EDUCATION QUESTION PAPER
Set-4
Class 11 Education 2nd Semester Question Paper Set-4 wbchse | একাদশ শ্রেণি এডুকেশন দ্বিতীয় সেমিস্টার প্রশ্নপত্র সেট-৪
📌 একাদশ শ্রেণি প্রশ্নপত্র সেমি-২ Click Here
MODEL QUESTION PAPER
2nd Semester Examination-2025
Class-XI
Subject – EDUCATION
F.M. 40 Time : 2 hours
1. নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 2×5=10
(a) ধারণার যে-কোনো দুটি বৈশিষ্ট উল্লেখ করো।
অথবা, সংবেদন ও প্রত্যক্ষণের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য লেখো।
(b) বাল্যকালের যে-কোনো দুটি সামাজিক চাহিদা লেখো।
অথবা, মনোবিশ্লেষণ বলতে কী বোঝ ?
(c) প্রাথমিক শিক্ষার দুটি প্রয়োজনীয়তা লেখো।
অথবা, কৈশোরকালকে ঝড়ঝঞ্ঝারকাল বলা হয় কেন ?
(d) নারীশিক্ষার বিকাশে বেগম রোকেয়ার যে-কোনো দুটি কাজ উল্লেখ করো।
(e) চার্টার অ্যাক্ট বা সনদ আইন 1913-এর প্রধান গুরুত্ব কী ছিল ?
অথবা, জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল ?
2. নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 5×2=10
(a) মনোবিজ্ঞান কীভাবে শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে, তা ব্যাখ্যা করো।
অথবা, মনোবিশ্লেষণ কাকে বলে ? মনোবিশ্লেষণের শিক্ষাগত প্রভাব লেখো। 2+3
(b) প্রাথমিক শিক্ষা ও স্ত্রী শিক্ষা প্রসারে বিদ্যাসাগরের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।
অথবা, ভারতে শিক্ষার বিকাশে ও সমাজ সংস্কারে সাবিত্রীবাঈ ফুলের অবদান সংক্ষেপে লেখো।
3. নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : 10×2=20
(a) বৃদ্ধি ও বিকাশ কাকে বলে ? এই দুটি প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। বৃদ্ধি ও বিকাশ প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করো।
2+3+5
অথবা, কৈশোর বলতে কী বোঝ ? কৈশোরের দৈহিক ও মানসিক বিকাশগত বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। কৈশোর কালের চাহিদা পূরণের পিতা-মাতার ভূমিকা আলোচনা করো। 1+5+4
(b) প্রাচীনকালের বৈদিক শিক্ষার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। বৈদিক শিক্ষার সাথে বৌদ্ধ শিক্ষার পার্থক্য নিরূপণ করো। 6+4
অথবা, মধ্যযুগের ইসলামীয় শিক্ষাব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। মুসলিম যুগের শিক্ষার সুবিধা ও অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো। 6+2+2
উত্তর (ANSWERS)
1. নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 2×5=10
(a) ধারণার যে-কোনো দুটি বৈশিষ্ট উল্লেখ করো।
উত্তরঃ বিমূর্ততা: ধারণা হলো বস্তুর অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে একটি মানসিক চিত্র বা সাধারণ জ্ঞান।
পূর্ব অভিজ্ঞতানির্ভর: কোনো বিষয় সম্পর্কে ধারণা তৈরি হতে গেলে সেই বিষয়ে আগে থেকে সংবেদন বা প্রত্যক্ষণের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন।
অথবা, সংবেদন ও প্রত্যক্ষণের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তরঃ সংবেদন হলো কোনো উদ্দীপকের প্রাথমিক জ্ঞান (যেমন— শব্দ শোনা), আর প্রত্যক্ষণ হলো সেই সংবেদনের অর্থবহ ব্যাখ্যা (যেমন— এটি পাখির ডাক)।
সংবেদন একটি সরল প্রক্রিয়া, কিন্তু প্রত্যক্ষণ একটি জটিল মানসিক প্রক্রিয়া যেখানে স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা কাজ করে।
(b) বাল্যকালের যে-কোনো দুটি সামাজিক চাহিদা লেখো।
উত্তরঃ দলবদ্ধ হওয়ার চাহিদা: এই বয়সে শিশুরা সমবয়সীদের সাথে দল বেঁধে খেলাধুলা ও সময় কাটাতে চায়।
যৌথ কাজের চাহিদা: বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে কোনো কাজ করা বা কোনো প্রজেক্টে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়।
অথবা, মনোবিশ্লেষণ বলতে কী বোঝ ?
উত্তরঃ সিগমুন্ড ফ্রয়েড প্রবর্তিত মনোবিদ্যার যে শাখায় মানুষের অবচেতন মনের ইচ্ছা, আবেগ এবং আচরণের গভীর বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে মনোবিশ্লেষণ বলে।
(c) প্রাথমিক শিক্ষার দুটি প্রয়োজনীয়তা লেখো।
উত্তরঃ সাক্ষরতা প্রসার: শিশুর মধ্যে পঠন, লিখন ও গণিতের প্রাথমিক দক্ষতা তৈরি করা।
সামাজিকীকরণ: শিশুকে সমাজের নিয়মকানুন, শৃঙ্খলা এবং অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার পাঠ দেওয়া।
অথবা, কৈশোরকালকে ঝড়ঝঞ্ঝারকাল বলা হয় কেন ?
উত্তরঃ মনোবিজ্ঞানী স্ট্যানলি হলের মতে, কৈশোরে দ্রুত শারীরিক পরিবর্তন এবং তীব্র মানসিক আবেগ ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এই সময়ে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায় বলে একে ‘ঝড়ঝঞ্ঝার কাল’ বলা হয়।
(d) নারীশিক্ষার বিকাশে বেগম রোকেয়ার যে-কোনো দুটি কাজ উল্লেখ করো।
উত্তরঃ ১৯০৯ সালে ভাগলপুরে (পরে কলকাতায় স্থানান্তরিত) সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
মুসলিম নারীদের অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরাতে ঘরে ঘরে গিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করেন এবং ‘আঞ্জুমান-এ-খাওয়াতিন-এ-ইসলাম’ নামক সংগঠন গড়ে তোলেন।
(e) চার্টার অ্যাক্ট বা সনদ আইন 1913-এর প্রধান গুরুত্ব কী ছিল ?
উত্তরঃ এই আইনের মাধ্যমে ভারতে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রতি বছর ১ লক্ষ টাকা ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা ভারতে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে সরকারি উদ্যোগের সূচনা করে।
অথবা, জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল ?
উত্তরঃ ব্রিটিশ প্রবর্তিত কেরানি তৈরির শিক্ষার বদলে স্বদেশি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ, জাতীয় সংস্কৃতি নির্ভর এবং বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষাযুক্ত একটি স্বদেশি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই ছিল এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
2. নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 5×2=10
(a) মনোবিজ্ঞান কীভাবে শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে, তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ আধুনিক শিক্ষা হলো ‘শিশুশৈলী’ বা শিশুকেন্দ্রিক। শিক্ষার লক্ষ্য, পদ্ধতি এবং পরিবেশ নির্ধারণে মনোবিজ্ঞানের প্রভাব অপরিসীম—
১. শিক্ষার্থী কেন্দ্রিকতা: মনোবিজ্ঞান শিখিয়েছে যে প্রতিটি শিশু আলাদা। তার বুদ্ধি, রুচি ও সামর্থ্য অনুযায়ী পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।
২. শিক্ষণ পদ্ধতি: মুখস্থ বিদ্যার বদলে মনোবিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি যেমন— ‘প্রচেষ্টা ও ভুল’, ‘সক্রিয়তা ভিত্তিক শিখন’ বা ‘খেলার মাধ্যমে শিক্ষা’ (Play-way method) প্রবর্তিত হয়েছে।
৩. পাঠ্যক্রম নির্ধারণ: শিক্ষার্থীর বয়স ও মানসিক পরিণমন অনুযায়ী পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়, যাতে তা শিক্ষার্থীর ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়।
৪. শৃঙ্খলা রক্ষা: আধুনিক শিক্ষায় কঠোর শারীরিক শাস্তির বদলে ‘মুক্ত শৃঙ্খলা’র কথা বলা হয়েছে। মনোবিজ্ঞান শিক্ষার্থীর আচরণের কারণ বিশ্লেষণ করে তাকে সংশোধন করতে সাহায্য করে।
৫. সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলি: শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য কেবল বই পড়া নয়, খেলাধুলা, গান, ছবি আঁকা ও সৃজনশীল কাজের গুরুত্ব মনোবিজ্ঞানই প্রতিষ্ঠা করেছে।
অথবা, মনোবিশ্লেষণ কাকে বলে ? মনোবিশ্লেষণের শিক্ষাগত প্রভাব লেখো। 2+3
উত্তরঃ মনোবিশ্লেষণ : বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড প্রবর্তিত মনের গভীর স্তরের বিশেষ বিশ্লেষণ পদ্ধতিকে মনোবিশ্লেষণ বলে। এটি মূলত মানুষের অবচেতন মনের অবদমিত ইচ্ছা, আবেগ এবং আচরণের কারণ অনুসন্ধান করার একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া।
শিক্ষাগত প্রভাব—
১. অবচেতন মনের গুরুত্ব: মনোবিশ্লেষণ শিক্ষকদের বুঝতে সাহায্য করে যে শিক্ষার্থীর অনেক অস্বাভাবিক আচরণের মূলে রয়েছে তার অবচেতন মনের অতৃপ্ত ইচ্ছা বা ভয়।
২. শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক: শিক্ষার্থীর প্রতি সহানুভূতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করলে তার মনের জটিলতা দূর হয়, যা শিখনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৩. যৌন শিক্ষা ও প্রক্ষোভ: বয়ঃসন্ধিকালে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলো সহজভাবে গ্রহণ করতে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে মনোবিশ্লেষণ সাহায্য করে।
৪. সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ: অবদমিত ইচ্ছাকে সৃজনশীল কাজে (যেমন— শিল্পকলা বা খেলাধুলা) রূপান্তর করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
(b) প্রাথমিক শিক্ষা ও স্ত্রী শিক্ষা প্রসারে বিদ্যাসাগরের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।
অথবা, ভারতে শিক্ষার বিকাশে ও সমাজ সংস্কারে সাবিত্রীবাঈ ফুলের অবদান সংক্ষেপে লেখো।
3. নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : 10×2=20
(a) বৃদ্ধি ও বিকাশ কাকে বলে ? এই দুটি প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। বৃদ্ধি ও বিকাশ প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করো। 2+3+5
উত্তরঃ বৃদ্ধি (Growth): প্রাণীর দেহের আকার, আয়তন, উচ্চতা এবং ওজনের স্থায়ী ও পরিমাণগত পরিবর্তনকে বৃদ্ধি বলে। যেমন— শিশুর উচ্চতা বেড়ে যাওয়া।
বিকাশ (Development): বৃদ্ধি ও অভিজ্ঞতার ফলে শিক্ষার্থীর মধ্যে যে গুণগত ও কর্মক্ষমতাগত পরিবর্তন ঘটে, তাকে বিকাশ বলে। যেমন— শিশুর হাঁটা শেখা বা বুদ্ধির বিকাশ।
বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য—
১. পরিমাপযোগ্য: বৃদ্ধিকে ইঞ্চি, সেমি বা কেজি এককে নির্দিষ্টভাবে মাপা যায়।
২. সীমাবদ্ধতা: বৃদ্ধি সারা জীবন চলে না, সাধারণত ২৫ বছর বা পরিণমন পর্যন্ত চলে।
৩. শারীরিক: এটি মূলত শরীরের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
বিকাশের বৈশিষ্ট্য—
১. ধারাবাহিকতা: বিকাশ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি নিরবিচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
২. গুণগত পরিবর্তন: এটি কেবল আকার বাড়া নয়, বরং কাজের দক্ষতা ও আচরণের উন্নতি ঘটায়।
৩. সামগ্রিকতা: শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও প্রাক্ষোভিক—এই সবকটি দিকের সমন্বয় হলো বিকাশ।
বৃদ্ধি ও বিকাশ একে অপরের পরিপূরক হলেও এদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক ও কিছু পার্থক্য বিদ্যমান—
১. অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত: বৃদ্ধি হলো বিকাশের একটি অংশ। সাধারণত বৃদ্ধি হলে বিকাশ ঘটে, তবে বৃদ্ধি ছাড়াও বিকাশ হতে পারে (যেমন— উচ্চতা না বাড়লেও বুদ্ধির বিকাশ ঘটতে পারে)।
২. পরিমাণগত বনাম গুণগত: বৃদ্ধি হলো শরীরের ‘কতটা’ বাড়ল তার হিসাব (পরিমাণ), আর বিকাশ হলো শরীর ‘কেমন’ কাজ করছে তার পরিচয় (গুণ)।
৩. নির্ভরশীলতা: বিকাশ অনেকটা বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে। যেমন— হাতের পেশির বৃদ্ধি (বৃদ্ধি) না হলে শিশু পেন্সিল ধরতে (বিকাশ) শেখে না।
৪. সমাপ্তি ও স্থায়িত্ব: বৃদ্ধি একটি নির্দিষ্ট বয়সে থেমে যায়, কিন্তু বিকাশ আমৃত্যু চলতে থাকে। অর্থাৎ বৃদ্ধি হলো একটি নির্দিষ্ট সোপান, আর বিকাশ হলো একটি দীর্ঘ পথ।
৫. প্রক্রিয়া ও ফল: বৃদ্ধি হলো একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, আর বিকাশ হলো সেই প্রক্রিয়ার সামগ্রিক ফল বা পরিণতি।
অথবা, কৈশোর বলতে কী বোঝ ? কৈশোরের দৈহিক ও মানসিক বিকাশগত বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। কৈশোর কালের চাহিদা পূরণের পিতা-মাতার ভূমিকা আলোচনা করো। 1+5+4
(b) প্রাচীনকালের বৈদিক শিক্ষার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। বৈদিক শিক্ষার সাথে বৌদ্ধ শিক্ষার পার্থক্য নিরূপণ করো। 6+4
অথবা, মধ্যযুগের ইসলামীয় শিক্ষাব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। মুসলিম যুগের শিক্ষার সুবিধা ও অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো। 6+2+2
উত্তরঃ মধ্যযুগের ইসলামীয় শিক্ষাব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য—
১. ধর্মকেন্দ্রিকতা: এই শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি ছিল ইসলাম ধর্ম। কুরআন শরিফ পাঠ এবং ইসলামি রীতিনীতি শেখানো ছিল শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য।
২. মক্তব ও মাদ্রাসা: প্রাথমিক শিক্ষার কেন্দ্রকে বলা হতো ‘মক্তব’ এবং উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রকে বলা হতো ‘মাদ্রাসা’।
৩. বিসমিল্লাহ অনুষ্ঠান: বৈদিক যুগে যেমন ‘উপনয়ন’ ছিল, ইসলামি শিক্ষায় ৪ বছর ৪ মাস ৪ দিন বয়সে ‘বিসমিল্লাহ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুর শিক্ষার সূচনা হতো।
৪. রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা: সুলতান ও বাদশাহরা বড় বড় মাদ্রাসা নির্মাণ করতেন এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করতেন।
৫. শিক্ষার মাধ্যম: প্রাথমিক স্তরে ফারসি এবং উচ্চস্তরে আরবি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদান করা হতো।
৬. গুরু-শিষ্য সম্পর্ক: শিক্ষক (মৌলবি বা আখুনজি) এবং শিক্ষার্থীর মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল। শিক্ষার্থীরা গুরুর গৃহে বা হোস্টেলেই মূলত থাকত।
ইসলামীয় শিক্ষাব্যবস্থার সুবিধা—
১. গণতান্ত্রিক মানসিকতা: জাতপাত নির্বিশেষে সকল মুসলিম শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত ছিল, যা শিক্ষায় সাম্যের বার্তা দেয়।
২. বৃত্তিমূলক শিক্ষা: কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, হস্তশিল্প, চিত্রাঙ্কন, স্থাপত্যবিদ্যা এবং সামরিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো, যা শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করত।
ইসলামীয় শিক্ষাব্যবস্থার অসুবিধা—
১. নারী শিক্ষার অভাব: পর্দার প্রথা বা অবরোধ প্রথার কারণে সাধারণ মুসলিম বালিকাদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিল খুবই নগণ্য। কেবল রাজপরিবারের নারীরাই ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার সুযোগ পেতেন।
২. অতিরিক্ত কঠোর শৃঙ্খলা: এই ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বেত্রাঘাত বা কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো কঠোর শারীরিক শাস্তির প্রচলন ছিল, যা আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞানে কাম্য নয়।
📌 আরো দেখুনঃ
📌 একাদশ শ্রেণি প্রশ্নপত্র সেমি-২ Click Here
