Class 11 Education 2nd Semester Question Paper Set-3 wbchse | একাদশ শ্রেণি এডুকেশন দ্বিতীয় সেমিস্টার প্রশ্নপত্র সেট-৩

2ND SEMESTER EXAMINATION
CLASS 11 (XI) WBCHSE
EDUCATION QUESTION PAPER

Set-3

Class 11 Education 2nd Semester Question Paper Set-3 wbchse | একাদশ শ্রেণি এডুকেশন দ্বিতীয় সেমিস্টার প্রশ্নপত্র সেট-৩

📌 একাদশ শ্রেণি প্রশ্নপত্র সেমি-২ Click Here

MODEL QUESTION PAPER
2nd Semester Examination-2025
Class-XI
Subject – EDUCATION
F.M. 40                      Time : 2 hours

1. নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়) : 2×5=10

1.1 আধুনিক মনোবিদ্যার মূল বিষয়বস্তু কী ?

অথবা, প্রত্যক্ষণের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

1.2 বৃদ্ধি বলতে কী বোঝো ?

অথবা, প্রাক্ষোভিক বিকাশ কাকে বলে?

1.3 কৈশোরের দুটি মানসিক চাহিদা উল্লেখ করো।

অথবা, ECCE এবং NGO-এর পুরো নাম লেখো।

1.4 পরাবিদ্যা ও অপরাবিদ্যা বলতে কী বোঝো ?

অথবা, হান্টার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে A এবং B কোর্স বলতে কী বোঝায় ?

1.5 আত্মীয়সভা কে, কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন ?

অথবা, বেগম রোকেয়াকে নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কেন ?

2. নিম্নলিখিত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগু কণীয়) : 5×2=10

2.1 আচরণবাদ কী ? শিক্ষায় আচরণবাদের গুরুত্ব আলোচনা করো। 2+3

অথবা, সমগ্রতাবাদ বা গেস্টান্ট মতবাদ কী? এই মতবাদের মূলনীতি ও শিক্ষাগত তাৎপর্য উল্লেখ করো। 1+4

2.2 প্রাথমিক শিক্ষা ও স্ত্রীশিক্ষার প্রসারে বিদ্যাসাগরের ভূমিকা বিবৃত করো।

অথবা, উনবিংশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ও সমাজ সংস্কারে রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা আলোচনা করো।

3. নিম্নলিখিত বিবৃতিমূলক প্রশ্নের উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়) : 10×2=20

3.1 শৈশবের দৈহিক, মানসিক ও সামাজিক চাহিদাগুলি বিবৃত করো। প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার চারটি উদ্দেশ্য লেখো। 6+4

অথবা, বংশগতি ও পরিবেশ বলতে কী বোঝো ? ব্যক্তির জীবন বিকাশে বংশগতি ও পরিবেশের প্রভাব বিবৃত করো। 4+6

3.2 বৈদিক যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক আলোচনা করো। বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিগুলি বিবৃত করো। 5+5

অথবা, উডের ডেসপ্যাচ কী ? প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে লর্ড কার্জনের শিক্ষানীতি বিবৃত করো। 2+8

উত্তর (ANSWERS)

1. নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়) : 2×5=10

1.1 আধুনিক মনোবিদ্যার মূল বিষয়বস্তু কী ?

উত্তরঃ আধুনিক মনোবিদ্যার মূল বিষয়বস্তু হলো প্রাণীর (বিশেষত মানুষের) আচরণ এবং মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞানসম্মত অনুশীলন। এটি কেবল আত্মা বা মনের বিদ্যা নয়, বরং মানুষের কাজের প্রকৃতি এবং আচরণের কারণ বিশ্লেষণ করে।

অথবা, প্রত্যক্ষণের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তরঃ প্রত্যক্ষণের দুটি বৈশিষ্ট্য—

নির্বাচনধর্মিতা: আমরা চারপাশের অসংখ্য উদ্দীপকের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু উদ্দীপককে গ্রহণ করি।

অর্থবহতা: সংবেদনের সঙ্গে যখন পূর্ব অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়ে একটি অর্থপূর্ণ রূপ পায়, তাকেই প্রত্যক্ষণ বলে।

1.2 বৃদ্ধি বলতে কী বোঝো ?

উত্তরঃ বৃদ্ধি বলতে শরীরের আকার, আয়তন, উচ্চতা এবং ওজনের পরিমাণগত পরিবর্তনকে বোঝায়। এটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং পরিমাপযোগ্য (যেমন— উচ্চতা ৫ ফুট)।

অথবা, প্রাক্ষোভিক বিকাশ কাকে বলে ?

উত্তরঃ শিশুর প্রক্ষোভ বা আবেগের (যেমন— ভয়, ক্রোধ, ভালোবাসা) যে পরিবর্তনশীল ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিকাশ ঘটে, তাকে প্রাক্ষোভিক বিকাশ বলে। এটি তাকে আবেগ নিয়ন্ত্রণে ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

1.3 কৈশোরের দুটি মানসিক চাহিদা উল্লেখ করো।

উত্তরঃ স্বাধীনতার চাহিদা: কিশোর-কিশোরীরা বড়দের শাসনমুক্ত হয়ে নিজের মতো করে চলতে চায়।

আত্মপ্রকাশের চাহিদা: নিজের দক্ষতা বা সৃজনশীলতার মাধ্যমে অন্যের কাছে স্বীকৃতি পাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়।

অথবা, ECCE এবং NGO-এর পুরো নাম লেখো।

উত্তরঃ ECCE : Early Childhood Care and Education.

NGO : Non-Governmental Organization.

1.4 পরাবিদ্যা ও অপরাবিদ্যা বলতে কী বোঝো ?

উত্তরঃ বৈদিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যাকে দুই ভাগে ভাগ করা হতো—

পরাবিদ্যা: যে বিদ্যার মাধ্যমে পরম জ্ঞান বা মোক্ষ লাভ করা যায় (আধ্যাত্মিক জ্ঞান)।

অপরাবিদ্যা: লৌকিক জগত সম্পর্কিত জ্ঞান, যেমন— সমাজনীতি, গণিত বা ব্যাকরণ।

অথবা, হান্টার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে A এবং B কোর্স বলতে কী বোঝায় ?

উত্তরঃ ১৮৮২ সালের হান্টার কমিশনের সুপারিশে মাধ্যমিক শিক্ষাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়—

A-Course: যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে চায় (পুঁথিগত শিক্ষা)।

B-Course: যারা কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে চায়।

1.5 আত্মীয়সভা কে, কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তরঃ রাজা রামমোহন রায় ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘আত্মীয়সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন।

অথবা, বেগম রোকেয়াকে নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কেন ?

উত্তরঃ বেগম রোকেয়া তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে মুসলিম নারীদের অবরোধ প্রথা ভেঙে শিক্ষার আলো দেখানোর জন্য সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাঁর লেখনীর মাধ্যমে নারী স্বাধীনতার কথা প্রচার করেছিলেন। এই সাহসী ভূমিকার জন্যই তাঁকে নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।

2. নিম্নলিখিত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগু কণীয়) : 5×2=10

2.1 আচরণবাদ কী ? শিক্ষায় আচরণবাদের গুরুত্ব আলোচনা করো। 2+3

উত্তরঃ আচরণবাদ: ১৯১৩ সালে মনোবিজ্ঞানী জে. বি. ওয়াটসন আচরণবাদের প্রবর্তন করেন। তাঁর মতে, মনোবিজ্ঞান হলো আচরণের বিজ্ঞান। উদ্দীপক এবং প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণীর যে বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তাকেই আচরণবাদ বলা হয়। এতে মন বা আত্মার বদলে পর্যবেক্ষণযোগ্য আচরণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

শিক্ষায় আচরণবাদের গুরুত্ব—

১. উদ্দীপন ও প্রতিক্রিয়া: শ্রেণিকক্ষে সঠিক উদ্দীপক প্রয়োগ করে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া বা শিখনফল পাওয়া সম্ভব।

২. অভ্যাস গঠন: বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো অভ্যাস গঠন এবং মন্দ অভ্যাস দূর করতে আচরণবাদ সাহায্য করে।

৩. পুরস্কার ও শাস্তি: সঠিক আচরণের জন্য প্রশংসা বা পুরস্কার এবং ভুল আচরণের জন্য সংশোধনী ব্যবস্থার মাধ্যমে শিখনের গতি বাড়ানো যায়।

সমগ্রতাবাদ: ‘গেস্টাল্ট’ (Gestalt) একটি জার্মান শব্দ, যার অর্থ হলো ‘আকার’ বা ‘সামগ্রিক রূপ’। কোহলার, কফকা ও ওয়ারদাইমারের মতে, আমরা কোনো বিষয়কে খণ্ড খণ্ড ভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে প্রত্যক্ষ করি—একে সমগ্ৰতাবাদ বলে।

মূলনীতি ও শিক্ষাগত তাৎপর্য—

১. সামগ্রিক প্রত্যক্ষন: শিক্ষক কোনো বিষয় পড়ানোর সময় প্রথমে তার সামগ্রিক রূপ তুলে ধরবেন, তারপর অংশগুলো বোঝাবেন। যেমন: আগে পুরো কবিতাটি পড়ে তারপর শব্দার্থ বোঝানো।

২. অন্তর্দৃষ্টির বিকাশ: যান্ত্রিক অভ্যাসের বদলে শিক্ষার্থীর বোধশক্তি বা অন্তর্দৃষ্টির (Insight) ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।

৩. সক্রিয়তা: এই মতবাদ অনুযায়ী শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করে শেখে।

৪. সাদৃশ্য ও নৈকট্য: বিষয়বস্তুর মধ্যে মিল থাকলে শিক্ষার্থীরা তা দ্রুত শিখতে পারে।

অথবা, সমগ্রতাবাদ বা গেস্টান্ট মতবাদ কী ? এই মতবাদের মূলনীতি ও শিক্ষাগত তাৎপর্য উল্লেখ করো। 1+4

2.2 প্রাথমিক শিক্ষা ও স্ত্রীশিক্ষার প্রসারে বিদ্যাসাগরের ভূমিকা বিবৃত করো।

উত্তরঃ পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে আধুনিক বাংলা শিক্ষার জনক বলা হয়। তাঁর অবদান নিচে আলোচনা করা হলো:

১. মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠা: তিনি নিজের উদ্যোগে মেদিনীপুর, বর্ধমান, হুগলি ও নদীয়া জেলায় প্রায় ২০টি মডেল স্কুল (আদর্শ বিদ্যালয়) স্থাপন করেন।

২. বর্ণপরিচয় ও পাঠ্যপুস্তক: প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে তিনি ‘বর্ণপরিচয়’ (প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ), ‘বোধোদয়’, ‘কথামালা’র মতো কালজয়ী পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন।

৩. স্ত্রীশিক্ষা বিস্তার: তিনি বিশ্বাস করতেন নারী শিক্ষা ছাড়া সমাজের উন্নতি অসম্ভব। জন ড্রিঙ্কওয়াটার বিটনের সহযোগিতায় তিনি ‘হিন্দু ফিমেল স্কুল’ (বর্তমানে বেথুন স্কুল) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

৪. বালিকা বিদ্যালয়: দক্ষিণবঙ্গে তিনি নিজস্ব অর্থ ও চেষ্টায় প্রায় ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।

৫. নারীশিক্ষা ভাণ্ডার: নারী শিক্ষার খরচ চালানোর জন্য তিনি একটি ব্যক্তিগত তহবিল বা ‘নারীশিক্ষা ভাণ্ডার’ তৈরি করেন।

অথবা, উনবিংশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ও সমাজ সংস্কারে রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা আলোচনা করো। 5

উত্তরঃ রাজা রামমোহন রায় ছিলেন আধুনিক ভারতের জনক। তাঁর ভূমিকা দ্বিমুখী :

পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তার—

১. ইংরেজি শিক্ষার সমর্থন: ১৮২৩ সালে লর্ড আমহার্স্টকে চিঠির মাধ্যমে তিনি সংস্কৃত শিক্ষার বদলে ইংরেজি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পাশ্চাত্য শিক্ষার দাবি জানান।

২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ১৮১৭ সালে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করার পাশাপাশি তিনি নিজে ‘অ্যাংলো হিন্দু স্কুল’ এবং ‘বেদান্ত কলেজ’ স্থাপন করেন।

সমাজ সংস্কার—

১. সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ: তাঁর দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে ১৮২৯ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা আইনত নিষিদ্ধ করেন।

২. ব্রাহ্মসমাজ: একেশ্বরবাদ প্রচার এবং কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষে তিনি ১৮২৮ সালে ব্রাহ্মসভা (পরে ব্রাহ্মসমাজ) প্রতিষ্ঠা করেন।

৩. নারীর অধিকার: তিনি নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার এবং নারী শিক্ষার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছিলেন।

3. নিম্নলিখিত বিবৃতিমূলক প্রশ্নের উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়) : 10×2=20

3.1 শৈশবের দৈহিক, মানসিক ও সামাজিক চাহিদাগুলি বিবৃত করো। প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার চারটি উদ্দেশ্য লেখো। 6+4

উত্তরঃ শৈশব (জন্ম থেকে ৫ বছর) হলো মানবজীবনের ভিত্তিস্তর। এই সময়ে শিশুর প্রধান চাহিদাগুলি হলো—

১. দৈহিক চাহিদা—

পুষ্টি ও আহার: দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধির জন্য শিশুর সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত পুষ্টির প্রয়োজন।

নিদ্রা ও বিশ্রাম: শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে এবং কোষের গঠনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

সক্রিয়তা ও খেলাধুলা: হাত-পা নাড়াচাড়া করা এবং ছোটাছুটি করার মাধ্যমে পেশি সঞ্চালনের চাহিদা থাকে।

২. মানসিক চাহিদা—

নিরাপত্তার চাহিদা: শিশু সব সময় বাবা-মায়ের সান্নিধ্য ও আশ্রয় খোঁজে যাতে সে ভয়মুক্ত থাকতে পারে।

ভালোবাসা ও স্নেহের চাহিদা: আদর, যত্ন এবং ভালোবাসার মাধ্যমে শিশুর মনে আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে।

জানার কৌতূহল: এই বয়সে শিশু চারপাশের জগত সম্পর্কে প্রচুর প্রশ্ন করে, যা তার বৌদ্ধিক বিকাশের চাহিদা মেটায়।

৩. সামাজিক চাহিদা—

সাঙ্গী বা খেলার সাথীর চাহিদা: সমবয়সীদের সঙ্গে মেলামেশা ও খেলাধুলা করার তীব্র ইচ্ছা থাকে।

স্বীকৃতির চাহিদা: কোনো ছোট কাজ করলে বড়দের কাছ থেকে প্রশংসা বা হাততালি পাওয়ার আশা করে।

অনুকরণের চাহিদা: বড়দের আচরণ বা কথা নকল করার মাধ্যমে সে সামাজিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে চায়।

প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা (Pre-primary Education) মূলত শিশুকে প্রথাগত স্কুলের জন্য প্রস্তুত করে। এর চারটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো—

১. সুঅভ্যাস গঠন: শিশুকে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, সময়ানুবর্তিতা এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের প্রাথমিক পাঠ দেওয়া।

২. পেশি সঞ্চালন ও দৈহিক বিকাশ: বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও হাতের কাজের মাধ্যমে শিশুর সূক্ষ্ম ও স্থূল পেশির সমন্বয় ঘটানো।

৩. সামাজিকীকরণ: সহপাঠীদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা, খাবার ভাগ করে নেওয়া এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করা।

৪. প্রাথমিক পরিবেশের পরিচয়: শিশুকে চারপাশের প্রকৃতি, পশুপাখি ও গাছপালার সঙ্গে পরিচিত করানো যাতে তার মধ্যে পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা বাড়ে।

অথবা, বংশগতি ও পরিবেশ বলতে কী বোঝো ? ব্যক্তির জীবন বিকাশে বংশগতি ও পরিবেশের প্রভাব বিবৃত করো। 4+6

3.2 বৈদিক যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক আলোচনা করো। বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিগুলি বিবৃত করো। 5+5

উত্তরঃ বৈদিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক (গুরু) ও শিক্ষার্থীর (শিষ্য) সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত পবিত্র, গভীর এবং আধ্যাত্মিক। এই সম্পর্কের প্রধান দিকগুলি হলো—

১. পিতা-পুত্রের সম্পর্ক: গুরু ও শিষ্যের মধ্যে সম্পর্ক ছিল অনেকটা পিতা ও পুত্রের মতো। গুরু শিষ্যের কেবল জ্ঞানের বিকাশ ঘটাতেন না, বরং তার নৈতিক ও চারিত্রিক অভিভাবক হিসেবে কাজ করতেন।

২. গুরুর প্রতি আনুগত্য: শিষ্যকে গুরুর প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত থাকতে হতো। গুরুর আদেশ পালন করা এবং তাঁর সেবা করা (যেমন— সমিধ সংগ্রহ, গো-পালন) শিষ্যের প্রধান কর্তব্য ছিল।

৩. আবাসিক শিক্ষা (গুরুকুল): শিষ্যরা গুরুর আশ্রমে বা গুরুকুলে থেকে শিক্ষালাভ করত। সেখানে গুরু শিষ্যের খাওয়া-দাওয়া ও বাসস্থানের দায়িত্ব নিতেন, বিনিময়ে শিষ্য গুরুর গৃহস্থালির কাজে সাহায্য করত।

৪. ব্যক্তিগত তদারকি: সেকালে ছাত্রসংখ্যা কম থাকায় গুরু প্রতিটি শিষ্যের মানসিক ও বৌদ্ধিক ক্ষমতার দিকে ব্যক্তিগত নজর দিতে পারতেন। শিষ্য কোনো ভুল করলে গুরু তাকে স্নেহের সঙ্গে সংশোধন করে দিতেন।

৫. উপনয়ন ও সমাবর্তন: ‘উপনয়ন’ সংস্কারের মাধ্যমে শিষ্য গুরুর কাছে দীক্ষা নিত এবং শিক্ষা শেষে ‘সমাবর্তন’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গুরু তাকে আশীর্বাদ করে গৃহস্থ জীবনে পাঠাতেন।

বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটি ছিল, যা নিচে উল্লেখ করা হলো—

১. অতিরিক্ত কৃচ্ছ্রসাধন: বৌদ্ধ বিহারগুলিতে শিষ্যদের অত্যন্ত কঠোর শৃঙ্খলা ও নিয়মের মধ্যে থাকতে হতো। অতিরিক্ত সংযম ও কৃচ্ছ্রসাধন অনেক সময় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করত।

২. নারী শিক্ষার অবহেলা: বৌদ্ধ ভিক্ষুণীদের জন্য সংঘে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও সাধারণ নারীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। মূলত পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রভাব এখানেও দেখা যেত।

৩. লৌকিক বিদ্যার অভাব: বৌদ্ধ শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল ‘নির্বাণ’ লাভ বা আধ্যাত্মিক মুক্তি। ফলে দৈনন্দিন জীবনের উপযোগী কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

৪. আঞ্চলিক ভাষার সীমাবদ্ধতা: বৌদ্ধ শিক্ষা প্রধানত পালি ভাষায় পরিচালিত হতো। পরবর্তীকালে সংস্কৃত ভাষার ব্যবহার বাড়লেও গ্রামীণ বা সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষা অনেক ক্ষেত্রে অবহেলিত থেকে গিয়েছিল।

৫. গৃহী জীবনের প্রতি অনীহা: এই শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সংসার ত্যাগের বা সন্ন্যাস জীবনের প্রতি বেশি উৎসাহিত করত, যা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সাধারণ নাগরিকের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছিল।

অথবা, উডের ডেসপ্যাচ কী ? প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে লর্ড কার্জনের শিক্ষানীতি বিবৃত করো। 2+8

📌 আরো দেখুনঃ

📌 একাদশ শ্রেণি প্রশ্নপত্র সেমি-২ Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply