Class 10 Geography First Unit Test Question with Answer Set-1 wbbse | দশম শ্রেণি ভূগোল প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-১

Class 10 Geography First Unit Test Question with Answer Set-1 wbbse | দশম শ্রেণি ভূগোল প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-১

FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 10 (X) WBBSE
GEOGRAPHY QUESTION PAPER

Set-1

পাঠ্যসূচী / Syllabus :
প্রাকৃতিক ভূগোল : (১) বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ
আঞ্চলিক ভূগোল : (৫) ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ

📌দশম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 ভূগোল সিলেবাস দশম শ্রেণিClick Here

📌দশম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
দশম শ্রেণি
বিষয় : ভূগোল ও পরিবেশ
সময় : ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট                   পূর্ণমান : ৪০

বিভাগ – ‘ক’

১. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে পূর্ণবাক্যে উত্তর লেখো : ১×৮=৮

১.১ আলোড়ন এর ফলে কোন স্থানের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে তাকে কী বলে ?
(ক) অবরোহন (খ) আরোহন (গ) পর্যায়ন (ঘ) পঞ্জিত ক্ষয়

উত্তরঃ (খ) আরোহন।

১.২ চলমান বালিয়াড়িগুলিকে থর মরু অঞ্চলে কী বলা হয় ?
(ক) মেসা (খ) লোয়েস (গ) বিউট (ঘ) ধ্রিয়ান

উত্তরঃ (ঘ) ধ্রিয়ান।

১.৩ মরু অঞ্চলে অবশিষ্ট পাহাড়গুলিকে বলা হয়—
(ক) গৌর (খ) মোনাডনক (গ) ইনসেলবার্জ
(ঘ) ইয়ারদাঙ

উত্তরঃ (গ) ইনসেলবার্জ।

১.৪ পিরপাঞ্জাল পর্বত ও ধওলাধর পর্বতের মধ্যে অবস্থিত উপত্যকাটি হল—
(ক) কাংড়া (খ) কুলু (গ) দুন (ঘ) ছোটো নাগপুর

উত্তরঃ (খ) কুলু।

১.৫ ভারতের উচ্চতম বাঁধটির নাম হল—
(ক) হিরাকুঁদ (খ) রিহান্দ (গ) ভাকরা (ঘ) পাঞ্চেৎ

উত্তরঃ (ক) হিরাকুঁদ।

১.৬ ভারতের কোন্ উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টি হয় ?
(ক) করমণ্ডল উপকূল (খ) কোঙ্কন উপকূলে
(গ) মালাবার উপকূলে (ঘ) উত্তর সরকার উপকূলে

উত্তরঃ (ক) করমণ্ডল উপকূল।

১.৭ ভূমিরূপবিদ্যায় পর্যায়ন-এর ধারণাটি সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন—
(ক) ডেভিস (খ) গিলবার্ট (গ) পেঙ্ক (ঘ) পাসার্জ

উত্তরঃ (খ) গিলবার্ট।

১.৮ উত্তর-পশ্চিম ভারতে কোন্ বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত ঘটে ?
(ক) মৌসুমি বায়ু (খ) জেট বায়ু (গ) লু-বায়ু (ঘ) পশ্চিমা বায়ু

উত্তরঃ (ঘ) পশ্চিমা বায়ু।

বিভাগ – ‘খ’

২। নীচের প্রশ্নগুলির নির্দেশ অনুযায়ী উত্তর দাও : ১x৮=৮

২.১ শূন্যস্থান পূরণ করো : ১×৩=৩

২.১.১ সুন্দরবন অঞ্চলের স্বাভাবিক উদ্ভিদকে ____________ বলে।

উত্তরঃ হ্যালোফাইট বা ম্যানগ্রোভ।

২.১.২ দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানকে _____ বলে।

উত্তরঃ দোয়াব।

২.১.৩ __________ জলপ্রপাতকে ভারতের নায়াগ্রা বলা হয়।

উত্তরঃ চিত্রকূট।

২.২ পাশাপাশি দুটি স্তম্ভ মেলাও : ১×৩=৩

বামস্তম্ভ ডানস্তম্ভ
২.২.১ (ক) মহানদী(১) ইন্দিরা গান্ধি খাল
(খ) নমর্দা নদী(২) হীরাকুঁদ বাঁধ
(গ) রাজস্থান(৩) সর্দার সরোবর প্রকল্প

উত্তরঃ

২.২.১ (ক) মহানদী (২) হীরাকুঁদ বাঁধ
২.২.২ (খ) নমর্দা নদী (৩) সর্দার সরোবর প্রকল্প
২.২.৩ (গ) রাজস্থান (১) ইন্দিরা গান্ধি খাল

২.৩ শুদ্ধ বা অশুদ্ধ নিরূপণ করা : ১x২=২

২.৩.১ নদীর মধ্যগতিতে পার্শ্বক্ষয় ও নিম্নক্ষয় সমান।

উত্তরঃ শুদ্ধ।

২.৩.২ করি জার্মানিতে সার্ক’ নামে পরিচিত।

উত্তরঃ অশুদ্ধ।

বিভাগ – ‘গ’

৩. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : ২x৪=৮

৩.১ ‘পলল ব্যজনী’ কাকে বলে ?

উত্তরঃ পার্বত্যপ্রবাহ থেকে যখন নদী সমভূমিতে পতিত হয় তখন নদীর বহন ক্ষমতা হঠাৎ হ্রাস পাওয়ায় নদীবাহিত পলি, বালি, নুড়ি প্রভৃতি পর্বতের পাদদেশে শঙ্কুর মতো জমা হয়। একে পলল শঙ্কু বলে। পাশাপাশি কয়েকটি পলল শঙ্কু মিলিত হয়ে পলিমঞ্চ গঠন করে। যখন পলল শঙ্কুর উপর নদী বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয় তখন পলল শঙ্কু দেখতে অর্ধগোলাকার আকৃতির হয়। একে পলল ব্যজনী বা পলল পাখা বলে।

অথবা, ‘হিমদ্রোণী’ কাকে বলে ?

উত্তরঃ পার্বত্য অঞ্চলের উপত্যকা দিয়ে হিমবাহ প্রবাহিত হওয়ার সময় নিম্ন ক্ষয় ও পার্শ্ব ক্ষয় সমান ভাবে করতে থাকে ফলে U আকৃতির বিশিষ্ট উপত্যকা সৃষ্টি হয়। একেই হিমদ্রোণি বলে।

৩.২ ‘গৌর’ কীভাবে সৃষ্টি হয় ?

উত্তরঃ মরু অঞ্চলে কোন কোন জায়গায় কোমল শিলার ওপর কঠিন শিলা অবস্থান করলে বিভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে প্রবাহিত হওয়া বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে নিচের কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং উপরের শিলা ততটা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। শিলার এই অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে নিচের অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সরু স্তম্ভের মত হয় এবং ওপরের অংশ কম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিরাট আয়তনের ব্যাঙের ছাতার ন্যায় ভূমিরূপ গঠন করে তাকে গৌর (Gour) বা গারা বা মাশরুম রক (Mushroom rock) বা পেডাস্টাল রক (Pedastral rock) বলে।

৩.৩ ষষ্ঠ ঘাতের সূত্র কাকে বলে ?

উত্তরঃ নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ বৃদ্ধি হলে তার বহন ক্ষমতা (2)⁶ অর্থাৎ 64 গুন বৃদ্ধি পায় নদীর গতিবেগের সাথে বহন ক্ষমতা এই সম্পর্ককে ষষ্ঠ ঘাতের সূত্র বলে। 1842 সালে এই সূত্রের ব্যাখ্যা দেন W.Hopkins.

অথবা, নরওয়েস্টার কী ?

উত্তরঃ পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তার আশে পাশে গ্রীষ্মকালের বিকেলে মাঝে মাঝে বজ্রবিদ্যুৎ ও বৃষ্টিপাত সহ এক ভিষণ ঝড়ের আগমন ঘটে, এই ঝড় কালবৈশাখী নামে পরিচিত। সাধারণত বৈশাখ মাসে হয় বলে একে কালবৈশাখী বলা হয়। কালবৈশাখী ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত হয় বলে একে নরওয়েস্টার বলা হয়।

৩.৪ ‘রেগুর’ কী ?

উত্তরঃ কৃষ্ণ মৃত্তিকার অপর নাম রেগুর। তেলুগু শব্দ রেগাড়া থেকে এই রেগুর নামের উৎপত্তি। এটি। দাক্ষিণাত্য মালভূমির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৃত্তিকা। এই মৃত্তিকায় ফসফরাস, নাইট্রোজেন এবং জৈব পদার্থ কম থাকলেও লােহা, চুন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। এ ছাড়া, মন্টমরিলােনাইট জাতীয় কাদার পরিমাণ বেশি হওয়ায় এই মাটির জলধারণক্ষমতাও বেশি। এজন্য এই মৃত্তিকা খুবই উর্বর।

অথবা, ‘তাল’ ও ‘দিয়ারা’ কাকে বলে ?

উত্তরঃ তাল শব্দের অর্থ জলাভূমি। কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহের পশ্চিম ভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত কালিন্দী নদীর পূর্বভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নীচু ভূভাগকে তাল সমভূমি বলে।

নদীর পলি জমে বা নদীভাঙনের ফলে নদীর বুকে জেগে ওঠা নতুন চর বা ভূমিখণ্ডকে দিয়ারা (Diara) বলা হয়। মালদহ জেলার কালিন্দী নদীর দক্ষিণাংশের ভূমি দিয়ারা নামে পরিচিত।

বিভাগ – ‘ঘ’

৪। সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও : ৩x২=৬

৪.১ বদ্বীপ গড়ে ওঠার অনুকূল অবস্থাগুলি কী কী ?

উত্তরঃ বদ্বীপ সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ : বদ্বীপ সৃষ্টি হওয়ার জন্য প্রয়ােজনীয় অনুকূল পরিবেশগুলি হল—

(i) অবক্ষেপণের হার বেশি : মােহানায় নদীর অবক্ষেপণের হার অপসারণ হারের তুলনায় বেশি হওয়া প্রয়ােজন।

(ii) সুদীর্ঘ নদী ও বেশি উপনদী : নদীর জলের সঙ্গে যাতে বেশি পরিমাণে পলি আসে, সেজন্য নদীকে সুদীর্ঘ হতে হবে। পাশাপাশি নদীর উপনদীর সংখ্যাও বেশি হতে হবে।

(iii) নদীর স্রোত কম হওয়া : নদীর মুখে বা মােহানায় যাতে পলি জমতে পারে, সেজন্য নদীর স্রোত কম হওয়া দরকার।

(iv) সমুদ্রের ঢাল কম হওয়া : সমুদ্রের যে অংশে নদী এসে মিশবে, সেখানে সমুদ্রের ঢাল কম হতে হবে, না হলে অবক্ষিপ্ত পলি গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যাবে।

(v) জোয়ারভাটার প্রকোপ কম থাকা : মােহনায় জোয়ারভাটার প্রকোপ কম থাকলে সহজে বদ্বীপ গড়ে ওঠে।

(vi) বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ : মােহানায় নদীস্রোতের বিপরীত দিকে বায়ু প্রবাহিত হলে বদ্বীপ গঠনের কাজ দ্রুত হয়।

(vii) আংশিক বেষ্টিত সমুদ্র : উন্মুক্ত সমুদ্রের তুলনায় আংশিক বেষ্টিত সমুদ্রে বেশি বদ্বীপ গড়ে ওঠে।

(viii) সমতল ভূমি : নদী মােহানার সংলগ্ন ভূমি সমতল হওয়া প্রয়ােজন।

অথবা, ‘গৌর’ ও ‘ইনসেলবার্জ’-এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।

বিষয় গৌর ইনসেলবার্জ
সংজ্ঞামরুভূমি অঞ্চলে কোমল ও কঠিন শিলাস্তর উলম্বভাবে থাকলে, বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট মাশরুম আকৃতির শিলাকে গৌর বলে।অঞ্চলে কঠিন শিলার তৈরি অবশিষ্ট অনুচ্চ পাহাড় যা সমভূমি থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।
আকৃতিদেখতে মাশরুম বা ব্যাঙের ছাতার মতো। নিচের অংশ সরু এবং ওপরের অংশ চওড়া।গম্বুজাকৃতির, মসৃণ বা খাড়া ঢালযুক্ত, যা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দেখায়।
আকারবায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে কোমল শিলাস্তর দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে গঠিত হয়।মূলত কঠিন শিলা (গ্রানাইট, নিস) দ্বারা গঠিত হয় যা ক্ষয়ের হাত থেকে রেহাই পায়।
উদাহরণরাজস্থানের থর মরুভূমি।অস্ট্রেলিয়ার উলুরু বা আয়ার্স রক।

৪.২ উত্তর ভারতের নদীগুলি বন্যাপ্রবণ কেন ?

উত্তরঃ উত্তর ভারতের নদীগুলোর বন্যাপ্রবণ হওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উভয় কারণই দায়ী।

প্রাকৃতিক কারণে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে হিমালয়ের পাদদেশে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গ্রীষ্মকালে হিমালয়-এর হিমবাহ গলে অতিরিক্ত জল নদীতে মেশে, ফলে বন্যার আশঙ্কা বাড়ে। পাহাড়ি নদীগুলো প্রচুর পলি বহন করে সমভূমিতে জমা করে নদীখাত অগভীর করে তোলে; যেমন কোশী নদী প্রায়ই গতিপথ পরিবর্তন করে বন্যা সৃষ্টি করে। এছাড়া পাহাড়ি ভূমিধসের কারণে আকস্মিক বন্যাও দেখা যায়।

মানবসৃষ্ট কারণের মধ্যে বন উজাড়ের ফলে মাটি জলধারণ ক্ষমতা হারায় এবং অতিরিক্ত জল সরাসরি নদীতে নেমে আসে। বন্যাপ্রবণ এলাকায় অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন ও বাঁধের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ বন্যার ক্ষতি বাড়ায়। নদীখাত থেকে অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলেও নদীর স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা কমে গিয়ে উত্তরবঙ্গ ও বিহার অঞ্চলে ঘনঘন বন্যা দেখা দেয়।

অথবা, পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে চিরহরিৎ অরণ্য এবং পূর্ব ঢালে শুষ্ক পর্ণমোচী অরণ্য সৃষ্টি হয়েছে কেন ?

উত্তরঃ পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত (২৫০ সেমি+) ও আর্দ্রতার কারণে চিরহরিৎ অরণ্য এবং পূর্ব ঢালে কম বৃষ্টিপাত (বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল) হওয়ার ফলে শুষ্ক পর্ণমোচী অরণ্য সৃষ্টি হয়েছে। আরব সাগর থেকে আসা আর্দ্র মৌসুমি বায়ু পশ্চিম ঢালে বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টি ঘটায়, অথচ পূর্ব ঢালে বায়ু শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় গাছগুলো জল সংরক্ষণে পাতা ঝরিয়ে দেয়।

∆ পশ্চিম ঢাল (চিরহরিৎ অরণ্য)—

বৃষ্টিপাত: এই ঢালটি মৌসুমি বায়ুর সরাসরি সম্মুখীন হওয়ায় এখানে প্রচুর পরিমাণে (২৫০ সেমি-এর বেশি) বৃষ্টিপাত হয়।

জলবায়ু: উচ্চ তাপমাত্রা এবং উচ্চ আর্দ্রতা বছরের বেশিরভাগ সময় বজায় থাকে।

উদ্ভিদ: এই পরিবেশে গাছগুলো একসাথে পাতা ঝরায় না, তাই অরণ্য সারাবছর সবুজ থাকে।

∆ পূর্ব ঢাল (শুষ্ক পর্ণমোচী অরণ্য)—

বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল: পশ্চিম ঢাল পেরিয়ে বায়ু যখন পূর্ব ঢালে পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্প কমে যায়, ফলে এটি একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বা “rain shadow area” হিসেবে পরিচিত।

কম বৃষ্টিপাত : পূর্ব ঢালে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০০-২০০ সেমি-এর মধ্যে, যা চিরহরিৎ অরণ্যের জন্য অপর্যাপ্ত।

উদ্ভিদ: শুষ্ক আবহাওয়ায় জল সংরক্ষণ করার জন্য এই ঢালের গাছগুলো গ্রীষ্মের সময় পাতা ঝরিয়ে দেয় (পর্ণমোচী), যা মৌসুমী বন নামেও পরিচিত।

বিভাগ – ‘ঙ’

৫। ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও : ৫×২=১০

৫.১ নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ পরিচয় দাও।

উত্তরঃ নদীর পার্বত্য প্রবাহে প্রবল ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট চারটি প্রধান ভূমিরূপ হলো ‘V’ আকৃতির উপত্যকা, শৃঙ্খলিত শৈলশিরা, জলপ্রপাত‌ এবং মন্থকূপ। এই ভূমি রূপগুলি মূলত অবঘর্ষ, ঘর্ষণ এবং জলপ্রবাহজনিত ক্ষয়ের মাধ্যমে তৈরি হয়, যা ভূদৃশ্যকে গভীরভাবে কেটে আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হতে সাহায্য করে।

∆ নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপের সচিত্র পরিচয় নিচে দেওয়া হলো—

(প্রতিটি ভূমিরূপের ছবি দিতে হবে)

(i) গিরিখাত : নদীর উচ্চগতিতে ঢাল বেশি হওয়ায় নদীবাহিত পদার্থসমূহের সঙ্গে নদীর তলদেশের ঘর্ষণ বেশি হয়। আবার নদীর দুই ঢাল কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত বলে এই পার্বত্য অঞ্চলে পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। ফলে ইংরেজি ‘V আকৃতির ন্যায় উপত্যকা গঠন করে, একে গিরিখাত বলে।

(ii) শৃঙ্খলিত শৈলশিরা বা আবদ্ধ শৈলশিরা : পার্বত্য অঞলে নদীর চলার পথে কঠিন শিলা অবস্থান করায় নদী এঁকেবেঁকে চলতে শুরু করে। এর ফলে নদীর একটি পাড় অপর একটি পাড়কে আড়াল করে রাখে। ফলে নদীর গতিপথ সােজাসুজি বেশিদূর দেখা যায় না। পার্বত্য অঞলে নদীর এইরকম পাড়কে শৃঙ্খলিত শৈলশিরা বলে।

(iii) জলপ্রপাত : পার্বত্য অঞলে অনুভূমিকভাবে কঠিন ও কোমল শিলা পরস্পরের সমান্তরালে অবস্থান করলে নদীর প্রবল স্রোতের ফলে কোমল শিলা ক্ষয় পেয়ে খাড়া ঢালের সৃষ্টি হয়। এই খাড়া ঢালের উপর দিয়ে জলরাশি সরাসরি উপর থেকে নীচে পড়ে, একে জলপ্রপাত বলে।

(iv) মন্থকূপ : পার্বত্য অঞলে নদীর জলের সঙ্গে বাহিত নুড়ি, বালি, পাথরের দ্বারা অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় নদীখাতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রায় গােলাকার যে গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে মন্থকূপ বলে।

অথবা, বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ বিবরণ দাও।

উত্তরঃ বায়ুর সঞ্চয়জাত ভূমিরূপসমূহ : বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত উল্লেখযােগ্য ভূমিরূপগুলি হল—

∆ বালিয়াড়ি—

বালিপূর্ণ বায়ুর গতিপথে গাছপালা, বড়াে প্রস্তরখণ্ড, ঝােপঝাড় বা অন্য কোনােরকম বাধা থাকলে বায়ুবাহিত বালির কিছু অংশ সেখানে সঞ্চিত হয়ে ক্রমশ ঢিবির মতাে উঁচু হয়ে যায়। স্থূপাকারে সঞ্চিত এই বালির ঢিপিগুলিকে বলা হয় বালিয়াড়ি।

উপবিভাগ: বিখ্যাত বিজ্ঞানী ব্যাগনল্ড বালিয়াড়িকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেন — (1) তির্যক বালিয়াড়ি এবং (2) অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি।

(1) তির্যক বালিয়াড়ি : যেসব বালিয়াড়ি বায়ুর গতির সঙ্গে আড়াআড়িভাবে গড়ে ওঠে, তাদের বলে তির্যক বালিয়াড়ি। এদের আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায় — (i) বারখান, (ii) অ্যাকলে বালিয়াড়ি এবং (iii) রাের্ডস বালিয়াড়ি।

(i) বার্খান: যেসব বালিয়াড়ি একেবারে অর্ধচন্দ্রের আকারে গড়ে ওঠে, সেই বালিয়াড়িগুলিকে বলে বারখান। উদাহরণ: সাহারা মরুভূমিতে অনেক বারখান দেখা যায়।

(এখানে বার্খানের ছবি দিতে হবে)

(ii) অ্যাকলে বালিয়াড়ি: একাধিক বারখান পরপর পাশাপাশি গঠিত হওয়ার ফলে যে আঁকাবাঁকা ও সারিবদ্ধ শৈলশিরার মতাে বালিয়াড়িশ্রেণির সৃষ্টি হয়, তাদের একত্রে অ্যাকলে বালিয়াড়ি বলা হয়। এই বালিয়াড়ির বাঁকের সামনের অংশকে লিংগুয়েড এবং পিছনের অংশকে বারখানয়েড বলে।

(iii) রাের্ডস বালিয়াড়ি: যেসব তির্যক বালিয়াড়ি দেখতে অনেকটা পিরামিডের মতাে সেই বালিয়াড়িগুলিকে বলে রাের্ডস বালিয়াড়ি। বিভিন্ন দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হলে বারখানগুলিই। রাের্ডস বালিয়াড়িতে পরিণত হয়।

(2) অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি বা সিফ বালিয়াড়ি: যেসব বালিয়াড়ি বায়ুর গতিপথের সঙ্গে সমান্তরালভাবে গড়ে ওঠে, সেইসব বালিয়াড়িকে বলা হয় অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি। এদের মধ্যে যেগুলি খুব দীর্ঘ কিন্তু সংকীর্ণ, একেবারে তরবারির মতাে দেখতে, সেগুলিকে বলে সিফ বালিয়াড়ি। উদাহরণ: থর মরুভূমিতে সিফ দেখা যায়।

(এখানে সিপ বালিয়াড়ি ছবি দিতে হবে)

(3) অন্যান্য বালিয়াড়ি: উল্লিখিত প্রধান দুই বালিয়াড়ি ছাড়াও উৎপত্তি, আকার ও অবস্থান অনুসারে আরও কয়েক ধরনের বালিয়াড়ি মরুভূমিতে দেখা যায়। তবে এগুলি অপ্রধান বালিয়াড়ি, যেমন—

(বিভিন্ন ধরনের বালিয়াড়ির ছবি দিতে হবে)

(i) মস্তক বালিয়াড়ি: ঝােপঝাড়, প্রস্তরখণ্ড প্রভৃতির যে দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়, সেই দিকেই বালিয়াড়ি সৃষ্টি হলে তাকে মস্তক বালিয়াড়ি বলে।

(ii) পুচ্ছ বালিয়াড়ি: প্রস্তরখণ্ড, গাছপালা প্রভৃতির যে দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয় , ঠিক তার বিপরীত দিকে সরু ল্যাজের মতাে গড়ে ওঠা বালিয়াড়িকে বলে পুচ্ছ বালিয়াড়ি।

(iii) পার্শ্বস্থ বালিয়াডি: প্রস্তরখণ্ড, ঝােপঝাড় প্রভৃতির উভয়দিকে বালিয়াড়ি সৃষ্টি হলে তাকে পার্শ্বস্থ বালিয়াড়ি বলে।

(iv) অগ্রবর্তী বালিয়াড়ি: মস্তক বালিয়াড়ির সামনে ঘূর্ণি বাতাসের প্রভাবে সৃষ্ট বালিয়াড়ি অগ্রবর্তী বালিয়াড়ি নামে পরিচিত।

(v) নক্ষত্র বালিয়াড়ি: বিভিন্ন দিক থেকে আসা বাতাসের মাধ্যমে প্রস্তরখণ্ড, গাছপালা প্রভৃতির বিভিন্ন দিকে বালিয়াড়ি সৃষ্টি হলে তাকে নক্ষত্র বা তারা বালিয়াড়ি বলে।

(vi) অস্থায়ী বা চলমান বালিয়াড়ি: বেশিরভাগ বালিয়াড়িই বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরে সরে যায়। এদের বলে অস্থায়ী বা চলমান বালিয়াড়ি। রাজস্থানের মরু অঞ্চলে এই চলমান বালিয়াড়িকে বলে ধ্রিয়ান।

∆ লােয়েস সমভূমি—

উৎপত্তি: মরুভূমির বালুকামিশ্রিত হলুদ রঙের শিথিল অতিসুক্ষ পলিকণা বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে বহুদূর পর্যন্ত উড়ে গিয়ে সঞ্চিত হয়। একে লােয়েস বলে। এভাবে বায়ুবাহিত সূক্ষ্ম বালুকণা ও পলিকণা দীর্ঘপথ অতিক্রম করে সেখানকার বিস্তৃত এলাকায় সঞ্চিত হয়ে যখন সমভূমি সষ্টি করে। তখন তাকে লােয়েস সমভূমি বলে।

উদাহরণ: উত্তর চিনের হােয়াং নদীর উপত্যকায় এই লােয়েস সমভূমি দেখা যায়। মধ্য এশিয়ার গােবি মরুভূমি থেকে বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বালুকারাশি উড়ে এসে চিনের হােয়াংহাে নদীর উপত্যকায় সঞ্চিত হয়ে এই সমভূমি গঠন করেছে।

৫.২ ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তরঃ

(1) ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব : মৌসুমি শব্দটির অর্থ ‘ঋতু’। তাই ঋতু অনুসারে প্রবাহিত বায়ুকে বলে মৌসুমি বায়ু। ভারতের জলবায়ু প্রায় সম্পূর্ণরূপেই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবাধীন। ভারতে আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয় বর্ষাকালে এবং শুষ্ক ও শীতল উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয় শীতকালে।

(2) উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাব : (i) শীতকালে মধ্য এশিয়ার শীতল স্থলভাগ বা উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে এই বায়ুপ্রবাহ দক্ষিণের। উষ্ণ ভারত মহাসাগরের নিম্নচাপ এলাকার দিকে প্রবাহিত হয়। (ii) বরফাবৃত স্থলভাগের ওপর থেকে ছুটে আসে বলে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু শীতল ও শুষ্ক হয়। (iii) এই বায়ুর প্রভাবে সারা দেশেই তাপমাত্রা যথেষ্ট কমে যায়। জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যের পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা হয় –10° থেকে –40 °সে। (iv) খুব শীতল বলে এই বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা প্রায় থাকে না বললেই চলে। এর ফলে তাপমাত্রা যথেষ্ট হ্রাস পেলেও বৃষ্টিপাত হয় না। (v) তবে ওই শুষ্ক বায়ু বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় কিছু পরিমাণে জলীয় বাষ্প গ্রহণ করে। ফলে ওই বায়ু যখন করমণ্ডল উপকুলে পৌঁছােয় তখন সেখানে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।

(3) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন-প্রত্যাগমনে অনিয়ম : যদি নির্দিষ্ট সময়ের আগে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটে এবং তার প্রত্যাগমনেও বিলম্ব হয়, তাহলে বর্ষাকাল দীর্ঘায়িত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। কিন্তু কোনাে বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনে বিলম্ব ঘটে, আবার কোনাে বছর তা দ্রুত ফিরে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে মাটি শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যে-কোনাে ধরনের ফসল উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ে, যা খরার সৃষ্টি করে।

(4) মৌসুমি বায়ু অনুসারে ঋতু বিভাগ : দুটি মৌসুমি বায়ুর আগমন-প্রত্যাগমন অনুসারেই ভারতের জলবায়ুকে চারটি ঋতুতে ভাগ করা হয়— (i) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন-পূর্ব সময়কাল গ্রীষ্মকাল, (i) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনকাল বা বর্ষাকাল, (iii) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাগমনকাল বা শরকাল এবং (iv) উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর আগমনকাল বা শীতকাল।

অথবা, দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় এর শ্রেণীবিভাগ করো।

📌 আরো দেখোঃ

📌দশম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 ভূগোল সিলেবাস দশম শ্রেণিClick Here

📌দশম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌দশম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌দশম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 মাধ্যমিক প্রশ্নপত্র সমস্ত বিষয় Click Here

📌 মাধ্যমিক মক্ টেস্ট সমস্ত বিষয় Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply