Class 10 Bengali First Unit Test Question Answer Set-1 | দশম শ্রেণির বাংলা প্রথম ইউনিট টেস্ট সেট-১

Set-1

প্রথম পর্যায়ক্রমিক (পূর্ণমান ৪০ এবং অন্তবর্তী প্রস্তুতিকালীন মূল্যায়ন ১০)

∆ পাঠ্যসূচি—

গদ্য : জ্ঞানচক্ষু,
প্রবন্ধ : হারিয়ে যাওয়া কালি কলম,
পদ্য : আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি, আফ্রিকা, অসুখী একজন
ব্যাকরণ : কারক ও অকারক সম্পর্ক এবং অনুবাদ।
কোনি : ১ – ৩১ পাতা

📌দশম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌মাধ্যমিক সিলেবাস বাংলা Click Here

প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
দশম শ্রেণি
বিষয় : বাংলা

সময় : ১ ঘণ্টা  ৩০ মিনিট      পূর্ণ মান- ৪০

১। সঠিক উত্তরটি বেছে নাও : ১x৭=৭

১.১ “সূচিপত্রেও নাম রয়েছে”- নামটি হল—
(ক) প্রথম দিনের গল্প
(খ) তপনের গল্প
(গ) জ্ঞানচক্ষু
(ঘ) প্রথম দিন

উত্তরঃ (ঘ) প্রথম দিন।

১.২ “তারপর যুদ্ধ এল”– কার মতাে ?
ক) পাহাড়ের আগুনের মতাে
(খ) রক্তের সমুদ্রের মতাে
(গ) আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে
(ঘ) রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে

উত্তরঃ (ঘ) রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে

১.৩ “প্রদোষকাল ঝঞ্জা বাতাসে রুদ্ধশ্বাস”- প্রদোষকাল হল—
(ক) ভাের (খ) দুপুর (গ) সন্ধ্যা (ঘ) রাত

উত্তরঃ (গ) সন্ধ্যা

১.৪ “অনেক ধরে ধরে টাইপ রাইটারে লিখে গেছেন”– কে ?
(ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
(খ) সত্যজিৎ রায়
(গ) সুবােধ ঘােষ
(ঘ) রাজশেখর বসু

উত্তরঃ (ক) অন্নদাশঙ্কর রায়

১.৫ “আমি ভাইকে সাইকেল দিলাম”—পদ দুটি কোন্ কারক ?
(ক) মুখ্যকর্ম ও গৌণকর্ম
(খ) গৌণকর্ম ও মুখ্যকর্ম
(গ) দুটিই মুখ্যকর্ম
(ঘ) দুটিই গৌণকর্ম

উত্তরঃ (খ) গৌণকর্ম ও মুখ্যকর্ম

১.৬ “পদ্মার ঢেউয়ে নৌকা টলমল করে”— পদটি কোন কারক ?
(ক) অপাদান কারক
(খ) কর্ম কারক
(গ) করণ কারক
(ঘ) অধিকরণ কারক

উত্তরঃ (খ) কর্ম কারক

১.৭ “পাখির ডাক শােনা যাচ্ছে”—এটি কী জাতীয় পদ ?
(ক) সম্বােধন পদ
(খ) সম্বন্ধ পদ
(গ) অব্যয় পদ
(ঘ) ক্রিয়া পদ

উত্তরঃ (খ) সম্বন্ধ পদ

২। কমবেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখাে (যে-কোনাে আটটি) : ১×৮=৮

২.১ “সে-আহ্লাদ খুঁজে পায় না”—কে, কেন সে-আহ্লাদ খুঁজে পায় না ?

উত্তরঃ স্বরচিত গল্প প্রকাশিত হলে, সৃষ্টিসুখজনিত যে ভয়ঙ্কর আহ্লাদ হওয়ার কথা, সেই আহ্লাদ তপন খুঁজে পায়নি। কারণ মেসো তপনের লেখা গল্প পুরোটাই ‘কারেকশান’ করেছেন।

২.২ “আমাদের পথ নেই আর।”— তাহলে কী করতে হবে ?

উত্তরঃ এই অবস্থায় কবি আমাদের আরো বেঁধে বেঁধে থাকার বা সঙ্ঘবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

২.৩ “এসাে যুগান্তের কবি”— যুগান্তের কবি এসে কী করবে ?

উত্তরঃ যুগান্তের কবি মানহারা মানবী তথা আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।

২.৪ “শান্ত হলুদ দেবতা”-দের পরিণতি কী হয়েছিল ?

উত্তরঃ ‘অসুখী একজন’ কবিতায় হাজার বছর ধরে ধ্যানমগ্ন, স্বপ্নে বিভোর পাথুরে দেবতারা যুদ্ধের আঘাতে মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়লেন।

২.৫ নির্দেশক কাকে বলে ? বাক্যে ব্যবহার করে উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ নির্দেশক হল এক ধরনের ধ্বনিগুচ্ছ, যেগুলির স্বাধীন অর্থ নেই, কিন্তু শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে বচন নির্দেশ করে।

উদাহরণ: টি, টা, খানা,খানি ইত্যাদি। পেনটা আমাকে দাও।

২.৬ অনুসর্গ বলতে কী বােঝাে ? একটি অনুসর্গের ব্যবহার দেখাও।

উত্তরঃ অনুসর্গ হল অব্যয় পদ যেগুলি মূলত বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে পৃথকভাবে বসে বিভক্তির কাজ করে। যেমন— দ্বারা, দিয়ে, পানে ,প্রতি,পাছে ইত্যাদি হল অনুসর্গের উদাহরণ। আমার দ্বারা এই কাজ হবে না।

২.৭ প্রযােজক কর্তা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে। যেমনঃ মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে মা হলেন প্রযোজক কর্তা।

২.৮ প্রদত্ত পদটির কারক / অকারক সম্পর্ক নির্দেশ করে তার চিহ্ন নির্ণয় করাে- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে।

উত্তরঃ

বুলবুলিতে– কর্তৃকারকে ‘তে’ বিভক্তি।

ধান– কর্মকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি।

খেয়েছে– সমাপিকা ক্রীয়াপদ।

২.৯ বাক্যে প্রয়ােগ করে উদাহরণ দাও— সমধাতুজ করণ।

উত্তরঃ ক্রিয়াপদ ও করণ যদি এক‌ই ধাতু থেকে সৃষ্টি হয়, তবে সেই করণকে সমধাতুজ করণ বলে। উদাহরণ– শক্ত বাঁধনে বেঁধেছি।

২.১০ “জন্ম নিল ফাউন্টেন পেন” কীভাবে ?

উত্তরঃ লুইস অ্যাডশন ওয়াটারম্যান ব্যাবসা চুক্তি স্বাক্ষর করতে গিয়ে চুক্তিপত্রে দোয়াতের কালি পড়ায়, আবার বাড়ি থেকে কালি সংগ্রহ করতে গিয়ে ব্যাবসা হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই তিনি ফাউন্টেন পেন তৈরি করেন।

৩। কম-বেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও (যে-কোনাে দুটি) : ৩x২=৬

৩.১ “নতুন মেসসাকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের।”— তপনের এই জ্ঞানচক্ষু খােলার কারণ কী ?

উত্তরঃ তপনের ছোটোমাসির বিয়ের পর সে জানতে পারে নতুন মেসো একজন লেখক। তার ধারণা ছিল লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন, যেন ভিন্ন জগতের মানুষ। কিন্তু কাছ থেকে দেখে সে বুঝতে পারে, মেসোও অন্যদের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, সময়মতো খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমান, খবরের কাগজ নিয়ে তর্ক করেন এবং ঘুরতে যান। এতে তার ভুল ধারণা ভেঙে যায়। সে উপলব্ধি করে, লেখকরাও সাধারণ মানুষ— এই উপলব্ধিতেই তার জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়।

৩.২ ‘‘আমরা ভিখারি বারোমাস’’- ‘আমরা ভিখারি বারোমাস’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ?

উত্তরঃ উদ্ধৃতিটি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার অংশ বিশেষ। আমরা ভিখারি বারোমাস বলতে কবি মানুষের মানসিক দৈন্যের কথা বলেছেন। কবির মতে নানান প্রতিকূলতা ও যুগযন্ত্রণার ক্ষত নিয়ে মানুষ বেঁচে আছে। সে পথহারা, তার মানসিক দৃঢ়তা শিথিল হয়ে পড়েছে। তার প্রকৃত ইতিহাসের সঠিক প্রতিফলন হয়নি জেনেও সে নিশ্চুপ ও বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। এভাবে আপাত দুর্বল ও ভীরু সাধারণ মানুষের অবহেলিত মানসিক দৈন্যের কথা বলতে গিয়ে কবি এমন মন্তব্য করেছেন।

৩.৩ “এল মানুষ ধরার দল”— মানুষ ধরার দল কারা ? তাদের বর্ণনা দাও। ১+২

উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘মানুষ ধরার দল’ বলতে নির্দয় ও হিংস্র সাম্রাজ্যবাদী শাসকের কথা বলেছেন।

শ্বেতাঙ্গ ঔপনিবেশিক শক্তির লাঞ্ছনা এবং নির্যাতনে আফ্রিকার বন-জঙ্গল বারংবার রক্তাক্ত হয়েছিল। তাদের নির্বিচার খুন ও হত্যার নৃশংসতায়; তারা হয়ে উঠেছিল বন্য নেকড়ের চেয়েও হিংস্র এবং কদর্য। অবক্ষয়ী এই তথাকথিত সভ্যরা ছিল দাস ব্যবসায়ী। কবির মতে নিরীহ মানুষকে পণ্য হিসেবে কেনাবেচা করার মিথ্যা গর্ব কিংবা অহমিকা আসলে এদের অসভ্য অমানবিকতার প্রকাশ। ইউরোপীয় শাসককুলের বর্বর লোভের এই ঘৃণ্য-করুণ ইতিহাসটিই কখনও ‘এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে’ কিংবা ‘এল মানুষ-ধরার দল’ শব্দবন্ধের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

৪। কমবেশি ১২৫টি শব্দে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৪×২=৮

৪.১ “যেখানে ছিল শহর”— সেখানকার কী পরিণতি হল ‘অসুখী একজন’ কবিতা অনুসরণে লেখাে।

উত্তরঃ উদ্ধৃতিটি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতার অংশ। কথক বা কবির বাসভূমি যে শহরে, এক্ষেত্রে সেখানকার কথা বলা হয়েছে। এই শহরটি কবি বা কথকের কাছে স্মৃতি বিজড়িত, কারণ এখানেই তিনি তার প্রিয় নারীটিকে অপেক্ষমান রেখে বহুদূরে পাড়ি দিয়েছিলেন। কবির এই বাসভূমি, প্রিয় মুখের সান্নিধ্যে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে, স্নিগ্ধতায় ও লাবণ্যে পরিপূর্ণ ছিল।

যুদ্ধের ভয়ংকর নিষ্ঠুরতায় কবির সেই শহর ধ্বংসের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ায়। যুদ্ধের আঘাতে সমস্ত সমতল জুড়ে আগুন লাগল। দেবালয়ও তার হাত থেকে রক্ষা পেল না। মানুষের মধ্যেকার যে দেবত্বের মিথ ছিল তা ধ্বংস হয়ে গেল। সেইসঙ্গে নিশ্চিহ্ন হল কবির মধুর স্মৃতি বিজড়িত সেই স্বপ্নের বাড়িটিও। কবির বারান্দায় যেখানে ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমিয়েছিলেন, তার প্রিয় গোলাপি গাছ, ছড়ানো করতলের মতো পাতা চিমনি ও প্রিয় জলতরঙ্গ সবই ধ্বংস হল যুদ্ধের আগুনে। গোটা শহরটাই পুড়ে গেল। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের বীভৎস মাথা ও রক্তের একটা কালো দাগ। কবির প্রিয় শহরের প্রতিচ্ছবি, যুদ্ধের বীভৎসতা- মানুষের লোভ, হিংসা এবং বর্বরতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে, যা পাঠককে স্তম্ভিত করেছে।

৪.২ আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।’- ‘আজ’ বলতে কোন্ দিনটির কথা বলা হয়েছে ? সেটি কী কারণে বক্তার কাছে সবচেয়ে দুঃখের দিন ? ১+৩

উত্তরঃ ‘আজ’ বলতে সেই দিনটির কথা বলা হয়েছে, যেদিন ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তপনের ‘প্রথম দিন’ গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল এবং সেই পত্রিকার সংখ্যা হাতে করে ছোটোমেসো তপনদের বাড়িতে এসেছিলেন।

তপন হঠাৎ করেই তার সাহিত্যিক ছোটোমেসোর স্নেহ ও সাহায্য পায়। ছোটোমেসো তাকে কথা দেন যে, তপনের লেখা গল্পটি একটু ঠিকঠাক করে তিনি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপিয়ে দেবেন। অনেক দিনের অপেক্ষার পর ছোটোমাসি ও ছোটোমেসো সেই পত্রিকা নিয়ে তপনদের বাড়িতে আসেন, যেখানে তপনের গল্প ছাপা হয়েছে। এতে বাড়িতে খুব আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু সবাই শুধু ছোটোমেসোর সংশোধন ও তার কৃতিত্বের কথাই বলতে থাকে, যেন তপনের নিজের কোনো ভূমিকা নেই। এতে তপনের আনন্দ ধীরে ধীরে মাটি হয়ে যায়। পরে মায়ের কথায় তপন যখন নিজের ছাপা গল্পটি পড়তে যায়, তখন সে বুঝতে পারে যে মেসো পুরো গল্পটাই বদলে দিয়েছেন, শুধু শিরোনামটি আগের মতো আছে। নিজের নামে অন্যের লেখা দেখে তপন খুব আঘাত পায়। সে এতটাই কষ্ট পায় যে কিছু বলতে পারে না এবং চুপ করে চোখের জল ফেলে। তাই দিনটি তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন হয়ে ওঠে।

৪.৩ ‘আমাদের কথা কে-বা জানে’- কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের কথা কেউ জানে না কেন ? ১+৩

উত্তরঃ কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত আলোচ্য পঙ্ক্তিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের আশ্রয়হারা, সর্বহারা সাধারণ মানুষের কথাই কবি বলতে চেয়েছেন।

সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রনায়ক ও সংকীর্ণ ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলি যেমন মনুষ্যত্বহীন ও নিষ্ঠুর, তেমনই সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে অসহায় অবস্থায় পড়ে। শ্রমজীবী ও শান্তিপ্রিয় মানুষ হিংসা, হানাহানি ও যুদ্ধের ভয়ংকর চক্রে পড়ে জীবিকা, আশ্রয় এবং বেঁচে থাকার সামান্য অধিকারটুকুও হারায়। তাদের শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনের আবেদন বারবার উপেক্ষিত হয়। ক্ষমতাবান ও সুবিধাভোগী শ্রেণি সাধারণ মানুষকে যেন চোখ-মুখ বেঁধে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। তাদের ন্যায়-অন্যায় বিচার করার সুযোগও থাকে না। তাদের প্রতিবাদী ও যুক্তিবাদী কণ্ঠস্বর দমন করা হয়। সাধারণ মানুষের কোনো গৌরবময় ইতিহাস নেই, অথবা থাকলেও তা কেবল দুঃখ ও বঞ্চনার ইতিহাস—

‘আমাদের ইতিহাস নেই / অথবা এমনই ইতিহাস’

প্রচলিত ইতিহাসে সাধারণত রাজা-মহারাজা ও শাসকদের কথাই লেখা থাকে। তাই সাধারণ মানুষের জীবনের কথা কেউ জানে না, জানতে চায়ও না। পৃথিবীর অসংখ্য নিরীহ মানুষ এতটাই সাধারণ যে তাদের দুঃখ-কষ্ট সমাজের আলোচনায় আসে না। রাষ্ট্রব্যবস্থা তাদের বঞ্চিত করে, সাম্রাজ্যবাদ তাদের শোষণ করে। সমাজ ও ইতিহাসে তাদের কষ্টের সঠিক মূল্যায়ন হয় না। তারা সবসময় নির্যাতিত ও সর্বহারা হয়ে থাকে। তাই তাদের কথা কেউ জানে না।

৫। কমবেশি ৬০টি শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৩x১=৩

৫.১ হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে কালি-কলমের প্রতি লেখকের যে ভালােবাসা ও আবেগ প্রকাশিত হয়েছে তা লেখাে।

উত্তরঃ ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে লেখক শ্রীপান্থ কালি-কলমের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আবেগ প্রকাশ করেছেন। ছোটবেলায় বাঁশের কলম, মাটির দোয়াত ও ঘরে তৈরি কালিতে লেখার স্মৃতি তাঁর মনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সেই সময় লেখালিখি ছিল আনন্দ ও আচারসম্মত কাজ। আধুনিক ডট পেনকে তিনি নির্লিপ্ত ও প্রাণহীন মনে করেন। তবু সময়ের প্রয়োজনে তা মেনে নিলেও, তাঁর হৃদয় পড়ে থাকে কালি-খেকো পুরোনো কলমের কাছেই।

৫.২ “আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই”— লেখকেরা কীভাবে কালি তৈরি করতেন সেই পদ্ধতিটি লেখাে।

উত্তরঃ লেখকদের কালি তৈরির পদ্ধতিটি ছিল বেশ সহজ। বাড়িতে কাঠের উনুনে যে কড়াইয়ে রান্না হত তার তলায় কালি জমত; সেই কালি লাউপাতা দিয়ে ঘষে তুলে নিয়ে পাথরের বাটিতে রাখা জলে গুলে নেওয়া হত। কেউ কেউ এর মধ্যে হরীতকী ঘষতেন ও পোড়া আতপচাল গুড়িয়ে মেশাতেন। সবশেষে খুন্তিকে লাল করে পুড়িয়ে সেই জলে ডোবালে জল ফুটে উঠত। ঠান্ডা হলে ন্যাকড়ায় ছেঁকে দোয়াতে ভরে নেওয়া হত ঘরে তৈরি এই কালি।

৬। কমবেশি ১২৫টি শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৪×১=৪

৬.১ “খাওয়ায় আমার লোভ নেই। ডায়েটিং করি।”- বক্তা কে ? তিনি আগে কেমন খেতেন ? ডায়েটিং এর পরে কী ধরনের আহার গ্রহণ করেন ?১+১+২

উত্তরঃ মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাস থেকে গৃহীত উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন বিষ্টুচরণ ধর ওরফে পাড়ার সকলের ‘বেষ্টাদা’।

বিষ্টু ধরের দেহের ওজন সাড়ে তিন মন। কাজেই বিশাল বপুর উপযুক্ত ছিল তার খাদ্যতালিকা। আগে খাদ্যতালিকা সে রোজ আধ কিলো ক্ষীর, জলখাবারে কুড়িটা লুচি খেত। প্রচুর ঘিও খেত সে।

বর্তমানে বিষ্টু ধর ডায়েটিং করছে। তাই তাঁকে খাওয়া-দাওয়ায় বেশ সংযম আর নিয়ম মানতে দেখা যায়। সে এখন খুব হিসেব করে খাবার খায়। তাই সে মাত্র তিনশো গ্রাম ক্ষীর খায়। জলখাবারে লুচি কমে হয়েছে পনেরোটা, ভাত খায় মেপে আড়াইশো গ্রাম চালের। আর গরম ভাতের সঙ্গে চার চামচ ঘি খায়। বিকেলে দু-গ্লাস শরবত আর চারটে কড়া পাকের সন্দেশ। মাছ-মাংস সে ছোঁয় না।

৬.২ কোনির পারিবারিক জীবনের পরিচয় দাও। ৪

উত্তরঃ মতি নন্দীর লেখা ‘কোনি’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনি শ্যামপুকুর বস্তির একটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। তাদের সংসারে দারিদ্র্যের ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ঘরে প্রায় কোনো আসবাবপত্র নেই। একটি তক্তাপোশ আছে, তার উপর কয়েকটি ছোট ও ময়লা বালিশ। ঘরের দেয়ালে দড়ি টাঙানো, সেখানে কয়েকটি নোংরা জামা-কাপড় ঝোলানো থাকে। তাদের ঘর খোলার চালের, আর আছে মাত্র একটি জানলা। সেই জানলার নিচেই পাঁকে ভরা নর্দমা।

কোনিদের পরিবারে সাত ভাই-বোন। তাদের বাবা একটি প্যাকিং কারখানায় কাজ করতেন। কিন্তু তিনি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের সমস্ত দায়িত্ব বড় ছেলে কমলের উপর পড়ে। কমল রাজাবাজারের একটি মোটর গ্যারাজে কাজ করে প্রায় শ-দেড়েক টাকা রোজগার করত। এক সময় সে অ্যাপোলো ক্লাবের সাঁতারু ছিল, কিন্তু চরম দারিদ্র্য ও খাদ্যের অভাবে তাকে সাঁতার ছেড়ে দিতে হয়। পরে সংসারের অভাব মেটাতে ছোট ভাইকে পনেরো টাকা মাইনে দিয়ে চায়ের দোকানে কাজ করতে পাঠানো হয়। এমনকি কোনিকেও ষাট টাকা মাইনে দিয়ে সুতো কারখানায় কাজ করানোর কথা ভাবা হয়েছিল। মেজো ভাই ট্রেনের ইলেকট্রিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়, আর সেজো ভাই কাঁচরাপাড়ায় পিসির বাড়িতে থাকত।

তাদের প্রতিদিনের খাবার ছিল খুবই সামান্য— কিছু ভাত, সঙ্গে কাঁচা লঙ্কা, কাঁচা পেঁয়াজ আর ফ্যান। তারা কলাই ও অ্যালুমিনিয়ামের থালায় খাবার খেত। এইভাবেই কোনির পরিবার চরম দারিদ্র্যের মধ্যে কঠিন জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিল। ‘কোনি’ উপন্যাসে এই দুঃখ-কষ্টে ভরা পারিবারিক জীবনের করুণ চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে।

৭. চলিত গদ্যে বঙ্গানুবাদ করাে: ৪

Sister Nivedita, known as Margaret Elizabeth Noble in earlier life, was born in Ireland in 1867. After finishing her education she settled down in England in the teaching profession. During this period she happened to meet Swami Vivekananda at London home. She accepted him as her master.

বঙ্গানুবাদঃ ভগিনী নিবেদিতা, আগে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল নামে পরিচিত ছিলেন, 1867 সালে আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পড়া শেষ করার পরে, তিনি ইংল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন শিক্ষকতা করার জন্য। এই সময়ে, তার সাথে স্বামী বিবেকানন্দের দেখা হয়েছিল লন্ডনের বাড়িতে। তাঁর শিক্ষার দ্বারা অত্যন্ত আকৃষ্ট হয়ে, তিনি তাঁকে তাঁর গুরু হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।

📌 আরো দেখোঃ

📌দশম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌দশম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌দশম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 মাধ্যমিক প্রশ্নপত্র সমস্ত বিষয় Click Here

📌 মাধ্যমিক মক্ টেস্ট সমস্ত বিষয় Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply