চন্দ্রগুপ্ত নাটকের বিষয়বস্তু অষ্টম শ্রেণি বাংলা | Chondrogupto Natoker Bisoibostu Class 8 Bengali wbbse

চন্দ্রগুপ্ত নাটকের বিষয়বস্তু অষ্টম শ্রেণি বাংলা | Chondrogupto Natoker Bisoibostu Class 8 Bengali wbbse

চন্দ্রগুপ্ত
—দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

চন্দ্রগুপ্ত নাটকের নাট্যকার পরিচিতি, বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ ও টীকা, অষ্টম শ্রেণির বাংলা | Chondrogupto Natoker Bisoibostu Class 8 Bengali wbbse

চন্দ্রগুপ্ত নাটকের নাট্যকার পরিচিতি, বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ ও টীকা, অষ্টম শ্রেণির বাংলা | Chondrogupto Natoker Bisoibostu Class 8 Bengali wbbse

📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

চন্দ্রগুপ্ত নাটকের নাট্যকার পরিচিতি, বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ ও টীকা, অষ্টম শ্রেণির বাংলা | Chondrogupto Natoker Bisoibostu Class 8 Bengali wbbse

নাট্যকার পরিচিতিঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) : প্রখ্যাত কবি ও নাট্যকার। ১৮৮৪ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে এম. এ পাশ করেন। কৃষিবিদ্যা শিক্ষার জন্য বিলেত গিয়েছিলেন। সেখানে পাশ্চাত্য সংগীত শেখেন। অল্প বয়সে কাব্যরচনা শুরু করে ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রধানত কাব্যই রচনা করেন। জীবনের শেষ দশ বছর তিনি পৌরাণিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক নাটক রচনায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর রচনার মধ্যে হাসির গান, চন্দ্রগুপ্ত, সাজাহান, মেবার পতন, প্রতাপসিংহ, নুরজাহান, সীতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পাঠ্য নাট্যাংশটি তাঁর চন্দ্রগুপ্ত নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্য থেকে নেওয়া হয়েছে।

বিষয়সংক্ষেপঃ সিন্ধু নদেরতটে সন্ধ্যাকালে শিবিরের সামনে সেকেন্দার, সেলুকস ও তাঁর কন্যা হেলেন দণ্ডায়মান। গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের ভূ-প্রকৃতি, নদনদী, বনরাজির সৌন্দর্য ব্যাখ্যায় মগ্ন। প্রসঙ্গক্রমে এই সবকিছু ছাড়িয়ে এক সৌম্য, গৌর, দীর্ঘ-কান্তি জাতির গৌরবে প্রশংসায় রত, যারা দীর্ঘদিন এই দেশ শাসন করছে। তাদের মুখে শিশুর সারল্য, দেহে বজ্রের শক্তি, চোখে সূর্যের দীপ্তি, বুকে ঝড়ের সাহস। যখন রাজা পুরুকে বন্দি করে তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন তাঁর প্রতি কীরূপ আচরণ প্রত্যাশিত পুরু উত্তর দেন—“রাজার প্রতি রাজার আচরণ !

মহান সম্রাট তাঁর বীরত্ব ও সাহসের পরিচয় পেয়ে তাঁর রাজ্য ফিরিয়ে দেন। ম্যাসিডনের যে বিজয়বাহিনী অর্ধেক এশিয়া জয় করেছে, সেই বীরবাহিনী এই ভারতবর্ষের শতদ্রুতীরে প্রথমবার বাধা পেল। সেনাপতি সেলুকসকে দিগবিজয় অসম্পূর্ণ রাখার কারণ হিসেবে সেকেন্দার জানান ‘সে দিগবিজয় সম্পূর্ণ করতে হলে নূতন গ্রিক সৈন্য চাই। ইতিমধ্যে সেনাধ্যক্ষ আন্টিগােনস গুপ্তচর সন্দেহে মগধের রাজপুত্র চন্দ্রগুপ্তকে ধরে নিয়ে এলে সে জানায়, বহুদিন অবধি সেনাপতি সেলুকসের কাছ থেকে প্রাপ্ত যুদ্ধবিদ্যা তিনি লিপিবদ্ধ করছিলেন। চন্দ্রগুপ্ত তাঁর নিজের সিংহাসন পুনরুদ্ধার করার জন্য বৈমাত্রেয় ভাইয়ের অন্যায়ের প্রতিশােধ নিতে সে যুদ্ধ-কৌশল শিখছে।

বিশ্বাসঘাতক কে ? —এই বিষয় নিয়ে সম্রাট সেকেন্দারের সামনেই সেলুকস ও আন্টিগােনস লড়াইয়ে লিপ্ত হলেন। আন্টিগােনসকে তাঁর অভব্য আচরণের জন্য নির্বাসিত করা হল। চন্দ্রগুপ্তের গুপ্তচর হয়ে প্রবেশ করার অপরাধে তাঁকে বন্দি করার কথা জানালে চন্দ্রগুপ্ত সম্রাট সেকেন্দারকে কাপুরুষ বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, তাঁকে বধ না-করে বন্দি করতে পারবেন না। সম্রাট সেকেন্দার তাঁর বীরত্বের প্রশংসা করে তাঁকে হৃত রাজ্য পুনরুদ্ধার করার এবং দিগবিজয়ী হওয়ার ভবিষ্যদবাণী করেন।

নামকরণঃ সাহিত্যে-শিল্প ক্ষেত্রে নামকরণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রচনার নামকরণের মাধ্যমে লেখক এক মুহূর্তেই পাঠকের মনে রচনাটির অন্তর্দেশের সংবাদ সম্পর্কে একটি ধারণা দেন। পাঠ্যের নাট্যাংশটি ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নামক মূল নাটকের একটি অংশমাত্র। মূল নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চন্দ্রগুপ্ত। অন্তত নাটকের নামকরণে তারই ইঙ্গিত রয়েছে। নাটকের মূল বৃত্ত এবং সংযােজিত তিনটি উপবৃত্তই তা প্রমাণ করে। নাটকের প্রথম অংকের প্রথম দৃশ্যে চন্দ্রগুপ্তের শৌর্য, সাহসিকতা, উদ্যম সংকল্পের দৃঢ়তা অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্র হওয়ার যােগ্যতা দেখানাে হয়েছে। এ ছাড়া মূল নাটকের পাঁচটি অঙ্কের ছাব্বিশটি দৃশ্যের মধ্যেও চন্দ্রগুপ্তেরই প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। সুতরাং, কেন্দ্রীয় চরিত্রের নামানুসারে আলোচ্য নাটকের নামকরণ ‘চন্দ্রগুপ্ত’ অবশ্যই সংগত এবং সার্থক হয়েছে বলা যায়।

চন্দ্রগুপ্ত নাটক
—দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

(স্থান- সিন্ধু-নদতট; দূরে গ্রিক জাহাজ-শ্রেণি। কাল সন্ধ্যা।)

(নদতটে শিবির-সম্মুখে সেকেন্দার ও সেলুকস অস্তগামী সূর্যের দিকে চাহিয়াছিলেন। হেলেন সেলুকসের হস্ত ধরিয়া তাঁহার পার্শ্বে দণ্ডায়মানা। সূর্যরশ্মি তাঁহার মুখের উপর আসিয়া পড়িয়াছিল।)

সেকেন্দার। সত্য সেলুকস। কী বিচিত্র এই দেশ। দিনে প্রচণ্ড সূর্য এর গাঢ় নীল আকাশ পুড়িয়ে দিয়ে যায়; আর রাত্রিকালে শুভ্র চন্দ্রমা এসে তাকে স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নায় স্নান করিয়ে দেয়। তামসী রাত্রে অগণ্য উজ্জ্বল জ্যোতিঃপুঞ্জে যখন এর আকাশ ঝলমল করে, আমি বিস্মিত আতঙ্কে চেয়ে থাকি। প্রাবৃটে ঘন-কৃষ্ণ মেঘরাশি গুরুগম্ভীর গর্জনে প্রকাণ্ড দৈত্যসৈন্যের মতো এর আকাশ ছেয়ে আসে; আমি নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে দেখি। এর অভ্রভেদী-তুষার-মৌলি নীল হিমাদ্রি স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এর বিশাল নদ-নদী ফেনিল উচ্ছ্বাসে উদ্দাম বেগে ছুটেছে। এর মরুভূমি স্বেচ্ছাচারের মতো তপ্ত বালুরাশি নিয়ে খেলা করছে।

সেলুকস। সত্য সম্রাট।

সেকেন্দার। কোথাও দেখি, তালীবন গর্বভরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে; কোথাও বিরাট বট স্নেহছায়ায় চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও মদমত্ত মাতঙ্গ জঙ্গমপর্বতসম মন্থর গমনে চলেছে; কোথাও মহাভুজঙ্গম অলস হিংসার মতো বক্র রেখায় পড়ে আছে; কোথাও বা মহাশৃঙ্গ কুরঙ্গম মুগ্ধ বিস্ময়ের মতো নির্জন বনমধ্যে শূন্য-প্রেক্ষণে চেয়ে আছে। আর সবার উপরে এক সৌম্য, গৌর, দীর্ঘ-কান্তি জাতি এই দেশ শাসন করছে, তাদের মুখে শিশুর সারল্য, দেহে বজ্রের শক্তি, চক্ষে সূর্যের দীপ্তি, বক্ষে বাত্যার সাহস। এ শৌর্য পরাজয় করে আনন্দ আছে। পুরুকে বন্দি করে আনি যখন সে কি বললে জানো?

সেলুকস। কী সম্রাট।

সেকেন্দার। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আমার কাছে কীরূপ আচরণ প্রত্যাশা করো?’- সে নির্ভীক নিষ্কম্পম্বরে উত্তর দিল, ‘রাজার প্রতি রাজার আচরণ।’ চমকিত হলাম। ভাবলাম এ একটা জাতি বটে। আমি তৎক্ষণাৎ তাকে তার রাজ্য প্রত্যর্পণ করলাম।

সেলুকস। সম্রাট মহানুভব।

সেকেন্দার। মহানুভব। তার পরে তার সঙ্গে অন্যরূপ ব্যবহার সম্ভব? মহৎ কিছু দেখলেই একটা উল্লাস আসে। আর আমি এখানে সাম্রাজ্য স্থাপন করতে আসি নাই। আমি এসেছি শৌখিন দিগ্বিজয়ে। জগতে একটা কীর্তি রেখে যেতে চাই।

সেলুকস। তবে এ দিগ্বিজয় অসম্পূর্ণ রেখে যাচ্ছেন কেন সম্রাট?

সেকেন্দার। সে দিগ্বিজয় সম্পূর্ণ করতে হলে নূতন গ্রিক সৈন্য চাই। কী আশ্চর্য সেনাপতি। দূর মাসিডন থেকে রাজ্য, জনপদ তৃণসম পদতলে দলিত করে চলে এসেছি। ঝঞ্ঝার মতো এসে মহাশত্রুসৈন্য ধূমরাশির মতো উড়িয়ে দিয়েছি। অর্ধেক এশিয়া মাসিডনের বিজয়বাহিনীর বীরপদভরে কম্পিত হয়েছে। নিয়তির মতো দুর্বার, হত্যার মতো করাল, দুর্ভিক্ষের মতো নিষ্ঠুর আমি অর্ধেক এশিয়ার বক্ষের উপর দিয়ে আমার বুধিরাক্ত বিজয়-শকট অবাধে চালিয়ে গিয়েছি। কিন্তু বাধা পেলাম প্রথম সেই শতদ্রুতীরে।

(চন্দ্রগুপ্তকে ধরিয়া আন্টিগোনসের প্রবেশ।)

সেকেন্দার। কী সংবাদ আন্টিগোনস? ও কে?

আন্টিগোনস। গুপ্তচর।

সেলুকস। সে কি!

সেকেন্দার। গুপ্তচর।

আন্টিগোনস। আমি দেখলাম যে এক শিবিরের পাশে বসে নির্জনে শুষ্ক তালপত্রে কী লিখছিল। আমি দেখতে চাইলাম। পত্রখানি দেখাল। পড়তে পারলাম না। তাই সম্রাটের কাছে নিয়ে এসেছি।

সেকেন্দার। কী লিখছিলে যুবক। সত্য বলো।

চন্দ্রগুপ্ত। সত্য বলব। রাজাধিরাজ। ভারতবাসী মিথ্যা কথা বলতে এখনও শিখে নাই।

সেকেন্দার একবার সেলুকসের প্রতি চাহিলেন, পরে চন্দ্রগুপ্তকে কহিলেন —

সেকেন্দার। উত্তম। বলো কী লিখছিলে?

চন্দ্রগুপ্ত। আমি সম্রাটের বাহিনী-চালনা, ব্যূহ রচনা-প্রণালী, সামরিক নিয়ম, এই সব মাসাবধি কাল ধরে শিখছিলাম।

সেকেন্দার। কার কাছে?

চন্দ্রগুপ্ত। এই সেনাপতির কাছে।

সেকেন্দার। সত্য সেলুকস?

সেলুকস। সত্য।

সেকেন্দার। [ চন্দ্রগুপ্তকে ] তার পর?

চন্দ্রগুপ্ত। তারপর গ্রিক সৈন্য কাল এ স্থান পরিত্যাগ করে যাবে শুনে, আমি যা শিখেছি তা এই পত্রে লিখে নিচ্ছিলাম।

সেকেন্দার। কী অভিপ্রায়ে?

চন্দ্রগুপ্ত। সেকেন্দার সাহার সঙ্গে যুদ্ধ করবার জন্যে নহে।

সেকেন্দার। তবে —

চন্দ্রগুপ্ত। তবে শুনুন সম্রাট। আমি মগধের রাজপুত্র চন্দ্রগুপ্ত। আমার পিতার নাম মহাপদ্ম। আমার বৈমাত্র ভাই নন্দ সিংহাসন অধিকার করে আমায় নির্বাসিত করেছে। আমি তারই প্রতিশোধ নিতে বেরিয়েছি।

সেকেন্দার। তারপর।

চন্দ্রগুপ্ত। তারপর শুনলাম মাসিডন ভূপতির অদ্ভুত বিজয়বার্তা। অর্ধেক এশিয়া পদতলে দলিত করে নদনদীগিরি দুর্বার বিক্রমে অতিক্রম করে, শুনলাম তিনি ভারতবর্ষে এসে আর্যকুলরবি পুরুকে পরাজিত করেছেন। হে সম্রাট। আমার ইচ্ছা হলো যে দেখে আসি কী সে পরাক্রম, যার ভ্রুকুটি দেখে, সমস্ত এশিয়া তার পদতলে লুটিয়ে পড়ে; কোথায় সে শক্তি লুক্কায়িত আছে, আর্যের মহাবীর্যও যার সংঘাতে বিচলিত হয়েছে। তাই এখানে এসে সেনাপতির কাছে শিক্ষা করছিলাম। আমার ইচ্ছা, শুধু আমার হৃত রাজ্য পুনরুদ্ধার করা। এই মাত্র।

সেকেন্দার সেলুকসের পানে চাহিলেন।

সেলুকস। আমি এরূপ বুঝি নাই। যুবকের চেহারা, কথাবার্তা আমার মিষ্ট লাগত। আমি সরলভাবে গ্রিক সামরিক প্রথা সম্বন্ধে যুবকের সঙ্গে আলোচনা করতাম। বুঝি নাই যে এ বিশ্বাসঘাতক?

আন্টিগোনস। কে বিশ্বাসঘাতক?

সেলুকস। এই যুবক।

আন্টিগোনস। এই যুবক, না তুমি?

সেলুকস। আন্টিগোনস? আমার বয়স না মানো, পদবি মেনে চলো।

আন্টিগোনস। জানি তুমি গ্রিক সেনাপতি, তা সত্ত্বেও তুমি বিশ্বাসঘাতক।

সেলুকস। আন্টিগোনস!

তরবারি বাহির করিলেন

আস্টিগোনস ক্ষিপ্রতর হস্তে তরবারি বাহির করিয়া সেলুকসের শির লক্ষ্য করিয়া তরবারি ক্ষেপণ করিলেন। ততোধিক ক্ষিগ্রহস্তে চন্দ্রগুপ্ত নিজ তরবারি বাহির করিয়া সে আঘাত নিবারণ করিলেন। আন্টিগোনস তাঁহাকে ছাড়িয়া চন্দ্রগুপ্তকে আক্রমণ করিলেন।

সেকেন্দার। নিরস্ত হও।

সেই মুহূর্তেই আন্টিগোনসের তরবারি চন্দ্রগুপ্তের তরবারির আঘাতে ভূপতিত হইল।

সেকেন্দার। আন্টিগোনস!

আন্টিগোনস লজ্জায় শির অবনত করিলেন।

সেকেন্দার। আন্টিগোনস। তোমার এই ঔদ্ধত্যের জন্য তোমায় আমার সাম্রাজ্য থেকে নির্বাসিত করলাম।

একজন সামান্য সৈন্যাধ্যক্ষের এতদূর স্পর্ধা! আমি এতক্ষণ বিস্ময়ে অবাক হয়ে চেয়েছিলাম। তোমার এতদূর স্পর্ধা হতে পারে’ তা আমার স্বপ্নেরও অগোচর ছিল। যাও, এই মুহূর্তেই তোমায় নির্বাসিত করলাম।

[ আন্টিগোনসের প্রস্থান ]

সেকেন্দার। আর সেলুকস। তোমার অপরাধ তত নয়। কিন্তু ভবিষ্যতে স্মরণ রেখো যে গ্রিক সম্রাটের সম্মুখে চক্ষু রক্তবর্ণ করা গ্রিক সেনাপতির শোভা পায় না আর যুবক!

চন্দ্রগুপ্ত। সম্রাট!

সেকেন্দার। তোমায় যদি বন্দি করি?

চন্দ্রগুপ্ত। কী অপরাধে সম্রাট?

সেকেন্দার। আমার শিবিরে তুমি শত্রুর গুপ্তচর হয়ে প্রবেশ করেছ, এই অপরাধে।

চন্দ্রগুপ্ত। এই অপরাধে! ভেবেছিলাম যে সেকেন্দার সাহা বীর, দেখছি যে তিনি ভীরু। এক গৃহহীন নিরাশ্রয় হিন্দু রাজপুত্র ছাত্রহিসাবে তাঁর কাছে উপস্থিত, তাতেই তিনি ত্রস্ত। সেকেন্দার সাহা এত কাপুরুষ তা ভাবি নাই।

সেকেন্দার! সেলুকস! বন্দি করো।

চন্দ্রগুপ্ত। সম্রাট আমায় বধ না করে বন্দি করতে পারবেন না।

তরবারি বাহির করিলেন

সেকেন্দার। [ সোল্লাসে] চমৎকার। যাও আমি তোমায় বন্দি করব না। আমি পরীক্ষা করছিলাম মাত্র। নির্ভয়ে তুমি তোমার রাজ্যে ফিরে যাও। আর আমি এক ভবিষ্যদ্বাণী করি, মনে রেখো। তুমি হৃত রাজ্য উদ্ধার। করবে। তুমি দুর্জয় দিগবিজয়ী হবে। যাও বীর! মুক্ত তুমি।

∆ শব্দার্থ ও টীকা—

• নদতট— নদীর তীর
জাহাজ শ্রেণি— জাহাজের সারি
• শিবির— ছাউনি, তাঁবু
• কাল— সময়
• সম্মুখে— সামনে
• সেকেন্দার— সেকেন্দার অর্থাৎ আলেকজান্ডার হলেন গ্রিসের অন্তর্গত মাসিডনের রাজা ফিলিপের পুত্র। পিতার মৃত্যুর পর ২০ বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে বসেন। এরপর তিনি দিগবিজয়ে বের হন। তিনি ভারতে এসে পুরুরাজের কাছে প্রথম বাধা পান। জয় লাভ করলেও তাঁর শৌর্য ও সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে রাজ্য ফিরিয়ে দেন। দেশে ফেরার সময় পথে ব্যাবিলনে তাঁর মৃত্যু হয়।
• সেলুকস— সেকেন্দার সাহার সেনাপতি
• হেলেন— গ্রিক সেনাপতি সেলুকসের কন্যা
• অস্তগামী— অম্ভ যাচ্ছে এমন
• চাহিয়া— চেয়ে
• হস্ত— হাত • পার্শ্বে— পাশে
• দণ্ডায়মানা— দাঁড়িয়ে আছে এমন (মহিলা)
• সূর্যরশ্মি— সূর্যের আলো
• বিচিত্র— বৈচিত্র্যপূর্ণ
• প্রচন্ড— প্রখর, ভয়ানক
• গাঢ়— ঘন, জমাটবদ্ধ
• শুভ্র— সাদা • চন্দ্ৰমা— চাঁদ • স্নিগ্ধ— মনোরম
• জ্যোৎস্না— চাঁদের আলো
• অগণ্য— অগণিত, অসংখ্য
• তামসী— অন্ধকারময়ী
• উজ্জ্বল— আলোকিত
• জ্যোতিঃপুঞ্জে— আকাশে দীপ্তিমান গ্রহ নক্ষত্রতে
• বিস্মিত— অবাক • আতঙ্কে— ভয়ে
• প্রাবৃটে— বর্ষাকালে • ঘন-কৃষ্ণ— ঘন কালো
• গুরুগম্ভীর— ওজন সম্পন্ন
• গর্জন— উচ্চ বা গম্ভীর শব্দ
• প্রকান্ড— বিরাট • নির্বাক— নীরব, বাকশূন্য,
• অভ্রভেদী— আকাশ ভেদ করে এমন
• তুষার-মৌলি— যার চূড়া বরফে ঢাকা
• হিমাদ্রি— হিমালয় পর্বত
• ফেনিল— ফেনাযুক্ত
• উচ্ছ্বাস— প্রবল ভাবাবেগ, (এখানে) জলস্ফীতি
• উদ্দাম— উন্মত্ত
• স্বেচ্ছাচার— নিজের ইচ্ছামতো কাজ করা
• তপ্ত— গরম
• বালুরাশি— অনেক পরিমাণ বালি
• গর্বভরে— অহংকারের সঙ্গে
• তালীবন— তালগাছের বন
• স্নেহছায়া— আদরের আশ্রয়, নাইকে ‘সেইছায়া’ হিসেবে থাকলেও ঠিক শব্দটি হল ‘মেহাচ্ছায়া।
• মদমত্ত— অহংকারে উন্মত্ত
• জম্পনপর্বতসম— গতিশীল পাহাড়ের মতো
• মহাভুজ— বিশাল
নির্জন— জনহীন জনশূন্য
• বক্র রেখা— আঁকাবাঁকা রেখা
• অলস— কুঁড়ে
• মহাশৃঙ্গ— বিরাট পর্বতশৃঙ্গ
• মুগ্ধ— মোহিত
• কুরঙ্গম— হরিণ
• শূন্য-প্রেক্ষণে— শূন্যদৃষ্টিতে
• সৌম্য— প্রশান্ত ও সুন্দর,
• গৌর— ফরসা
• দীর্ঘ কান্তি— সুন্দর লম্বা দেহের অধিকারী
• বজ্র— বাজ, অগ
• দীপ্তি— আলোক, কিরণ
• বাত্যা— ঝড়, প্রবল বাতাস
• বক্ষে— বুকে • শৌর্য— বীরত্ব
• আচরণ— ব্যবহার • প্রত্যাশা— আকাঙ্ক্ষা
• নির্ভীক— যার ভয় নেই, সাহসী
• নিষ্কম্পস্বরে— গলার স্বর না কাঁপিয়ে
• চকিত— চমকে ওঠা
• প্রত্যর্পণ— ফিরিয়ে দেওয়া
• তৎক্ষণাৎ— সঙ্গে সঙ্গে, অবিলম্বে
• মহানুভব— মহান অনুভবের অধিকারী, উদার মন যার
• মহৎ— উদার • উল্লাস— আনন্দ
• সাম্রাজ্য— সম্রাটের অধীনে থাকা অনেক ক্ষুদ্র রাজ্য নিয়ে গঠিত বিশাল রাজ্য
• শৌখিন— বিলাসী, যা শখ মেটায় বা তৃপ্ত করে
দিগ্বিজয়— সকল দিক জয় করা
• কীর্তি— যশ, সুখ্যাতি
অসম্পূর্ণ— যা শেষ হয়নি
• সম্রাট— বহু রাষ্ট্র ও জনপদের অধিকারী, সার্বভৌম রাজা, রাজাধিরাজ
• মাসিডন— একটি গ্রিক রাজ্য, সেকেন্দর সাহা এর অধিপতি ছিলেন
• জনপদ— লোকালয়
• পদতলে— পায়ের তলায় • দলিত— পিষ্ট
• তৃণসম— ঘাসের সমান
• ঝঞ্ঝা— ঝড়
• ধূমরাশি— (এখানে) ধুলোর রাশি
• বীরপদভরে— (এখানে) বীর সৈন্যদের পায়ের চাপে
• কম্পিত— কাঁপতে থাকা অবস্থা
• নিয়তি— অদৃষ্ট
• দুর্বার— যাকে বাধা দেওয়া কঠিন
• করাল— ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ আকাল, খাদ্যাভাব
রুধিরাক্ত— রক্তাক্ত
• বিজয় শকট— বিজয় রথ
• অবাধে— বিনাবাধায়
• চন্দ্রগুপ্ত— মগধের রাজা এবং মৌর্যবংশের প্রতিষ্ঠাতা। ইনি নন্দবংশকে ধ্বংস করে এই সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। এঁর পুত্র হলেন বিন্দুসার এবং পৌত্র ছিলেন সম্রাট অশোক।
• আন্টিগোনস— গ্রিক যোদ্ধা ও সেকেন্দর সাহার সেনাধ্যক্ষ
• সংবাদ— খবর
• গুপ্তচর— গোপনে খবর দেওয়া-নেওয়া করে যে
• শুষ্ক— শুকনো
• তালপত্র— তালপাতা
• রাজাধিরাজ— মহারাজ
• উত্তম— ভালো
• ব্যূহ— যুদ্ধের জন্য কৌশল সহকারে সৈন্যদের সাজানো
• প্রণালী— কৌশল বা পদ্ধতি
• সামরিক— যুদ্ধ সম্বন্ধীয়
• মাসাবধিকাল— একমাস ধরে
• পরিত্যাগ— ছেড়ে দেওয়া
• অভিপ্রায়ে— উদ্দেশ্যে
• মগধ— প্রাচীন ভারতবর্ষের একটি রাজ্য। ‘মহাভারতে এই রাজ্যের উল্লেখ আছে।
• মহাপদ্ম— মগধের রাজা,ইনি নন্দবংশের প্রতিষ্ঠাতা। ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাট্যাংশ অনুযায়ী ইনি চন্দ্রগুপ্তের পিতা ।
• বৈমাত্র— সৎমার গর্ভজাত
• নির্বাসিত— নিজের দেশ থেকে বহিষ্কৃত
• প্রতিশোধ— অপকারের পরিবর্তে অপকার, বদলা
• ভূপতি— রাজা • বিক্রম— পরাক্রম
• পরাক্রম— বিক্রম
• লুক্কায়িত— লুকানো • সংঘাতে— সংঘর্ষে
• বিজয়বার্তা— জয়ের সংবাদ
• আর্যকুলরবি— ক্ষত্রিয়শ্রেষ্ঠ
• ভ্রুকুটি— ভুরু কোঁচকানো
• মহাবীর্য— মহাতেজ, প্রচণ্ড শক্তি
• বিচলিত— অস্থির
• হৃত— যা হারিয়ে গেছে
• পুনরুদ্ধার— ফিরে পাওয়া
• পানে— দিকে • প্রথা— নিয়ম, রীতি
• বিশ্বাসঘাতক— বিশ্বাস ভঙ্গ করে যে
• পদবি— যে নামের মধ্য দিয়ে বংশের পরিচয় দেওয়া হয়, (এখানে) সেনাবাহিনীর পদমর্যাদা
• সেনাপতি— সৈন্যদলের সবচেয়ে উঁচু পদে অবস্থান করে যিনি সেনাদলকে পরিচালনা করেন
• তরবারি— তলোয়ার
• ক্ষিপ্রতর— দ্রুততর,আরও তাড়াতাড়ি
• শির— মাথা • ক্ষেপণ— নিক্ষেপ
• ক্ষিপ্রহস্তে— দ্রুত হাতে
• নিবারণ— নিষেধ, বারণ, দূরীকরণ (এখানে) আটকানো, প্রতিহত করা
• নিরস্ত— বিরত, নিবৃত্ত
• অবনত— নীচের দিকে ঝুঁকে রয়েছে এমন, আনত
• ঔদ্ধত্য— উদ্ধত আচরণ, দেমাক, অবিনয়
• সৈন্যাধ্যক্ষ— সৈন্যদের প্রধান
• স্পর্ধা— দর্প, বড়াই, অহংকারপূর্ণ দুঃসাহস
• অগোচর— জানার বাইরে, দৃষ্টির আড়ালে
• স্মরণ রেখো— মনে রেখো
• চক্ষু রক্তবর্ণ— চোখ রাঙানো
• নিরাশ্রয়— যার আশ্রয় নেই
• ভীরু— ভীতু
• কাপুরুষ— ভীতু, সাহসহীন পুরুষ, ভয়ে কর্তব্য ভুলে যায় বা আত্মসম্মান বিসর্জন দেয় এমন মানুষ
• ত্রস্ত— ভীত • বধ— হত্যা
• সোল্লাসে— উল্লাস বা আনন্দের সঙ্গে
• চমৎকার— অপূর্ব
• ভবিষ্যদ্‌বাণী— ভবিষ্যতে কী ঘটবে আগে থেকে সেই কথা বলা
• দুর্জয়— যাকে জয় করা কঠিন

📌 আরো দেখুনঃ

📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ

📌 অষ্টম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 অষ্টম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 অন্যান্য ক্লাসের বাংলা প্রশ্নোত্তরঃ

📌পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply

  • Post comments:0 Comments
  • Reading time:12 mins read