বুনো হাঁস গল্পের প্রশ্ন উত্তর পঞ্চম শ্রেণি বাংলা | Buno Hans Golper Prosno Uttor Class 5 Bengali wbbse

পাতাবাহার
বাংলা | পঞ্চম শ্রেণি 

বুনো হাঁস গল্পের প্রশ্ন উত্তর পঞ্চম শ্রেণির বাংলা | Buno Hans Golper Question Answer Class 5 Bengali wbbse

📌 পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌পঞ্চম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 পঞ্চম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

বুনো হাঁস গল্প
—লীলা মজুমদার

এ খন যদি আকাশের দিকে চেয়ে দ্যাখো, দেখতে পাবে দলে দলে বুনো হাঁস, তিরের ফলার আকারে, কেবলই উত্তর দিকে উড়ে চলেছে। কেউ এত উঁচুতে উড়ছে যে কোনো শব্দ নেই; কারো শুধু ডানার শোঁ শোঁ শোনা যাচ্ছে; আবার কেউ বা বলছে গাঁক গাঁক গাঁক। ওরা গরম দেশে শীত কাটিয়ে এখন শীতের শেষে আবার নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছে। ওদের বেশি গরমও সয় না, আবার বেশি শীতও সয় না।

কেউ কেউ হিমালয়ের উত্তর দিক থেকে, বরফের পাহাড় পেরিয়ে আসে। অনেকে নাকি ভারতের মাটি পার হয়ে, সমুদ্রের ওপর দিয়ে উড়ে ছোটো ছোটো দ্বীপে গিয়ে নামে। সেখানে মানুষের বাস নেই। নিরাপদে তাদের শীত কাটে। পৃথিবীর দক্ষিণের আধখানায় আমাদের শীতের সময় গরম, আবার আমাদের গরমের সময় শীত।

লাডাকের একটা বরফে ঢাকা নির্জন জায়গাতে আমাদের জোয়ানদের একটা ঘাঁটি ছিল।

তখন শীতের শুরু। মাথার ওপর দিয়ে দলে দলে বুনো হাঁস দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত। বাড়ির জন্য ওদের মন কেমন করত; চিঠিপত্র বিশেষ পৌঁছোত না, শুধু রেডিয়োতে যেটুকু খবর পেত।

একদিন একটা বুনো হাঁস দল ছেড়ে নীচে নেমে পড়ল। একটা ঝোপের ওপর নেমে থরথর করে কাঁপতে লাগল। তারপর ওরা অবাক হয়ে দেখল আরেকটা বুনো হাঁসও নেমে এসে, এটার চারদিকে উড়ে বেড়াচ্ছে। বরফ পড়তে শুরু করতেই জোয়ানরা গিয়ে আগের হাঁসটাকে তাঁবুতে নিয়ে এল। অন্য হাঁসটা প্রথমে তেড়ে এসেছিল, তারপর ওদের সঙ্গে সঙ্গে নিজেই গিয়ে তাঁবুতে ঢুকল। ভিতরে ছেড়ে দিতেই দেখা গেল প্রথম হাঁসটার ডানা জখম হয়েছে। তাই বেচারি উড়তে পারছিল না। জোয়ানদের মুরগি রাখার খালি জায়গা ছিল। সেখানে বুনো হাঁসরা রইল। টিনের মাছ, তরকারি, ভুট্টা, ভাত, ফলের কুচি, এইসব খেত।

ওদের দেখাশোনা করা জোয়ানদের একটা আনন্দেরই কাজ হয়ে দাঁড়াল। পরের হাঁসটা ইচ্ছা করলেই উড়ে চলে যেতে পারত, কিন্তু সঙ্গীকে ছেড়ে গেল না। সারা শীতকাল দুজনে ওখানে থেকে গেল। আস্তে আস্তে হাঁসের ডানা সারল। তখন সে একটু একটু করে উড়তে চেষ্টা করত। তাঁবুর ছাদ অবধি উঠে, আবার ধুপ করে পড়ে যেত।

এমনি করে সারা শীত দেখতে দেখতে কেটে গেল। নীচের পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করল। আবার সবুজ ঝোপঝাপ দেখা গেল। ন্যাড়া গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল। তারপর পাখিরা আবার আসতে আরম্ভ করল, এবার দক্ষিণ থেকে উত্তরে। দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে, বাচ্চা তুলবে।

এদের হাঁসরা আজকাল তাঁবুর বাইরে চরত আর মাথার ওপর দিয়ে হাঁসের দল গেলেই চঞ্চল হয়ে উঠত। তারপর একদিন জোয়ানরা সকালের কাজ সেরে এসে দেখে হাঁস দুটি উড়ে চলে গেছে। জোয়ানদের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল।

লেখিকা পরিচিতি : লীলা মজুমদার (১৯০৮-২০০৭): জন্ম কলকাতায়, জ্যাঠামশাই উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর বাড়িতে। বাবা

প্রমদারঞ্জন রায় ‘বনের খবর’ বইয়ের লেখক। শৈশব কেটেছে শিলং পাহাড়ে। ১৯২০ সাল থেকে কলকাতায়। সারাজীবন সাহিত্যচর্চাই তাঁর সঙ্গী ছিল। প্রথম ছোটোদের বই ‘বদ্যিনাথের বড়ি’। অন্যান্য বিখ্যাত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-‘পদিপিসির বর্মিবাক্স’, ‘হলদে পাখির পালক’, ‘টং লিং’, ‘মাকু’। ছোটোদের জন্য ‘সন্দেশ’ পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন বহুকাল। বহু পুরস্কারে সম্মানিত-যার মধ্যে রয়েছে ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’, ‘আনন্দ পুরস্কার’, ‘ভারতীয় শিশু সাহিত্যের পুরস্কার’।

তাঁর লেখা ‘গল্পসল্প’ বই থেকে ‘বুনো হাঁস’ গল্পটি নেওয়া হয়েছে।

সারাংশ : লীলা মজুমদারের “বুনো হাঁস” গল্পে পরিযায়ী বুনো হাঁসের জীবন ও মানুষের সহমর্মিতার সুন্দর ছবি ফুটে উঠেছে। শীতের সময় বুনো হাঁসরা গরম দেশে চলে যায় এবং শীত শেষে আবার নিজেদের দেশে ফিরে আসে। কেউ হিমালয় পেরিয়ে, কেউ সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে নিরাপদ স্থানে শীত কাটায়।

লাডাকের এক বরফে ঢাকা নির্জন অঞ্চলে শীতকালে কিছু ভারতীয় জওয়ান অবস্থান করছিলেন। সেই সময় একদিন একটি বুনো হাঁস দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আহত অবস্থায় নীচে নেমে পড়ে। আরেকটি হাঁস তার সঙ্গ ছাড়েনি। জওয়ানরা আহত হাঁসটিকে উদ্ধার করে তাঁবুতে নিয়ে আসে এবং দু’টি হাঁসকেই যত্নে আশ্রয় দেয়। দেখা যায় একটি হাঁসের ডানা জখম হওয়ায় সে উড়তে পারছিল না। জওয়ানরা নিজেদের খাবার ভাগ করে দিয়ে সারা শীতকাল হাঁস দু’টির দেখাশোনা করে।

সময়ের সঙ্গে আহত হাঁসটির ডানা সেরে ওঠে। বসন্ত আসতেই প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয় এবং পরিযায়ী পাখিরা ফিরে যেতে শুরু করে। একদিন হাঁস দু’টি উড়ে চলে যায়। গল্পটি মানুষের মানবিকতা, বন্ধুত্ব ও প্রকৃতির সঙ্গে জীবনের গভীর সম্পর্ককে সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছে।

হাতে কলমে প্রশ্ন উত্তর : বুনো হাঁস গল্পের প্রশ্ন উত্তর পঞ্চম শ্রেণি বাংলা | Buno Hans Golper Hate Kolome Question Answer Class 5 Bengali wbbse

১। ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো:

১.১ আকাশের দিকে তাকালে তুমি দেখ
(ঘরবাড়ি / গাছপালা / পোকামাকড় / মেঘ-রোদ্দুর)।

উত্তরঃ আকাশের দিকে তাকালে তুমি দেখ মেঘ-রোদ্দুর।

১.২ হিমালয় ছাড়া ভারতবর্ষের আরো একটি পর্বতের নাম হলো (কিলিমানজারো / আরাবল্লী / আন্দিজ / রকি)।

উত্তরঃ হিমালয় ছাড়া ভারতবর্ষের আরো একটি পর্বতের নাম হলো আরাবল্লী।

১.৩ এক রকমের হাঁসের নাম হলো (সোনা / কুনো / কালি / বালি) হাঁস।

উত্তরঃ এক রকমের হাঁসের নাম হলো বালি হাঁস।

১.৪ পাখির ডানার (বোঁ বোঁ / শন শন / শোঁ শোঁ / গাঁক গাঁক) শব্দ শোনা যায়।

উত্তরঃ পাখির ডানার শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যায়।

২। ‘ক’ এর সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো:

বরফ শুরু
বুনো হিমানী
কুঁড়ি বন্য
চঞ্চল কলি
আরম্ভ অধীর

উত্তরঃ

বরফ হিমানী
বুনো বন্য
কুঁড়ি কলি
চঞ্চল অধীর
আরম্ভ শুরু

৩। সঙ্গী— (ঙ্ + গ)— এমন ‘স্’ রয়েছে -এরকম পাঁচটি শব্দ লেখো :

উত্তরঃ বঙ্গ, ভঙ্গ, রঙ্গ, অঙ্গ, সঙ্গ

৪। ঘটনাক্রম সাজিয়ে লেখো :

৪.১ দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে, বাচ্চা তুলবে।

৪.২ হাঁসের ডানা জখম হল।

৪.৩ সারা শীত কেটে গেল।

৪.৪ বুনো হাঁস দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত।

৪.৫ আরেকটা বুনো হাঁসও নেমে এসে এটার চারদিকে উড়ে বেড়াচ্ছে।

উত্তরঃ

৪.৪ বুনো হাঁস দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত।

৪.২ হাঁসের ডানা জখম হল।

৪.৫ আরেকটা বুনো হাঁসও নেমে এসে এটার চারদিকে উড়ে বেড়াচ্ছে।

৪.৩ সারা শীত কেটে গেল।

৪.১ দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে, বাচ্চা তুলবে।

৫। শূন্যস্থান পূরণ করো :

৫.১ ________ একটা বরফে ঢাকা নির্জন জায়গাতে আমাদের _________ একটা ঘাঁটি ছিল।

উত্তরঃ লাডাকের, জোয়ানদের।

৫.২ জোয়ানদের _________ রাখার খালি জায়গা ছিল।

উত্তরঃ মুরগি।

৫.৩ আস্তে আস্তে হাঁসের _______ সারল।

উত্তরঃ ডানা।

৫.৪ দলে দলে _________ তিরের ফলার আকারে, কেবলই _________ দিকে উড়ে চলেছে।

উত্তরঃ বুনো হাঁস, উত্তর।

৫.৫ ________ গাছে পাতার আর ফুলের _________ ধরল।

উত্তরঃ ন্যাড়া, কুঁড়ি।

৬। শব্দঝুড়ি থেকে বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো :

শব্দঝুড়ি : বুনো, জখম, লাডাক, শীতকাল, বরফ, তাঁবু, গরম, ন্যাড়া, সঙ্গী, নির্জন, বেচারি, চঞ্চল

উত্তরঃ

বিশেষ্য— জখম, লাডাক, শীতকাল, বরফ, তাঁবু, সঙ্গী, বেচারি

বিশেষণ— বুনো, গরম, ন্যাড়া, নির্জন, চঞ্চল

৭। ক্রিয়ার নীচে দাগ দাও :

৭.১ বাড়ির জন্য ওদের মন কেমন করত।

উত্তরঃ বাড়ির জন্য ওদের মন কেমন করত

৭.২ পাখিরা আবার আসতে আরম্ভ করল।

উত্তরঃ পাখিরা আবার আসতে আরম্ভ করল

৭.৩ দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে।

উত্তরঃ দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে

৭.৪ সেখানে বুনো হাঁসরা রইল।

উত্তরঃ সেখানে বুনো হাঁসরা রইল

৭.৫ নিরাপদে তাদের শীত কাটে।

উত্তরঃ নিরাপদে তাদের শীত কাটে

৮। বাক্য বাড়াও :

৮.১ একদিন একটা বুনো হাঁস দল ছেড়ে নেমে পড়ল। (কোথায় নেমে পড়ল?)

উত্তরঃ একদিন একটা বুনো হাঁস দল ছেড়ে নীচে ঝোপের ওপর নেমে পড়ল।

৮.২ ওরা গরম দেশে শীত কাটিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে। (কোথায় এবং কখন ফিরে যাচ্ছে?)

উত্তরঃ ওরা গরম দেশে শীত কাটিয়ে শীতের শেষে আবার নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছে।

৮.৩ পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করল। (কোথাকার পাহাড় ?)

উত্তরঃ লাডাক পাহাড়ের নীচের দিকে বরফ গলতে শুরু করল।

৮.৪ আবার ঝোপঝাপ দেখা গেল। (কেমন ঝোপঝাপ ?)

উত্তরঃ আবার সবুজ ঝোপঝাপ দেখা গেল।

৮.৫ গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল। (কেমন গাছে ?)

উত্তরঃ ন্যাড়া গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল।

৯। বাক্য রচনা করো : রেডিয়ো, চিঠিপত্র, থরথর, জোয়ান, তাঁবু।

উত্তরঃ

রেডিয়ো— ছোটবেলায় রেডিয়োতে গান শুনতাম।

চিঠিপত্র— পোস্ট অফিসে চিঠিপত্র আসে।

থরথর— বাতাসে গাছের পাতা থরথর করে কাঁপে।

জোয়ান— জোয়ানরা আমাদের দেশ রক্ষা করে।

তাঁবু— ফাঁকা মাঠে তাঁবু খাটিয়ে পিকনিক হবে।

১০। তোমার বইতে যে বুনো হাঁসের ছবি দেওয়া আছে, সেটি দেখে আঁকো ও রং করো।

উত্তরঃ নিজে করো।

১১। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

১১.১ জোয়ানদের ঘাঁটি কোথায় ছিল ?

উত্তরঃ লীলা মজুমদার রচিত ‘বুনো হাঁস’ গল্পে জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল লাডাক অঞ্চলের একটা বরফে ঢাকা নির্জন জায়গাতে।

১১.২ জোয়ানরা কী কাজ করে ?

উত্তরঃ জোয়ানরা সন্ত্রাসবাদী ও বিদেশি শত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

১১.৩ দুটো বুনো হাঁস দলছুট হয়েছিল কেন ?

উত্তরঃ লীলা মজুমদার রচিত ‘বুনো হাঁস’ গল্পে জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল লাডাক অঞ্চলের একটা বরফে ঢাকা নির্জন জায়গাতে। সেখানে শীতের শুরুতে আকাশে উড়ে যেত দলে দলে বুনো হাঁস। সেই দল থেকে একদিন একটা বুনো হাঁস ডানা জখম হয়ে নীচে ঝোপের ওপর পড়ে। আরেকটা বুনো হাঁসও আহত সঙ্গীকে দেখে নীচে নেমে আসে। এভাবে তারা দলছট হয়েছিল।

১১.৪ বুনো হাঁসেরা জোয়ানদের তাঁবুতে কী খেত ?

উত্তরঃ লীলা মজুমদার রচিত ‘বুনো হাঁস’ গল্পে বুনো হাসেরা জোয়ানদের তাবুতে টিনের মাছ, তরকারি, ভুট্টা, ভাত, ফলের কুচি এইসব খেত।

১১.৫ হাঁসেরা আবার কোথায়, কখন ফিরে গেল ?

উত্তরঃ লীলা মজুমদার রচিত ‘বুনো হাঁস’ গল্পে হাসেরা গোটা শীতকাল জোয়ানদের তাঁবুতে কাটিয়ে, শীতের শেষে নিজেদের দেশে ফিরে গেল।

১১.৬ ‘এমনি করে সারা শীত দেখতে দেখতে কেটে গেল’- কেমন করে সারা শীতকাল কাটল ? এরপর কী ঘটনা ঘটল ?

উত্তরঃ লীলা মজুমদার রচিত ‘বুনো হাঁস’ গল্পে দুটো বুনো হাঁস দলছুট হয়ে লাডাকের জোয়ান শিবিরে মুরগি রাখার খালি জায়গায় আশ্রয় পায়। দুটির মধ্যে একটি হাঁস ছিল আহত। সেখানে তারা টিনের মাছ, তরকারি, ভুট্টা, ভাত, ফলের কুচি এইসব খেত। ওদের দেখাশোনা করা জোয়ানদের একটা আনন্দের কাজ হয়ে দাঁড়াল। এভাবেই সারা শীতকাল কেটে গেল।

শীতকাল কেটে যাওয়ার পরে পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করে। চারিদিকে সবুজ ঝোপঝাপ দেখা যায়। ন্যাড়া গাছে পাতা আর ফুলের কুঁড়ি ধরে। এইসব দেখে দলছুট হাঁস দুটি তাবু থেকে বেরিয়ে উড়ে চলে যায় নিজেদের দেশে।

১২। কোনো পশু বা পাখির প্রতি তোমার সহমর্মিতার একটা ছোট্ট ঘটনার কথা লেখো।

উত্তরঃ একবার বর্ষাকালের রাতে প্রচন্ড বর্ষার সময় একটি ছোট্ট কুকুর আমাদের বাড়ির দরজার সামনে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। আমি দরজা খুলে তাকে বারান্দায় এনে চটের বস্তা পেতে দি। তারপর কুকুরটিকে রাতে খেতেও দি। সকালে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর দরজা খুলে দিলেও সে যায়নি। কুকুরটি এখন আমাদেরই বাড়ির একজন সদস্য হয়ে গেছে।

সকালে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর দরজা খুলে দিলেও সে যায়নি। কুকুরটি এখন আমাদেরই বাড়ির একজন সদস্য হয়ে গেছে।

১৩.১ লীলা মজুমদারের জন্ম কোন শহরে ?

উত্তরঃ লীলা মজুমদারের জন্ম কলকাতা শহরে।

১৩.২ তাঁর শৈশব কোথায় কেটেছে ?

উত্তরঃ লীলা মজুমদারের শৈশব কেটেছে শিলং পাহাড়ে।

১৩.৩ ছোটোদের জন্য লেখা তাঁর দুটি বইয়ের নাম লেখো।

উত্তরঃ ছোটোদের জন্য লেখা লীলা মজুমদারের দুটি বইয়ের নাম, ‘বদ্যিনাথের বড়ি, ও ‘পদিপিসির বর্মিবাক্স’।

১৩.১ ‘বুনো হাঁস’ গল্পটি কোথা নেওয়া হয়েছে ?

উত্তরঃ লীলা মজুমদারেরলেখা ‘গল্পসল্প’ বই থেকে ‘বুনো হাঁস’ গল্পটি নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর : বুনো হাঁস গল্পের প্রশ্ন উত্তর পঞ্চম শ্রেণি বাংলা | Buno Hans Golper Extra Question Answer Class 5 Bengali wbbse

∆ ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে লেখো : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১. ‘বুনো হাঁস’ গদ্যটির লেখক (ভবানীপ্রসাদ মজুমদার / লীলা মজুমদার / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / প্রেমেন্দ্র মিত্র)।

উত্তরঃ লীলা মজুমদার।

২. মাথার ওপর দিয়ে বুনো হাঁস ( উত্তর / দক্ষিণ / পূর্ব / পশ্চিম) দিকে উড়ে যেত।

উত্তরঃ দক্ষিণ।

৩. জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল (লাডাকে / পাটনায় / কলকাতায় / শিলংয়ে)।

উত্তরঃ লাডাকে।

৪. শীতকালে বুনো হাঁসেরা কোন দিকে উড়ে যায় ?
(উত্তর / দক্ষিণ / পূর্ব / পশ্চিম)।

উত্তরঃ দক্ষিণ।

৫. একটি বুনো হাঁস দল ছেড়ে নীচে নেমে পড়েছিল কেন ?
( খাবারের জন্য / ঝড়ের কারণে / ডানা জখম হওয়ায় / বাসা বাঁধতে )।

উত্তরঃ ডানা জখম হওয়ায়।

৬. আহত হাঁসটিকে জোয়ানরা কোথায় রাখল ?
( তাঁবুর ভেতরে / ঝোপে / মুরগি রাখার খালি জায়গায় / পাহাড়ের গুহায় )।

উত্তরঃ মুরগি রাখার খালি জায়গায়।

৭. জোয়ানরা হাঁসদের কী খেতে দিত?
( শুধু ধান / মাছ ও ভাত / ফল ও ঘাস / টিনের মাছ, তরকারি, ভাত ইত্যাদি)।

উত্তরঃ টিনের মাছ, তরকারি, ভাত ইত্যাদি।

৮. সুস্থ হাঁসটি একা উড়ে চলে যায়নি কেন ?
( ভয় পেয়েছিল / পথ ভুলে গিয়েছিল / আহত সঙ্গীকে ছেড়ে যেতে চায়নি / খাবারের অভাব ছিল)।

উত্তরঃ আহত সঙ্গীকে ছেড়ে যেতে চায়নি।

৯. বসন্ত আসার লক্ষণ হিসেবে কী দেখা গেল ?
(বেশি বরফ পড়ল / নদী জমে গেল / গাছে পাতা ও ফুলের কুঁড়ি ধরল / ঝড় শুরু হলো)।

উত্তরঃ গাছে পাতা ও ফুলের কুঁড়ি ধরল।

১০. গল্পের শেষে বুনো হাঁস দুটি কী করল ?
(জোয়ানদের সঙ্গে রইল / মারা গেল / বাসা বানাল / উড়ে নিজেদের দেশে ফিরে গেল)।

উত্তরঃ উড়ে নিজেদের দেশে ফিরে গেল।

∆ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১. ‘বুনো হাঁস’ গল্পটির লেখক কে ?

উত্তরঃ লীলা মজুমদার।

২. বুনো হাঁসেরা শীতকালে কোন দিকে উড়ে যায় ?

উত্তরঃ দক্ষিণ দিকে।

৩. জোয়ানদের ঘাঁটি কোথায় ছিল?

উত্তরঃ লাডাকে।

৪. একটি বুনো হাঁস কেন উড়তে পারছিল না ?

উত্তরঃ তার ডানা জখম ছিল।

৫. আহত হাঁসটিকে জোয়ানরা কোথায় রাখল ?

উত্তরঃ মুরগি রাখার খালি জায়গায়।

৬. জোয়ানরা হাঁসদের কী খেতে দিত?

উত্তরঃ টিনের মাছ, ভাত ও তরকারি।

৭. সুস্থ হাঁসটি একা উড়ে যায়নি কেন?

উত্তরঃ সঙ্গীকে ছেড়ে যেতে চায়নি।

৮. শীত শেষে প্রকৃতিতে কী পরিবর্তন এল?

উত্তরঃ বরফ গলল ও গাছে কুঁড়ি ধরল।

৯. পাখিরা বসন্তে কোন দিকে উড়তে শুরু করে?

উত্তরঃ উত্তরের দিকে।

১০. গল্পের শেষে বুনো হাঁস দুটি কী করল ?

উত্তরঃ উড়ে নিজেদের দেশে ফিরে গেল।

∆ দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ২

১. একটি বুনো হাঁস নীচে পড়ে গিয়েছিল কেন ?

উত্তরঃ একটি বুনো হাঁস উড়তে উড়তে তার ডানা জখম হয়। ডানা জখম হওয়ায় সে আর উড়তে না পেরে নীচে একটি ঝোপের ওপর পড়ে যায়।

২. জোয়ানরা কেন বুনো হাঁসেদের দেখাশোনা করত ?

উত্তরঃ আহত একটি বুনো হাঁস ও তার সঙ্গী জোয়ানদের তাঁবুতে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের প্রতি মমতা থেকেই জোয়ানরা বুনো হাঁসেদের যত্ন নিত।

৩. দুটো বুনো হাঁস দলছুট হয়েছিল কেন ?

উত্তরঃ একটি হাঁস ডানা জখম হয়ে নীচে পড়ে যায়। তার সঙ্গী হাঁসটি তাকে ছেড়ে না গিয়ে তার সঙ্গে থেকেই দলছুট হয়।

৪. জোয়ানরা অবাক হয়ে কী দেখল ?

উত্তরঃ জোয়ানরা অবাক হয়ে দেখল, একটি বুনো হাঁস নীচে নেমে পড়ার পর আরেকটি হাঁসও নেমে এসে তার চারদিকে উড়ে বেড়াচ্ছে। এতে তাদের বিস্ময় হয়।

৫. কখন জোয়ানরা প্রথম বুনো হাঁসটিকে তাঁবুতে নিয়ে এল ?

উত্তরঃ বরফ পড়তে শুরু করলে জোয়ানরা আহত বুনো হাঁসটির অবস্থা বুঝতে পারে। তখনই তারা হাঁসটিকে তাঁবুতে নিয়ে আসে।

৬. বুনো হাঁসগুলি আকাশে উড়ে গেলে দেখতে কেমন লাগে ?

উত্তরঃ বুনো হাঁসগুলি আকাশে দল বেঁধে উড়লে তিরের ফলার মতো দেখতে লাগে। এই দৃশ্য খুব সুন্দর ও আকর্ষণীয়।

৭. বুনো হাঁসেরা কোথায় উড়ে চলেছে?

উত্তরঃ শীত শেষে বুনো হাঁসেরা উত্তর দিকে নিজেদের দেশে উড়ে চলেছে। সেখানে গিয়ে তারা বাসা বাঁধবে।

৮. আকাশে উড়ে যাওয়া বুনো হাঁসগুলোর কী কী শব্দ শোনা যাচ্ছিল ?

উত্তরঃ কারো ডানার শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আবার কিছু হাঁস ‘গাঁক গাঁক’ শব্দ করছিল।

৯. বুনো হাঁসেরা কী কাটিয়ে আবার নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছিল ?

উত্তরঃ বুনো হাঁসেরা গরম দেশে শীত কাটিয়ে ফিরছিল। শীত শেষ হলে তারা আবার নিজেদের দেশে ফিরে যায়।

১০. বুনো হাঁসগুলোর কী সয় না ?

উত্তরঃ বুনো হাঁসদের বেশি গরম সয় না। আবার বেশি শীতও তারা সহ্য করতে পারে না।

১১. বুনো হাঁসেদের কেউ কেউ কোথা থেকে আসত ?

উত্তরঃ বুনো হাঁসেদের কেউ কেউ হিমালয়ের উত্তর দিক থেকে আসে। তারা বরফে ঢাকা পাহাড় পেরিয়ে উড়ে আসে।

১২. অনেক বুনো হাঁস ভারতের মাটি পার হয়ে কোথায় যায় ?

উত্তরঃ অনেক বুনো হাঁস ভারতের মাটি পার হয়ে সমুদ্রের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। তারা ছোটো ছোটো দ্বীপে গিয়ে নামে।

১৩. কোন জায়গায় মানুষের বাসস্থান নেই?

উত্তরঃ সমুদ্রের ওপর থাকা ছোটো ছোটো দ্বীপগুলিতে মানুষের বাসস্থান নেই। সেখানে বুনো হাঁসেরা নিরাপদে থাকে।

১৪. কোন দেশে আমাদের শীতের সময় গরম, আবার গরমের সময় শীত?

উত্তরঃ পৃথিবীর দক্ষিণের আধখানায় আমাদের শীতের সময় গরম থাকে। আবার আমাদের গরমের সময় সেখানে শীত পড়ে।

১৫. জোয়ানদের ঘাঁটি কোথায় ছিল ?

উত্তরঃ জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল লাডাকের একটি বরফে ঢাকা নির্জন জায়গায়। জায়গাটি খুব ঠান্ডা ও দুর্গম ছিল।

১৬. কোন সময় বুনো হাঁস দলে দলে দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত ?

উত্তরঃ শীতের শুরুতে বুনো হাঁসেরা দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত। তারা মাথার ওপর দিয়ে দলে দলে উড়ে যেত।

১৭. বাড়ির জন্য কাদের মন খারাপ করত ?

উত্তরঃ পাহাড়ের বরফে ঢাকা ঘাঁটিতে থাকা জোয়ানদের বাড়ির জন্য মন খারাপ করত। তারা পরিবারের থেকে অনেক দূরে ছিল।

১৮. জোয়ানদের কাছে কী পৌঁছোত না ?

উত্তরঃ জোয়ানদের কাছে চিঠিপত্র বিশেষ পৌঁছোত না। তারা শুধু রেডিয়োর খবরেই ভরসা রাখত।

১৯. নীচে নেমে পড়া দ্বিতীয় বুনো হাঁসটি কী করল ?

উত্তরঃ প্রথমে দ্বিতীয় হাঁসটি জোয়ানদের দিকে তেড়ে আসে। পরে সে নিজেই জোয়ানদের সঙ্গে তাঁবুতে ঢুকে পড়ে।

২০. জোয়ানদের কী রাখার খালি জায়গা ছিল?

উত্তরঃ জোয়ানদের মুরগি রাখার একটি খালি জায়গা ছিল। সেখানে তারা বুনো হাঁস দুটি রাখে।

২১. হাঁস দুটি জোয়ানদের ঘাঁটিতে কতদিন ছিল ?

উত্তরঃ হাঁস দুটি সারা শীতকাল জোয়ানদের ঘাঁটিতে ছিল। বসন্ত আসা পর্যন্ত তারা সেখানেই থাকে।

২২. ডানা সেরে উঠলে হাঁসটি কী করত ?

উত্তরঃ ডানা সেরে উঠলে হাঁসটি একটু একটু করে উড়তে চেষ্টা করত। কখনো তাঁবুর ছাদ পর্যন্ত উঠে আবার পড়ে যেত।

২৩. পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করলে কী দেখা গেল ?

উত্তরঃ পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করলে সবুজ ঝোপঝাপ দেখা গেল। প্রকৃতিতে বসন্তের ছোঁয়া লাগল।

২৪. ন্যাড়া গাছে কী পরিবর্তন দেখা গেল ?

উত্তরঃ ন্যাড়া গাছে পাতার ও ফুলের কুঁড়ি ধরল। চারপাশে নতুন প্রাণের সঞ্চার হলো।

২৫. উত্তরে ফিরে বুনো হাঁসেরা কী করবে ?

উত্তরঃ উত্তরে ফিরে বুনো হাঁসেরা বাসা বাঁধবে। তারপর তারা বাচ্চা তুলবে।

২৬. ‘একটা ঝোপের ওপর নেমে থরথর করে কাঁপতে লাগল’— কে, কেন কাঁপছিল ?

উত্তরঃ ডানা জখম হওয়া একটি বুনো হাঁস ঝোপের ওপর নেমে কাঁপছিল। আহত ও ঠান্ডায় সে থরথর করে কাঁপতে লাগল।

📌 আরো দেখুনঃ

📌পঞ্চম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌পঞ্চম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply