বনভোজনের ব্যাপার বিষয়বস্তু অষ্টম শ্রেণি বাংলা | Bonbhojoner Byapar Bishoibostu Class 8 Bengali wbbse

বনভোজনের ব্যাপার গল্পের বিষয়বস্তু অষ্টম শ্রেণি বাংলা | Bonbhojoner Byapar Golper Bishoibostu Class 8 Bengali wbbse

বনভোজনের ব্যাপার
—নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

বনভোজনের ব্যাপার গল্পের লেখক পরিচিতি, উৎস, বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ ও টীকা অষ্টম শ্রেণির বাংলা | Bonbhojoner Byapar Golper Bishoibostu Class 8 Bengali

📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Her

লেখক পরিচিতিঃ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় (১৯১৭–১৯৭০) : জন্ম দিনাজপুরে। দিনাজপুর, ফরিদপুর, বরিশাল এবং কলকাতায় শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছোটোগল্পকার ও ঔপন্যাসিক। তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে— বীতংস, দুঃশাসন, ভোগবতী প্রভৃতি। উপনিবেশ, বৈজ্ঞানিক, শিলালিপি, লালমাটি, সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী, পদসঞ্জার তাঁর রচিত জনপ্রিয় উপন্যাস। শিশু ও কিশোরদের জন্য তাঁর অন্যতম স্মরণীয় সৃষ্টি টেনিদা চরিত্র।

উৎসঃ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের রচিত ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্পটি প্রণব কুমার মুখোপাধ্যায় সংকলিত ও সম্পাদিত ‘টেনিদা সমগ্র’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

বিষয়সংক্ষেপঃ হাবুল সেন, টেনিদা বনভােজনের খাদ্যতালিকা তৈরি করছিল। হাবুলের পােলাও, ডিমের ডালনা, মাছ-মাংসের কোর্মা প্রভৃতির কথা বলার মাঝখানে প্যালা আলু ভাজা, শুক্তো, বাটি-চচ্চড়ি, কুমড়াের ছক্কার মতাে দেশি খাদ্যের কথা বলায় টেনিদা তাদের উল্লুক প্রভৃতি বলে গালিগালাজ করে। টেনিদা রেগে গিয়ে চলে যাওয়ার উপক্রম করায় হাবুল সেন, প্যালা তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে। এরপর বিরিয়ানি, কোর্মা, কোপ্তা প্রভৃতির একটি লিস্ট বানানাে হলেও দশ টাকা ছ-আনা চাঁদা ওঠায় কিছু আইটেম বাদ দিয়ে খিচুড়ি, আলুভাজা ও অন্যান্যর একটি লিস্ট বানানাে হয়। টেনিদাকে খুশি করতে প্যালা ডিমের একটি আইটেম বাড়াতে বলে। তবে রাজহাঁসের ডিম আনার দায়িত্ব পড়ে প্যালার ওপর। সে ভন্টাকে কিছু ভেট দিয়ে তার বাড়ি থেকে ডিম সংগ্রহ করতে গেলেও রক্ত ঝরিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে। সবশেষে মাদ্রাজি ডিম কেনা হয়।

পরদিন বনভােজনের উদ্দেশ্যে শ্যামবাজার স্টেশন থেকে মার্টিন রেলে চড়ে তারা চারজন রওনা দেয়। মাঝে টেনিদা লেডিকেনির স্বাদ নেওয়ার নামে পুরাে হাঁড়িটিই একা শেষ করে। এরপর স্টেশন থেকে এঁটেল মাটির পিচ্ছিল কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে ক্যাবলার মামারবাড়ির কাছে বাগানবাড়িতে পৌছােতে গিয়ে, ক্যাবলা ছাড়া বাকি তিনজনই মাটিতে আছাড় খায় এবং ডিমের পুঁটলি, আমের আচার ও রসগােল্লা মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। পােনা মাছ, চাল, ডাল, আলু নিয়ে তারা পৌছায় সুপুরি ও নারকেলের বাগান পরিবেষ্টিত স্থানটিতে। টেনিদা তার স্বভাবমতাে নিজে কিছু না-করে হাবুলকে ইট, প্যালা ও ক্যাবলাকে কাঠ কুড়িয়ে আনার নির্দেশ দেয় এবং নিজে জিনিসপত্রগুলির পাহারায় নিযুক্ত থাকে। প্যালার ওপরে মাছের কালিয়া রাধার দায়িত্ব পড়ে। সে কড়াইতে তেল দিয়েই মাছ ছেড়ে দিলে তা মাছের হালুয়ায় পরিণত হয়। টেনিদার হাত থেকে বাঁচার জন্য প্যালা সেখান থেকে দৌড় মারে এবং খিচুড়ির লিস্ট থেকে তার নাম কাটা যায়।

কিছুক্ষণ পরে হাবুল ও ক্যাবলা কাঠ সংগ্রহ করতে সেখানে এসে উপস্থিত হয়। তারা তিনজনই তখন অত্যন্ত ক্ষুধার্ত ছিল। এমনসময় তারা সেই বাগানে পাকা জলপাই দেখতে পেয়ে তা পেট ভরে খায়। ঘণ্টাখানেক পরে খিচুড়ির আশায় তারা প্রত্যাবর্তন করে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দ্যাখে। টেনিদা সেই নারকেল গাছটায় হেলান দিয়ে ঘুমােচ্ছে আর বলছে—“দে ক্যাবলা, পিঠটা আর একটু ভালাে করে চুলকে দে।” কিন্তু ক্যাবলা নয়, একটি গােদা বানর তার পিঠ চুলকে দিচ্ছিল এবং আরাে চার-পাঁচটি টেনিদার চারিদিকে বসেছিল। প্যালারা তিনজনে তারস্বরে চিৎকার করে টেনিদাকে বাঁদরের দলের উপস্থিতির কথা জানালে টেনিদার ঘুম ভাঙে এবং বাঁদরগুলি চাল, ডাল, আলুর পুঁটলি নিয়ে কাঁঠাল গাছের মাথায় উঠে পড়ে এবং তাদের দেখিয়ে দেখিয়ে খেতে থাকে। শেষে প্যালার মুখে বাগানের একটি গাছে পাকা জলপাই-এর কথা শুনে টেনিদা লাফিয়ে বাগানের দিকে ছুয়ে যায়। তার মতে, “বনে ফলভােজন—সেইটেই তাে আসল বনভােজন।”

নামকরণঃ সাহিত্যে নামকরণ এমন একটি বিষয়, যার মধ্য দিয়ে পাঠক বিষয়ের গভীরে প্রবেশের পূর্বে বিষয়ের ইঙ্গিত পেয়ে যায়। বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত গল্পকার নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘টেনিদাসমগ্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘আলােচ্য গল্পটির নামকরণ বনভােজনের ব্যাপার’ খুবই শিল্পসম্মত। বনভােজন হল- একটি খােলা জায়গায় সারাদিন ধরে আনন্দ-হুল্লোড় করা আর নিজেদের ইচ্ছা ও সামর্থ্য অনুসারে খাবারের আয়ােজন করা। এই কাজে থাকে নানান আয়ােজন এবং অনুষ্ঠান। সব কিছুতেই লুকিয়ে থাকে একটি চাপা আনন্দ। আর তা শেষ হয় খাওয়া-দাওয়ার মধ্য দিয়ে। গল্পের প্রথমেই গল্পকার এখানে বনভােজনের জন্য একটি দলের পরিকল্পনাকে দেখিয়েছেন। তারপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন ঘটনায় তাদের আয়ােজন প্রায় শেষ হয়েছে।

বনভােজন যাত্রার প্রথম পর্ব নির্বিঘ্নে কাটলেও গােল বাধে কাঁচা রাস্তায় বৃষ্টিভেজা কাদায় হাঁটার সময়। আছাড় খাওয়ার সূচনা ঘটে, হাবুল সেনের মাধ্যমে। একে একে প্যালা ও টেনিদাও কাদাতে পড়ে যায়। এরপর কোনােক্রমে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছােনাে আর সেখানে গিয়ে সময়ান্তরে অবশিষ্ট ভােগান্তি একে একে জুটতে থাকে। মাছের কালিয়া মাছের হালুয়াতে রূপান্তরিত হয় খিচুড়ি টেনিদার ঘুমের জন্য হয়ে যায় বানরদের মহাভােজ। অবশেষে বনভােজন হয়। ফলভােজনের নামান্তর। গল্পের শেষে পিকনিকের সাধারণ প্রাপ্তিও আর তাদের কপালে জোটেনা। পিকনিকের মতাে একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়ায় ‘বনভােজনের ব্যাপার, যা সবদিক থেকে হাস্যরসাত্মক ও ব্যাঙ্গাত্মক হয়ে ওঠে। সমগ্র গল্পটির মধ্যে দেখা যাচ্ছে বনভােজনের প্রস্তুতি ও তার চরম পরিণতি। সব মিলিয়ে বলা যায়, গল্পের নামকরণটি অবশ্যই সার্থক হয়েছে।

∆ শব্দার্থ ও টীকাঃ—

‘মার্টিন রেল’— ব্রিটিশ-বাঙালি যৌথ মালিকানায় গড়ে উঠেছিল মার্টিন লাইট রেলওয়ে। ইংরেজ ব্যবসায়ী টমাস অ্যাকুইনাস মার্টিনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই রেল-পরিষেবা গড়ে তুলেছিলেন বাঙালি উদ্যোগপতি স্যর রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। ১৮৯০ সালে তাঁরা গড়ে তোলেন তাঁদের কোম্পানি ‘মার্টিন অ্যান্ড কোং’।বাংলায় ছোট রেললাইনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল ‘ম্যাকলিয়ড রাসেল অ্যান্ড কোম্পানি’ এবং ‘মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানি’। স্বল্প ব্যয়ে, স্বল্প মূলধনে, কম পুঁজি ও গ্যারান্টি মানির সাহায্যে এই ফিডার লাইনগুলো বসানো সম্ভব ছিল বলে ১৮৯০ থেকে ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা পর্যন্ত এই প্রাইভেট কোম্পানির অজস্র ছোট রেলগাড়ির স্বর্ণযুগ হয়ে ওঠে ভারতবর্ষ। এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘মার্টিন রেল’।

• নোলা— জিহ্বা, লোভ, লালসা।
• পােলাও— ঘি-মশলা মাংস দিয়ে রাঁধা ভাত, পলান্ন
• ডালনা— তরকারি ব্যঞ্জন-বিশেষ
• মাংসের কোর্মা— তুর্কি প্রথায় জল ব্যবহার না করে দই, কিশমিশ ও অন্যান্য মশলা দিয়ে রাঁধা মাংসের ঝােল
• কাবাব— শিক দিয়ে গেঁথে বিশেষ পদ্ধতিতে ঝলসানাে মশলাযুক্ত মাংস
• কুঁদরু— পটলের মতাে দেখতে একপ্রকার সবজি
• ঠেকুয়া— ছাতু দ্বারা তৈরি বিস্কুট-জাতীয় খাবার
• পিকনিক— বনভােজন, চড়ুইভাতি, Picnic
• ঝকমারি— ঝামেলা, বিপদ
• পােলাপান— ছেলেপুলে, (এখানে) ছেলেমানুষ অর্থে ব্যবহৃত
• গাড়লগুলাে— মূর্খ, নির্বোধগুলাে
• দলপতি— দলের নেতা
• প্ল্যান— পরিকল্পনা
• ঠাট্টা— মজা, ইয়ার্কি
• লিস্টি— লিস্ট, তালিকা
• বেরসিক— রসবােধ নেই যার
• বাবুর্চি— যিনি রান্না করেন
• ট্র্যাক— কোমরের বাঁধন বা কষি, (এখানে) তহবিল অর্থে ব্যবহৃত
• জুতসই— উপযুক্ত
• গালপাট্টা— দুই গাল জোড়া দাড়ি
• রফা— আপস, মীমাংসা
• হাতসাফাই— চুরি, হাতের কৌশল
• আইটেম— তালিকাভুক্ত বিষয়, (এখানে) তালিকাভুক্ত পদ
• মগজ— বুদ্ধি, মস্তিষ্ক
• ঘাবড়াই— ভয় পাই
• সাবাড়— শেষ
• রাজকীয়— রাজার মতো
• ব্যাজার— অপ্রসন্ন, বিরক্ত
• গেরো— গিঁট, এখানে আপদ অর্থে ব্যবহৃত
• পাকড়ালাম— ধরলাম
• খলিফা— মুসলমান সমাজের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, ধর্মগুরু, নিপুণ শিল্পী, ওস্তাদ; মন্দ অর্থে অতিশয় ধূর্ত ব্যক্তি
• বিতিকিচ্ছিরি— কুৎসিত, অত্যন্ত বিশ্রী
• বদখত— বিশ্রী, কদর্য, বেয়াড়া
• রোয়াক— বারান্দা
• ডাঁট— অহংকার, গর্ব, দেমাক
• চালিয়াতি— ধাপ্পাবাজ
• গাঁট— পকেট
• একরাশ— প্রচুর
• ছাড়ান দাও— ছেড়ে দাও
• মোটঘাট— পুঁটলি, মালপত্র
• পরিণাম— ফলাফল
• ভাঁড়ার ঘর— ভান্ডার
• পোঁটলা— বড়ো পুঁটলি/বোঁচকা
• করুণ— দুঃখি
• হুংকার— গর্জন
• গণ্ড— ব্যথ, বিফল
• দ্রাক্ষাফল— আঙুর ফল
• অতিশয়— খুব
• খাট্টা— টক
• স্রেফ— শুধু, একদম
• স্পঞ্জ— কৃত্রিমভাবে রাসায়নিক উপায়ে তৈরি এক ধরনের পদার্থ, যা শোষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
• গুরুপাক— সহজে হজম করা যায় না এমন, দুষ্পাচ্য
• পাহারা— নজরদারি, চৌকি দেওয়া
• হরিমটর— উপবাস/উপােস
• অমৃত— সুস্বাদু
• ঊর্ধ্বশ্বাসে— অতি দ্রুত
• পাষাণ— পাথর, নিষ্ঠুর
• মন্ত্রমুগ্ধ— আচ্ছন্ন, সম্মােহিত
• গোদা— মােটা
• তরিবত— তৃপ্তি, সন্তোষ
• ভেংচি— ভেংচানাের জন্য মুখের বিকৃতি, বিদ্রুপ করার অঙ্গভঙ্গি
• শােকসভা— শােক প্রকাশক সভা
• স্তব্ধ— নিশ্চুপ
• অগত্যা— কোনাে উপায় না থাকা

📌 আরো দেখোঃ

📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ

📌 অষ্টম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 অষ্টম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 অন্যান্য ক্লাসের বাংলা প্রশ্নোত্তরঃ

📌পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply