বিমলার অভিমান কবিতার প্রশ্ন উত্তর পঞ্চম শ্রেণি বাংলা | Bimolar Abhiman Kobitar Prosno Uttor Class 5 Bengali wbbse

পাতাবাহার
বাংলা | পঞ্চম শ্রেণি

বিমলার অভিমান কবিতার প্রশ্ন উত্তর পঞ্চম শ্রেণির বাংলা | Bimolar Abhiman Kobitar Question Answer Class 5 Bengali wbbse

📌 পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌পঞ্চম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 পঞ্চম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

বিমলার অভিমান
—নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য

খাব না তো আমি —
দাদাকে অতটা ক্ষীর,     অতখানা অবনীর,
আমার বেলাই বুঝি, ক্ষীর মাত্র নাম-ই ?
খাব না তো আমি!

ফুল আনিবার বেলা, ‘যা বিমলা যা,
পূজা করি, দাও এনে, সোনামনি মা’;
কাঁদিলে দুরন্ত খোকা রাখা তারে ভার,
তার বেলা, ‘ও বিমলা, নে মা একবার’;
‘ছাগলেতে নটে গাছ খেলে যে মুড়িয়ে,
যা মা একবার, গিয়ে দে তো মা তাড়িয়ে’;
‘দাদা বসিয়াছে খেতে— দাও তো মা নুন’;
‘পানটা যে বড়ো ঝাল, দে মা এনে চুন’;

যার যত ফরমাস সব তুমি করো,
তাতে তুমি বিমলাটি বাঁচো আর মরো—
খাবারটি আসে যেই        আর তারে মনে নেই
তার বেলা রাধু মাধু রামী বামী শ্যামী—
খাব না তো আমি!

দাদা বড়ো, বেশি বেশি খাবে দাদা তাই,
অবু বেশি খাবে— আহা, সেটি ছোটো ভাই;
দু ধারে সোনার চুড়ো,      মাঝেতে ছাইয়ের নুড়ো
তাই বুঝি বিমলার কমে গেছে দাম-ই—
খাব না তো আমি!

শব্দার্থ : অভিমান– প্রিয়জনের প্রতি ক্ষোভ, মনঃকষ্ট বা মনোবেদনা। ক্ষীর– জ্বাল দিয়ে ঘন করা দুধের মিষ্টি বিশেষ। দুরন্ত– দুর্দান্ত। ভার– কষ্টকর। ফরমাস– আদেশ। চূড়ো– শৃঙ্গ বা শিখর। নুড়ো– আগুন ধরাবার জন্য ব্যবহার করা হয় এমন শুকনো খড় বা ঘাসের আঁটি। অবু– বিমল আর ছোট ভাই অবনী। নটে– একপ্রকার শাক বিশেষ। মাত্র নাম-ই– অতি সামান্য।

বিষয় সংক্ষেপঃ বিমলার তার মায়ের প্রতি খুব অভিমান হয়েছে। সে খাবে না বলে জানিয়েছে। কারণ তার দাদাকে দেওয়া হয়েছে অনেকটা ক্ষীর। ছোটোভাই অবনীর জন্যও রাখা হয়েছে অনেকটা, অথচ তার জন্য রাখা হয়েছে নামমাত্র ক্ষীর। কাজের সময় সবার আগে তার কথাই সকলের মনে পড়ে। যেমন-ফুল আনা, দুরন্ত খোকা কাঁদলে তাকে ভোলানো, ছাগল নটে গাছ মুড়িয়ে দিলে তাকে তাড়ানো ইত্যাদি। এমনকি দাদা খেতে বসলে তাকে নুন দেওয়া, পান খাওয়ার সময় ঝাল লাগলে চুন এনে দেওয়া ইত্যাদি সব কাজ বিমলা একাই করে। পরিবারের সকলের সমস্ত ফরমাশ সেই পালন করে, তাতে বিমলা বাঁচুক অথবা মরুক। কিন্তু খাবারের বেলায় তাকে আর কারোর মনে থাকে না। তখন মনে থাকে কেবল রাধু, মাধু, রামী, বামী ও শ্যামীকে। দাদা বড়ো, ভাই ছোটো, তাই তারা বেশি খাবে। মনে হয় দুই ধারে যেন দুটো সোনার চুড়ো এবং মধ্যিখানে ছাইয়ের নুড়ো। বিমলার দাম যেন কমে গেছে। তাই সে খাবে না বলে ঠিক করেছে।

নামকরণঃ নামকরণ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নামকরণের মধ্য দিয়ে পাঠক মূল বিষয়বস্তুটি পড়ার পূর্বেই সে সম্পর্কে খানিক ধারণা পেতে পারে। তাই যে-কোনো সাহিত্যরচনার ক্ষেত্রেই অনিবার্যভাবে যুক্ত হয় তার নাম।

বিমলার অভিমান হয়েছে কারণ তার মা, দাদা এবং ভাইকে বেশি ক্ষীর খেতে দিয়েছে। তাকে দিয়েছে নামমাত্র ক্ষীর। তাই সে তা খেতে নারাজ। অথচ কাজের সময় তার মায়ের তার কথাই প্রথমে মনে পড়ে যেমন-ফুল আনা, দুরন্ত খোকা কাঁদলে তাকে সামলানো, ছাগল নটে গাছ খেয়ে নিলে তাকে তাড়ানো, দাদা খেতে বসলে তাকে নুন এনে দেওয়া ও পান খাওয়ার সময় চুন এনে দেওয়া ইত্যাদি। সকলের সব ফরমায়েশ পূরণ করলেও খাওয়ার সময় কেবল মনে থাকে রাধু, মাধু, রামী বামী ও শ্যামীর কথা। তাই বিমলার অভিমান হয়েছে এবং সে আর কিছু খাবে না। সম্পূর্ণ কবিতাটি যেহেতু বিমলার অভিমানকে কেন্দ্র করে লেখা, তাই কবিতাটির ‘বিমলার অভিমান’ নামকরণ অত্যন্ত সার্থক হয়েছে।

হাতে কলমে প্রশ্নোত্তর : বিমলার অভিমান কবিতা পঞ্চম শ্রেণির বাংলা | Hate Kolome Question Answer Bimolar Abhiman Kobita Class 5 Bengali wbbse

১। নিজে ভেবে লেখো :

১.১ তোমার বাড়িতে বাবা / মা / দাদা / ভাই / দিদি কে বেশি কাজ করে ? তারা কী কী কাজ করে ?

উত্তরঃ আমার বাড়িতে বাবা ও মা দু’জনেই অনেক কাজ করেন। আমার বাবা প্রতিদিন সকালে ব্যবসার কাজে বাইরে যান। তিনি সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য নিয়মিত বাজার করেন। এছাড়া ব্যাংকের কাজ, বিদ্যুৎ বিল দেওয়া বা অন্য যে কোনো বাইরের কাজ বাবাই করে থাকেন।

আমার মা সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে জল তোলেন। তারপর বাসন মাজেন, কাপড় কাচেন এবং রান্না করেন। আমাকে প্রতিদিন স্কুলে পৌঁছে দেওয়া ও স্কুল থেকে বাড়ি নিয়ে আসার কাজও আমার মা করেন। সন্ধ্যাবেলায় তিনি আমাকে পড়াশোনায় সাহায্য করেন। এই সব কাজ তিনি নিয়মিত করেন।

আমি আর আমার ভাই দু’জনেই পড়াশোনা করি। তবে যখন দরকার হয়, তখন আমরা মায়ের কাজে সাহায্য করি এবং বাড়ির ছোটখাটো কাজ হাতে হাতে করি।

১.২ বাড়িতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এ বিষয়ে তোমার কী মনে হয় তা লেখো।

উত্তরঃ আমার মনে হয় অনেক বাড়িতেই ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের বেশি পরিশ্রম করতে হয়। কারণ মেয়েরা সাধারণত বাড়িতে বেশি সময় থাকে এবং বাড়ির বেশিরভাগ কাজ তাদেরই করতে হয়। আবার অনেক সময় মেয়েরা বাড়ির কাজের পাশাপাশি বাইরের কাজও করে থাকে। তাই মেয়েদের উপর কাজের চাপ অনেক বেশি পড়ে। আমার মতে ছেলে-মেয়ে আলাদা না করে বাড়ির সব কাজ সবার ভাগ করে করা উচিত। এতে কাজের বোঝা কমবে এবং সবাই সমানভাবে দায়িত্ব নিতে শিখবে।

১.৩ ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে তফাত করা উচিত নয়— এই নিয়ে যুক্তি দিয়ে পাঁচটি বাক্য লেখো।

উত্তরঃ ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে কোনো তফাত করা উচিত নয়। কারণ বর্তমানে মেয়েরাও ছেলেদের মতোই ভালো পড়াশোনা করছে এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। মেয়েরা ঘরের কাজের পাশাপাশি বাইরের কাজেও সমানভাবে সফল হচ্ছে। একটি পরিবারে ছেলে ও মেয়ে দু’জনেরই গুরুত্ব সমান। তাই ছেলে ও মেয়ের অধিকার এবং সম্মানও সমান হওয়া উচিত।

২। শব্দযুগলের অর্থ পার্থক্য লেখো :

উত্তরঃ

ভার— ওজন
ভাঁড়— মাটির পাত্র

বাঁচা— জীবনধারণ, বেঁচে থাকা।
বাছা— নির্বাচন করা; অনেক ক্ষেত্রে আদরের সম্বোধন।

সোনা— মূল্যবান ধাতু
শোনা— কানে শুনতে পাওয়া

৩। নীচের প্রতিটি শব্দের দুটি করে অর্থ লেখো :

উত্তরঃ

বেলা— সময়; সমুদ্রের তীরভূমি।

দাম— মূল্য; মর্যাদা; গুরুত্ব।

৪। পাঠ্য কবিতাটি থেকে অন্ত্যমিল খুঁজে নিয়ে লেখো (৫টি) : একটি করে দেওয়া হল— নুন – চুন।

উত্তরঃ

মুড়িয়ে শ্যামী করো তাই
তাড়িয়ে আমি মরো ভাই

৫। ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভের মিলিয়ে লেখো :

‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ ‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ
নুন শিখর দূরন্ত ভস্ম
ছাই আদেশ ফরমাস দুষ্টু
চুড়ো লবণ

উত্তরঃ

‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ ‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ
নুন লবণ দূরন্ত দুষ্টু
ছাই ভস্ম ফরমাস আদেশ
চুড়ো শিখর

৬. শব্দঝুড়ি থেকে নিয়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো :

উত্তরঃ শব্দঝুড়ি— ক্ষীর, বেশি, ছাই, দুরন্ত,
বিমলা, নুন, ঝাল, ছোটো, পান, নটে গাছ, খোকা, কম।

বিশেষ্য— ক্ষীর, ছাই, বিমলা, নুন, পান, নটে গাছ, খোকা।

বিশেষণ— বেশি, দূরন্ত, ঝাল,ছোটো, কম।

৭। ক্রিয়ার নীচে দাগ দাও :

৭.১ খাব না তো আমি।

উত্তরঃ (খাব) না তো আমি।

৭.২ যা বিমলা যা।

উত্তরঃ (যা) বিমলা (যা)।

৭.৩ ও বিমলা নে মা একবার।

উত্তরঃ ও বিমলা (নে) মা একবার।

৭.৪ অবু বেশি খাবে।

উত্তরঃ অবু বেশি (খাবে।)

৭.৫ দে মা এনে চুন।

উত্তরঃ (দে) মা (এনে) চুন।

৮। শূন্যস্থান পূরণ করো :

৮.১ __________ করি, দাও এনে, সোনামণি মা।

উত্তর : পূজা।

৮.২ কাঁদিলে _________ খোকা রাখা তারে ভার।

উত্তরঃ দুরন্ত।

৮.৩ ছাগলেতে __________ গাছ খেলে যে মুড়িয়ে।

উত্তরঃ নটে।

৮.৪ পানটা যে বড়ো _________, দে মা এনে চুন।

উত্তরঃ ঝাল।

৯। যেটা বেমানান তার নীচে দাগ দাও :

৯.১ ক্ষীর, ছাগল, বিমলা, অবনী, দাদা।

উত্তরঃ ছাগল।

৯.২ ফুল, রাধু, বিমলা, সোনামণি মা, পূজা।

উত্তরঃ রাধু।

৯.৩ সোনার চুড়ো, ছাইয়ের নুড়ো, দাদা, বিমলা, মাধু।

উত্তরঃ মাধু।

১০। বিপরীতার্থক শব্দ লেখো : দাও, বড়ো, বেশি, ঝাল, আসে।

উত্তরঃ দাও— নাও, বড়ো— ছোটো, বেশি— কম, ঝাল— মিষ্টি, আসে— যায়।

১১। বাক্যরচনা করো : ক্ষীর, দুরন্ত, ছাই, নটেগাছ, চুন।

উত্তরঃ

ক্ষীর— আমার ছোট বোন ক্ষীর খেতে খুব ভালোবাসে।

দুরন্ত— মহাকাশে দুরন্ত গতিতে রকেট চলে।

ছাই— আগেকার দিনে অনেকে ছাই দিয়ে দাঁত মাজত।

নটেগাছ— আমার গল্পটি ফুরোলো, নটে গাছটি মুড়োলো।

চুন— পান খেতে চুন দরকার।

১২। শব্দগুলো ঠিকমতো সাজিয়ে বাক্য তৈরি করো :

১২.১ পরিমাণে দাদার কম বিমলার থেকে ক্ষীর।

উত্তরঃ বিমলার ক্ষীর দাদার থেকে পরিমাণে কম।

১২.২ হয় বিমলাকে ফুল পূজার আনতে।

উত্তরঃ বিমলাকে পূজার ফুল আনতে হয়।

১২.৩ করে সবার পালন বিমলা ফরমাস সব।

উত্তরঃ বিমলা সবার সব ফরমাস পালন করে।

১২.৪ মেয়ে বিমলার অবিচার প্রতি শুধু বলে হয় করা।

উত্তরঃ মেয়ে বলে বিমলার প্রতি শুধু অবিচার করা হয়।

১২.৫ নয় করা ছেলেমেয়ের বৈষম্য মধ্যে উচিত।

উত্তরঃ ছেলেমেয়ের মধ্যে বৈষম্য করা উচিত নয়।

১৩। কোনটি কী ধরনের বাক্য লেখো :

১৩.১ খাব না তো আমি।

উত্তরঃ না-বোধক বাক্য।

১৩.২ যা বিমলা যা।

উত্তরঃ অনুজ্ঞাবাচক বাক্য।

১৩.৩ ছাগলেতে নটে গাছ খেলে যে মুড়িয়ে।

উত্তরঃ নির্দেশক বাক্য।

১৩.৪ আমার বেলায় বুঝি, ক্ষীর মাত্র নাম-ই ?

উত্তরঃ প্রশ্নবোধক বাক্য।

১৪.১ কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য কোন্ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন ?

উত্তরঃ কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র ছিলেন।

১৪.২ তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য দুটি বইয়ের নাম লেখো।

উত্তরঃ কবির লেখা দুটি উল্লেখযোগ্য বই হল (১) ছেলে খেলা (২) শিশুপাঠ।

১৪.৩ তিনি কোন্ কোন্ পত্র-পত্রিকা সম্পাদনার কাজে যুক্ত ছিলেন ?

উত্তরঃ কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য ‘সখা’ পত্রিকার সম্পাদক এবং ‘মাসিক বসুমতী’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন।

১৫। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

১৫.১ বিমলাকে সারাদিন কোন্ কোন্ কাজ করতে হয় ?

উত্তরঃ বিমলাকে সারাদিন যেসব কাজ করতে হয় সেইগুলো হল—
(১) মায়ের জন্য পূজার ফুল তোলা।
(২) দুরন্ত খোকা কাঁদলে তাকে ভুলিয়ে রাখা।
(৩) ছাগলে বাগানের গাছ খেতে এলে তাকে তাড়ানো।
(৪) দাদা খেতে বসলে পাতে লবণ দেওয়া।
(৫) মায়ের পান খেতে ঝাল লাগলে চুন এনে দেওয়া ইত্যাদি।

১৫.২ বিমলার ছোটো ভাইয়ের নাম কী ? সে ও তার দাদা বেশি বেশি খাবার পাবে কেন ?

উত্তরঃ বিমলার ছোটো ভাইয়ের নাম অবনী এবং ডাকনাম অবনী।

বিমলার ছোটো ভাই বয়সে ছোটো বলে এবং তার দাদা বয়সে বড়ো বলে বেশি বেশি খাবার পায়। আসলে তারা দুজনেই ছেলে হওয়ায় বেশি বেশি খাবার পায় বলে বিমলার ধারণা।

১৫.৩ তাই বুঝি বিমলার কমে গেছে দাম-ই’— বিমলার দাম কমে গেছে মনে হওয়ার কারণ কী ?

উত্তরঃ বিমলা সারাদিন ধরে বাড়ির সকলের কাজ করে। কেউ কিছু বললেই সে সঙ্গে সঙ্গে তা করে দেয়। কিন্তু মেয়ে হওয়ার জন্য সে তার দাদা ও ভাইয়ের তুলনায় কম খাবার পায়। অন্যদিকে তার দাদা ও ভাই ছেলে হওয়ার কারণে পরিবারের কাছে খুব বেশি গুরুত্ব পায়, বেশি ভালো খাবারও পায়। এই ভিন্ন আচরণ দেখেই বিমলার মনে হয়েছে যে তার নিজের দাম কমে গেছে।

১৫.৪ বিমলার প্রতি তোমার অনুভূতির কথা পাঁচটি বাক্যে লেখো।

উত্তরঃ বিমলা খুবই ভালো এবং পরিশ্রমী একটি মেয়ে। সে সারাদিন ধরে পরিবারের সবার কাজ করে যায়, কোনো অভিযোগ করে না। বাড়িতে কোনো কাজ পড়লেই সবাই আগে বিমলার কথাই মনে করে। কিন্তু ভালো খাবার বা যত্নের সময় তাকে খুব কমই গুরুত্ব দেওয়া হয়, তার ভাই ও দাদা বেশি পায়। শুধু মেয়ে হওয়ার জন্য বিমলার সঙ্গে এমন আচরণ করা সত্যিই খুব কষ্টের এবং অন্যায়।

১৫.৫ খেতে না চেয়ে তুমি বা তোমার বন্ধুরা কখনো প্রতিবাদ জানিয়েছ বা জানানোর চেষ্টা করেছ— যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, সে সম্বন্ধে লেখো।

উত্তরঃ খেতে না চেয়ে আমি নিজে কোনোদিন সরাসরি প্রতিবাদ করিনি। তবে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা এই গল্পের ঘটনার সঙ্গে অনেকটা মিলে যায়। তার বাড়িতে বড়রা আগে খেয়ে নিত এবং ছোটদের জন্য খাবার কম পড়ে যেত। একদিন সে দেখল, তার দাদা ভালো ভালো খাবার বেশি পাচ্ছে, আর তাকে অল্প খাবার দেওয়া হচ্ছে। তখন সে খেতে না চেয়ে চুপ করে বসে থাকে। বাড়ির লোকেরা কারণ জিজ্ঞেস করলে সে জানায় যে অন্যায়ভাবে খাবার ভাগ করা হচ্ছে বলেই সে খাবে না। পরে সবাই বিষয়টি বুঝতে পারে এবং সেদিন থেকে খাবার সমানভাবে ভাগ করার চেষ্টা করে। এই ঘটনাটি আমার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল।

১৫.৬ বিমলার অভিমান করার কারণ কী তা নিজের ভাষায় আট / দশটি বাক্যে লেখো।

উত্তরঃ বিমলার অভিমান করার প্রধান কারণ হলো সে মেয়ে বলে পরিবারের লোকেরা তাকে ঠিকমতো গুরুত্ব দেয় না। সে সারাদিন ধরে বাড়ির নানা কাজ করে, কিন্তু তার পরিশ্রমের মূল্য কেউ বোঝে না। আদর বা ভালোবাসা সে খুব কমই পায়। ভালো খাবার বা বিশ্রামের সময়েও তাকে আগে ভাবা হয় না। তার দাদা ও ভাই ছেলে হওয়ার কারণে বেশি যত্ন ও সুবিধা পায়। বিমলা কষ্ট পেলেও বা অসুস্থ হলেও কেউ তেমন খেয়াল করে না। সবাই প্রয়োজন হলেই তাকে ডাকাডাকি করে কাজ করায়। সে বড়দের কথা শুনে চলে, কিন্তু নিজের ইচ্ছার কথা বলতে পারে না। এই সব কারণেই বিমলার মনে অনেক অভিমান জমে ওঠে।

অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর : বিমলার অভিমান কবিতা পঞ্চম শ্রেণির বাংলা | Extra Question Answer Bimolar Abhiman Kobita Class 5 Bengali wbbse

∆ সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১. পাঠ্য কবিতাটিতে অভিমান হয়েছে— (বিমলার / কমলার / সরলার / শ্যামীর)।

উত্তরঃ বিমলার।

২. যা কম পাওয়ায় বিমলার অভিমান হয়েছে (দুধ / ক্ষীর / দই / মাখন)।

উত্তরঃ ক্ষীর।

৩. বিমলার ছোটো ভাইয়ের নাম- (অবনী / রজনী / নবনী / শ্যামী)।

উত্তরঃ অবনী।

৪. ফুল আনবার বেলা ডাক পড়ে (বিমলার / কমলার / সরলার / শ্যামীর)।

উত্তরঃ বিমলার।

৫. ‘যার যত ফরমাস সব তুমি করো’— ‘ফরমাস’ মেনে কাজ করেছে- (অবনী / বিমলা / ছোটো খোকা / শ্যামী)।

উত্তরঃ বিমলা।

৭. কবিতার কবি হলেন— (নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / কাজী নজরুল ইসলাম / সুকুমার রায়)।

উত্তরঃ নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য।

৮. কবিতায় বিমলার অভিমানের প্রধান কারণ— (অবহেলা / ভয় / রাগ / আলসেমি)।

উত্তরঃ অবহেলা।

৯. ‘দু ধারে সোনার চুড়ো, মাঝেতে ছাইয়ের নুড়ো’— এই কথাটি বোঝায়—
(সবাই সমান / বিমলা কম আদর পায় / সবাই খুশি / বিমলা দুষ্টু)।

উত্তরঃ বিমলা কম আদর পায়।

১০. কবিতায় বিমলা শেষে কী সিদ্ধান্ত নেয়?
(খেলা করবে / ঘুমোবে / খাবে না / কাঁদবে)।

উত্তরঃ খাবে না।

∆ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১. ‘বিমলার অভিমান’ কবিতাটি কার লেখা ?

উত্তরঃ কবিতাটি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য -এর লেখা।

২. ‘কাঁদিলে……. রাখা তারে ভার।’- কে কেঁদে ওঠে ?

উত্তরঃ দুরন্ত খোকা।

৩. ‘খাব না তো আমি!’— এই কথাটি কে বলেছে ?

উত্তরঃ এই কথাটি বিমলা বলেছে।

৪. কাজের বেলায় সবার কার কথা মনে পড়ে ?

উত্তরঃ কাজের বেলায় সবার বিমলার কথা মনে পড়ে।

৫. ফুল আনবার বেলায় বিমলাকে কী বলে সম্বোধন করা হয়?

উত্তরঃ ফুল আনবার সময় বিমলাকে “সোনামনি মা” বলে সম্বোধন করা হয়।

৬. খাবারের বেলায় কার কথা মনে পড়ে‌?

উত্তরঃ খাবারের বেলায় মনে পড়ে রাধু, মাধু, রামী, বামী ও শ্যামীর কথা।

৭. কে নটেগাছ মুড়িয়ে দেয়?

উত্তরঃ ছাগল নটেগাছ মুড়িয়ে দেয়।

৮. ‘যার যত ফরমাস সব তুমি করো,’— কবিতায় এর পরের লাইনটিং লেখো।

উত্তরঃ কবিতায় এর পরের লাইনটি— ‘তাতে তুমি বিমলাটি বাঁচো আর মরো।

৯. কাকে গিয়ে ছাগল তাড়াতে হয় ?

উত্তরঃ বিমলাকে গিয়ে ছাগল তাড়াতে হয়।

১০. দাদা খেতে বসলে বিমলাকে কী এনে দিতে হয় ?

উত্তরঃ দাদা খেতে বসলে বিমলাকে নুন এনে দিতে হয়।

১১. পান খাওয়ার সময় ঝাল লাগলে বিমলাকে কী এনে দিতে হয় ?

উত্তরঃ ঝাল লাগলে বিমলাকে চুন এনে দিতে হয়।

১২. পরিবারের সকলের ফরমাশ কে মেটায় ?

উত্তরঃ পরিবারের সকলের ফরমাশ বিমলাই মেটায়।

১৩. বিমলা দাদা ও ভাইকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছে ?

উত্তরঃ বিমলা দাদা ও ভাইকে দু ধারের সোনার চুড়োর সঙ্গে তুলনা করেছে।

১৪. বিমলা নিজেকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছে ?

উত্তরঃ বিমলা নিজেকে ছাইয়ের নুড়োর সঙ্গে তুলনা করেছে।

∆ দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ২

১. ‘খাবো না তো আমি’- কে, কী খাবে না এবং কেন ?

উত্তরঃ বিমলা বাড়ির সব কাজ প্রায় একাই করে। অথচ বাড়িতে ক্ষীর হলে দাদা এবং ছোটভাই অবনী বেশি ক্ষীর নেয়। বিমলার জন্য সামান্য ক্ষীর পড়ে থাকায় সে ক্ষীর খাবে না বলেছে।

২. ‘যার যত ফরমাস সব তুমি করো,।’— ফরমাস কথার অর্থ কি ? বিমলা সারাদিনে কী কী ফরমাস খাটে ?

উত্তরঃ বিমলার মা বিমলাকে ফরমাস করে। ফরমাস কথার অর্থ আদেশ।

মায়ের জন্য ফুল তুলে আনে, দুরন্ত খোকা কাঁদলে তাকে সামলায়, বাগানে ছাগল ঢুকে ঘাস খেয়ে নিলে তাকে তাড়িয়ে দেয়, দাদা খেতে বসলে তাকে পাতে নুন দেয়, মায়ের পান খেয়ে ঝাল লাগলে চুন এনে দেয় প্রভৃতি।

৩. ‘যার যত ফরমাস সব তুমি করো,।’— ফরমাস কথার অর্থ কি ? কবিতায় এর পরের লাইনটিং লেখো।

উত্তরঃ বিমলার মা বিমলাকে ফরমাস করে। ফরমাস কথার অর্থ আদেশ। কবিতায় এর পরের লাইনটি— ‘তাতে তুমি বিমলাটি বাঁচো আর মরো।’

৪. ‘তাই বুঝি বিমলার কমে গেছে দাম-ই’- বিমলার কেন মনে হয়েছে যে তার দাম কমে যাচ্ছে ?

উত্তরঃ বিমলার দাদা এবং ভাই বেশি খাবার পেলেও সে পায় না। অথচ বাড়ির সব কাজ সে প্রায় একাই করে। তাই বিমলার মনে হয়েছে তার দাম কমে গেছে।

৫. বিমলার অভিমানের কারণ কী ?

উত্তরঃ বিমলা বাড়ির সকলের নানান আদেশ পালন করলেও খাবার সময় তার দাদা এবং ছোটভাই বেশি খাবার পায়। সে বেশি পায় না। এটাই ছিল বিমলার অভিমানের কারণ।

৬. ‘দুধারে সোনার চুড়ো, মাঝেতে ছাইয়ের নুড়ো’- দুধারে সোনার চুড়ো এবং মাঝেতে ছাইয়ের নুড়ো বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ?

উত্তরঃ বিমলার অভিমান কবিতায় দুধারে সোনার চুড়ো বলতে বিমলার দাদা ও ভাইকে বোঝানো হয়েছে এবং মাঝেতে ছাইয়ের নুড়ো বলতে বিমলাকে বোঝানো হয়েছে।

৭. ‘তাই বুঝি বিমলার কমে গেছে দাম-ই’-বিমলার দাম কমে গেছে মনে হওয়ার কারণ কী ?

উত্তরঃ বিমলা বাড়ির সকলের নানান আদেশ পালন করলেও সে মেয়ে বলে খাবার সময় তাকে কম খাবার দেওয়া হয়। অন্য দিকে তার দাদা এবং ছোটভাই ছেলে হওয়ায় বেশি খাবার পায়। তাই বিমলার মনে হয়েছে যে তার দাম কমে গেছে।

৮. ‘কাঁদিলে……. রাখা তারে ভার।’- কে কেঁদে ওঠে ? তাকে শান্ত রাখার দায়িত্ব কার ওপর পড়ে ? ১+১

উত্তরঃ বিমলার অভিমান কবিতা অনুসারে
দুরন্ত খোকা কেঁদে ওঠে। তাকে শান্ত রাখার দায়িত্ব বিমলার উপর পড়ে।

📌 আরো দেখুনঃ

📌পঞ্চম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌পঞ্চম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply