আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা | Ai Aro Bedhe Bedhe Thaki VSAQ Class 10 Bengali wbbse
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি
—শঙ্খ ঘোষ
📌মাধ্যমিক সিলেবাস বাংলা Click Here
📌দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক বিগত বছরের প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় মক্ টেস্ট Click Here
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা দশম শ্রেণি বাংলা | Ai Aro Bedhe Bedhe Thaki Kobita Very Short Answer Type Question Answer Madhyamik (Class 10) Bengali wbbse
∆ কমবেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১.’ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!’— কী ছড়ানো রয়েছে ? (২০১৯)
উত্তরঃ যুদ্ধ দাঙ্গার মধ্যে পড়ে যেসব মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছে, সেইসব বিপন্ন মানুষের চারপাশে কাছে-দূরে শিশুদের শব ছড়ানো রয়েছে।
২.’আমাদের পথ নেই আর’ —তাহলে আমাদের করণীয় কী ? (২০১৭)
উত্তরঃ বিপন্ন মানুষকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পরস্পরের হাতে হাত রেখে সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে।
৩.’আমাদের কথা কে-বা জানে।’- আমাদের কথা কেউ জানে না কেন ?
উত্তরঃ পৃথিবীর আপামর নিরীহ জনতা এত সাধারন যে, তাদের দুর্দশাময় জীবনের খবর কেউ রাখে না, প্রচারের আলোয় তারা পড়ে না। তারা চির বঞ্চিত সর্বহারা, তাই তাদের কথা কেউ জানে না।
৪.’আমাদের ডান পাশে ধ্বস।’- ধ্বস শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কী ?
উত্তরঃ ‘ধ্বস’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ খসে পড়া। পাঠ্য কবিতায় সাধারণ মানুষের চলার প্রতি পদে পদে বিপদের সম্ভাবনা ফুটিয়ে তুলতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
৫.’আমাদের চোখ মুখ ঢাকা।’– চোখ মুখ ঢাকার কারণ কী ?
উত্তরঃ দুর্বল, বিপন্ন মানুষের ইতিহাস কখনোই সভ্যতার আয়নায় প্রতিফলিত হয় না, প্রকৃত সত্য জেনেও সাধারণ মানুষ নিরব। আসল অবস্থা বুঝেও তারা বোবা। তাই তাদের চোখ মুখ ঢাকা।
৬.’তবু তো কজন আছে বাকি’– কজন বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে ?
উত্তরঃ আলোচ্য কবিতানুসারে এই রাজনৈতিক, সামাজিক অবক্ষয়ের যুগেও কিছু মানুষ এখনো মানবতায় বিশ্বাস হারায়নি। ‘কজন’ বলতে সেই শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ গুলোর কথাই বলা হয়েছে।
৭.’ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে।’– কী ছড়ানো রয়েছে ?
উত্তরঃ শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় নিষ্পাপ মানব শিশুর শব বা মৃতদেহ ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে।
৮.’আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে’– একথা বলার অর্থ কী ?
উত্তরঃ আজকের পৃথিবীতে যুদ্ধ দাঙ্গা ও হিংসার উন্মত্ততায় শিশুদেরও রেহায় নেই। যুদ্ধে বলি হতে হয় অসংখ্য নিষ্পাপ শিশুদের।
৯.আমাদের শিশুদের শব ছড়িয়ে থাকার মধ্যে দিয়ে কোন বিষয়টি ধরা পড়েছে ?
উত্তরঃ যুদ্ধবিধ্বস্ত বর্তমান বিশ্বে আমাদের চারপাশ বিপদসংকুল। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যেখানে শিশুদেরও কোনো নিরাপত্তা নেই। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষা দিতে অক্ষম।
১০.’আমাদের পথ নেই আর’– পথ নেই কেন ?
উত্তরঃ আজকের পৃথিবীতে শাসকের আগ্রাসন, সাম্রাজ্যবাদ, মৌলবাদ, সমাজ-রাজনৈতিক অবক্ষয় এবং যুদ্ধবাজদের নির্যাতনে আমাদের চলার পথ রুদ্ধ।
১১.’আমাদের পথ নেই আর’– তাহলে আমাদের করণীয় কী ?
উত্তরঃ সর্বহারা মানুষের বাঁচার পথ যখন ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসে তখন তাদের সহমর্মিতার সঙ্গে আরও বেশি সংঘবদ্ধ হয়ে থাকার কথা কবি বলেছেন।
১২.’আমাদের ইতিহাস নেই’– এ কথা বলা হয়েছে কেন ?
উত্তরঃ ইতিহাস কেবল ক্ষমতাবানদের কথা বলে। সাধারণ মানুষ কোনোদিনই ইতিহাসে স্থান পায় না অর্থাৎ তারা উপেক্ষিত। তাই পাঠ্য কবিতায় বলা হয়েছে ‘আমাদের ইতিহাস নেই’।
১৩.’আমাদের ইতিহাস নেই’– ইতিহাস না থাকায় আমাদের স্বরূপ কী ?
উত্তরঃ আপামর জনগণের কোনো ইতিহাস নেই। যে ইতিহাস আছে, তা শোষণ, অত্যাচার, অবহেলা, উপেক্ষা, বঞ্চনার। এটাই অসহায় ও সর্বহারা মানুষের স্বরূপ।
১৪.’আমরা ফিরেছি দোরে দোরে’– এ কথা বলা হয়েছে কেন ?
উত্তরঃ সামাজিক অস্থিরতা জনসাধারণের জীবন-জীবিকাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। চরম সংকট কালে খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থানের আর্জি নিয়ে তারা দোরে দোরে ফিরেছে। ফিরেছে একটু শান্তির আশ্রয়ের খোঁজে।
১৫.’আমরা ভিখারি বারো মাস’– ‘আমরা’ কারা ?
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘আমরা’ বলতে কবি পৃথিবীর সমস্ত নিরন্ন খেটে খাওয়া ও নিরাপত্তাহীন অসহায় মানুষকেই বুঝিয়েছেন।
১৬. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার উৎস কী ?
উত্তরঃ আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতাটির উৎস হলো কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থ।
১৭.’আমাদের ইতিহাস নেই’– একথা বলা হয়েছে কেন ?
উত্তরঃ আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতাটি সাধারন মানুষকে কেন্দ্র করে তৈরী। স্বাভাবিক ভাবে আমরা দেখতে পাই যে সমাজে সাধারন মানুষ বা সাধারণ মানুষের কথা ইতিহাসে স্থান পায় না! পেলেও তা না পাওয়ার সমসমান। এজন্য কবি একথা বলেছেন।
১৮. ‘আমাদের পথ নেই কোনো’ – এখানে এই কথা বলা হয়েছে কেন ?
উত্তরঃ বতর্মান সময়কালে সাধারণ মানুষকে প্রতিটা পদক্ষেপে নানান বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জীবনের এই চলার পথে এত বাধা, প্রতিকূলতা ও দিশাহীনতাকে তুলে ধরতেই পথ না থাকার কথাটি বলা হয়েছে।
১৯. ‘পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে’ / ‘পৃথিবী হয়তো মরে’ গেছে বলার অন্তনির্হিত কারণ কী ?
অথবা, ‘পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে’- ‘হয়তো’ বলা হয়েছে কেন ?
উত্তরঃ কবিতায় পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতার মাঝে ঘরহারা এবং ইতিহাসে ঠাঁই না পাওয়া সাধারণ মানুষগুলোর কাছে বেঁচে থাকার মানেটাই অর্থহীন হয়ে পড়েছে। যেখানে সাধারন মানুষ গুলোর স্থান বা ঠাঁই নেই সেখানে এই পৃথিবী বেঁচে থাকা বা মরে যাওয়া তাদের কাছে অর্থহীন।
২০. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় এই আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে কেন ?
উত্তরঃ অসুখী একজন কবিতায় কবি শঙ্খ ঘোষ আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি এই কথার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ ও সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার কথা বলেছেন।
২১. “আমাদের পথ নেই আর”— তাহলে আমাদের করণীয় কী ? [মাধ্যমিক-২০১৭]
উত্তরঃ পথ না থাকার দরুন আমাদের আজ একতাবদ্ধ হয়ে ‘আরো বেঁধে বেঁধে’ থাকতে হবে।
২২.”আমাদের পথ নেই কোনো”– একথা মনে হয়েছে কেন ?
উত্তরঃ একথা মনে হওয়ার কারণ সম্পূর্ণ প্রতিকূল ও অস্থির পরিবেশ।
২৩. “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি”- বেঁধে বেঁধে থাকার উদ্দেশ্য কী ?
উত্তরঃ বিপদকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করার শক্তি সংগ্রহ করাই বেঁধে বেঁধে থাকার উদ্দেশ্য।
২৪. “আমাদের ইতিহাস নেই”- এ কথা বলা হয়েছে কেন ?
উত্তরঃ কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা’য় কবি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি। আর সাধারন মানুষ কোনোদিনই ইতিহাসে স্থান পায় না। তাদের ইতিহাস জনসমক্ষে প্রতিফলিত হয় না। তাই এমন উক্তি।
২৫. “পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে /পৃথিবী হয়তো গেছে মরে”- একথা বলার কারণ কী ?
উত্তরঃ পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতার মাঝে পীড়িত ঘরহারা, ইতিহাসে ঠাঁই না পাওয়া মানুষগুলোর কাছে বেঁচে থাকার অর্থটাই হারিয়ে গেছে। পৃথিবীর বেঁচে থাকা বা না থাকায় তাদের কিছু যায় আসে না।
২৬. ‘আমাদের’ বলতে কবি কাদের বুঝিয়েছেন ?
উত্তরঃ কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর কবিতায় ‘আমাদের’ বলতে দেশকালের সীমা অতিক্রম করে সাম্রাজ্যবাদী ও হানাদারি শত্রুর হাতে আক্রান্ত সাধারণ মানুষদের বুঝিয়েছেন।
২৭. ‘ডান পাশে ধ্বস’ ও ‘বাঁয়ে গিরিখাদ’ বলতে আসলে কবি কী বুঝিয়েছেন ?
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘ডান পাশে ধ্বস’ ও ‘বাঁয়ে গিরিখাদ’ বলতে কবি আসলে মানুষের পদে পদে বিপদ এবং পতনের আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন।
২৮.‘আমাদের ডান পাশে ধ্বস’–‘ধ্বস’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কী ?
উত্তরঃ ‘ধ্বস’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ খসে পড়া। পাঠ্য কবিতায় সাধারণ মানুষের চলার প্রতি পদে পদে বিপদের সম্ভাবনাকে ফুটিয়ে তুলতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
২৯.‘আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ’– ‘গিরিখাদ’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ লেখো।
উত্তরঃ ‘গিরিখাদ’ হল দুই পর্বতের মাঝে সৃষ্ট গভীর খাদ। পাহাড়ি পথের বিপদসংকুলতার মতোই বর্তমান বিশ্বে মানুষের জীবনে ছড়িয়ে থাকা প্রতিকূলতাকে বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হে ব্যবহৃত হয়েছে।
৩০.‘আমাদের মাথায় বোমারু’ বলতে কী বলা হয়েছে ?
উত্তরঃ যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যেমন বোমারু বিমান থেকে অতর্কিতে আক্রমণ চালায়, তেমনই আচমকা আক্রমণে মানুষের জীবন আজ বিপন্ন। কবিতায় সেই বিপন্নতার কথাই বলা হয়েছে ।
৩১.‘পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ’— ‘পায়ে পায়ে’ বলতে কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে ?
উত্তরঃ পাঠ্য কবিতায় ‘পায়ে পায়ে’ বলতে মানুষের প্রতি পদক্ষেপকে বোঝানো হয়েছে। মানুষের চলার পথে নানান প্রতিকূলতা প্রতি মুহূর্তে বরফের দেয়ালের মতোই বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ‘হিমানীর বাঁধ’ সেই বাধার প্রতীক।
৩২.‘আমাদের পথ নেই কোনো’ বলার কারণ কী ?
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা অনুসারে বর্তমান পৃথিবীতে মানুষ বড়ো অসহায় ও নিরুপায়। প্রতিনিয়ত তার চলার পথের প্রতিকূলতা এবং দিশাহীনতাকে ফুটিয়ে তুলতেই কবি এমন মন্তব্য করেছেন।
৩৩.‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় আমাদের ঘর উড়ে গেছে, কথাটি কেন বলা হয়েছে ?
উত্তরঃ বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রতিনিয়ত বহু মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। সে কথা বোঝাতেই কবি মন্তব্যটি করেছেন ।
৩৪.‘আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দুরে’ বলার অর্থ কী ?
উত্তরঃ যুদ্ধ , দাঙ্গা ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস কবলিত আজকের দুনিয়ায় হিংস্রতার হাত থেকে রেহাই পায়নি শিশুরাও। তারই ভয়াবহতা বোঝাতে এই উক্তি।
৩৫.আমাদের শিশুদের শব পড়ে থাকার মধ্যে দিয়ে কোন্ বিষয়টি ধরা পড়েছে ?
উত্তরঃ বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার বলি হচ্ছে আগামী প্রজন্মও। তাই কবির আশঙ্কা– তবে কি এভাবেই শেষ হয়ে যাবে মানবসমাজ!
৩৬.‘আমরাও তবে এইভাবে / এ – মুহূর্তে মরে যাব না কি ?’ — এ কথা বলার অর্থ কী ?
উত্তরঃ চারদিকের প্রতিকূলতা, হানাদারি শত্রুর আক্রমণে গৃহহারা মানুষ চোখের সামনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৃত্যু দেখে নিজের বেঁচে থাকাতেও সংশয় প্রকাশ করে ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতি থেকেই সাধারণ মানুষের প্রতিভূ কবির এই উক্তি।
৩৭.‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ বলার কারণ কী ?
উত্তরঃ বিশ্বব্যাপী প্রতিকূলতার মাঝে চারদিকে হতাশার ছবি স্পষ্ট হলেও কবির বিশ্বাস পারস্পরিক সাহচর্য ও ঐক্যের জোরেই সমস্ত কিছু জয় করা সম্ভব । তাই কবি একতা আর সংঘবদ্ধতার কথা বলেছেন।
৩৮.‘আমাদের ইতিহাস নেই’— এ কথা বলা হয়েছে কেন ?
উত্তরঃ এ কবিতায় কবি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি। আর সাধারণ মানুষ কোনোদিনই ইতিহাসে স্থান পায় না। তাদের ইতিহাস জনসমক্ষে প্রতিফলিত হয় না। তাই এমন উক্তি।
৩৯.‘আমাদের চোখমুখ ঢাকা’— ‘চোখমুখ ঢাকা’র কারণ কী ?
উত্তরঃ পৃথিবীর সমস্ত ইতিহাসই ক্ষমতাবান- দের ইতিহাস। দুর্বল, বিপন্ন মানুষের ইতিহাস কখনোই সভ্যতার দর্পণে প্রতিফলিত হয় না। প্রকৃত সত্য জেনেও সাধারণ মানুষ অন্ধ, আসল অবস্থা বুঝেও তারা বোবা। তাই তাদের ‘চোখমুখ ঢাকা’।
৪০.‘আমরা ভিখারি বারোমাস’ বলার কারণ কী ?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির শোষণে নিপীড়িত, বর্ণিত ও হতভাগ্য জনগণ আজ আশ্রয় ও জীবিকা হারিয়ে চিরভিখারিতে পরিণত হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রতিকূলতা ও যুগযন্ত্রণায় ভীরু-দুর্বল সাধারণ মানুষের সামগ্রিক দৈন্যও আজ বড়ো প্রকট। তাই কবি এ কথা বলেছেন।
৪১.‘পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে / পৃথিবী হয়তো গেছে মরে বলার অন্তর্নিহিত কারণ কী ?
উত্তরঃ পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতার মাঝে পীড়িত, ঘরহারা ও ইতিহাসে ঠাঁই না পাওয়া মানুষগুলির কাছে বেঁচে থাকার অর্থটাই হারিয়ে গেছে। তাই পৃথিবীর বেঁচে থাকা বা না থাকায় তাদের কিছু যায় আসে না।
৪২.‘আমাদের কথা কে বা জানে’ বলার কারণ কী ?
উত্তরঃ এই ব্যক্তিসর্বস্ব বিচ্ছিন্নতার যুগে, সাধারণ মানুষের সামান্য প্রয়োজনীয়তার কথায় যেন কেউ দৃষ্টিপাত করে না। সেজন্যই কবি এ কথা বলেছেন।
৪৩.‘তবু তো কজন আছি বাকি’ বলার কারণ কী ?
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা অনুসারে এই রাজনৈতিক, সামাজিক অবক্ষয়ের যুগেও কিছু মানুষ এখনও মানবতায় বিশ্বাস হারায়নি। সেই শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষগুলোকে নিয়েই কবি জোটবাঁধার কথা বলেছেন।
৪৪.’আয় আরো হাতে হাত রেখে’– এই পঙ্ক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ লেখো।
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আস্ফালনে মানুষ আজ ঘরছাড়া, পথহারা, ইতিহাস বিকৃত চিরভিখারিতে পরিণত। প্রত্যয়ী কবি এই ধ্বংসের মাঝেও বিবেকবান ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে সংঘবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন।
৪৫.‘আমাদের পথ নেই আর’— কবির এরকম বলার কারণ কী ?
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি লক্ষ আজকের পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের অসহায়তা। শাসকের আগ্রাসন, সাম্রাজ্যবাদ, মৌলবাদ, রাজনৈতিক অবক্ষয় ও হানাদারি শত্রুর স্বেচ্ছাচারে মানুষের স্বাভাবিক বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও এখন বিপন্ন। পরিস্থিতির এই প্রতিকূলতাকে কবি উদ্ধৃতাংশটির মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন ।
৪৬.‘আমাদের পথ নেই আর’– আমাদের বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে ?
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবিকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। তাই ‘আমাদের’ বলতে তিনি এ পৃথিবীর সমস্ত নিরন্ন, খেটে খাওয়া ও নিরাপত্তাহীন অসহায় মানুষকেই বুঝিয়েছেন।
৪৭.‘আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে’ কারণ কী ?
উত্তরঃ আজকের পৃথিবীতে যুদ্ধ,দাঙ্গা ও হিংসার উন্মত্ততায় শিশুদেরও রেহাই নেই। নিয়মিত দূরে কিংবা কাছেই ঘটে চলা এমন শিশুঘাতী সন্ত্রাসের খবরে আমরা শিউরে উঠি। উদ্ধৃতাংশে কবি এ কথাই বলতে চেয়েছেন।
৪৮.‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা অনুসারে আমাদের ইতিহাসের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ পৃথিবীর সামগ্রিক ইতিহাসই আসলে ক্ষমতাবানদের ইতিহাস। অসহায় ও দুর্বল সাধারণ মানুষের কথা তাই তথাকথিত সভ্যতার আয়নায় ফুটে ওঠে না। তারা ইতিহাসহীন অথবা বিকৃত ইতিহাসের আড়ালে থাকার দৈন্যে বিস্মৃত ও নিরুত্তর।
৪৯.‘আমাদের শিশুদের শব’ কোথায় ছড়ানো রয়েছে ?
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা অনুসারে আমাদের শিশুদের শব কাছে ও দুরে ছড়ানো রয়েছে। অর্থাৎ আজকের সমগ্র পৃথিবী জুড়েই শিশুরা হিংসাশ্রয়ী যুদ্ধ আর সন্ত্রাসের বলি।
৫০.আমাদের ডান পাশে, বাঁয়ে, মাথায় ও পায়ে যা আছে তা ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা অনুসারে লেখো।
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা অনুসারে আমাদের ডান পাশে ধ্বস এবং বাঁয়ে গিরিখাদ, আর মাথার উপরে বোমারু ও পায়ে হিমানীর বাঁধ।
৫১.‘পৃথিবী হয়তো গেছে মরে’— এমন বলার কারণ কী ?
উত্তরঃ শাসনের ষড়যন্ত্রে, সমাজ- রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অবক্ষয়ে হতভাগ্য সাধারণ মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার অর্থটাই হারিয়ে গেছে। মানবতার এই ঘোর দুর্দিনে প্রাণধারণের যে দৈন্য ফুটে ওঠে, তা মানবজীবনের দিশাহীন অর্থহীনতার প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
৫২.‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি কোন মূল কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ?
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি কবি শঙ্খ ঘোষের ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ নামক মূল কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
৫৩.‘আমাদের মাথায় বোমারু’- ‘বোমারু’ শব্দটির অর্থ কী ?
উত্তরঃ ‘বোমারু’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ হল, যা থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
৫৪.‘আমাদের পথ নেই আর’- তাহলে আমাদের করণীয় কী ?
উত্তরঃ এই সমাজ রাজনৈতিক পচন ও পতনের মাঝে, সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের সংঘবন্ধতাই হল তার মুক্তির একমাত্র পথ।
◆ আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি বিষয়বস্তু
◆ MCQ প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১)
◆ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৩)
◆ বড়ো প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫)
📌 আরো দেখোঃ
📌মাধ্যমিক সিলেবাস বাংলা Click Here
📌দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক বিগত বছরের প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় মক্ টেস্ট Click Here
