আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার বড়ো প্রশ্ন উত্তর দশম শ্রেণি বাংলা | Essay Type Question Answer Ai Aro Bedhe Bedhe Thaki Class 10 Bengali wbbse
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি
—শঙ্খ ঘোষ
📌মাধ্যমিক সিলেবাস বাংলা Click Here
📌দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক বিগত বছরের প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় মক্ টেস্ট Click Here
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ (শঙ্খ ঘোষ) দশম শ্রেণি বাংলা | Essay Type Question Answer Ai Aro Bedhe Bedhe Thaki (Madhyamik) Class 10 Bengali wbbse
∆ কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-৫
১. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার ভাববস্তু নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় অস্থির সময়ের রাহুগ্রাসে বিপন্ন মানুষের টিকে থাকার কথা ব্যক্ত হয়েছে। আমাদের চলমান জীবনের সার্বিক সংকটের কথা বোঝাতে গিয়ে কবি লিখেছেন আমাদের ডান পাশে ধ্বস, আমাদের বামে গিরিখাত আমাদের মাথায় বোমারু বিমান।
আলোচ্য কবিতায় প্রতিটি স্তবকে মানুষের অস্তিত্বের সংকট প্রকাশিত। রাজনৈতিক আদর্শহীনতা, সাম্রাজ্যবাদ, ধর্মান্ধতার মতো অসুখ সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। এই অস্থির সময়ে মানুষের বিপন্নতার ছবি তুলে ধরেছেন কবি শঙ্খ ঘোষ। অস্তিত্বের সংকটে বিপন্ন মানুষ। কবি বলেছেন–
“আমাদের পথ নেই কোনো / আমাদের ঘর গেছে উড়ে / আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!”
এত হতাশার মাঝে বাঁচার একটাই পথ, তা হলো সংঘবদ্ধতা।
এই ক্ষয়ে যাওয়া সমাজে সাধারণ মানুষের কোনো ইতিহাস নেই। যদিও-বা থেকে থাকে তবে তা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে পদানত হওয়ার ইতিহাস। কিন্তু এতসব প্রতিকূল ও নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু মানুষ এখনও তাদের শুভবুদ্ধি বিবেকবোধ বিসর্জন দেননি। কবি তাঁদের ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা যদি আরো সংঘবদ্ধভাবে থাকেন, তবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর কবিতার মাধ্যমে মানুষের কাছে এই বার্তায় পৌঁছে দিতে চেয়েছেন যে, প্রতিকূলতা ও অসহায়তা বঞ্চনা ও সংশয়ের মাঝেও সঙ্ঘবদ্ধ হতে হবে। কারণ একতা, সম্প্রীতি ও সম্মিলিত শক্তির কাছে উদ্ধত শক্তিকে নতজানু হতেই হয়- এটাই সভ্যতার ইতিহাস, এটাই বাস্তব।
২. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার মূল বক্তব্য সংক্ষেপে আলোচনা করে নামকরণের সার্থকতা বুঝিয়ে দাও। ৫
উত্তরঃ যদিও শেক্সপীয়র বলেছেন What’s in a name ? তবুও আমাদের মনে হয় সাহিত্যে নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নামকরণ হয়ে থাকে চরিত্রকেন্দ্রিক, কখনও বিষয়বস্তুকেন্দ্রিক, আবার কখনও বা ব্যঞ্জনাধর্মী।
এবার আমরা কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা করে দেখবো নামকরণ কতটা সার্থক হয়েছে।
‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় অস্থির সময়ের রাহুগ্রাসে বিপন্ন মানুষের টিকে থাকার কথা ব্যক্ত হয়েছে। আমাদের চলমান জীবনের সার্বিক সংকটের কথা বোঝাতে গিয়ে কবি লিখেছেন—
আমাদের ডান পাশে ধ্বস, / আমাদের বামে গিরিখাদ / আমাদের মাথায় বোমারু।
আলোচ্য কবিতায় প্রতিটি স্তবকে মানুষের অস্তিত্বের সংকট প্রকাশিত। রাজনৈতিক আদর্শহীনতা, সাম্রাজ্যবাদ, ধর্মান্ধতার মতো অসুখ সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। এই অস্থির সময়ে মানুষের বিপন্নতার ছবি তুলে ধরেছেন কবি শঙ্খ ঘোষ। অস্তিত্বের সংকটে বিপন্ন মানুষ। তাই কবি বলেছেন—
“আমাদের পথ নেই কোনো / আমাদের ঘর গেছে উড়ে / আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!”
এত হতাশার মাঝে বাঁচার একটাই পথ, তা হলো সংঘবদ্ধতা।
এই ক্ষয়ে যাওয়া সমাজে সাধারণ মানুষের কোনো ইতিহাস নেই। যদিও-বা থেকে থাকে তবে তা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে পদানত হওয়ার ইতিহাস। কিন্তু এতসব প্রতিকূল ও নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু মানুষ এখনও তাদের শুভবুদ্ধি বিবেকবোধ বিসর্জন দেননি। কবি তাঁদের ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা যদি আরো সংঘবদ্ধভাবে থাকেন, তবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর কবিতার মাধ্যমে মানুষের কাছে এই বার্তায় পৌঁছে দিতে চেয়েছেন যে, প্রতিকূলতা ও অসহায়তা, বঞ্চনা ও সংশয়ের মাঝেও সঙ্ঘবদ্ধ হতে হবে।
আলোচ্য কবিতার বিষয়বস্তু বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে কবিতার নামকরণ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ সম্পূর্ণরূপে সার্থক হয়েছে।
৩. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি যুগ যন্ত্রণার এক নির্মম ইতিহাস– আলোচনা করো।
উত্তরঃ আধুনিক যুগের অত্যন্ত সংবেদনশীল কবি হলেন শঙ্খ ঘোষ। তাঁর ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটিতে সমাজ- ব্যবস্থার এক সংকট মুহূর্তের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে নির্মম ইতিহাসের আবাস পাওয়া যায় তার আলোচ্য কবিতায়।
বিশ্বের পশ্চিম প্রান্তে ঘটে চলা যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডের সাধারণ মানুষের বিপর্যস্ত জীবন জীবিকা, আশ্রয় কবিকে ব্যথিত করেছে। ভূগর্ভস্থ তেলভান্ডারের দখলদারি নিয়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংঘাত, গৃহযুদ্ধ, জঙ্গিহামলা, বিত্তশালী রাষ্ট্রগুলির আধিপত্যে নিরীহ জনগণ দিশাহারা। তাদের চারপাশে মৃত্যুর হাতছানি, প্রতি পদে বাধা আর প্রতিকূলতা, তার চলার সব পথ রুদ্ধ। হানাদারী শত্রুর আঘাতে মানুষ নিরাশ্রয় হয়েছে। হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবী যেন আজ এক মৃত্যু উপত্যকা।
কেবল নির্দিষ্ট যুগ বা দেশই নয়, এই কবিতা সামগ্রিকভাবে দেশকাল নির্বিশেষে সাম্রাজ্যবাদী আর সুবিধাবাদী শক্তি গোটা বিশ্বকে অস্থির করে তুলেছে। বঞ্চিত জনগণের কোন ইতিহাস নেই, এই দুঃখ-যন্ত্রণার ইতিহাস হয়তো অলিখিতই রয়ে যাবে চিরকাল। অথবা যদি লেখা হয় তবে তা হবে অর্ধসত্য এবং অসম্পূর্ণতায় ভরা। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষদের চিরকাল এভাবেই ক্ষমতাবানের প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে আপস করে বেঁচে থাকতে হয়। ক্ষমতালোভী মানুষেরা সাধারণ মানুষকে ধর্মান্ধ করে রেখেছে। তাদের ন্যায়-অন্যায়, ভালোমন্দ, বিবেচনাবোধ আজ লুপ্ত। বিশ শতকের শেষের দিকে ও একবিংশ শতকের সূচনায় সভ্যতার এই চরম সংকট মানবসমাজের এক নির্মম ইতিহাস রচনা করেছে।
৪. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবির সমাজসচেতনতার পরিচয় পাওয়া যায়– আলোচনা করো। ৫
উত্তরঃ সাহিত্যকে সমাজের দর্পণ বলা হয়। তাই একজন সাহিত্যিক সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ। ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটিতে কবি শঙ্খ ঘোষের গভীর সমাজভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়। সমাজ সচেতন কবির ভাবনা দেশকালের সীমা অতিক্রম করে বিশ্বমানবসমাজকে পর্যবেক্ষণ করেছে। গভীর সহমর্মিতায় তিনি দেখেছেন একবিংশ শতকেও আমাদের এই পৃথিবী হিংসামুক্ত হতে পারেনি। রাষ্ট্রীয় নির্যাতন রাজনৈতিক ভ্রস্টাচার সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ধর্মীয় সন্ত্রাস আর সামাজিক অবক্ষয়ের সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা।
তাই বিপন্ন কবি লেখেন– ‘আমরাও তবে এইভাবে এ মুহূর্তে মরে যাব না কি ?’
দ্বিতীয় স্তবকে কবির ভাবনা আরও গভীরে প্রবেশ করেছে। তিনি উপলব্ধি করেছেন ইতিহাসের অবিচারের কথা। এই সকল নিপীড়িতদের কথা ইতিহাসে নেই। যদিও থাকে, তা অসত্য ইতিহাস। নিপীড়িত মানুষরা অর্থনৈতিক এবং মানসিক দিক দিয়ে রিক্ত। কিন্তু পৃথিবীর কেউ তাদের নিয়ে ভাবিত নয়—
“আমাদের কথা কে-বা জানে / আমরা ফিরেছি দোরে দোরে।”
কিন্তু কবি বিপন্নদের মধ্যে স্বতন্ত্র, তিনি আশার আলো দেখার প্রত্যাশা রাখেন। কিছুই কোথাও যদি না থাকে তবু এখনও কিছু মানুষ আছে, যাদের মধ্যে মানবিক গুণগুলি বর্তমান, সেইসব বিবেকবান মানুষদের বিচ্ছিন্নতা ভুলে পারস্পরিক সহযোগিতার হাত আরও প্রশস্ত করতে বলেছেন। তাই আশাবাদী কবির আহ্বান—
‘আয় আরো হাতে হাত রেখে / আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।’
এভাবেই কবি আলোচ্য কবিতায় তাঁর সমাজসচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন।
৫. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবির বিশ্বমানবিকতাবোধের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা আলোচনা করো। ৫
অথবা, ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় মানবশৃঙ্খল
গড়ে তোলার জন্য কবি যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো। ৫
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি শঙ্খ ঘোষ নিজেকে কেবল একটি দেশ বা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি দেশকাল অতিক্রম করে বিশ্বমানবের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন। হিংসা, যুদ্ধ ও রক্তপাতের ফলে মানবতার যে চরম অবক্ষয় ঘটেছে, তা কবিকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। সেই যন্ত্রণাবোধ থেকেই কবি সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। কবির কণ্ঠে শোনা যায়—
‘আমাদের পথ নেই আর আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।’
এই কবিতা রচনার পেছনে একুশ শতকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার ভয়াবহ বাস্তবতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। বোমারু বিমানের আক্রমণ, ঘরছাড়া মানুষ, নিষ্পাপ শিশুদের মৃতদেহ—এসব দৃশ্য কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে। ক্ষমতালোভী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির লাগাতার ষড়যন্ত্রে মানবসভ্যতা আজ বিপর্যস্ত। স্বার্থের সংঘাত ও হিংসার রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যুদ্ধ, দাঙ্গা ও রক্তপাতে তারা হারাচ্ছে জীবিকা, ঘরবাড়ি ও নিরাপত্তা। কবি এই নির্যাতিত মানুষের দুঃখে সমব্যথী ও সহানুভূতিশীল। তিনি মনে করেন, চিরবঞ্চিত সাধারণ মানুষকে সহজে ধ্বংস করা যায় না। তাই প্রশ্ন তুলেছেন—
‘আমরাও তবে এইভাবে এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি ?’
সভ্যতার এই গভীর সংকটের সময়ে কবি বিশ্বাস করেন, সাধারণ মানুষকেই আবার জেগে উঠতে হবে। বিচ্ছিন্নতা ও স্বার্থপরতা ভুলে মানবতার আদর্শে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাই কবি আহ্বান জানিয়েছেন—
‘আয় আরো হাতে হাত রেখে আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।’
সংঘবদ্ধতার মধ্য দিয়েই মানুষের নতুন করে বাঁচার পথ তৈরি হবে। সাধারণ মানুষের ঐক্যই পারে হিংসা ও ধ্বংসের উন্মত্ততাকে রুখে দিতে। পৃথিবীর যেখানেই মানবতার অপমান হয়েছে, কবি সেখানে ক্ষোভ ও বেদনায় সোচ্চার হয়েছেন। এইভাবেই ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর গভীর বিশ্বমানবিকতাবোধের পরিচয় দিয়েছেন।
৬. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘আমাদের’ জীবন বিপন্নতার যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা আলোচনা করো। ৫
উত্তরঃ কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘আমাদের’ জীবন বলতে সাধারণ, শান্তিপ্রিয় ও পরিশ্রমী মানুষের জীবনের বিপন্নতার কথা বলা হয়েছে। কবি নিজেকেও এই সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাই এখানে ‘আমরা’ বলতে কবি ও সাধারণ মানুষ— দু’পক্ষকেই বোঝানো হয়েছে।
এই সাধারণ মানুষ জীবনে খুব বেশি কিছু চায় না। তারা শুধু ভাত-কাপড় জোগাড় করে শান্তিতে বাঁচতে চায়। কিন্তু রাজনীতিবিদ ও ক্ষমতাশালী শাসকেরা সাধারণ মানুষের এই স্বাভাবিক জীবনকে বিপন্ন করে তোলে। তারা নানা অজুহাতে যুদ্ধ লাগায়। উগ্র জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় উন্মাদনা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মানুষের মধ্যে হিংসা ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে নিরীহ সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা মৃত্যুমিছিলে শামিল হয়। বোমার আঘাতে মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়, নিষ্পাপ শিশুদের মৃতদেহ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে—
‘আমাদের পথ নেই কোনো / আমাদের ঘর গেছে উড়ে / আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!’
এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের সামনে প্রশ্ন ওঠে— তারা কি সবাই এভাবেই মারা যাবে ? কবি তাই প্রশ্ন করেন—
‘আমরাও তবে এইভাবে / এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি ?’
তবুও কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সাধারণ মানুষের জীবনধারাকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারে না। সব হারিয়েও সাধারণ মানুষ বেঁচে থাকে। সংকটের সময়ে তারা একে অপরের হাত ধরে আরও দৃঢ়ভাবে একসঙ্গে থাকে। তাদের ইতিহাস মূলত বঞ্চনার ইতিহাস। ভিখারির মতো কষ্ট করে বাঁচলেও সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সহাবস্থানের মাধ্যমে তারা জীবনের এই ভয়ংকর বিপন্নতা থেকে আবার উঠে দাঁড়ায়।
৭. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ এবং পুনরায় স্বপ্ন দেখার যে প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তরঃ দেশকাল নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে শান্তিতে বেঁচে থাকতে চায়। এই সামান্য স্বপ্নপূরণের জন্য তারা পরিশ্রম করে। কিন্তু কিছু ধর্মান্ধ বা ক্ষমতালোভী বর্তমান বিশ্বের অবস্থা আগ্রাসী মানুষের উন্মত্ততায় নিরীহ মানুষের স্বপ্নভঙ্গ ঘটে। সেই স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায়।
সাধারণ মেহনতি মানুষ যথাযথ খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের মাধ্যমে জীবনের নিরাপত্তা আর শান্তি চায়। তথাকথিত ইতিহাস ক্ষমতাভোগীদের গৌরব নিয়ে রচিত। সর্বহারা বঞ্চিত জনসাধারণের কোনো ইতিহাস নেই অথবা তাদের ইতিহাস অবহেলা-অত্যাচার-অনিশ্চয়তার ইতিহাস—
‘আমাদের ইতিহাস নেই অথবা এমনই ইতিহাস’
একবিংশ শতকেও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি পৃথিবীকে মৃত্যু-উপত্যকায় পরিণত করে। বোমারু বিমানের হানায় নিরীহ জনসাধারণ আশ্রয়হীন হয়, ছড়িয়ে পড়ে থাকে শিশুদের শব।
মানবিকতার এমন চরম অবক্ষয় ও লাঞ্ছনার দিনেও যাদের মধ্যে এখনও মনুষ্যত্ব এবং বিবেক বেঁচে আছে তাদের সংঘবদ্ধ হতে হবে। হাতে হাত রেখে সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে যেতে হবে। ‘কিছুই কোথাও যদি নেই’, তবু হতাশ হলে চলবে না। স্বপ্নভঙ্গের বেদনা বুকে নিয়েই নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে হবে। যে মানুষ স্বপ্ন দেখতে জানে না, সে এমনিতেই মৃত। আলোচ্য কবিতায় কবি এভাবেই স্বপ্ন দেখা, স্বপ্নভঙ্গ এবং পুনরায় স্বপ্ন দেখার মধ্য দিয়ে মৃত্যুজয়ী জীবনের প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন।
৮. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটিকে একটি প্রতিবাদী কবিতা বলা যায় কি না আলোচনা করো। ৫
উত্তরঃ উত্তরঃ শঙ্খ ঘোষ একজন মিতভাষী কিন্তু অত্যন্ত বলিষ্ঠ কবি। তিনি মানবসভ্যতার বিবেকবান প্রতিনিধি। তাঁর সমস্ত রচনাই ‘রুচির সমগ্রতা’-য় সমৃদ্ধ। তিনি কখনও উচ্চকিত বা অতিরঞ্জিত ভাষায় প্রতিবাদ করেন না। তাঁর প্রতিবাদের ভাষা সংযত, মার্জিত ও গভীর অর্থবহ। ‘আয় কবির বেদনা ও ক্ষোভ আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটিতেও কবি খুব শান্ত ও সংযত ভঙ্গিতেই নিজের প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন। কবিতার প্রতিটি পঙক্তির মধ্য দিয়ে কবির গভীর বেদনা ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ শতকের শেষ ভাগে এবং একুশ শতকের শুরুতে ইরাক, কুয়েত, আফগানিস্তান, প্যালেস্তাইন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ ভয়াবহ হিংসা ও যুদ্ধের শিকার হয়। বোমারু বিমানের আক্রমণ, অসংখ্য নিরীহ শিশুর মৃত্যু, ঘরহারা মানুষের অনিশ্চিত ও আতঙ্কগ্রস্ত জীবন— এই সব নিষ্ঠুর ও মর্মান্তিক ঘটনা কবির মনকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। এই ভয়ংকর বাস্তবতা কবিকে ব্যথিত ও প্রতিবাদী করে তোলে। দেশ ও কালের সীমা ছাড়িয়ে সারা পৃথিবী জুড়ে যে হিংসা, যুদ্ধ এবং মানবিকতার অবক্ষয় চলছে, তার বিরুদ্ধে কবি প্রতিবাদে মুখর হন। মৃত, আহত, নির্যাতিত, আশ্রয়চ্যুত ও সর্বহারা বিশ্বমানবের সঙ্গে কবি নিজেকে একাত্ম করে তোলেন।
কবি বিশ্বাস করেন, যাদের মধ্যে এখনও মানবিক মূল্যবোধ ও শুভবুদ্ধি বেঁচে আছে, সেই সব মানুষেরাই চরম সংকটের সময়ে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদের পথে নামবে। স্বেচ্ছাচারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও ধর্মান্ধ মানুষদের বিরুদ্ধে কবিতার মাধ্যমেই কবি তাঁদের আহ্বান জানান। সেই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই কবির প্রতিবাদ প্রকাশ পায়—
‘আমরাও তবে এইভাবে / এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?’
এই প্রতিবাদ কেবল সময়ভিত্তিক নয়, এটি চিরকালীন ও সর্বজনীন। কবি মনে করেন, সাধারণ জনগণকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। একে অপরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানের মধ্য দিয়েই মানুষের বেঁচে থাকার পথ খুঁজে নিতে হবে—
‘আয় আরো হাতে হাত রেখে / আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।’
কবির মতে, সাধারণ মানুষের সম্মিলিত শক্তিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়। বিশ্বের যেখানেই মানবতার অপমান ও লাঞ্ছনা ঘটে, সেখানেই কবির প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হয়। তাই বলা যায়, আলোচ্য কবিতাটি নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিবাদী কবিতা।
৯. “আমাদের পথ নেই কোনো”– ‘আমাদের’ বলতে কবি কাদের বুঝিয়েছেন এবং তাদের ‘পথ’ নেই কেন ? পথহারা মানুষগুলিকে কবি কোন্ পথের সন্ধান দিয়েছেন ? ৩+২
উত্তরঃ স্বাধীনোত্তর যুগের অন্যতম সমাজ সচেতন কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় আমাদের বলতে আজকের যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, নিপীড়িত, শ্রমজীবী ও শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষদের বুঝিয়েছেন।
এখানে ‘পথ’ বলতে কবি সাধারণ মানুষের জীবনের চলার পথের কথা বলেছেন। সুস্থ সমাজ ও সুন্দর পৃথিবীই পারে মানুষের চলার পথকে মসৃণ করতে। কিন্তু আজকের পৃথিবী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসনে ভীত সন্ত্রস্ত। শান্তিকামী মানুষ তাদের অত্যাচারে বিপন্ন ও অসহায়। গৃহহারা এইসব মানুষ তাদের ভাবী প্রজন্মকে বাঁচাতে ব্যর্থ। তাদের নিজেদের অস্তিত্বও আজ সংকটের মুখে। তাই তাদের মনে হয়েছে তারা পথহারা।
কবি-সাহিত্যিকরা মানুষকে কোনোদিন নিরাশার অন্ধকারে হারিয়ে যেতে দেন না। কবি শঙ্খ ঘোষও এর ব্যতিক্রম নন। পথ হারাদের আরো বেঁধে বেঁধে থাকার অর্থাৎ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বেঁচে থাকার পথ যখন ক্রমশ রুদ্ধ হয়ে আসে, তখন তাদের ঘুরে দাঁড়াতে, রুখে দাঁড়াতে হয়। সহযোগিতা-সহানুভূতির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকা দরকার। এককভাবে মানুষ দুর্বল, কিন্তু সংঘবদ্ধ হলে বিরাট শক্তিতে পরিণত হয়। তাই আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকা প্রয়োজন—
‘আয় আরো হাতে হাত রেখে / আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।’
বেঁধে বেঁধে থাকাই পথহীন মানুষদের একমাত্র পথ বলে কবি মনে করেন।
১০. ‘আমাদের ঘর গেছে উড়ে’- এখানে কাদের ঘরের কথা বলা হয়েছে ? তাদের ঘর উড়ে গেছে কেন ? ১+৪
উত্তরঃ শঙ্খ ঘোষ রচিত ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা থেকে গৃহীত উদ্ধৃত আলোচ্য পঙ্ক্তিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের নিরীহ, নিরপরাধ এবং শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষের ঘরের কথাই বলা হয়েছে।
এই মানুষের ঘর উড়ে গেছে কারণ সাম্রাজ্যবাদী ও ক্ষমতাবান রাষ্ট্রগুলি নিজেদের স্বার্থে দুর্বল দেশগুলির উপর নির্বিচারে বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে। বোমারু বিমান থেকে ফেলা বোমার আঘাতে অসংখ্য মানুষের বাড়িঘর মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে এই ধরনের হিংস্র ও অমানবিক ঘটনা ঘটে চলেছে। যুগে যুগে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলি ক্ষমতা দেখানো, সাম্রাজ্য বিস্তার এবং অর্থনৈতিক লাভের লোভে যুদ্ধ বাধায়।
উন্নত ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি নিজেদের প্রভাব ও আধিপত্য বজায় রাখার জন্য নানা অজুহাতে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে। ফলে শুরু হয় অস্ত্র প্রতিযোগিতা। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হচ্ছে ভয়ংকর মারণাস্ত্র, যা বহু দূর থেকে আঘাত হানতে সক্ষম। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, ধর্মীয় উন্মাদনা ও সন্ত্রাসবাদ। এর ফলে সাধারণ মানুষ ঘরছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু ও শরণার্থীতে পরিণত হচ্ছে। আজ একুশ শতকেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মানুষ এই সব কারণে ঘরহীন। ঘর মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি ও আশ্রয়ের প্রতীক। তাই ঘর উড়ে যাওয়ার অর্থ মানুষের জীবনের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়া।
১১. “আমরাও তবে এইভাবে/এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি ?”-এমনটা মনে হচ্ছে কেন ? ৫ (মাধ্যমিক, ২০১৮)
উত্তরঃ শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি দেশকাল নির্বিশেষে যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর অসহায় ও বিপন্ন মানুষের যন্ত্রণার কথা প্রকাশ করেছেন। আজ পৃথিবী জুড়ে ক্ষমতার দম্ভ, সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন, হিংসা ও হানাহানি ছড়িয়ে পড়েছে। মানবতার চরম অবক্ষয় ঘটেছে। ক্ষমতালোভী ও স্বার্থান্বেষী মানুষগুলির বিবেকের দৈন্যতা এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তাদের নির্লজ্জ আক্রমণের ফলে মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার পথ আজ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে—
‘আমাদের মাথায় বোমারু / পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ’
ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রগুলি নিজেদের শক্তির দম্ভ দেখানোর জন্য এবং সাম্রাজ্য বিস্তারের লোভে একের পর এক মারণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করছে। এই সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবাজদের ক্রমাগত আক্রমণে সাধারণ মানুষ জীবিকাহীন হয়ে পড়ছে এবং অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। নিজের দেশ ছেড়ে আশ্রয়চ্যুত মানুষগুলি দিশাহারা হয়ে পড়ছে। শুধু বড়রা নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অবোধ শিশুরাও এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। বোমার আঘাতে তাদেরও প্রাণ দিতে হচ্ছে—
‘আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!’
এইরকম ভয়ংকর ও যুদ্ধময় পরিস্থিতি দেখে সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবন নিয়েও গভীর সংশয়ে ভুগছে। তাই কবিতায় ‘আমরাও তবে এইভাবে/এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?’— এই প্রশ্নটি উঠে এসেছে। চারদিকে মৃত্যুর ছায়া, ধ্বংস ও অনিশ্চয়তা মানুষকে ভাবিয়ে তোলে, তাদের বেঁচে থাকার আশা নড়িয়ে দেয়।
কবিতায় ‘এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?’— পঙ্ক্তিটিতে প্রশ্নচিহ্ন ব্যবহার করে কবি মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাতে চেয়েছেন—এই প্রতিকূল ও ভয়াবহ পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই না করে কি মৃত্যুকেই মেনে নেওয়া উচিত? কবি মনে করিয়ে দিতে চান, মৃত্যু মানেই তো হেরে যাওয়া। সমাজসচেতন নাগরিক হিসেবে কবি এমন পরাজয় মেনে নিতে চান না। তাই তিনি আশা করেন, মানুষ ভেঙে না পড়ে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব বাধা অতিক্রম করবে। এই কারণেই কবি আপামর জনগণকে ঐক্যমন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
১২. “আমাদের ইতিহাস নেই / অথবা এমনই ইতিহাস”— ইতিহাস বলতে কী বোঝ ? উদ্ধৃত অংশটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও ? ১+৪
উত্তরঃ ইতিহাস হল প্রাচীন কথা, যার মধ্যে দিয়ে কোনো জাতির বা সভ্যতার আত্মবিকাশের পর্যায়গুলি প্রকাশ পায়। ইতিহাস হল অতীতের প্রতিচ্ছবি যা বর্তমানে না থাকলেও বর্তমানকে অনুধাবন করতে সাহায্য করে।
ইতিহাস কেবল ক্ষমতাবানদের কথা বলে। আপামর জনগণের কোন ইতিহাস নেই অর্থাৎ ইতিহাসে তারা উপেক্ষিত। মেহনতি সাধারণ মানুষের বঞ্চনার খবর কেউ রাখে না। শোষণ অত্যাচার অবহেলা উপেক্ষা বঞ্চনার ধারাবাহিকতাই সাধারণ মানুষের ইতিহাস।
ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী সব সময় নিজেদের স্বার্থে নিজেদের গৌরবের ইতিহাস লিখেছে। কিন্তু তাদের সাম্রাজ্য বিজয়, নগর প্রতিষ্ঠা কিংবা চিরন্তন সৌধ নির্মাণের পিছনে যে সাধারণ শ্রমিক-কৃষক জনতা স্তম্ভ রূপে কাজ করে তাদের ইতিহাস সচেতনভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখেছে। তাই প্রথাগত ইতিহাস মানুষকে অন্ধ করে তোলে প্রকৃত ঐতিহ্য সম্পর্কে। সাধারণ মানুষ চাপিয়ে দেওয়া ইতিহাসকে নিজেদের ইতিহাস বলে মেনে নিতে বাধ্য হয়। তাই ওই ইতিহাসে সাধারণ মানুষ খুঁজে পায় না নিজেদের ঐতিহ্যের সন্ধান। যুগে যুগে দেশে দেশে এমনকি একুশ শতকেও সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। এই বিপর্যয়, বিপন্নতা, অনিশ্চয়তা অসহায় সর্বহারা মানুষের ইতিকথা। তাদের তথাকথিত ইতিহাস গৌরবান্বিত নয়, বরং অত্যন্ত করুন ও অসহায়।
১৩. ‘আমরা ভিখারি বারোমাস’-‘আমরা’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তারা নিজেদের ‘ভিখারি’ বলে মনে করছে কেন ? ২+৩
উত্তরঃ যুদ্ধবিধ্বস্ত ও হিংসায় ভরা এই পৃথিবীতে কবিতায় যে ক-জন মানুষের কথা বলা হয়েছে, তারা এখনও কোনও রকমে বেঁচে আছে। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন তাদের জীবনকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। তাদের কাজ, জীবিকা ও মাথা গোঁজার ঠাঁই সবই কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবুও তাদের প্রাণ এবং মানবিক মূল্যবোধ কেড়ে নেওয়া যায়নি। এই মৃত্যু-উপত্যকার মধ্যেও যারা বেঁচে থেকে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, ‘আমরা’ বলতে মূলত তাদের কথাই বোঝানো হয়েছে।
সাধারণ শ্রমজীবী, কৃষিজীবী ও সমাজের নীচের তলার মানুষদের সারাজীবন দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও অবহেলার মধ্যে কাটাতে হয়। সমাজের উপরের তলার সুবিধাভোগী মানুষের দয়া ও অনুকম্পার উপরই তাদের জীবন নির্ভরশীল। ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে তারা যেন ভিখারিতে পরিণত হয়। এর মধ্যেই সাম্রাজ্যবাদী, লোভী ও স্বার্থান্বেষী শক্তি ধর্মান্ধতা, ক্ষমতার লড়াই ও অর্থনৈতিক শোষণের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও হিংসার উন্মাদনা ছড়িয়ে দেয়। নির্বিচারে গোলাগুলিতে সাধারণ মানুষের জীবন, জীবিকা ও আশ্রয় ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের ইতিহাস বলতে কেবল বঞ্চনার ইতিহাসই রয়ে যায়। সেই কারণেই তারা নিজেদের ‘ভিখারি’ বলে মনে করে। তবে প্রকৃত ভিখারি হলো সেই সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রনায়ক ও সংকীর্ণ ধর্মান্ধ মানুষরা, কারণ বিবেক ও মনুষ্যত্বের দিক থেকে তারাই সবচেয়ে দীনহীন।
১৪. পৃথিবী হয়তো গেছে মরে’-কবির এই সংশয়ের কারণ কী ? পৃথিবী যদি বেঁচে থাকে তবে কীভাবে বেঁচে আছে ? ২+৩
উত্তরঃ কবি জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন— ‘পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন’। সেই অসুখ একুশ শতকে আরও বেড়েছে। তাই তাঁর উত্তরসূরি কবি শঙ্খ ঘোষকে বলতে হচ্ছে— ‘পৃথিবী হয়তো গেছে মরে’। কবির এই সংশয়ের মূল কারণ হলো, মানবসভ্যতা আজও হিংসা, যুদ্ধ ও লোভ থেকে মুক্ত হতে পারেনি। পৃথিবীর নানা প্রান্তে এখনো রক্তপাত, ধ্বংস আর অশান্তি চলছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির অবস্থা খুবই ভয়াবহ। আফগানিস্তান, ইরাক, প্যালেস্তাইন, কুয়েত, ইয়েমেন, সিরিয়া—এই দেশগুলি নানা কারণে বিপর্যস্ত। কোথাও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন, কোথাও একই ধর্মীয় গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই, কোথাও সন্ত্রাসবাদীদের নৃশংস হামলা চলছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে, তারা উদ্বাস্তু ও শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে। মানবিকতা আজ পদদলিত। যে শান্ত, সুন্দর ও মানবিক পৃথিবীর স্বপ্ন মানুষ দেখে, বর্তমান পৃথিবী তা আর নয়। এই কারণেই কবির মনে হয়— পৃথিবী হয়তো মরে গেছে।
রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক সীমানা মানে না এই যন্ত্রণা। পৃথিবীর নানা দেশে সাধারণ নিরীহ মানুষের জীবন আজ বিপন্ন ও বিপর্যস্ত। তবু যদি বলা হয় পৃথিবী এখনো বেঁচে আছে, তবে বলতে হবে—সে গভীর গভীরতর অসুখ নিয়েই বেঁচে আছে। চারদিকে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। তার ফলেই পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে হিংসা, নিষ্ঠুরতা ও মৃত্যুর ছায়া। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ছেড়ে মানুষ পাড়ি দিচ্ছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে। আকাশপথে লাগাতার বোমাবর্ষণ চলছে, তার শিকার হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুরাও, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি—
‘আমাদের ঘর গেছে উড়ে / আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!’
পৃথিবীর বেঁচে থাকা মানে আসলে মানুষের বেঁচে থাকা। কিন্তু সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষ ভালো নেই, তারা কেবল কোনোরকমে টিকে আছে। তাই কবি দৃঢ়ভাবে বলতে পারেন না যে পৃথিবী সত্যিই বেঁচে আছে। তাঁর মনে সংশয় জাগে। পৃথিবী যেন মৃতপ্রায়, অথবা জীবিত থেকেও স্মৃতিহীন অবস্থায় পড়ে আছে।
১৫. “আমাদের চোখ মুখ ঢাকা”– চোখ মুখ ঢাকা বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ? এই পরিস্থিতিতে ‘আমাদের’ কী করা উচিত ?
৩+২
উত্তরঃ কবি শঙ্খ ঘোষ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় বিশ্ববাসীর বিপর্যস্ত জীবনচিত্র তুলে ধরেছেন এবং নিজেকেও তাদের একজন বলে মনে করেছেন। ‘আমাদের’ অর্থাৎ সাধারণ মানুষের চোখ-মুখ ঢাকা। শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ যুদ্ধ, হানাহানি চায় না। তাদের প্রত্যাশা সামান্য। সামান্য খাদ্য-বস্তু, অল্প থাকার জায়গা পেলে তারা শান্তিতে বেঁচে থাকতে চায়। কিন্তু লোভী ক্ষমতাবানরা শাসকেরা সাধারণ জনগণের বেঁচে থাকাকে দুর্বিষহ করে তোলে। ছলে-বলে-কৌশলে জনগণের উপর শোষণ-অত্যাচার চালায়। নানা ভাবে সাম্রাজ্যবাদীরা উগ্র জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় উন্মাদনা আর গোষ্ঠী সংঘর্ষের মাধ্যমে পৃথিবী জুড়ে হিংসা ছড়ায়, যুদ্ধ বাধায়।
একবিংশ শতকেও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো পৃথিবীকে বধ্যভূমিতে পরিণত করে তুলেছে, আর নিরীহ জনগণকে সেই বধ্যভূমিতে মৃত্যুর প্রতীক্ষায় দাঁড় করিয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে প্রতিবাদ করতে না পারে, শাসকের অন্যায়কে দেখতে না পায়, তাই তাদের চোখ-মুখ ঢেকে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করে, যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে আড়াল করে জনগণের প্রতিবাদী বিবেককে স্বার্থান্বেষীরা হত্যা করতে চায়।
এই পরিস্থিতিতেও কবি নিরাশ বা হতাশ হয়ে পড়েননি। সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন—
‘আয় আরো হাতে হাত রেখে / আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।’
অর্থাৎ সংকট যতই গভীর হোক, এই পরিস্থিতিতে সর্বহারা জনগণকে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পরস্পর সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে আরও বেশি সংঘবদ্ধ হওয়া উচিত বলে কবি মনে করেন। এভাবেই যৌথ শক্তিতে রুখে দাঁড়াতে হবে মানুষকে।
১৬. ‘আমাদের কথা কে-বা জানে’– কাদের কথা বলা হয়েছে ? তাদের কথা কেউ জানে না কেন ? ২+৩
উত্তরঃ কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত আলোচ্য পঙ্ক্তিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের গৃহহীন সর্বহারা সাধারণ নাগরিকদের কথাই বলতে চেয়েছেন।
এ পৃথিবীর ইতিহাস আসলে ক্ষমতাবান শাসকের ইতিহাস। শাসকেরা প্রতিনিয়ত তার গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তাদের মদতে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সমাজ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়, যার বলি হয় সাধারণ মানুষ। তাদের সুখ-দুঃখ-শান্তি-স্বস্তির পরোয়া কেউ করে না। দুর্বল ও অসহায় আমজনতার কথা তাই কখনও সভ্যতার আয়নায় ধরা দেয় না। তাদের জন্য জোটে উপেক্ষা, অবহেলা ও বিস্মৃতি। সাধারণ মানুষের কোনো ইতিহাস নেই অথবা আছে শুধু বঞ্চনার ইতিহাস-
‘আমাদের ইতিহাস নেই / অথবা এমনই ইতিহাস’
প্রচলিত ইতিহাস তো কেবল রাজা মহারাজাদের কথা বলে। ফলে জনতার কথা কেউ জানে না, কখনোই জানতে পারে না। পৃথিবীর আপামর নিরীহ মানুষ এতই সাধারণ যে, তাদের দুর্দশাময় জীবনে প্রচারের আলো এসে পড়ে না। রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের বঞ্চিত করে, সাম্রাজ্যবাদ তাদের শোষণ করে। ইতিহাসে তাদের বিপন্নতা ধরা পড়ে না। তারা চিরনির্যাতিত, সর্বহারা। তাই তাদের কথা কেউ জানে না।
১৭. ‘তবু তো কজন আছি বাকি’-‘তবু’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ কী ? পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে ‘কজন’-এর পরিচয় দাও। ২+৩
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি শঙ্খ ঘোষ ‘তবু’ শব্দটি বিশেষ তাৎপর্যের সঙ্গে ব্যবহার করেছেন। ‘তবু’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘তা সত্ত্বেও’। এই শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে কবি পূর্ববর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে একটি বিরোধ বা প্রতিকূলতার ইঙ্গিত দেন। ‘তবু’ শব্দটি পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগায় এবং কবিতার বক্তব্যের দিকে তাকে আরও গভীরভাবে মনোযোগী করে তোলে। আলোচ্য কবিতায় কবি বোঝাতে চেয়েছেন—যুদ্ধের ভয়াবহতা, আশ্রয়হীনতা এবং প্রতিনিয়ত মৃত্যুর আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কিছু মানুষ এখনও বেঁচে আছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যতই নিষ্ঠুর ও অমানবিক হোক না কেন, প্রকৃত মানবিকতার কাছে সে একদিন পরাজিত হবেই— এই বিশ্বাসই ‘তবু’ শব্দটির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
কবিতায় যুদ্ধের বীভৎসতা অসংখ্য মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তবু চরম দুর্দশার মধ্যেও কয়েকজন সাধারণ মানুষ বেঁচে আছে—তারাই ‘কজন’। তারা জীবিকা, আশ্রয়, স্বজন এবং স্বদেশ—সবকিছু হারিয়েছে। কিন্তু তারা তাদের মানবিকতা হারায়নি। তাদের কোনো গৌরবময় ইতিহাস নেই, বরং তারা বহন করে বঞ্চনা আর দুঃখের ইতিহাস। তাদের ডান পাশে ধস, বাঁ পাশে গিরিখাদ, আর মাথার উপর বোমারু বিমানের ভয়। সারা বছর ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে তাদের জীবন চলে। তারা যেন চোখ-মুখ ঢাকা অবস্থায় বধ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে—
‘আমাদের ইতিহাস নেই / অথবা এমনই ইতিহাস / আমাদের চোখমুখ ঢাকা / আমরা ভিখারি বারোমাস’।
এই ‘কজন’ হলো মেহনতি মানুষ, আপামর সাধারণ জনগণ। তারা দোরে দোরে ঘুরে শান্তির আবেদন জানিয়েছে, স্থির ও নিরাপদ জীবনের ভিক্ষা চেয়েছে। কিন্তু কেউ তাদের কথা মনে রাখেনি। চারদিকে যেন কোনো আশার আলো নেই। তবু এই অল্প কয়েকজন মানুষই একসঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে, আরও সংঘবদ্ধ হয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে এবং ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।
১৮. “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি”- ‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন এবং কাদের এভাবে থাকতে বলেছেন ? কবি বেঁধে বেঁধে থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন কেন ? ২+৩
উত্তরঃ রবীন্দ্রোত্তর কালের অন্যতম প্রধান কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘বেঁধে বেঁধে থাকি’ বলতে সংঘবদ্ধভাবে বেঁচে থাকাকে বোঝাতে চেয়েছেন। বর্তমান বিশ্ব ক্ষমতাবান শাসক, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও মৌলবাদীদের যৌথ ষড়যন্ত্রে বিধ্বস্ত। মানুষ আজ বিপন্ন, বড় অসহায়। প্রতি পদে পদে তার বিপদ। সাধারণ মানুষ প্রতিমুহূর্তে প্রাণসংশয়ের ভয়ে ভীত। তাই এভাবে ক্রমাগত শোষিত পৃথিবীর শান্তিকামী সাধারণ মানুষকে কবি বেঁধে বেঁধে একত্রিত হয়ে সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বলেছেন।
পৃথিবী জুড়ে যুদ্ধময় পরিস্থিতি। ক্ষমতাবান, সাম্রাজ্যবাদী ও মৌলবাদী শক্তি তাদের নৃশংসতায় সাধারণ মানুষের সামনে অস্তিত্বের সংকট সৃষ্টি করেছে। বোমারু বিমানের হানায় নিরপরাধ নিষ্পাপ শিশুদেরও প্রাণ দিতে হয়। সাধারণ মানুষ আশ্রয়চ্যুত, জীবিকাহীন। চরম সংকটের দিনে সংঘবদ্ধ থাকলে অশুভ শক্তিকে, সময়ের বিপন্নতাকে প্রতিহত করা যায়। পরস্পরের সুখ-দুঃখে মিলেমিশে একসঙ্গে বাস করার জন্যই মানুষ সমাজ গড়েছিল। সমাজ-রাষ্ট্র-সভ্যতা মানুষের বেঁধে বেঁধে থাকার ফলাফল। সাধারণ মানুষের একতা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং সহাবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। সংঘবদ্ধ সাধারণ মানুষ যখন বিরাট শক্তিতে পরিণত হয়, তখন হামলাকারী যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিও সেই প্রতিরোধী, প্রতিবাদী জনশক্তিকে ভয় পায়। তাই বেঁধে বেঁধে থাকার প্রয়োজনীয়তা কবি অনুভব করেছেন।
◆ আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি বিষয়বস্তু
◆ MCQ প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১)
◆ VSAQ প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১)
◆ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৩)
📌 আরো দেখোঃ
📌মাধ্যমিক সিলেবাস বাংলা Click Here
📌দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক বিগত বছরের প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় মক্ টেস্ট Click Here
