∆ মাধ্যমিকের পর কোন বিভাগ বেছে নেব ?
সাইন্স, আর্টস নাকি কমার্স – বিস্তারিত গাইড
প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম বড় একাডেমিক মাইলস্টোন হল মাধ্যমিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটি আসে, তা হল—
“মাধ্যমিকের পর কোন বিভাগে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যৎ ভালো হবে ?”
বর্তমানে মাধ্যমিকের পর পড়াশোনা মূলত তিনটি প্রধান বিভাগে বিভক্ত—
সাইন্স (Science), আর্টস (Arts) এবং কমার্স (Commerce)।
প্রতিটি বিভাগের বিষয়বস্তু, পড়াশোনার ধরন ও ক্যারিয়ার সুযোগ আলাদা। তাই নিজের আগ্রহ, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী বিভাগ নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
∆ আর্টস বিভাগ (Arts)
এক সময় আর্টসকে সহজ বা কম গুরুত্বের বিভাগ হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে আর্টস বিভাগে রয়েছে প্রচুর ক্যারিয়ার সম্ভাবনা ও বৈচিত্র্য।
∆ আর্টসের বিষয়সমূহ
আর্টস বিভাগে সাধারণত যে বিষয়গুলি পড়ানো হয়, সেগুলি হল—
- ইতিহাস
- ভূগোল
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান
- সমাজবিজ্ঞান
- অর্থনীতি
- শিক্ষা (Education)
- সংস্কৃত
- সাইকোলজি
- পরিবেশবিদ্যা
- পুষ্টিবিজ্ঞান
- মিউজিক
- ফাইন আর্টস
- শারীরশিক্ষা
∆ আর্টস নিয়ে পড়লে কী হওয়া যায় ?
আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করে ক্যারিয়ার অপশনগুলি তৈরি করা যায়—
- শিক্ষক ও অধ্যাপক
- গবেষক
- লেখক ও কবি
- সাংবাদিক ও মিডিয়া পার্সন
- আইনজীবী
- সমাজকর্মী
- প্রশাসনিক কর্মকর্তা (UPSC/WBCS ইত্যাদি)
- কূটনীতিক
- রাজনৈতিক বিশ্লেষক
- মনোবিজ্ঞানী
- কনটেন্ট রাইটার ও এডুকেশনাল কনসালট্যান্ট
বর্তমান সময়ে সিভিল সার্ভিস, ‘ল’ এবং মিডিয়া সেক্টরে আর্টস বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের চাহিদা অনেক বেশি।
∆ সাইন্স বিভাগ (Science)
যাদের গণিত, যুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাধারায় আগ্রহ আছে, তাদের জন্য সাইন্স বিভাগ একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।
∆ সাইন্সের বিষয়সমূহ
- গণিত
- পদার্থবিজ্ঞান
- রসায়নবিজ্ঞান
- জীববিজ্ঞান
- পরিবেশবিজ্ঞান
- বায়োটেকনোলজি
- কম্পিউটার সায়েন্স
- ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রাফিক্স
- জিওলজি
∆ সাইন্স নিয়ে পড়লে কী হওয়া যায় ?
সাইন্স বিভাগে পড়াশোনা করে শুধু ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারই নয়, আরও অনেক পেশায় যাওয়া যায়—
ডাক্তার (MBBS, BDS, BAMS, BHMS ইত্যাদি)
- ইঞ্জিনিয়ার
- ফার্মাসিস্ট
- ডেটা সায়েন্টিস্ট
- রিসার্চ সায়েন্টিস্ট
- পরিসংখ্যানবিদ
- কৃষি গবেষক
- পরিবেশ বিজ্ঞানী
- বায়োটেকনোলজিস্ট
- সাইকোলজিস্ট
∆ মেডিকেল লাইনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়ঃ
যারা মেডিকেল লাইনে যেতে চায়, তাদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান (PCB) নিতে হয়। এই ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
∆ ইঞ্জিনিয়ারিং লাইনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়ঃ
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য একাদশ শ্রেণিতে অবশ্যই থাকতে হবে—
- পদার্থবিজ্ঞান
- রসায়ন
- গণিত
- বর্তমানে জনপ্রিয় ইঞ্জিনিয়ারিং শাখাগুলি—
- কম্পিউটার সায়েন্স
- সিভিল
- মেকানিক্যাল
- ইলেকট্রিক্যাল
- ইলেকট্রনিক্স
- কেমিক্যাল
- এ্যারোনটিক্যাল
∆ কমার্স বিভাগ (Commerce)
ব্যবসা, হিসাব, অর্থনীতি ও ম্যানেজমেন্টে যাদের আগ্রহ, তাদের জন্য কমার্স বিভাগ অত্যন্ত উপযোগী।
∆ কমার্সের বিষয়সমূহ—
- অ্যাকাউন্টেন্সি
- ইকোনমিক্স
- বিজনেস স্টাডিজ
- গণিত
- ইনফরম্যাটিক্স প্র্যাকটিসেস
- ম্যানেজমেন্ট
- বিজনেস ফাইন্যান্স
- মার্কেটিং
∆ কমার্স নিয়ে পড়লে কী হওয়া যায় ?
কমার্স বিভাগের জনপ্রিয় ক্যারিয়ার অপশনগুলি হল—
- চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA)
- ব্যাংকার
- একাউন্টেন্ট
- ফিনান্সিয়াল প্ল্যানার
- কোম্পানি সেক্রেটারি (CS)
- কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CMA)
- প্রোডাক্ট ম্যানেজার
- সেলস ও মার্কেটিং ম্যানেজার
- লোন ও ইনভেস্টমেন্ট এক্সিকিউটিভ
- অ্যাকচুয়ারি
বর্তমানে ফিন্যান্স, স্টার্টআপ ও কর্পোরেট সেক্টরে কমার্স শিক্ষার্থীদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
বিকল্প কোর্স: ITI ও পলিটেকনিক
ITI (Industrial Training Institute)
আইটিআই হল একটি বৃত্তিমূলক ও চাকরিমুখী কোর্স, যা কম সময়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে।
জনপ্রিয় ITI কোর্স—
- ইলেকট্রিশিয়ান
- ফিটার
- মেকানিক্যাল ড্রাফটসম্যান
- অটো ইলেকট্রিশিয়ান
- কম্পিউটার হার্ডওয়্যার
- নেটওয়ার্কিং
- Polytechnic Course
পলিটেকনিক হল ৩ বছরের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স।
এটি শেষ করে সরকারি ও বেসরকারি দুই ক্ষেত্রেই চাকরির সুযোগ থাকে।
∆ জনপ্রিয় পলিটেকনিক কোর্স—
- ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং
- ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
- ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
- ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স
- ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন
- ডিপ্লোমা ইন অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং
উপসংহারঃ মাধ্যমিকের পর কোন বিভাগ বেছে নেবে, তা নির্ভর করে—
- নিজের আগ্রহ
- মানসিক দক্ষতা
- ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
✓আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর সাইন্স, আর্টস বা কমার্স-কোনো বিভাগই ছোট নয়। সঠিক সিদ্ধান্তই সুন্দর ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।
✓নিজের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে, সঠিক তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নিলেই সফলতা আসবেই।
