আফ্রিকা কবিতার সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা | Africa Kobitar SAE Question Answer Class 10 Bengali wbbse

আফ্রিকা কবিতার সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা | Africa Kobitar SAE Question Answer Class 10 Bengali wbbse

আফ্রিকা
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

📌মাধ্যমিক সিলেবাস বাংলা Click Here

📌দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 মাধ্যমিক বিগত বছরের প্রশ্নপত্র Click Here

📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় মক্ টেস্ট Click Here

ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : আফ্রিকা কবিতা দশম শ্রেণি বাংলা | Short and Explanatory (SAE) Question Answer Africa (Madhyamik) Class 10 Bengali wbbse

∆ কমবেশি ৬০ শব্দের মধ্যে উত্তর দাও : (প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৩)

১. ‘স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে’ – ‘স্রষ্টা কে ? তিনি নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন কেন ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে অংশটি গৃহীত। যিনি সৃষ্টি করেন তিনিই স্রষ্টা। এখানে কবি ঈশ্বরকেই ‘স্রষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।

অসন্তুষ্টির কারণ : স্রষ্টার ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্টি হয় না যতক্ষণ না তাঁর সৃষ্টিকর্ম নিজের মনোমতো হয়। সেই সত্যকে কল্পনা করেই কবি বলতে চেয়েছেন সৃষ্টির আদিম লগ্নে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টিকে বারবার ধ্বংস করে নতুনভাবে গড়ে তুলছিলেন। কিন্তু তা কখনোই তাঁর মনোমতো হচ্ছিল না। এই কারণে তিনি নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন।

২. ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে’ – ‘তোমাকে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? কে তাকে কোথা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ?

অথবা, “ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে’- ‘তোমাকে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? এই উত্তির মধ্য দিয়ে কবি কী বুঝিয়েছেন ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘তোমাকে’ বলতে আফ্রিকা মহাদেশকে বোঝানো হয়েছে।

আদিম পৃথিবীর বুকে ঘটে যাওয়া ভৌগোলিক বিবর্তনকে এখানে কবি ফুটিয়ে তুলেছেন এক আশ্চর্য ব্যঞ্জনায়। বৈজ্ঞানিকদের মতে টেকটনিক প্লেটগুলির নড়াচড়ার ফলেই এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কবি এরই কাব্যিক রূপ দিয়ে বলেছেন, রুদ্র সমুদ্র মূল ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে যেন বনস্পতির নিবিড় পাহারায় কৃপণ আলোর অন্তরালে তাকে নিক্ষেপ করেছিল।

৩. ‘হায় ছায়াবৃতা’ – ‘ছায়াবৃতা’ কে ? তাকে ছায়াবৃত বলার কারণ কী ?

‘অথবা, ‘অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ’ বলার কারণ কী ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় আফ্রিকা মহাদেশকে ‘ছায়াবৃতা’ বলে সম্বোধন করেছেন।

ছায়াবৃতা বলার কারণ : ‘ছায়াবৃতা’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ছায়া দ্বারা আবৃতা বা ছায়াঢাকা। দুর্গম অরণ্যে ঘেরা আফ্রিকা মূল ভূখণ্ড থেকে বহুদূরে অবস্থিত। আধুনিক সভ্যতা ও জ্ঞানের আলো থেকে সে বঞ্ছিত। দুর্গমতার কারণে উনিশ শতকের আগে পর্যন্ত আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ ও নিজস্ব সংস্কৃতি বাকি বিশ্বের কাছে অজানাই রয়ে গেছে তার রহস্যময় অরণ্যের মতোই।

৪. ‘দাঁড়াও মানহারা মানবীর দ্বারে’ – কাকে ‘মানহারা মানবী’ বলা হয়েছে ? তাকে আহ্বান করার কারন কি ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘মানহারা মানবী’ বলতে ‘আফ্রিকার কথা বলা হয়েছে।

আহ্বানের কারণ : ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী দস্যুদের পায়ের কাঁটা মারা জুতোর তলায় ক্ষত বিক্ষত হয়েছে আফ্রিকার মাটি। সভ্য মানুষ কখনো ফিরে তাকায়নি মানহারা মানবীর দিকে। যুগান্তরের কবি সভ্য মানুষের প্রতিনিধি। তাই মানহারা আফ্রিকার দ্বারে দাঁড়িয়ে সমগ্র সভ্য মানুষের হয়ে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। এই কারণেই কবি তাকে আহ্বান করেছেন৷

৫. ‘এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে’ – ওরা কারা ? ওদের হাতকড়ি নিয়ে আসার কারণ কী ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ আফ্রিকা’ কবিতায় ‘ওরা’ বলতে অত্যাচারী ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের কথা বলা হয়েছে।

হাতকড়ি নিয়ে আসার কারণ : ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী দস্যুদের পায়ের কাঁটা মারা জুতোর তলায় ক্ষত বিক্ষত হয়েছে আফ্রিকার মাটি। অত্যাচারী ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকরা এসে আফ্রিকার মানুষদের বন্দি করে ক্রীতদাসে পরিনত করে। এই ক্রীতদাসদের বন্দি করার জন্য হাতকড়ি নিয়ে আসা হয়।

৬. ‘চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে’ – কারা, কীভাবে কিসের চিরচিহ্ন দিয়ে গেল ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘ওরা’ বলতে অত্যাচারী ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের কথা বলা হয়েছে।

চিরচিহ্নের মুদ্রন : সৃষ্টির সূচনা থেকে আফ্রিকা অরণ্যাবৃত। তথাকথিত সভ্য ইউরোপীয় সভ্যতার চোখেও আফ্রিকা ছিল উপেক্ষিত। আফ্রিকার সম্পদের সন্ধান পেতে এই শ্বেতাঙ্গ ঔপনিবেশিক তথা সাম্রাজ্যবাদীর দল শুরু করে মানবিক লাঞ্ছনা। এইসব অত্যাচারিত মানুষের রক্ত ও অশ্রুতে কর্দমাক্ত হয় আফ্রিকার বনপথের ধুলো। সাম্রাজ্যবাদী দস্যুদের কাঁটা মারা জুতোর তলার কাদার পিন্ড এভাবেই আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন দিয়ে গেল।

৭. ‘এসো যুগান্তেরের কবি’ – কবি কখন যুগান্তরের কবিকে আহ্বান করেছেন ? যুগান্তরের কবিকে কবি কোন উপদেশ শোনাবেন ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ আফ্রিকা’ কবিতায় কবি দেখতে পেলেন দিনের অন্তিম কালে পশ্চিম দিগন্তে অর্থাৎ ইউরোপের দেশে দেশে ‘প্রদোষকাল ঝঞ্ঝা বাতাসে রুদ্ধশ্বাস’ ‘গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল। ঠিক সেই সময়ে কবি যুগান্তরের কবিকে আহ্বান করেছেন।

উপদেশ : আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাত যখন প্রকৃতিকে অন্য এক মাত্রা দিয়েছে তখন ক্রান্তদর্শী কবি রবীন্দ্রনাথ যুগান্তরের কবিকে মানহারা মানবীর দ্বারে অর্থাৎ অপমানিত ইতিহাসের রূপাঙ্কনের বাস্তব ভূমিতে দাঁড়িয়ে হিংস্র প্রলাপের মধ্যে ‘ক্ষমা করো’র মতো উপদেশ শোনাবেন ।

৮. ‘কৃপন আলোর অন্তঃপুরে’- কবিতা অনুসারে বক্তব্যটি লেখো।

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে।

বক্তব্য : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় আফ্রিকার ভৌগোলিক, রাজনৈতিক সম্পর্কে মরমি বিশ্লেষণ রয়েছে। বনস্পতির নিবিড় আলিঙ্গনে, অরণ্যের দুর্ভেদ্য আলো ছায়ায় আবৃত থাকে আফ্রিকা। নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত হওয়ার জন্য বৃহৎ পাতা বিশিষ্ট গাছের সৃষ্টি হয় এখানে। অসংখ্য বৃক্ষ ঘন সন্নিবিষ্ট হওয়ায় অতি সামান্য আলোটুকু প্রবেশের অধিকার পায় না। অন্ধকারে আবৃত থাকে আফ্রিকার অধিকাংশ প্রান্তর।

৯. ‘বিদ্রপ করেছিল ভীষণকে’ – কে কীভাবে ভীষণকে বিদ্রুপ করেছিল?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে।

ভীষণকে ব্যঙ্গ : আফ্রিকা নামাঙ্কিত কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৃথিবীর অন্য মহাদেশ থেকে বিছিন্ন আফ্রিকাকে ধীরে ধীরে সাবলম্বী হতে দেখেছিলেন। নিভৃত অবকাশে দুর্গমের রহস্য সংগ্রহ করেছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ ভূখন্ড। চিনেছিল জল, স্থল। আকাশের দুর্বোধ সংকেত। প্রকৃতি তাকে দিয়েছিল অপার রহস্যময়তা। অতীত জাদু মন্ত্ৰ জাগাচ্ছিল আফ্রিকার চেতনাতীত মনে৷ আফ্রিকার ওপর সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আস্ফালনকে আফ্রিকা নিজেই চিনে নিতে চাইছিল। সেই ভীষণ শক্তিশালী শক্তিকে ব্যঙ্গ করার স্পর্ধা অর্জন করেছিল।

১০. ‘নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে’ – ‘তোমার’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে ? কাদের নখ কেন নেকড়ের থেকে তীক্ষন ?

উত্তরঃ তোমার বলতে আফ্রিকা মহাদেশের কথা বলা হয়েছে।

সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হিংস্রতা : দুর্ভেদ্য জঙ্গলে পরিবৃত আফ্রিকার হিংস্র আরণ্যক প্রাণীদের অন্যতম হল নেকড়ে। নেকড়ের তীক্ষ্ণ নখের থেকেও সূচালো ও ধারালো হল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন। পশ্চিমী দুনিয়া আফ্রিকার ওপর বর্বর উল্লাসে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এদের আগ্রাসনের কথা বলতে গিয়ে কবি ‘নখ যাদের তীক্ষ্ণ’ এই বাক্য বন্ধটি প্রয়োগ করে দুনিয়ার লোলুপ হিংস্রতাকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছেন। কবি এখানে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে আলোচ্য উক্তিটি প্রকাশ করেছেন।

১১. “বাঁধলে তোমাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায়”– ‘বনস্পতির নিবিড় পাহারা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে নেওয়া প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে আফ্রিকার কথা বলা হয়েছে।

‘বনস্পতির নিবিড় পাহারা’ : আফ্রিকা মহাদেশের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল, বিশেষত, মধ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকায় নিরক্ষীয় অঞ্চল হওয়ার জন্য ঘন অরণ্য রয়েছে। সেই নিবিড় অরণ্য ভেদ করে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না। প্রকৃতি যেন নিবিড়, নিছিদ্র পাহারায় বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে আফ্রিকাকে। এই ভৌগোলিক সত্যকেই রবীন্দ্রনাথ কাব্যিকভাবে তুলে ধরেছেন।

১২. “আপনাকে উগ্র করে বিভীষিকার প্রচন্ড মহিমায়” – প্রসঙ্গটি ব্যাখ্যা করো ।

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা : সভ্যতাসৃষ্টির প্রথম পর্বে আফ্রিকা বাইরের পৃথিবীর কাছে নিজেকে পরিচিত করেছিল তার ভয়ংকর স্বরূপের মধ্য দিয়ে। আফ্রিকার প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাই একসময় তাকে রক্ষা করেছিল বহিঃশক্তির হাত থেকে। তার দুর্ভেদ্য অরণ্য ভেদ করে প্রবেশ করার অধিকার সূর্যরশ্মিরও ছিল না। বিরূপের ছদ্মবেশে আফ্রিকা যেন ভীষণ বহিঃপ্রকৃতিকে বিদ্রুপ করেছিল। নিজের ভয়কে সে জয় করেছিল বিভীষিকাকে আশ্রয় করে।

১৩. ‘এল মানুষ ধরার দল’ – কবি কাদের কথা বলেছেন ? তাদের স্বরূপ বিচার করো।

উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘মানুষ-ধরার দল’ বলতে নির্দয় ও হিংস সাম্রাজ্যবাদী শাসকের কথা বলেছেন।

স্বরূপ বিচার : শ্বেতাঙ্গ ঔপনিবেশিক শক্তির লাঞ্ছনা এবং নির্যাতনে আফ্রিকার বনজঙ্গল বারংবার রক্তাক্ত হয়েছিল। তাদের নির্বিচার খুন ও হত্যার নৃশংসতায়; তারা হয়ে উঠেছিল বন্য নেকড়ের চেয়েও হিংস্র এবং কদর্য। অবক্ষয়ী এই তথাকথিত সভ্যরা ছিল দাস-ব্যবসায়ী। কবির মতে নিরীহ মানুষকে পণ্য হিসেবে কেনা-বেচা করার মিথ্যা গর্ব কিংবা অহমিকা আসলে এদের অসভ্য অমানবিকতার প্রকাশ। ইউরোপীয় শাসককুলের বর্বর লোভের এই ঘৃণ্য-করুণ ইতিহাসটিই কখনও ‘এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে’ কিংবা ‘এল মানুষ-ধরার দল’ শব্দবন্ধের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

১৪. “অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ / উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে”- মন্তব্যটির তাৎপর্য লেখো ।

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে।

তাৎপর্য : আদিম অরণ্য আর মরুভূমি অধ্যুষিত আফ্রিকা এক দীর্ঘ সময় ছিল বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগহীন। উন্নত পৃথিবী মুখ ফিরিয়ে থেকেছে আফ্রিকার থেকে। রবীন্দ্রনাথ তাকে বলেছেন ‘ছায়াবৃতা’, ইতিহাস প্রমাণ করে ঊনবিংশ শতাব্দীর আগে কোনো ইউরোপীয় শক্তি আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপনের কথা ভাবেনি। আফ্রিকার সম্পদ এবং সংস্কৃতি এভাবেই উপেক্ষিত হয়েছিল সভ্য সমাজের দ্বারা।

১৫. ‘সেই হোক সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী’ সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণীটি কী ? বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লেখো।

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতানুসারে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণীটি হল- শ্বেতাঙ্গ শাসকের অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা।

বিষয়ের ব্যাখ্যাঃ সাম্রাজ্যবাদী ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে চিরকাল আফ্রিকা শোষিত ও অত্যাচারিত হয়েছে। তারা নির্বিচারে সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করেছে, বন্যপ্রাণী আর মানুষদের হত্যা করেছে কিংবা ক্রীতদাসে পরিণত করেছে। আফ্রিকার নিরীহ, নিরপরাধ জনগণের ঘামে, রক্তে ও কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সে দেশের মাটি ও বাতাস। এ ইতিহাস লাঞ্ছনা, বঞ্চনা এবং অপমানের। তাই এমন অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে মানবতাবাদী কবি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রাক্কালে বিশ্বব্যাপী হিংস্র প্রলাপের মধ্যে আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সকলকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

১৬. ‘কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল / সুন্দরের আরাধনা’ – প্রসঙ্গ নির্দেশ করে তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘সমুদ্রপারে’ বলতে ইউরোপীয় মহাদেশকে বোঝানো হয়েছে। তাৎপর্য সাম্রাজ্যবাদী শাসকের দল যখন আফ্রিকায় নিজেদের অধিকার কায়েমের জন্য অমানবিক শোষণ চালাচ্ছিল, তখন আফ্রিকাবাসীর রক্তে ও ঘামে সেখানকার অরণ্যপথের ধুলো কাদায় পরিণত হয়েছিল। অথচ সেই সময় তাদের নিজেদের দেশে কিন্তু নিরুপদ্রব শান্তি বিরাজমান। সেখানে পাড়ায় পাড়ায় মন্দিরে পূজার ঘণ্টা বাজছিল আর ঈশ্বরের উপাসনা চলছিল। শিশুরা মায়ের কোলে নিরাপদে খেলে বেড়াচ্ছিল। সুন্দরের আরাধনায় বেজে উঠেছিল কবির সংগীত। এভাবেই শাসক ও শোষিতের বৈপরীত্যপূর্ণ অবস্থান বর্ণনার মাধ্যমে কবি সাম্রাজ্যবাদী শাসকের দ্বিচারিতাকে তুলে ধরেছেন ।

১৭. ‘অশুভ ধ্বনি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? ‘দিনের অন্তিমকাল’ ঘোষণা করার মর্মার্থ বুঝিয়ে দাও।

উত্তরঃ ‘রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কবির এক সোচ্চার প্রতিবাদ। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয় যার পরিণাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ক্ষুধিত পশুর মতোই ক্ষমতার লোভে মত্ত শ্বেতাঙ্গ শাসকদের রণ হুংকারকে এ কবিতায় ‘অশুভ ধ্বনি’ বলা হয়েছে।

দিনের অন্তিমকালঃ দিনের ‘অন্তিমকাল’ বলতে একদিকে যুগান্তের ইঙ্গিত ও ধ্বংসের পূর্বাভাস, আর অন্যদিকে ক্ষমতালোভী শাসকের নির্দয় শাসন অবসানের এক সুস্পষ্ট ঘোষণা।

১৮. ‘দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে;’— কাকে দাঁড়াতে বলা হচ্ছে ? ‘মানহারা মানবী’ সম্বোধনের কারণ কী ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে কবি যুগান্তের কবিকে মানহারা মানবী আফ্রিকার সামনে দাঁড়াবার কথা বলেছেন।

সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাতে আফ্রিকা যুগে যুগে শোষিত হয়েছে। ক্ষমতালোভী তথাকথিত সভ্য পশ্চিমি দেশগুলি বার বার নিজেদের অধিকার কায়েম করেছে আফ্রিকায়। আফ্রিকার অধিবাসীদের ‘মানহারা মানবী’– কেন ! রক্ত ও অশ্রু ঝরে পড়ে তার বনভূমির ধূলিতে কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল করে তুলেছে। আফ্রিকায় আত্মসম্মান ও মর্যাদা ধূলিসাৎ হয়েছে বার বার। তাই কবি আফ্রিকাকে ‘মানহারা মানবী’ বলেছেন।

১৯. ‘অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ’— ‘মানবরূপ’ অপরিচিত থাকার কারণ উল্লেখ করো। ‘তোমার’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে ?

উত্তরঃ সভ্যতার আদিমতম লগ্নে পৃথিবীর পূর্বভাগের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আফ্রিকা মহাদেশের জন্ম। সেখানে দুর্গম জঙ্গলে ঢাকা রহস্যময় জগৎ ছিল ছায়াবৃত। দীর্ঘকাল ধরে তথাকথিত সভ্য মানুষদের চোখের আড়ালে প্রকৃতি তাকে মনের মতো করে সাজিয়েছিল। আরণ্যক প্রকৃতির নিবিড় পাহারায় সেখানকার বন্যপ্রাণী – মরুভূমি – মানুষ ও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ছিল সকলের দৃষ্টির অগোচর। এ জন্যই আফ্রিকার মানবরূপ বহির্বিশ্বের কাছে অচেনা আর অপরিচিত থেকে গিয়েছিল। ‘তোমার’ বলতে এখানে ‘আফ্রিকা’র কথা বলা হয়েছে।

২০. “সেই হোক সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।” — সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণীটি কী ? বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লেখো।

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসারে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণীটি হল, শ্বেতাঙ্গ শাসকের অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা।

উদ্ধৃতাংশের অন্তর্নিহিত বিষয় সাম্রাজ্যবাদী ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে চিরকাল আফ্রিকা শোষিত ও অত্যাচারিত হয়েছে। তারা নির্বিচারে সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করেছে, বন্যপ্রাণী আর মানুষদের হত্যা করেছে কিংবা ক্রীতদাসে পরিণত করেছে। আফ্রিকার নিরীহ, নিরপরাধ জনমণের ঘামে, রক্তে ও কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সে – দেশের মাটি ও বাতাস। এ ইতিহাস লা বঞ্চনা এবং অপমানের। তাই এমন অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে মানবতাবাদী কবি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রাক্কালে বিশ্বব্যাপী হিংস্র প্রলাপের মধ্যে আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সকলকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

২১. ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে’ আফ্রিকাকে কে, কীভাবে এবং বেঁধেছিল ?

উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাঠ্য কবিতায় আফ্রিকা মহাদেশের নগ্ন জন্মরহস্যকে এক আশ্চর্য কাব্যিক রূপ দিয়েছেন। প্লেট টেকটনিক তত্ত্ব অনুযায়ী পাতের নড়াচড়ার ফলে এশিয়া মহাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েই এই আফ্রিকার সৃষ্টি। কবির ভাষায় সৃষ্টির আদিম লগ্নে রুদ্র সমুদ্রের বাহু তাকে মূল ভূখণ্ড থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারপর বিচ্ছিন্ন আফ্রিকাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায় অর্থাৎ দুর্গম আরণ্যক জগতের ছায়াঘেরা রহস্যময়তায় যেন চিরতরে বেঁধে রাখে।

২২. ‘স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে’— ‘স্রষ্টা’ কে ? তিনি নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন কেন ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে অংশটি গৃহীত। যিনি সৃষ্টি করেন তিনিই স্রষ্টা। এখানে কবি ঈশ্বরকেই ‘স্রষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।

স্রষ্টার ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্টি হয় না যতক্ষণ না তাঁর সৃষ্টিকর্ম নিজের মনোমতো হয়। সেই সত্যকে কল্পনা করেই কবি বলতে চেয়েছেন সৃষ্টির আদিম লগ্নে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টিকে বারবার ধ্বংস করে নতুনভাবে গড়ে তুলছিলেন। কিন্তু তা কখনোই তাঁর মনোমতো হচ্ছিল না। এই কারণে তিনি নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন।

২৩. ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, — ‘তোমাকে বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? কে তাকে কোথা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ?

অথবা, ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে’— ‘তোমাকে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? এই উক্তির মধ্য দিয়ে কবি কী বুঝিয়েছেন ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘তোমাকে’ বলতে আফ্রিকা মহাদেশকে বোঝানো হয়েছে। কে, কোথা থেকে ছিনিয়েছিল আদিম পৃথিবীর বুকে ঘটে যাওয়া ভৌগোলিক বিবর্তনকে এখানে কবি ফুটিয়ে তুলেছেন এক আশ্চর্য ব্যঞ্জনায়। বৈজ্ঞানিকদের মতে টেকটনিক প্লেটগুলির নড়াচড়ার ফলেই এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কবি এরই কাব্যিক রূপ দিয়ে বলেছেন, রুদ্র সমুদ্র মূল ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে যেন বনস্পতির নিবিড় পাহারায় কৃপণ আলোর অন্তরালে তাকে নিক্ষেপ করেছিল।

২৪. প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে সমুদ্র যখন আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল, তারপর আফ্রিকার কী হয়েছিল ব্যাখ্যা করো।

অথবা, ‘প্রকৃতির দৃষ্টি – অতীত জাদু / মন্ত্র জাগাচ্ছিল’ – কী বোঝানো হয়েছে লেখো।

উত্তরঃ আফ্রিকার মানুষের ওপর ঔপনিবেশিক শোষণের যে ছায়া নেমে এসেছিল, তারই প্রতিবাদ রবীন্দ্রনাথের এই ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি। সভ্যতার আদিলগ্নে সমুদ্র যখন আফ্রিকাকে মুল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে তাকে অরণ্যের অন্ধকারে নির্বাসন দিয়েছিল, তখন থেকেই শুরু হয় তার একক সংগ্রাম। বিশ্বজগতের চোখের আড়ালে প্রকৃতি তাকে সাজিয়ে নিয়েছিল নিজের মনের মতো করে। বন্যপ্রাণী সংকুল অরণ্য, রুক্ষ মরুভূমি সব মিলিয়ে আদিম আফ্রিকা ছিল দুর্গম। সভ্যতা তথা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির কোনো স্পর্শ তখনও সে পায়নি।

২৫. ‘নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে’— ‘যাদের’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে ? তাদের নখ নেকড়ের চেয়ে তীক্ষ্ণ বলার কারণ কী ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘যাদের’ বলতে সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের বুঝিয়েছেন।

মুসোলিনির ইথিওপিয়ায় অনুপ্রবেশের প্রতিক্রিয়া হিসেবে কবি তাঁর এই ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি লিখেছিলেন। কবি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হিংস্রতাকে বোঝাতে ‘নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন। অরণ্যসংকুল আফ্রিকা মহাদেশ হিংস্র শ্বাপদপূর্ণ। কিন্তু ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের নির্মম হিংস্রতা সেইসব হিংস্র প্রাণীদের চেয়েও ভয়ংকর এ কথা বোঝাতেই কবি শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন।

২৬. “সভ্যের বর্বর লোভ / নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ”– তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

অথবা, ‘গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।’— উদ্ধৃতাংশটির অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যা করো।

অথবা, ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ?

উত্তরঃ মানবতার পূজারি রবীন্দ্রনাথ। আফ্রিকার জনজাতি, তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর নেমে আসা ঔপনিবেশিক শক্তির তথা পঙক্তি সমূহের তাৎপর্য / অন্তর্নিহিত সাম্রাজ্যবাদের হিংস্র অত্যাচারের প্রতিবাদে তিনি মুখর হয়েছেন। ইউরোপের প্রায় প্রতিটি সভ্য দেশই আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন করে। কিন্তু ক্ষমতালোভী সেইসব দেশ আফ্রিকার সম্পদ লুণ্ঠন করে সেখানকার মানুষকে অত্যাচারে, অপমানে ও লাঞ্ছনায় বিধ্বস্ত করে তোলে। নিরপরাধ আফ্রিকাবাসীর ঘামে রঙে আর কান্নায় ভিজে ওঠে সেখানকার মাটি। তথাকথিত সভ্যের এই বর্বর লোভ কবির কাছে তাদের নির্লজ্জ অমানুষতা-রূপে প্রতিভাত হয়েছে।

২৭. বর্বর সভ্যদের অনুপ্রবেশে ‘আফ্রিকা’র পরিণতি কী হয়েছিল ?

অথবা, ‘চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে’– তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ আফ্রিকা ছিল এশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ভয়াবহ সৌন্দর্যে স্বতন্ত্র এক মহাদেশ। পাশ্চাত্য ঔপনিবেশিক শক্তি সেখানে তাদের অধিকার কায়েম করে। তাদের আগ্রাসনের থাবায় ক্ষতবিক্ষত বর্বরদের অনুপ্রবেশ ও আফ্রিকা হয় এই মহাদেশ। ঔপনিবেশিক অত্যাচারে আফ্রিকার পথের ধুলোয় মিশে যায় সাধারণ মানুষের রক্ত আর ঘাম। সেই কাদামাখা পথ ধরে উপেক্ষা ভরে হেঁটে যায় সভ্য দেশের বর্বর শাসকের দল। আফ্রিকার ইতিহাসে চিরস্থায়ীভাবে আঁকা হয়ে যায় অপমানের চিহ্ন।

📌 আরো দেখোঃ

📌মাধ্যমিক সিলেবাস বাংলা Click Here

📌দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 মাধ্যমিক বিগত বছরের প্রশ্নপত্র Click Here

📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় মক্ টেস্ট Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply

  • Post comments:0 Comments
  • Reading time:13 mins read