FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 9 (IX) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER
Set-1
Class 9 Bengali First Unit Test Question with Answer Set-1 | নবম শ্রেণির বাংলা প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-১
∆ সিলেবাস বা পাঠ্যসূচি—
∆সাহিত্যমেলাঃ
- গল্প বা গদ্য– ইলিয়াস, দাম।
- কবিতা / পদ্য– কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি, নোঙর।
- নাটক– ধীবর-বৃত্তান্ত।
∆ সহায়ক পাঠ– ব্যোম যাত্রীর ডায়েরি।
∆ ব্যাকরণ– ধ্বনি ও ধ্বনি পরিবর্তন।
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৬
নবম শ্রেণি
বিষয় – বাংলা
সময় : ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পূর্ণমান-৪০
১। ঠিক উত্তরটি নির্বাচন করাে। ১ × ৫ = ৫
১.১ ‘ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।’- ‘ঈশান’ হল—
(ক) দক্ষিণ-পশ্চিম কােণ (খ) উত্তর-পূর্ব কােণ
(গ) দক্ষিণ-পূর্ব কােণ (ঘ) উত্তর পশ্চিম কোণ
উত্তরঃ (খ) উত্তর-পূর্ব কােণ
১.২ “ইলিয়াস তাকে একটা বাড়ি দিল, কিছু গােরু-ঘােড়াও দিল।”- ইলিয়াস এসব দিয়েছিল—
(ক) তার একমাত্র মেয়েকে
(খ) তার বড় ছেলেকে
(গ) তার মেজো ছেলেকে
(ঘ) তার ছোট ছেলেকে
উত্তরঃ (ঘ) তার ছোট ছেলেকে
১.৩ “প্রভু, আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে ? বক্তা—
(ক) প্রথম রক্ষী (খ) দ্বিতীয় রক্ষী
(গ) ধীবর (ঘ) রাজ শ্যালক
উত্তরঃ (গ) ধীবর।
১.৪ “আজ দিনের শুরুতেই একটা বিশ্রী কান্ড ঘটে গেল।”- উদ্ধৃতাংশে যে দিনটির প্রসঙ্গ রয়েছে, সেটি—
(ক) ১লা জানুয়ারি (খ) ৫ই জানুয়ারি
(গ) ১২ই জানুয়ারি (খ) ২৫শে জানুয়ারি
উত্তরঃ (ক) ১লা জানুয়ারি
১.৫ সমবর্ণ লােপ-এর ক্ষেত্রে দুটি সমধ্বনির মধ্যে—
(ক) একটি ধ্বনি শুধুমাত্র লেখায় লােপ পায়।
(খ) একটি ধ্বনি শুধু কথায় লােপ পায়।
(গ) একটি ধ্বনি লেখা ও কথা দুটি ক্ষেত্রেই লােপ পায়।
(ঘ) দুটিই লেখা ও কথার ক্ষেত্রে লােপ পায়।
উত্তরঃ (গ) একটি ধ্বনি লেখা ও কথা দুটি ক্ষেত্রেই লােপ পায়।
১.৬ ‘শহুরে’-উদাহরণটি হল—
(ক) প্রগত স্বরসংগতি (খ) পরাগত স্বরসংগতি
(খ) অন্যোন্য স্বরসংগতি (ঘ) মধ্যগত স্বসংগতি
উত্তরঃ (ঘ) মধ্যগত স্বসংগতি
২। কমবেশি ১৫টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ১×১০=১০
২.১ কলিঙ্গে দুর্যোগের দিনে সকলে কাকে স্মরণ করেছে ?
উত্তরঃ মেঘ ঝড়বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কলিঙ্গবাসী ঋষি জৈমিনির কথা স্মরণ করেছেন।
২.২ ‘তরী ভরা পণ্য নিয়ে’ কবি কোথায় পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন ?
উত্তরঃ কবি অজিত দত্ত ‘নােঙর’ কবিতায় বলেছেন যে নৌকাভরা পণ্য নিয়ে তিনি সাতসাগরের পাড়ে পাড়ি দিতে চান। তাই তিনি সারারাত দাঁড় টানেন।
২.৩ ‘আমি সত্য কথাই বলছি, তামাশা করছি না।’ – বক্তা কোন্ সত্য কথা বলেছেন ?
উত্তরঃ বক্তা অর্ধ-শতাব্দী ধরে সুখ খুঁজেছে; যতদিন ধনী ছিলো, তারা কখনও সুখ পাইনি।
২.৪ ‘প্লেটোর দোরগােড়ায় কী লেখা ছিল, জানিস ?’— প্লেটোর দোরগােড়ায় কী লেখা ছিল বলে বক্তা জানিয়েছেন ?
উত্তরঃ যে অংক জানে না সেখানে তাঁর প্রবেশ নিষেধ।
২.৫ ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবর কীভাবে আংটি টি পেয়েছিল ?
উত্তরঃ ধীবর আংটিটি রুই মাছের পেট থেকে পেয়েছিল।
২.৬ ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে রাজ-শ্যালক কোন ভূমিকা পালন করেছেন ?
উত্তরঃ রাজশ্যাল বেশ সক্রিয় ও যথাযথভাবে নগর রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
২.৭ ‘ঠিক ঠিক। মনে পড়েছে।’- কোন ঘটনার কথা বক্তার মনে পড়েছে ?
উত্তরঃ বছরখানেক আগে একটা উল্কাখণ্ড সুন্দরবনের মাথারিয়া অঞ্চলে এসে পড়েছিল।
২.৮ তদ্ধিত প্রত্যয় কাকে বলে ?
উত্তরঃ শব্দ বা নাম প্রকৃতির শেষে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন—ঢাকা+আই = ঢাকাই।
২.৯ মধ্যস্বরলােপের একটি উদহরণ দাও।
উত্তরঃ কাঁচাকলা > কাঁচকলা।
২.১০ ‘স্ত’কে মিশ্ৰধ্বনি বলা হয় কেন ?
উত্তরঃ সাধারণত বাংলা ভাষার সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিকেই তাদের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে মিশ্র প্রকৃতির ধ্বনি হিসেবে গণ্য করা হয়।
৩। কম-বেশি ৬০টি শব্দে নীচের যে-কোনাে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩×১=৩
৩.১ ‘কলিঙ্গে সােঙরে সকল লােক যে জৈমিনি।’— জৈমিনি কে ? কলিঙ্গের লােক কোন পরিস্থিতিতে তাকে স্মরণ করেছেন ?
উত্তরঃ জৈমিনি কে ? : ঋষি জৈমিনি ছিলেন মহর্ষি ব্যাসদেবের শিষ্য এবং তিনি পূর্ব মীমাংসা দর্শনের প্রণেতা। পুরাণ অনুসারে, তিনি বজ্র নিবারক ঋষি হিসেবে পরিচিত।
স্মরণের কারণ: কলিঙ্গদেশে আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং প্রবল ঝড়ের সঙ্গে ঘনঘন বজ্রপাত শুরু হয়। ঈশাণ কোণে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চারদিক অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এমন ভয়াবহ বজ্রপাত ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কলিঙ্গবাসী বজ্র নিবারক ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকেন।
৩.২ ‘এ-তরীতে মাথা ঠুকে সমুদ্রের দিকে তারা ছােটে।’- কোন্ তরী ? পঙক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থটি বিশ্লেষণ করাে।
উত্তরঃ তরী বা নৌকা: এখানে ‘তরী’ বলতে কবির জীবন-তরী বা জীবন-নৌকাকে বোঝানো হয়েছে, যা সাংসারিক মায়াবন্ধন ও দায়িত্বের ‘নোঙরে’ আটকে আছে।
অন্তর্নিহিত অর্থ: কবি যখন তাঁর জীবন-নৌকা নিয়ে দূর সুদূরের উদ্দেশে পাড়ি দিতে চান, তখন সমুদ্রের উত্তাল ঢেউগুলি কবির নৌকায় আঘাত করে ফিরে যায়। এই ঢেউগুলো আসলে জীবনের গতির প্রতীক এবং সুদূরের আহ্বান। কবির নৌকাটি তীরের নোঙরে দৃঢ়ভাবে বাঁধা থাকায় সমুদ্রের এই প্রবল আকুতি বা ঢেউগুলো নৌকায় ‘মাথা ঠুকে’ ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। এর মাধ্যমে মানবজীবনের এক চিরন্তন ট্র্যাজেডি ফুটে উঠেছে— মানুষ মনে মনে সুদূরের স্বাধীনতায় ডানা মেলতে চাইলেও বাস্তবের কঠিন মায়াবন্ধন ও আটপৌরে জীবনের দায়িত্ব তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে।
৪। কমবেশি ৬০টি শব্দে নীচের যে-কোনাে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩×১=৩
৪.১ ‘দুশ্চিন্তারও অন্ত ছিলনা।’- বক্তা কে ? তার জীবনে কীভাবে নানান দুশ্চিন্তা ভিড় করে আসত ? ১+২
উত্তরঃ দুশ্চিন্তার কারণ : ধনী থাকাকালীন শাম-শেমাগি ও ইলিয়াসের জীবনে কোনো শান্তি ছিল না।
∆ তাদের দুশ্চিন্তাগুলি ছিল নিম্নরূপ—
সম্পত্তি রক্ষা: প্রচুর ঘোড়া, গোরু ও ভেড়া দেখাশোনা করা এবং তাদের কোনো ক্ষতি হলো কি না সেই চিন্তায় তাদের সময় কাটত।
শ্রমিকদের তদারকি: মজুরেরা ঠিকমতো কাজ করছে কি না বা তারা ফাঁকি দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে সবসময় সজাগ থাকতে হতো।
অতিথি সেবা: বাড়িতে নিয়মিত অতিথিরা আসতেন। তাদের আপ্যায়নে কোনো খামতি হচ্ছে কি না বা তারা নিন্দা করবে কি না, এই নিয়ে বক্তার মনে সারাক্ষণ ভয় ও দুশ্চিন্তা ভিড় করে আসত।
৪.২ ‘মনে হলাে, স্নেহ-মমতা-ক্ষমার এক মহাসমুদ্রের ধারে এসে দাঁড়িয়েছি।’- কার একথা মনে হলাে ? কেন তার একথা মনে হলাে ? ১+২
উত্তরঃ বক্তা: উদ্ধৃত অংশটি গল্পের প্রধান চরিত্র তথা কথক সুকুমার-এর উপলব্ধি।
মনে হওয়ার কারণ: সুকুমার ছোটবেলায় মাস্টারমশাইকে যমের মতো ভয় পেতেন এবং তাঁর কঠোর শাসনের সমালোচনা করে বড় হয়ে একটি গল্প লিখেছিলেন। কিন্তু বহু বছর পর এক গ্রাম্য হাইস্কুলের অনুষ্ঠানে সেই বৃদ্ধ মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সুকুমার দেখেন, মাস্টারমশাই তাঁর সেই সমালোচনামূলক লেখাটিকেও পরম মমতা ও গর্বের সঙ্গে আগলে রেখেছেন। নিজের সামান্য ছাত্রের প্রতি শিক্ষকের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, অগাধ শ্রদ্ধা এবং সব ত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়ার মহানুভবতা দেখে সুকুমারের মনে হয়েছিল তিনি এক ‘স্নেহ-মমতা-ক্ষমার মহাসমুদ্রের’ ধারে দাঁড়িয়ে আছেন।
৫। কমবেশি ৬০টি শব্দে নীচের যে-কোনাে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩×১=৩
৫.১ ‘সেই আংটি দেখে মহারাজের কোনাে প্রিয়জনের কথা মনে পড়েছে।’- মহারাজের পরিচয় দাও । প্রিয়জনের কথা মনে পড়ায় রাজা কী করেছিলেন ? ১+২
মহারাজের পরিচয়: এখানে ‘মহারাজ’ হলেন হস্তিনাপুরের রাজা দুষ্মন্ত। তিনি শকুন্তলাকে বিবাহ করেছিলেন এবং স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে তাঁকে নিজের নামাঙ্কিত রাজকীয় আংটিটি উপহার দিয়েছিলেন।
রাজার প্রতিক্রিয়া: ধীবরের কাছ থেকে প্রাপ্ত রত্নখচিত আংটিটি দেখামাত্রই মহর্ষি দুর্বাসার অভিশাপের প্রভাব দূর হয়। রাজা দুষ্মন্তের শকুন্তলার কথা মনে পড়ে যায় এবং অনুশোচনায় তাঁর মন ভরে ওঠে। প্রিয়জনকে হারানোর দুঃখে ও স্মৃতিতে বিচলিত হয়ে তিনি মুহূর্তের জন্য অত্যন্ত গম্ভীরভাবে চেয়ে রইলেন এবং কিছুক্ষণ বিহ্বল হয়ে অবস্থান করেছিলেন।
৫.২ ‘আপনারা অনুগ্রহ করে শুনুন।’- বক্তা কে ? তার বক্তব্যটি কী ? ১+২
উত্তরঃ বক্তা: উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলো ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র সেই দরিদ্র জেলে বা ধীবর।
বক্তব্য: রাজার নাম খোদাই করা আংটিটি চুরির অপরাধে যখন রাজরক্ষীরা ধীবরকে মারধর ও জেরা করছিল, তখন সে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে তার বক্তব্য পেশ করে। সে জানায় যে, সে জাতিতে ধীবর এবং তার জীবিকা হলো মাছ ধরা। একদিন একটি রুই মাছ কাটার সময় মাছের পেটের ভেতর থেকে সে এই মণি খচিত আংটিটি পায়। এটি কোনো চুরি করা বস্তু নয়, বরং দৈবক্রমে তার হস্তগত হয়েছে— এটাই ছিল তার মূল বক্তব্য।
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের যে-কোনাে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫×১=৫
৬.১ ‘অম্বিকামঙ্গল গান শ্রীকবিকঙ্কণ।’— “অম্বিকামঙ্গল’ এবং তার কবি ‘শ্রীকবিকঙ্কণ’ এর পরিচয় দাও।- ‘কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি’ অংশে বর্ণিত প্রাকৃতিক দৃশ্যের পরিচয় দাও। ২+৩
উত্তরঃ কবি ও কাব্যের পরিচয়: ‘অম্বিকামঙ্গল’ হলো মধ্যযুগের কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের অপর নাম। দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য এই কাব্য রচিত হয়েছিল।
‘শ্রীকবিকঙ্কণ’ হলো কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর উপাধি। বর্ধমানের দামিন্যা গ্রামের জমিদার রঘুনাথ রায় কবির পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে এই উপাধি প্রদান করেন।
প্রাকৃতিক দৃশ্যের পরিচয়: কলিঙ্গদেশে হঠাৎই প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে। আকাশ ঘন কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, যার ফলে চারিদিক অন্ধকারে এমনভাবে ঢাকা পড়ে যে প্রজারা নিজেদের অঙ্গ দেখতে পাচ্ছিল না। ঈশান কোণে শুরু হওয়া মেঘের গম্ভীর গর্জনের সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি।
বিপর্যয়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে কবি জানিয়েছেন : প্রবল ঝড়ে বাগানের গাছপালা ভেঙে পড়ে এবং ধুলোয় শস্য ক্ষেত ঢেকে যায়। উল্টে পড়া শস্যের ওপর ইঁদুরেরা গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে আসে। মেঘের গর্জনে কেউ কারো কথা শুনতে পাচ্ছিল না এবং একটানা সাত দিন বৃষ্টির ফলে জল ও স্থলের বিভেদ মুছে যায়। ভাদ্র মাসের তালের মতো বড় বড় শিল ঘরের চাল ভেদ করে পড়তে থাকে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রাণের ভয়ে প্রজারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
৬.২ ‘নােঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে।’ – নােঙর কী ? নােঙর তটের কিনারে পড়ে গিয়েছে বলতে কী বােঝানাে হয়েছে ? ২+৩
৭। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের যেকোনাে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও ? ৫×১=৫
৭.১ ‘মােট কথা, ইলিয়াসের তখন খুব বােলবােলাও, পাশেপাশের সকলেই তাকে ঈর্ষা করে।- ইলিয়াস কীভাবে সকলের ঈর্ষার পাত্র হয়ে উঠেছিল ? তার পরবর্তী জীবনের ছবি কীভাবে বদলে গেল ? ২+৩
৭.২ ‘একদিন একটি পত্রিকার পক্ষ থেকে ফরমাশ এল, আমার ছেলেবেলার গল্প শােনাতে হবে।’- কার কাছে এমন ‘ফরমাশ’ এল ? তিনি তার ছেলেবেলার গল্প কীভাবে শোনালেন ? ১+৪
উত্তরঃ বক্তা ও ফরমাশ: উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন গল্পের প্রধান চরিত্র তথা লেখক সুকুমার। একটি পত্রিকার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে এই ‘ফরমাশ’ বা অনুরোধ এসেছিল যাতে তিনি তাঁর ছেলেবেলার কোনো স্মৃতি পাঠকদের উদ্দেশ্যে লিখে জানান।
ছেলেবেলার গল্প শোনানোর ধরণ : সুকুমার তাঁর ছেলেবেলার স্মৃতির ঝাঁপি খুলে অত্যন্ত মনোজ্ঞভাবে তাঁর ছাত্রজীবনের অঙ্ক শিক্ষার অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন।
বিভীষিকাময় স্মৃতি: সুকুমার তাঁর ছেলেবেলার গল্পের কেন্দ্রে রেখেছিলেন তাঁর স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে। তাঁর কাছে সেই মাস্টারমশাই ছিলেন এক বিভীষিকা। মাস্টারমশাইয়ের মতে, যে অঙ্ক পারে না সে আসলে মানুষই নয় এবং তাকে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার দেওয়া উচিত নয়।
শাসন ও ভয়: সুকুমার বর্ণনা করেছেন কীভাবে সেই মাস্টারমশাই ছাত্রদের ওপর শারীরিক ও মানসিক শাসন চালাতেন। বিশেষ করে সুকুমার নিজে অঙ্কে অত্যন্ত কাঁচা ছিলেন, তাই মাস্টারমশাইয়ের ‘চড়’ বা ‘পিঠের ওপর নেমে আসা হাত’ তাঁর কাছে সাক্ষাৎ যমের মতো ছিল।
গল্পের স্বরূপ: পত্রিকায় লেখার সময় সুকুমার একটু রোমান্টিক হয়ে বা কিছুটা সাহিত্যিক রং চড়িয়ে লিখেছিলেন। তিনি সেখানে পরোক্ষভাবে মাস্টারমশাইয়ের সেই কঠোর শাসনের সমালোচনা করেছিলেন এবং বোঝাতে চেয়েছিলেন যে জবরদস্তি করে বা ভয় দেখিয়ে শিক্ষা দেওয়া যায় না।
উপলব্ধি: সুকুমার তাঁর লেখায় সেই স্মৃতিগুলোকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে উপস্থাপিত করেছিলেন, যেখানে অতীতের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতাই পরবর্তী জীবনে একটি দামী গল্পে পরিণত হয়েছিল।
৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের যে-কোনাে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও ? ৫x১=৫
৮.১ ‘বিধুশেখর আবার গম্ভীর গলায় বলল, বিভং ভীবং বিভং।’- বিধুশেখরের বলা কথাটির অর্থ কী ? ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রি’ গল্প অনুসরণে সেই পরিস্থিতিটির বর্ণনা দাও। ১+৪ = ৫
৮.২ ‘খাতাটা হাতে নিয়ে খুলে কেমন যেন খটকা লাগল।’—কোন্ খাতা’র কথা বলা হয়েছে ? বক্তা’র মনে খটকা লাগল কেন, তার সেই খাতাটির প্রকৃতি আলোচনার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করাে। ১ + ৪ = ৫
উত্তরঃ খাতার পরিচয়: এখানে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও আবিষ্কারক প্রফেসর শঙ্কুর হারিয়ে যাওয়া সেই লাল রঙের ডায়েরি বা খাতাটির কথা বলা হয়েছে।
মনে খটকা লাগার কারণ: গল্পের কথক যখন খাতাটি হাতে নেন, তখন তাঁর মনে খটকা লাগার প্রধান কারণ ছিল খাতাটির বিচিত্র রং পরিবর্তন। তিনি দেখেছিলেন খাতাটি প্রথমে লাল ছিল, কিন্তু সেটি পকেট থেকে বের করার পর নীল হয়ে যায়। এরপর সেটি পর্যায়ক্রমে সবুজ ও পরে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণ ধারণ করে। কোনো সাধারণ কাগজের ডায়েরি এভাবে রং বদলাতে পারে না বলেই কথকের মনে খটকা লেগেছিল।
খাতাটির প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য: প্রফেসর শঙ্কুর এই ডায়েরিটি কোনো সাধারণ ডায়েরি ছিল না। এর প্রকৃতি ছিল অত্যন্ত রহস্যময় ও বিস্ময়কর—
রং পরিবর্তন: ডায়েরিটি ক্ষণে ক্ষণে নিজের রং পরিবর্তন করত। এটি বৈজ্ঞানিক কোনো বিশেষ উপাদানে তৈরি ছিল।
অবিনশ্বরতা: খাতাটি ছিল অবিনশ্বর। কথক এটি পরীক্ষা করার জন্য প্রথমে কুকুরের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন, কিন্তু কুকুর সেটি চিবাতে পারেনি। এরপর তিনি ডায়েরিটি উনুনের জ্বলন্ত আগুনে ফেলে দিলেও সেটির কোনো ক্ষতি হয়নি। এমনকি কাঁচি দিয়েও এর পাতা কাটা সম্ভব হয়নি।
কালির বিশেষত্ব: ডায়েরির লেখাগুলো ছিল বিচিত্র। ডায়েরিটি লাল থাকা অবস্থায় লেখাগুলো সবুজ ছিল, কিন্তু ডায়েরির রং নীল হতেই লেখাগুলো সাদা হয়ে যায়। অর্থাৎ, কাগজের রঙের সাথে তাল মিলিয়ে লেখার কালির রংও বদলে যেত।
গন্ধ: ডায়েরিটি থেকে একটি মৃদু অথচ অমায়িক সুগন্ধ নির্গত হচ্ছিল, যা সাধারণ কাগজের গন্ধে পাওয়া যায় না।
📌 আরো দেখোঃ
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
