আফ্রিকা কবিতার অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা | Africa Kobitar VSAQ Answer Class 10 Bengali wbbse
আফ্রিকা
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
📌মাধ্যমিক সিলেবাস বাংলা Click Here
📌দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক বিগত বছরের প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় মক্ টেস্ট Click Here
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : আফ্রিকা কবিতা দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) বাংলা | VSAQ Answer Africa Kobita Class 10 Bengali wbbse
∆ কমবেশি কুড়িটি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১. “ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে”- কে, কাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল ?
উত্তরঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতায় রুদ্র সমুদ্রের বাহু অর্থাৎ উত্তাল সমুদ্র পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ।
২. “হায় ছায়াবৃতা”- আফ্রিকাকে ছায়াবৃতা বলার কারণ কী ?
উত্তরঃ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আফ্রিকা পৃথিবীর জ্ঞানালোক থেকে বিছিন্ন হয় অন্যদিকে দুর্গম ও আদিম জঙ্গলাকীর্ণ প্রকৃতি তাকে ছায়াবৃতা করে রাখে।
৩. “কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল” – কী বেজে উঠেছিল ?
উত্তরঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতায় কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল সুন্দরের আরাধনা।
৪. “এসো যুগান্তের কবি” – কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘যুগান্তের কবি’র কাছে কোন্ আহ্বান জানিয়েছেন ?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় যুগান্তের কবির কাছে মানহারা মানবী তথা আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সকলের হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন।
৫. “বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে” – কীভাবে ‘বিদ্রূপ’ করেছিল ?
উত্তরঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতায় আফ্রিকা মহাদেশ রহস্যময়তায় ভর করে ভয়াবহ ভীষণকেই যেন বিদ্রুপ করেছিল ?
৬. “শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে”- কে, কীভাবে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল ?
উত্তরঃ দুর্গম দুর্ভেদ্য ছায়াবৃতা আফ্রিকা নিজেকে উগ্র করে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়, বিধ্বংসী তাণ্ডবলীলার প্রচন্ড শব্দে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল।
৭. “… অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ/ উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে।”- কার মানবরূপ, কাদের কাছে উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে অপরিচিত ছিল ?
উত্তরঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতার প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে আফ্রিকা মহাদেশের মানবরূপ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর কাছে উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে যেন অরণ্যে ঢাকা কালো ঘোমটার নীচে অপরিচিত ছিল।
৮. “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে”- চিরচিহ্ন বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ?
উত্তরঃ আফ্রিকা কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক অত্যাচারে যুগ যুগ ধরে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কলঙ্কিত ইতিহাসকে ‘চিরচিহ্ন’ বলতে চেয়েছেন।
৯. “নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে”- এর দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন ?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আফ্রিকার মানুষদের উপর সাম্রাজ্যবাদী শাসকের বর্বর ও পাশবিক অত্যাচারের ভয়াবহতার কথা বলতে গিয়ে তাদের বন্য নেকড়ের চেয়েও নিষ্ঠুর অহিংস বলে অভিহিত করেছেন।
১০. “বলো ক্ষমা করো” – কীসের জন্য এই ক্ষমাপ্রার্থনা ?
উত্তরঃ ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীর দল যুগ যুগ ধরে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আফ্রিকার সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর ওপর পাশবিক শোষণ চালিয়েছে। তার জন্য মানব সভ্যতার প্রতিনিধি হয়ে যুগান্তের কবির এই ক্ষমাপ্রার্থনা।
১১. “এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে”- ওরা কারা ?
উত্তরঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘ওরা’ বলতে সভ্যতার গর্বে গরিমাময় অত্যাচারী ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১২. ‘নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত – নতুন সৃষ্টিটি কী ?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় নতুন সৃষ্টি বলতে এই পৃথিবীর আদিম শৈশবের কথা বলেছেন।
১৩. ‘কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল— কী বেজে উঠেছিল ?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ আফ্রিকা ’ কবিতা অনুসারে কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল সুন্দরের আরাধনা ।
১৪. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘ আফ্রিকা ‘ কবিতায় শেষ পুণ্যবাণীটি কী ছিল ?
উত্তরঃ শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদী শাসকের নির্দয় অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনাকেই কবি হিংস্র প্রলাপের মাঝে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী বলে মনে করেছেন ।
১৫. ‘এসো যুগান্তের কবি …. – কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘যুগান্তের কবি’র কাছে কোন্ আহ্বান জানিয়েছেন ?
অথবা, কবির ভূমিকাটি কী হবে ?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘যুগান্তের কবি’র কাছে, ‘মানহারা মানবী’ তথা আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সকলের হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থাৎ যুগান্তের কবি মানবতার পুণ্যবাণীতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ ও দীক্ষিত করবেন।
১৬. ‘শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে;’— কখন শিশুরা খেলছিল ?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসারে বর্বর শ্বেতাঙ্গ শাসকের হাতে আফ্রিকার মানুষেরা যখন শোষিত ও অত্যাচারিত হচ্ছিল, তখন সমুদ্রপারে তাদের দেশে মন্দিরে বাজছিল ঘণ্টাধ্বনি আর নিশ্চিত্তে নিরাপদে শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে।
১৭. ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, – ‘তোমাকে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসারে পৃথিবীর আদিম শৈশবে উত্তাল সমুদ্র, ধরিত্রীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
১৮. ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
উত্তরঃ ইউরোপের তথাকথিত ‘সভ্য’ জাতিগুলি আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন করে সেখানকার সম্পদ লুঠ করে স্থানীয় মানুষদেরকে ক্রীতদাসে পরিণত করে। এই নির্মমতাকেই কবি শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদীদের ‘বর্বর লোভ’ বলে অভিহিত করেছেন।
১৯. ‘এল মানুষ-ধরার দল’– মানুষ ধরার দলের স্বভাব কেমন ছিল ?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘মানুষ – ধরার দল’ অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকেরা ছিল নিষ্ঠুর অত্যাচারী দাসব্যবসায়ী। তারা পীড়ন – অপমান ও লাঞ্ছনায় আফ্রিকাকে বিধ্বস্ত করেছিল।
২০. ‘নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।’– কীভাবে নির্লজ্জ অমানুষতা প্রকাশ পেল ?
উত্তরঃ পাশ্চাত্য ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মম অত্যাচার ও আগ্রাসনে ক্ষতবিক্ষত হয় আফ্রিকা মহাদেশ। প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ, স্থানীয় সংস্কৃতির বিনাশ এবং কদর্য দাসপ্রথার প্রচলনের মধ্য দিয়ে শ্বেতাঙ্গ শাসকেরা তাদের ‘নির্লজ্জ অমানুষতা’র প্রকাশ ঘটিয়েছিল।
২১. ‘স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে’— স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন কেন ?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসারে, উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম সময়ে স্রষ্টা তাঁর নিজের সৃষ্টির মধ্যে খুঁত বা ঘাটতি দেখে বিরূপতায় নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছিলেন।
২২. বিদ্রূপ করেছিলে ভীষণকে কীভাবে ‘বিদ্রূপ’ করেছিল ?
উত্তরঃ পাঠ্য কবিতা অনুসারে আফ্রিকা মহাদেশ আদিম রহস্যময়তায় ভর করে ভয়াবহ ভীষণকেই যেন বিদ্রূপ করেছিল ।
২৩. ‘তোমার চেতনাতীত মনে।’— ‘চেতনাতীত’ কথাটি কী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে ?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় কল্পনা করা যায় এমন সময়কালেরও আগেকার সময়কে বোঝাতে ‘চেতনাতীত’ শব্দটিকে ব্যবহার করা হয়েছে।
২৪. ‘এল মানুষ-ধরার দল ‘ মানুষ – ধরার দল বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় নির্মম অত্যাচারী ও দাসব্যবসায়ী ঔপনিবেশিক শ্বেতাঙ্গ শাসককে ‘মানুষ – ধরার দল’ বলা হয়েছে।
২৫. ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে’ বলার অর্থ কী ?
উত্তরঃ ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুরো কথাটির অর্থ যেখানে আলোর প্রবেশপথ সুগম নয়। অর্থাৎ উদ্ধৃতাংশটি জঙ্গলময় আফ্রিকার দুর্গম ও অন্ধকার রহস্যময়তার প্রতীক।
২৬. ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা কোথা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল ?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসারে উত্তাল সমুদ্র, প্রাচী ধরিত্রীর হৃদয় থেকে অর্থাৎ পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
২৭. মানহারা মানবীর দ্বারে কাকে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে ?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতায় যুগান্তের কবিকে মানহারা মানবীর স্বারে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
২৮. ‘চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে ‘চিরচিহ্ন’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শাসকের অত্যাচারে, অপমানে যুগ যুগ ধরে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কলঙ্কিত ইতিহাসকে কবি ‘চিরচিহ্ন’ শব্দটির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।
২৯. ‘কালো ঘোমটার নীচে / অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ…’– ‘কালো ঘোমটা’ বলা হয়েছে কেন ?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকাস’ কবিতা থেকে গৃহীত উদ্ধৃত অংশে আদিম অরণ্যে ঘেরা আফ্রিকার যে ছায়া ও অন্ধকারের বিস্তার, তাকেই ‘কালো ঘোমটা’ আখ্যায়িত করা হয়েছে।
৩০. অপরিচিত ছিল তোমার মানবরুপ / উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে ! — কার মানবরূপ, কাদের কাছে উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে অপরিচিত ছিল ?
উত্তরঃ প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে আফ্রিকা মহাদশের মানবরূপ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির কাছে উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে যেন অরণ্যে ঢাকা ‘কালো ঘোমটা’র নীচে অপরিচিত ছিল।
৩১. ‘উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে’ কী ঘটেছিল ?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় উদ্ভ্রান্ত আদিম যুগে স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর সৃষ্টিকে নিখুঁত করার জন্য সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন।
৩২. ‘তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা নাড়ার দিনে’– ঘনঘন মাথা নাড়ার কারণ কী ছিল ?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতায় স্রষ্টা তাঁর নতুন সৃষ্টির প্রতি বিরূপ হয়ে তাকে নিখুঁত করার জন্য অর্থাৎ বারংবার প্রাকৃতিক পটভূমি পরিবর্তনের জন্য অধৈর্যে ঘনঘন মাথা নাড়ছিলেন ।
৩৩. ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা’– কে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল ?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসারে স্রষ্টা নিজের সৃষ্টির প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যখন বারবার প্রাকৃতিক পটভূমির বদল ঘটাচ্ছিলেন সেইসময় উত্তাল সমুদ্র পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
৩৪. সমুদ্র আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে কীভাবে রেখেছিল ?
উত্তরঃ সমুদ্র পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে নিবিড় অরণ্যের অন্ধকারে বন্দি করে রেখেছিল।
৩৫. আফ্রিকা নিভৃত অবকাশে কী করছিল ?
উত্তরঃ সমুদ্র যখন পূর্বাঞ্চলীয় ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে বিচ্ছিন্ন করেছিল তখন অরণ্যের অন্ধকারে আফ্রিকা দুর্গমের রহস্য সংগ্রহে ব্যস্ত ছিল।
৩৬. ‘চিনেছিলে জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত’— কে চিনেছিল ?
উত্তরঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে গৃহীত প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে জল-স্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেতকে আফ্রিকা চিনেছিল।
৩৭. আফ্রিকা উপেক্ষিত কেন ?
উত্তরঃ আফ্রিকার প্রাকৃতিক দুর্গমতা ও রহস্যময়তা পৃথিবীর বাকি অংশ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। আধুনিক সভ্যতার আলো সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি, তাই সে উপেক্ষিত।
৩৮. ‘এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে’– ‘ওরা’ কারা ?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘ওরা’ বলতে অত্যাচারী ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের বলা হয়েছে, যারা আফ্রিকার মানুষদের বন্দি করে ক্রীতদাসে পরিণত করেছিল।
৩৯. ‘গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে’– তাৎপর্য লেখো।
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ক্ষমতাবলে আফ্রিকার সভ্যতা, সংস্কৃতি ও মানবতার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। তাই ‘আফ্রিকা’ কবিতায় তাদের গর্বকে আফ্রিকার গভীর অন্ধকার বনভূমির চেয়েও অন্ধ বলা হয়েছে।
৪০. ঔপনিবেশিকদের আগমনে আফ্রিকার অবস্থা কী হয়েছিল ?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অমানবিক অত্যাচারে সাধারণ মানুষের রক্তে ও অশ্রুতে আফ্রিকার বনপথের ধুলো কর্দমাক্ত হয়েছে। শাসকের কাঁটা-মারা জুতোর তলার কাদার পিণ্ড আফ্রিকার ইতিহাসে চিরচিহ্ন এঁকে যায়।
৪১. ‘সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই’— কোন্ মুহূর্তের কথা বলা হয়েছে ?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’ কবিতার উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটিতে ঔপনিবেশিক শক্তির কাছে আফ্রিকা যখন শোষিত ও লাঞ্ছিত হচ্ছিল সেই মুহূর্তের কথা বলা হয়েছে।
৪২. আফ্রিকার দুর্দিনে কবি কীভাবে তার পাশে থাকতে চেয়েছেন ?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ঘোর বিরোধী রবীন্দ্রনাথ ঔপনিবেশিক শাসন– পীড়নে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার ওপর নির্মম অত্যাচার ও অপমানের জন্য যুগান্তের প্রতিভূ হয়ে তার কাছে ক্ষমা চাইতে চান।
৪৩. ‘আজ যখন পশ্চিম দিগন্তে’– পশ্চিম দিগন্তে কী ঘটে চলেছিল ?
উত্তরঃ ‘পশ্চিম দিগন্তে’ অর্থাৎ পাশ্চাত্য দেশগুলিতে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে মানুষের মধ্যেকার পাশবিক শক্তি বেরিয়ে এসে অশুভ ধ্বনিতে সভ্যতার অন্তিমকাল ঘোষণা করছিল।
৪৪. ‘বলো ‘ক্ষমা করো’ – কীসের জন্য এই ক্ষমাপ্রার্থনা ?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসহ সভ্য দুনিয়া যুগ যুগ ধরে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আফ্রিকার সংস্কৃতি ও জনজাতির ওপর বর্বরোচিত শোষণ চালিয়েছে । তার জন্য মানবসভ্যতার প্রতিনিধি হয়ে যুগান্তের কবির এই ক্ষমাপ্রার্থনা।
৪৫. ‘সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায় কী ঘটে চলেছিল ?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসারে সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়াতে দয়াময় দেবতার নামে সকাল-সন্ধ্যায় মন্দিরে বেজেছিল পুজোর ঘণ্টা। সেসময় মায়ের কোলে শিশুরা খেলছিল আর কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল সুন্দরের আরাধনা।
৪৬. ‘নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে’- এর দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন ?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ আফ্রিকার মানুষদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকের বর্বর ও পাশবিক অত্যাচারের ভয়াবহতার কথা বলতে গিয়ে তাদের বন্য নেকড়ের চেয়েও নিষ্ঠুর এবং হিংস্র বলে অভিহিত করেছেন।
📌 আরো দেখোঃ
📌মাধ্যমিক সিলেবাস বাংলা Click Here
📌দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক বিগত বছরের প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় মক্ টেস্ট Click Here
