সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর | Class 7 History Question Answer Ch-3 wbbse
তৃতীয় অধ্যায়
ভারতের সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা
খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক
📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের কয়েকটি ধারা : খ্রিষ্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক | Class 7 History Question Answer Chapter 3 wbbse
ভেবে দেখো, খুঁজে দেখো প্রশ্নোত্তর : দ্বিতীয় অধ্যায় সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস | Class 7 History Ch-3 Question Answer wbbse
১। নীচের নামগুলির মধ্যে কোনটি বাকিগুলির সঙ্গে মিলছে না তার তলায় দাগ দাও :
(ক) নাড়ু, চোল, উর, নগরম।
উত্তরঃ চোল।
ব্যাখ্যা: নাড়ু, উর ও নগরম—এই তিনটি ছিল প্রাচীন দক্ষিণ ভারতের গ্রাম বা নগরভিত্তিক প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু চোল হলো একটি রাজবংশের নাম। অতএব চোল বাকিদের সঙ্গে মেলে না।
(খ) ওদন্তপুরী, বিক্রমশীল, নালন্দা, জগদ্দল, লখনৌতি।
উত্তরঃ লখনৌতি।
ব্যাখ্যা: ওদন্তপুরী, বিক্রমশীল, নালন্দা ও জগদ্দল—এগুলো ছিল প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত বৌদ্ধ মহাবিহার/শিক্ষাকেন্দ্র।
কিন্তু লখনৌতি ছিল একটি রাজধানী নগর। তাই লখনৌতি বাকিদের সঙ্গে মিলছে না।
(গ) জয়দেব, ধীমান, বীটপাল, সন্ধ্যাকর নন্দী, চক্রপাণি দত্ত।
উত্তরঃ জয়দেব।
ব্যাখ্যা: ধীমান, বীটপাল, সন্ধ্যাকর নন্দী ও চক্রপাণি দত্ত—এঁরা ছিলেন পাল যুগের পণ্ডিত, শিল্পী বা চিকিৎসাবিদ। কিন্তু জয়দেব ছিলেন একজন কবি, ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের রচয়িতা। অতএব জয়দেব আলাদা।
(ঘ) লুইপাদ, অশ্বঘোষ, সরহপাদ, কাহ্নপাদ।
উত্তরঃ অশ্বঘোষ।
ব্যাখ্যা: লুইপাদ, সরহপাদ ও কাহ্নপাদ ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ সাধক (সিদ্ধাচার্য)। কিন্তু অশ্বঘোষ ছিলেন একজন প্রাচীন বৌদ্ধ দার্শনিক ও কবি, যিনি সহজিয়া সিদ্ধাচার্যের অন্তর্ভুক্ত নন। তাই অশ্বঘোষ বাকিদের সঙ্গে মেলে না।
২। নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলির সঙ্গে তার নীচের কোন্ ব্যাখ্যাটি তোমার সবচেয়ে মানানসই বলে মনে হয় ?
(ক) বিবৃতি: বাংলার অর্থনীতি পাল-সেন যুগে কৃষিনির্ভর হয়ে পড়েছিল।
ব্যাখ্যা-১ : পাল-সেন যুগে বাংলার মাটি আগের যুগের থেকে বেশি উর্বর হয়ে গিয়েছিল।
ব্যাখ্যা-২: পাল-সেন যুগে ভারতের পশ্চিম দিকের সাগরে আরব বণিকদের দাপট বেড়ে গিয়েছিল।
ব্যাখ্যা-৩: পাল-সেন রাজারা কৃষকদের উৎপন্ন ফসলের ওপর কর দিতেন। উত্তর
উত্তরঃ ব্যাখ্যা-২: পাল-সেন যুগে ভারতের পশ্চিম দিকের সাগরে আরব বণিকদের দাপট বেড়ে গিয়েছিল
(খ) বিবৃতি: দক্ষিণ ভারতে মন্দির ঘিরে লোকালয় ও বসবাস তৈরি হয়েছিল।
ব্যাখ্যা-১ : রাজা ও অভিজাতরা মন্দিরকে নিষ্কর জমি দান করতেন।
ব্যাখ্যা-২ : নদী থেকে খাল কেটে সেচব্যবস্থার উন্নতি করা হয়েছিল।
ব্যাখ্যা-৩ : দক্ষিণ ভারতে রাজারা অনেক মন্দির তৈরি করেছিলেন।
উত্তরঃ ব্যাখ্যা-১ : রাজা ও অভিজাতরা মন্দিরকে নিষ্কর জমি দান করতেন।
(গ) বিবৃতি: সেনযুগে বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও প্রসার কমে গিয়েছিল।
ব্যাখ্যা-১: সেন রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন।
ব্যাখ্যা-২: সেন রাজারা ব্রাহ্মণ ধর্মকেই প্রাধান্য দিতেন।
ব্যাখ্যা-৩ : সমাজে শূদ্রদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল।
উত্তরঃ ব্যাখ্যা-২ : সেন রাজারা ব্রাহ্মণ্য ধর্মকেই প্রাধান্য দিতেন।
৩. সংক্ষেপে (৩০–৫০ টি শব্দের মধ্যে) উত্তর দাও:
(ক) দক্ষিণ ভারতে খ্রিস্টীয় নবম থেকে একাদশ শতকের মধ্যে বাণিজ্যের উন্নতি কেন ঘটেছিল ?
উত্তরঃ দক্ষিণ ভারতে খ্রিস্টীয় নবম থেকে একাদশ শতকের মধ্যে বাণিজ্যের উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন ‘লেখ’ থেকে জানা যায় যে, চেটটি বা বণিকরা পণ্য সাজিয়ে যাতায়াত করতেন। বিভিন্ন বণিক সংগঠন বা সমবায়ের কথাও পাওয়া যায়। এই সংগঠন গুলি বিভিন্ন মন্দিরকে জমি দান করতেন, তার বর্ণনাও দক্ষিণ ভারতে তাম্রলেখগুলিতে পাওয়া যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চোরদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানকার বাণিজ্যের ওপর ভারতীয় বণিকদের প্রভাব আস্তে আস্তে বেড়েছিল।
(খ) পাল ও সেন যুগে বাংলায় কী কী ফসল উৎপন্ন হতো ? এই ফসল গুলির কোন কোনটি এখনো চাষ করা হয় ?
উত্তরঃ পাল ও সেন যুগে প্রধান ফসল গুলির মধ্যে ছিল ধান, সরষে ও নানা রকমের ফল, যেমন— আম, কাঁঠাল, কলা, ডালিম, ডুমুর, খেজুর, নারকেল ইত্যাদি। এছাড়া কার্পাস, তুলো, সুপুরি, এলাচ, মহুয়া ইত্যাদি ফল গুলি উৎপন্ন হতো। ওই ফসল ও ফল প্রায় সবগুলিই এখনো চাষ হয়।
(গ) রাজা লক্ষণ সেনের রাজসভার সাহিত্যচর্চার পরিচয় দাও।
উত্তরঃ রাজা লক্ষণ সেন তার রাজসভায় নানা কবি ও সাহিত্যিকগণকে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্থান দিয়েছিলেন। বিদ্বান ও বিদ্যার প্রতি তার অপরিসীম শ্রদ্ধা ছিল। পিতা বল্লাল সেনের আরদ্ধ দানসাগর গ্রন্থখানি লক্ষণ সেন সম্পূর্ণ করে নিজের মানসিক উৎকর্ষের পরিচয় দিয়েছিলেন। প্রসিদ্ধ বাঙালি বৈষ্ণব কবি জয়দেব ও কবি ধোয়ী, গোবর্ধন, শরণ, উমাপতিধর প্রভৃতি তার রাজসভা অলংকৃত করেছিলেন। এজন্য একে বলা হত পঞ্চরত্ন।
(বেশি মার্কসের প্রশ্ন আসলে এই উত্তরটি লিখবে)
উত্তরঃ সেন যুগকে বাংলার সংস্কৃত কাব্যের স্বর্ণযুগ বলা হয়ে থাকে। রাজা লক্ষ্মণ সেন নিজে কেবল সুকবি ও সুপণ্ডিত ছিলেন না, তিনি সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন। তাঁর রাজসভা অলংকৃত করতেন পঞ্চরত্ন-জয়দেব, উমাপতি ধর, গোবর্ধন, শরণ ও ধোয়ী। সভাকবি জয়দেব রচনা করেন রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক গ্রন্থ ‘গীতগোবিন্দ’। সংস্কৃত ভাষায় রচিত এই কাব্য বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। এ ছাড়া ধোয়ীর ‘পবনদূত’, উমাপতি ধরের ‘চন্দ্রচূড় চরিত’ প্রভৃতি গ্রন্থগুলি সে যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে মনে করা হয়। সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ুধ ছিলেন লক্ষণ সেনের সভাপণ্ডিত। হলায়ুধ ‘ব্রাহ্মণ সর্বস্ব’, ‘মীমাংসা সর্বস্ব’ প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিলেন। ত্রয়োদশ শতকের গোড়ায় কবি শ্রীধর দাস কর্তৃক সংকলিত ‘সদুক্তিকর্ণামৃত’ গ্রন্থে লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার সাহিত্যচর্চার বহু নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে।
(ঘ) পাল শাসনের তুলনায় সেন শাসন কেন বাংলায় কম দিন স্থায়ী হয়েছিল ?
উত্তরঃ বাংলায় ৪০০ বছরের বেশি সময় পাল শাসন ব্যবস্থা স্থায়ী হয়েছিল। কারণ—
(১) জন সমর্থনঃ খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকের পরবর্তীকালে পাল রাজারাও জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু বিজয় সেন একসময় পাল রাজাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাংলার সিংহাসন দখল করেন।
(২) গ্রহণযোগ্যতাঃ পাল আমলে বাংলার গ্রাম কেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা বেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়েছিল। কিন্তু সেন আমলে স্থানীয় গ্রামীণ শাসন অবনীতির পথে এগিয়ে চলেছিল।
(৩) সাহিত্য-সংস্কৃতিঃ শিক্ষাদিক্ষা, ধর্মচর্চায় শিল্পকলায় পালযুগে যতখানি উন্নত ছিল সেন যুগে ততখানি ছিল না।
৪. বিশদে (১০০–১২০ টি শব্দের মধ্যে) উত্তর লেখো:
(ক) ভারতের সামন্ত ব্যবস্থার ছবি আঁকতে গেলে কেন তা একখানা ত্রিভুজের মতো দেখায় ? এই ব্যবস্থায় সামন্তরা কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করত ?
উত্তরঃ ভারতের সামন্তব্যবস্থায় ছবি আঁকতে গেলে তা একখানা ত্রিভুজের মতো দেখাই, কারণ— এই সামন্ত ব্যবস্থায় সবার উপরে থাকে রাজা। সবার নিচে থাকে সাধারণ জনগণ বা খেটে খাওয়া মানুষজন। আর তাদের ওপর বেশকিছু সামন্ত বা মাঝারি শাসক এবং তাদের উপরে থাকে অল্প কিছু মহাসামন্ত। ফলে এই ব্যবস্থার ছবি ত্রিভুজের মাথা থেকে নিচ অবধি ক্রমশ চওড়া হয়ে গেছে বলে ত্রিভুজের মতো দেখায়। রাজা থেকে জনগণ অবধি রাজস্ব ও শাসনের এই স্তরে স্তরে ভাগ হয়ে যাওয়াকে সামন্ত ব্যবস্থা বলে।
সামন্তদের জীবিকা নির্বাহঃ সামন্তব্যবস পরিশ্রম করে সাসল উৎপাদন সামন্তরা বোর্ড উৎপাদন করতেন না। তারা অন্যের শ্রমে উৎপন্ন অন্য বা রাজস্ব থেকে নিজেদের জীবিকানির্বাহ করতেন। কৃষককদের কাছ থেকে ছোটো সামন্ত থেকে রাজস্ব আদায় করতেন তিনি তার কিছু অংশ নিজের জন্য রেখে বাকি অংশ উর্ধ্বতন সামন্তদের দিতেন তার ওপরের মাঝারি সামন্তরা ও তাদের নিজের নিজের অংশ রেখে বাকি অংশ রাজাকে দিতেন। কৃষক ও রাজার মাঝের এই সামান্তরা সমস্ত কিছুর ভোগীদার হয়ে বেঁচে থাকত।
(খ) পাল ও সেন যুগের বাংলার বাণিজ্য ও কৃষির মধ্যে তুলনা করো।
উত্তরঃ পাল ও সেন যুগে বাংলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল বাণিজ্য ও কৃষি।
বাণিজ্যঃ পাল ও সেন যুগের বাংলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য। গ্রামবাসীর প্রয়োজনীয় প্রায় যাবতীয় জিনিসপত্রই গ্রামে তৈরি হতো। সে যুগে বাংলার অর্থনীতিতে বাণিজ্যের গুরুত্ব ক্রমশই কমে এসেছিল। আরব বণিকদের অত্যাচারে বাংলার বণিকরা পিছু হটেছিল। সেই যুগে বাণিজ্যের অবনতির সঙ্গে সঙ্গে সোনা রুপার ব্যবহার কমে যায়। তার ফলে কড়ি হয়ে গিয়েছিল বেচা-কেনার প্রধান মাধ্যম। হস্তশিল্পের মধ্যে কাঠ ও ধাতুর তৈরি দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস, গয়নার কথা জানা যায়। শিল্পীরা বিভিন্ন নিগম বা গোষ্ঠীতে সঙ্ঘবদ্ধ ছিলেন।
কৃষিঃ পাল ও সেনযুগে বাংলার কৃষি পাল ও সেনযুগে বাণিজ্যের অবনতির ফলে কৃষির গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়—
(১) রাজারা উৎপন্ন ফসলের এক ষষ্ঠাংশ অর্থাৎ ছয়ভাগের একভাগ কৃষকদের কাছ থেকে কর নিতেন।
(২) এ যুগের উৎপন্ন ফসলগুলির মধ্যে প্রধান ছিল ধান, সরষে। তা ছাড়া নানা রকমের ফল, যেমন-আম, কাঁঠাল, কল ডালিম, খেজুর, নারকেল ইত্যাদি। এ ছাড়া কার্পাস বা তুলো, সুপুরি, এলাচ, মহুয়া প্রভৃতিও প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হত।
(৩) কৃষকদের অবহেলা করা হত না।
(৪) অনেক সময় ব্রাহ্মণ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিষ্কর জমি দান করা হত। বংশানুক্রমে ব্রাহ্মণরা এই জমি ভো করতেন।
(৫) সে যুগে বাঁশের নল দিয়ে জমি জরিপ করা হত।
(গ) পাল আমলের বাংলার শিল্প ও স্থাপত্যের কী পরিচয় পাওয়া যায় তা লেখো।
উত্তরঃ পাল যুগের বাংলার শিল্প ও স্থাপত্যের এক অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছিল। পাল রাজাগনের সাহায্যে নালন্দা, ওদন্তপুর, বিক্রমশীল ও সোমপুরী মহাবিহার গুলি নির্মিত হয়েছিল। পাল যুগের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বিহারে প্রসিদ্ধ লাভ করেছিল। বিক্রমশীল মহাবিহারে মোট ১০৭টি মন্দির ও ৮ টি মহাবিদ্যালয় ছিল। মন্দিরের গায়ে পাথরের ফলক থাকতো। এই সকল মঠের নির্মাণ পদ্ধতি সে যুগের স্থাপত্য কৌশল এর পরিচয়ক। সোমপুরি মহাবিহারএর ভগ্নাবশেষ রাজশাহী জেলায় আবিষ্কৃত হয়েছে। পাল যুগের স্তূপ, বিহার মন্দিরের নির্মাণ কৌশল ছিল বিভিন্ন ধরনের। পাল যুগের শিল্পরীতিকে প্রাচ্য শিল্পরীতি বলা হয়। এই যুগে নির্মিত কয়েকটি মূর্তি পাওয়া গিয়েছে। এগুলি গড়ন দেখলে পাল যুগের ভাস্কর্য শিল্পের উন্নতির কথা জানা যায়। ধীমান ও তার পুত্র বিট পাল ছিলেন সে যুগের শ্রেষ্ঠ ভাস্কর, চিত্রশিল্পী ও ধাতু মূর্তি শিল্পী। ভাস্কর্যের মধ্যে পোড়ামাটির শিল্প সামগ্রী ছিল। এগুলিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, সমাজ জীবন, ধর্মবিশ্বাস এর ছবি ফুটে উঠেছে।
(ঘ) পাল ও সেন যুগে সমাজ ও ধর্মের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ পাল ও সেন যুগের বাংলার সমাজের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল বিভিন্ন জাতির উদ্ভব। পাল রাজারা ব্রাহ্মণ ছিলেন না তারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী। সমাজের সাধারণ মানুষরা মোটামুটি সচ্ছল ছিল। ভূমিহীন ব্যক্তি ও শ্রমিকদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। একাদশ শতকের শেষ দিকে উত্তরবঙ্গে যে কৈবর্ত বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল তা নিঃসন্দেহে নিম্ন শ্রেণীর মধ্যে সামাজিক প্রতিবাদের দিকচিহ্ন হিসেবে আজও স্মরণীয়।
সেন রাজারা কিন্তু ব্রাহ্মণ্য ধর্মকে প্রাধান্য দিতেন। ব্রাহ্মণ্য ধর্মের মধ্যে বৈদিক ধর্ম ও পৌরাণিক ধর্মের মিশ্রণ ছিল। স্ত্রী লোকেরা নানারকম ব্রত, উপবাস পালন করতো। ইন্দ্র, অগ্নি, কুবের, সূর্য, গঙ্গা, যমুনা, শিব, দুর্গা, কালী পুজো করা হত। ব্রাহ্মণরা অন্যান্য সবার কাজ করতে পারতেন। কিন্তু ব্রাহ্মণ ছাড়া তাদের কাজ কেউ করতে পারতো না। ব্রাহ্মণরা সমাজপতি হিসেবে সুবিধা ভোগ করতেন। সেন যুগে সমাজে আদিবাসী উপজাতি মানুষের কথাও জানা যায়।
সেন রাজাদের আমলে গ্রাম্য শাসনব্যবস্থার অবনতি ঘটেছিল। সেই সময় রাষ্ট্র অসংখ্য ছোট ছোট খন্ডে বিভক্ত ছিল। সমাজ বিভক্ত ছিল চারটি শ্রেণীতে, যথা— ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র।
📌 আরো দেখুনঃ
📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌সপ্তম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ
📌 সপ্তম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি গণিত সমাধান Click Here
