অষ্টম শ্রেণির ভূগোল প্রথম অধ্যায় পৃথিবীর অন্দরমহল প্রশ্ন উত্তর | Class 8 Geography Chapter 1 Question Answer wbbse
পৃথিবীর অন্দরমহল
প্রথম অধ্যায়
অষ্টম শ্রেণির ভূগোল
📌 অষ্টম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
∆ ঠিক উত্তর নির্বাচন করে লেখ : প্রতিটি প্রশ্নের মান ১
১. পৃথিবীর ব্যাসার্ধ- (৩৬৪০ কিমি / ৬৩৭০ কিমি / ৭৬৩০ কিমি / ৩১৭০ কিমি)।
উত্তরঃ ৬৩৭০ কিমি
২. পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব-
(৩১৭০ কিমি / ৫১০০ কিমি / ৬৩৭০ কিমি / ৭৬৩০ কিমি)।
উত্তরঃ ৬৩৭০ কিমি
৩. দক্ষিণ আফ্রিকার গভীরতম সোনার খনির গভীরতা- (১ কিমি / ২ কিমি / ৩-৪ কিমি / ১২ কিমি)।
উত্তরঃ ৩-৪ কিমি
৪. প্রতি কত মিটার গভীরতায় তাপমাত্রা প্রায় ১০০ সেলসিয়াস বাড়ে ? (২০ মি / ৩৩ মি / ৫০ মি / ১০০ মি)।
উত্তরঃ ৩৩ মি
৫. পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা- (০°সে / ১৫°সে / ২৫°সে / ৩০°সে)।
উত্তরঃ ১৫°সে
৬. কোলা উপদ্বীপের গর্তের গভীরতা- (৫ কিমি / ৮ কিমি / ১২ কিমি / ২০ কিমি)।
উত্তরঃ ১২ কিমি
৭. পৃথিবীর বয়স প্রায়- (১০০ কোটি বছর / ৩০০ কোটি বছর / ৪৬০ কোটি বছর /৬০০ কোটি বছর)।
উত্তরঃ ৪৬০ কোটি বছর।
৮. পৃথিবী প্রথমে কী অবস্থায় ছিল ? (কঠিন / তরল / গ্যাসীয় উত্তপ্ত পিন্ড / বরফে ঢাকা)।
উত্তরঃ গ্যাসীয় উত্তপ্ত পিন্ড।
৯. ভূগর্ভে গলিত অবস্থার পদার্থকে বলে- (লাভা / ম্যাগমা / শিলা / খনিজ)।
উত্তরঃ ম্যাগমা।
১০. ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসা ম্যাগমাকে বলে-
(ম্যাগমা / শিলা / লাভা / ছাই)।
উত্তরঃ লাভা।
১১. তাপ বাড়লে পদার্থের- (ঘনত্ব বাড়ে / আয়তন কমে / গলে তরল হয় / কঠিন হয়)।
উত্তরঃ গলে তরল হয়।
১২. চাপ বাড়লে পদার্থের আয়তন- (বাড়ে / কমে / অপরিবর্তিত থাকে / গলে যায়)।
উত্তরঃ কমে
১৩. উষ্ণ প্রস্রবণ সৃষ্টি- (বৃষ্টি থেকে / আগ্নেয় ছাই থেকে / ভূ-তাপের প্রভাবে ভূগর্ভস্থ জল গরম হয়ে / সমুদ্র থেকে)।
উত্তরঃ ভূ-তাপের প্রভাবে ভূগর্ভস্থ জল গরম হয়ে।
১৪. ভূ-তাপ কী ? (এক ধরনের শিলা / এক ধরনের শক্তি / খনিজ / গ্যাস)।
উত্তরঃ এক ধরনের শক্তি।
১৫. (ভারত / জাপান / আইসল্যান্ড / চীন) ভূ-তাপ শক্তি থেকে প্রায় ৩০% বিদ্যুৎ পায়।
উত্তরঃ আইসল্যান্ড।
১৬. পৃথিবীর গড় ঘনত্ব- (২.৫ / ৩.৩ / ৫.৫ / ১১) গ্রাম/ঘনসেমি।
উত্তরঃ ৫.৫ গ্রাম/ঘনসেমি।
১৭. পৃথিবীর কেন্দ্রে ঘনত্ব প্রায়- (৫.৫ / ৮ / ১৩-১৪ / ২০) গ্রাম/ঘনসেমি।
উত্তরঃ ১৩-১৪ গ্রাম/ঘনসেমি।
১৮. ঘনত্ব (আয়তন / ওজন / একক আয়তনে ভর / তাপ) নির্দেশ করে।
উত্তরঃ একক আয়তনে ভর।
১৯. পৃথিবীর কেন্দ্রে প্রধানত (অ্যালুমিনিয়াম / সিলিকন / লোহা ও নিকেল / তামা) ধাতু আছে।
উত্তরঃ লোহা ও নিকেল।
২০. S তরঙ্গ (কঠিন / তরল / কঠিন ও তরল / শিলা) মাধ্যমে চলতে পারে না।
উত্তরঃ তরল।
২১. পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের স্তর হল- (গুরুমণ্ডল / কেন্দ্রমণ্ডল / ভূত্বক / অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার)।
উত্তরঃ ভূত্বক
২২. মহাসাগরের নীচে ভূত্বকের গড় গভীরতা- (৫ কিমি / ৫ কিমি / ৩০ কিমি / ৬০ কিমি)।
উত্তরঃ ৫ কিমি
২৩. সিমা (SIMA) স্তরের প্রধান উপাদান-
(সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম / সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়াম /লোহা ও নিকেল / কার্বন ও অক্সিজেন)।
উত্তরঃ সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়াম
২৪. সিয়াল (SIAL) স্তর (ব্যাসল্ট / গ্রানাইট / চুনাপাথর / বালি) শিলা দিয়ে গঠিত।
উত্তরঃ গ্রানাইট
২৫. সিয়াল (SIAL) স্তর অনুপস্থিত (মহাদেশে / সমুদ্রের নীচে / মালভূমিতে)।
উত্তরঃ সমুদ্রের নীচে।
২৬. ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝের বিযুক্তিরেখা হল- (কনরাড / গুটেনবার্গ / মোহোরোভিসিক / লেহম্যান)।
উত্তরঃ মোহোরোভিসিক।
২৭. সিয়াল ও সিমার মধ্যে কোন বিযুক্তি রেখা দেখা যায় ? (কনরাড /লেহ ম্যান / রেপত্তি)।
উত্তরঃ কনরাড বিযুক্তি রেখা।
২৮. নিচে যেটি লাভাপ্রবাহের মধ্যে দেখা যায় না – (তরলশিলা / বাষ্প / জল / নিফে)।
উত্তরঃ নিফে।
২৯. পৃথিবীর মোট আয়তনের সবচেয়ে বেশি অংশ দখল করে আছে- (কেন্দ্রমন্ডল / গুরুমন্ডল / ভূত্বক / ক্রফেসিমা)।
উত্তরঃ গুরুমন্ডল।
৩০. ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা নেই যে তরঙ্গের- (Lতরঙ্গের / P তরঙ্গের / M তরঙ্গের)।
উত্তরঃ P তরঙ্গের।
৩১. গুরুমণ্ডলের গভীরতা প্রায়- (১০০ কিমি / ৭০০ কিমি / ২৯০০ কিমি / ৬৩৭০ কিমি)
উত্তরঃ ২৯০০ কিমি।
৩২. অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের অর্থ- (শক্ত স্তর / কঠিন স্তর / দুর্বল স্তর / ঠান্ডা স্তর)।
উত্তরঃ দুর্বল স্তর।
৩৩. শিলামণ্ডলের গভীরতা প্রায়- (৩০ কিমি / ১০০ কিমি / ৭০০ কিমি / ২৯০০ কিমি)।
উত্তরঃ ১০০ কিমি
৩৪. পরিচলন স্রোত ঘটে- (ভূত্বকে / অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে / কেন্দ্রে / বায়ুমণ্ডলে)।
উত্তরঃ অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে।
৩৫. কেন্দ্রমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা- (২০০০° / ৩০০০° / ৫০০০° / ৭০০০°) সেলসিয়স।
উত্তরঃ ৫০০০°
৩৬. কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান- (সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়াম / লোহা ও নিকেল /অ্যালুমিনিয়াম / কার্বন)।
উত্তরঃ লোহা ও নিকেল
৩৭. বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল (কঠিন / অর্ধকঠিন / গ্যাসীয় / বরফ) অবস্থায় থাকে।
উত্তরঃ অর্ধকঠিন।
৩৮. পৃথিবীর চৌম্বকত্ব সৃষ্টি হয়- (ভূত্বকে / গুরুমণ্ডলে / বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে / অন্তঃকেন্দ্রে)।
উত্তরঃ বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে
৩৯. পশ্চিমবঙ্গের কোথায় উষ্ণ প্রস্রবণ আছে ? (রানীগঞ্জ / বক্রেশ্বর / তারকেশ্বর / হলদিয়া)।
উত্তরঃ বক্রেশ্বরে।
৪০. ভূ-তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে দেশ পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে- ভারত / ফ্রান্স /জাপান / আমেরিকা)।
উত্তরঃ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র।
∆ বাক্যটি সত্য হলে ‘ঠিক’ এবং অসত্য হলে ‘ভুল’ লেখ : প্রতিটি প্রশ্নের মান ১
১. পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ৬৩৭০ কিমি।
উত্তরঃ সত্য
২. পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া বর্তমানে সম্ভব।
উত্তরঃ মিথ্যা – পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া বর্তমানে সম্ভব নয়।
৩. দক্ষিণ আফ্রিকার রবিনসন ডীপ খনির গভীরতা প্রায় ৩-৪ কিমি।
উত্তরঃ সত্য
৪. প্রতি ১০ মিটার গভীরতায় তাপমাত্রা ১০° সেলসিয়াস বাড়ে।
উত্তরঃ মিথ্যা – প্রতি প্রায় ৩৩ মিটার গভীরতায় তাপমাত্রা ১০° সেলসিয়াস বাড়ে।
৫. পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৫° সেলসিয়াস।
উত্তরঃ সত্য
৬. কোলা উপদ্বীপের গর্ত পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছেছে।
উত্তরঃ মিথ্যা – কোলা উপদ্বীপের গর্তের গভীরতা প্রায় ১২ কিমি মাত্র।
৭. পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে।
উত্তরঃ সত্য
৮. পৃথিবীর অভ্যন্তর পুরোপুরি ঠান্ডা ও কঠিন।
উত্তরঃ মিথ্যা – পৃথিবীর অভ্যন্তরে তাপ ও চাপ খুব বেশি এবং বিভিন্ন স্তরে কঠিন, তরল ও অর্ধতরল অবস্থায় পদার্থ রয়েছে।
৯. ভূগর্ভের গলিত পদার্থকে ম্যাগমা বলে।
উত্তরঃ সত্য
১০. ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসা ম্যাগমাকে লাভা বলা হয়।
উত্তরঃ সত্য
১১. তাপ বাড়লে পদার্থের আয়তন সাধারণত বাড়ে।
উত্তরঃ সত্য
১২. চাপ বাড়লে পদার্থের আয়তন বাড়ে।
উত্তরঃ মিথ্যা – চাপ বাড়লে পদার্থের আয়তন কমে।
১৩. উষ্ণ প্রস্রবণ ভূ-তাপের ফলে সৃষ্টি হয়।
উত্তরঃ সত্য
১৪. ভূ-তাপ একটি শক্তির উৎস।
উত্তরঃ সত্য
১৫. আইসল্যান্ড ভূ-তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না।
উত্তরঃ মিথ্যা – আইসল্যান্ড ভূ-তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এবং এর প্রায় ৩০% চাহিদা মেটায়।
১৬. পৃথিবীর গড় ঘনত্ব প্রায় ৫.৫ গ্রাম/ঘনসেমি।
উত্তরঃ সত্য
১৭. পৃথিবীর কেন্দ্রে ঘনত্ব সবচেয়ে কম।
উত্তরঃ মিথ্যা – পৃথিবীর কেন্দ্রে ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
১৮. ভারী পদার্থ পৃথিবীর অভ্যন্তরে নিচের দিকে চলে যায়।
উত্তরঃ সত্য
১৯. S তরঙ্গ তরল মাধ্যমে চলতে পারে।
উত্তরঃ মিথ্যা – S তরঙ্গ তরল বা অর্ধতরল মাধ্যমে চলতে পারে না।
২০. পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের স্তর হলো ভূত্বক।
উত্তরঃ সত্য
২১. সিয়াল স্তর সমুদ্রের নীচে পাওয়া যায়।
উত্তরঃ মিথ্যা – সিয়াল স্তর সমুদ্রের নীচে অনুপস্থিত।
২২. গুরুমণ্ডলের গভীরতা প্রায় ২৯০০ কিমি।
উত্তরঃ সত্য
২৩. অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার একটি দুর্বল ও সান্দ্র স্তর।
উত্তরঃ সত্য
২৪. কেন্দ্রমণ্ডল প্রধানত লোহা ও নিকেল দিয়ে গঠিত।
উত্তরঃ সত্য
২৫. পৃথিবীর চৌম্বকত্ব বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের কারণে সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তরঃ সত্য
∆ উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো : প্রতিটি প্রশ্নের মান ১
১. পৃথিবীর ব্যাসার্ধ হলো __________ কিলোমিটার।
উত্তরঃ ৬৩৭০
২. দক্ষিণ আফ্রিকার গভীরতম সোনার খনির নাম ___________ ।
উত্তরঃ রবিনসন ডীপ
৩. প্রতি _________ মিটার গভীরতায় তাপমাত্রা প্রায় ১০০ সেলসিয়াস বাড়ে।
উত্তরঃ ৩৩
৪. পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা প্রায় _______ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উত্তরঃ ১৫
৫. পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্ত অবস্থিত ________ উপদ্বীপে।
উত্তরঃ কোলা
৬. পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় ________ কোটি বছর আগে।
উত্তরঃ ৪৬০
৭. ভূগর্ভের গলিত পদার্থকে _________ বলে।
উত্তরঃ ম্যাগমা
৮. ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসা ম্যাগমাকে _________ বলা হয়।
উত্তরঃ লাভা
৯. ভূ-তাপ এক ধরনের _________ ।
উত্তরঃ শক্তি
১০. আইসল্যান্ড তাদের বিদ্যুতের প্রায় _________ শতাংশ ভূ-তাপ শক্তি থেকে পায়।
উত্তরঃ ৩০
১১. পৃথিবীর গড় ঘনত্ব প্রায় _________ গ্রাম/ঘনসেমি।
উত্তরঃ ৫.৫
১২. পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে পদার্থের ঘনত্ব প্রায় _________ গ্রাম/ঘনসেমি পর্যন্ত হয়।
উত্তরঃ ১৩-১৪
১৩. ভারী পদার্থ অভিকর্ষের টানে পৃথিবীর ________ দিকে চলে যায়।
উত্তরঃ কেন্দ্রের
১৪. তরল মাধ্যমে ______ তরঙ্গ চলতে পারে না।
উত্তরঃ S
১৫. পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের স্তর হলো ___________ ।
উত্তরঃ ভূত্বক
১৬. মহাসাগরের নীচে ভূত্বকের গড় গভীরতা প্রায় ________ কিমি।
উত্তরঃ ৫
১৭. ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝের বিযুক্তিরেখাকে ______________ বলা হয়।
উত্তরঃ মোহোরোভিসিক
১৮. গুরুমণ্ডলের গভীরতা প্রায় ___________ কিলোমিটার।
উত্তরঃ ২৯০০
১৯. গুরুমণ্ডলের দুর্বল ও সান্দ্র স্তরের নাম _______________।
উত্তরঃ অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার
২০. পৃথিবীর চৌম্বকত্ব সৃষ্টি হয়েছে ____________ কেন্দ্রমণ্ডলের কারণে।
উত্তরঃ বহিঃ
∆ নীচের ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও :
১. ‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও :
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
| (ক) ম্যাগমা | (১) ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া উত্তপ্ত অর্ধতরল পদার্থ |
| (খ) লাভা | (২) ভূগর্ভে গলিত অবস্থায় থাকা পদার্থ |
| (গ) উষ্ণ প্রস্রবণ | (৩) ভূগর্ভের তাপে উত্তপ্ত জল |
| (ঘ) ভূ-তাপ শক্তি | (৪) পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপশক্তি |
উত্তরঃ ক-২, খ-১, গ-৩, ঘ-৪
২. ‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও :
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
| (ক) সিয়াল | (১) সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়াম দ্বারা গঠিত স্তর |
| (খ) সিমা | (২) গ্রানাইট জাতীয় শিলা |
| (গ) ভূত্বক | (৩) পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের স্তর |
| (ঘ) মাটি | (৪) ভূত্বকের একেবারে ওপরের অংশ |
উত্তরঃ ক-২, খ-১, গ-৩, ঘ-৪
৩. ‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও :
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
| (ক) মোহোরোভিসিক বিযুক্তিরেখা | (১) গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের সীমারেখা |
| (খ) কনরাড বিযুক্তিরেখা | (২) সিয়াল ও সিমার মধ্যবর্তী রেখা |
| (গ) গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা | (৩) ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের সীমারেখা |
| (ঘ) লেহম্যান বিযুক্তিরেখা | (৪) অন্তঃ ও বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যবর্তী রেখা |
উত্তরঃ ক-৩, খ-২, গ-১, ঘ-৪
৪. ‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও :
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
| (ক) ভূমিকম্পের P তরঙ্গ | (১) তরল মাধ্যমে চলতে পারে না |
| (খ) ভূমিকম্পের S তরঙ্গ | (২) কঠিন ও তরল উভয় মাধ্যমে চলে |
| (গ) ভূমিকম্প তরঙ্গ | (৩) পৃথিবীর অভ্যন্তরের তথ্য দেয় |
| (ঘ) বিযুক্তিরেখা | (৪) তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তনের স্থান |
উত্তরঃ ক-২, খ-১, গ-৩, ঘ-৪
৫. ‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও :
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
| (ক) অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল | (১) পৃথিবীর চৌম্বকত্ব সৃষ্টিকারী স্তর |
| (খ) বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল | (২) অর্ধকঠিন অবস্থায় থাকা স্তর |
| (গ) নিফে | (৩) লোহা ও নিকেল দ্বারা গঠিত পদার্থ |
| (ঘ) কেন্দ্রমণ্ডল | (৪) পৃথিবীর সবচেয়ে ভিতরের স্তর |
উত্তর: ক-৪, খ-২, গ-৩, ঘ-১
∆ একটি বাক্যে উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান ১
১. পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কত?
উত্তর: পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ৬৩৭০ কিলোমিটার।
২. পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া কেন সম্ভব নয়?
উত্তর: অত্যধিক তাপ ও চাপের জন্য পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া সম্ভব নয়।
৩. পৃথিবীর গভীরতম সোনার খনিটি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: পৃথিবীর গভীরতম সোনার খনিটি দক্ষিণ আফ্রিকার রবিনসন ডীপে অবস্থিত।
৪. রবিনসন ডীপ খনির গভীরতা কত?
উত্তর: রবিনসন ডীপ খনির গভীরতা প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার।
৫. প্রতি কত মিটার গভীরতায় তাপমাত্রা বাড়ে?
উত্তর: প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় তাপমাত্রা প্রায় ১০০ সেলসিয়াস বাড়ে।
৬. পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা কত?
উত্তর: পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৫° সেলসিয়াস।
৭. পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্ত কোথায় রয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্ত রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপে অবস্থিত।
৮. কোলা উপদ্বীপের গর্তের গভীরতা কত?
উত্তর: কোলা উপদ্বীপের গর্তের গভীরতা প্রায় ১২ কিলোমিটার।
৯. পৃথিবীর বয়স কত বলে জানা যায়?
উত্তর: পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৬০ কোটি বছর।
১০. পৃথিবী সৃষ্টির সময় কেমন ছিল?
উত্তর: পৃথিবী সৃষ্টির সময় প্রচণ্ড উত্তপ্ত গ্যাসীয় পিন্ড ছিল।
১১. ম্যাগমা কী ?
উত্তর: ভূগর্ভে গলিত অবস্থায় থাকা উত্তপ্ত পদার্থকে ম্যাগমা বলে।
১২. লাভা কী ?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসা ম্যাগমাকেই লাভা বলে।
১৩. তাপ বাড়লে পদার্থের কী পরিবর্তন ঘটে ?
উত্তর: তাপ বাড়লে পদার্থ গলে তরলে পরিণত হয় ও আয়তনে বাড়ে।
১৪. চাপ বাড়লে পদার্থের আয়তনের কী হয়?
উত্তর: চাপ বাড়লে পদার্থের আয়তন কমে যায়।
১৫. উষ্ণ প্রস্রবণ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: ভূগর্ভস্থ জল ভূ-তাপে উত্তপ্ত হয়ে ফাটল দিয়ে বেরিয়ে এলে উষ্ণ প্রস্রবণ সৃষ্টি হয়।
১৬. ভূ-তাপ কী?
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে নির্গত তাপশক্তিকে ভূ-তাপ বলে।
১৭. কোন দেশ ভূ-তাপ শক্তি থেকে প্রায় ৩০% বিদ্যুৎ পায়?
উত্তর: আইসল্যান্ড ভূ-তাপ শক্তি থেকে প্রায় ৩০% বিদ্যুৎ পায়।
১৮. পৃথিবীর গড় ঘনত্ব কত?
উত্তর: পৃথিবীর গড় ঘনত্ব প্রায় ৫.৫ গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার।
১৯. পৃথিবীর কেন্দ্রে ঘনত্ব কেন বেশি?
উত্তর: ভারী পদার্থ কেন্দ্রের দিকে জমা হওয়ায় সেখানে ঘনত্ব বেশি।
২০. ঘনত্ব কী?
উত্তর: একক আয়তনে পদার্থের ভরের পরিমাণকে ঘনত্ব বলে।
২১. পৃথিবীর কেন্দ্রে প্রধানত কোন ধাতু রয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্রে প্রধানত লোহা ও নিকেল রয়েছে।
২২. P তরঙ্গ কোন মাধ্যমে চলতে পারে?
উত্তর: P তরঙ্গ কঠিন ও তরল উভয় মাধ্যমেই চলতে পারে।
২৩. S তরঙ্গ কোন মাধ্যমে চলতে পারে না?
উত্তর: S তরঙ্গ তরল বা অর্ধতরল মাধ্যমে চলতে পারে না।
২৪. পৃথিবীর অভ্যন্তরের স্তর কয়টি?
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রধানত তিনটি স্তর রয়েছে।
২৫. পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের স্তরের নাম কী?
উত্তর: পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের স্তরের নাম ভূত্বক।
২৬. মহাসাগরের নীচে ভূত্বকের গড় গভীরতা কত?
উত্তর: মহাসাগরের নীচে ভূত্বকের গড় গভীরতা প্রায় ৫ কিলোমিটার।
২৭. সিমা স্তর কী দিয়ে গঠিত?
উত্তর: সিমা স্তর প্রধানত সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়াম দিয়ে গঠিত।
২৮. সিয়াল স্তর কী দিয়ে গঠিত?
উত্তর: সিয়াল স্তর প্রধানত সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে গঠিত।
২৯. সিয়াল স্তর কোথায় অনুপস্থিত?
উত্তর: সিয়াল স্তর সমুদ্রের নীচে অনুপস্থিত।
৩০. ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝের বিযুক্তিরেখার নাম কী?
উত্তর: ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝের বিযুক্তিরেখার নাম মোহোরোভিসিক।
৩১. গুরুমণ্ডলের গভীরতা কত?
উত্তর: গুরুমণ্ডলের গভীরতা প্রায় ২৯০০ কিলোমিটার।
৩২. অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার কী?
উত্তর: অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার হলো গুরুমণ্ডলের একটি দুর্বল ও সান্দ্র স্তর।
৩৩. শিলামণ্ডল কী দিয়ে গঠিত?
উত্তর: শিলামণ্ডল ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের উপরিভাগ নিয়ে গঠিত।
৩৪. পরিচলন স্রোত কোথায় সৃষ্টি হয়?
উত্তর: পরিচলন স্রোত অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে সৃষ্টি হয়।
৩৫. কেন্দ্রমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা কত?
উত্তর: কেন্দ্রমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা প্রায় ৫০০০° সেলসিয়াস।
৩৬. কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান কী?
উত্তর: কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান লোহা ও নিকেল।
৩৭. অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল কোন অবস্থায় থাকে?
উত্তর: অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল অত্যধিক চাপে কঠিন অবস্থায় থাকে।
৩৮. বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল কোন অবস্থায় থাকে?
উত্তর: বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল অর্ধকঠিন বা সান্দ্র অবস্থায় থাকে।
৩৯. পৃথিবীর চৌম্বকত্ব কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে তরল লোহা ও নিকেলের আবর্তনের ফলে পৃথিবীর চৌম্বকত্ব সৃষ্টি হয়।
৪০. গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝের বিযুক্তিরেখার নাম কী?
উত্তর: গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝের বিযুক্তিরেখার নাম গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা।
∆ নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান ২
১. কেন পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া সম্ভব নয়?
উত্তরঃ পৃথিবীর অভ্যন্তরে গভীরতার সঙ্গে সঙ্গে তাপ ও চাপ অত্যন্ত বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত তাপ ও চাপ আধুনিক যন্ত্রপাতির সহ্যক্ষমতার বাইরে। তাই পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া সম্ভব নয়।
২. রবিনসন ডীপ খনির গুরুত্ব কী?
উত্তরঃ রবিনসন ডীপ দক্ষিণ আফ্রিকার একটি সোনার খনি। এটি পৃথিবীর গভীরতম খনিগুলোর একটি এবং এর গভীরতা প্রায় ৩–৪ কিমি। এই খনি পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে ধারণা দিতে সাহায্য করে।
৩. পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপমাত্রা কীভাবে বৃদ্ধি পায়?
উত্তরঃ ভূপৃষ্ঠ থেকে নিচের দিকে নামলে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে। গড়ে প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় তাপমাত্রা প্রায় ১০° সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়।
৪. কোলা উপদ্বীপের গর্তটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপে অবস্থিত গর্তটি পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্ত। এর গভীরতা প্রায় ১২ কিমি। এটি ভূগর্ভের শিলা ও তাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
৫. পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে। তখন এটি ছিল একটি প্রচণ্ড উত্তপ্ত গ্যাসীয় পিণ্ড। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপরের অংশ ঠান্ডা হয়ে কঠিন হয়।
৬. ম্যাগমা ও লাভার পার্থক্য লেখো।
উত্তরঃ ভূগর্ভে উচ্চ তাপ ও চাপে গলিত অবস্থায় থাকা পদার্থকে ম্যাগমা বলে। এই ম্যাগমা ফাটল দিয়ে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে এলে তাকে লাভা বলা হয়।
৭. উষ্ণ প্রস্রবণ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তরঃ ভূগর্ভস্থ জল পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপের সংস্পর্শে এসে উত্তপ্ত হয়। সেই উত্তপ্ত জল ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে বেরিয়ে এলে উষ্ণ প্রস্রবণ সৃষ্টি হয়।
৮. ভূ-তাপ শক্তির ব্যবহার সম্পর্কে লেখো।
উত্তরঃ ভূ-তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। আইসল্যান্ড ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এই শক্তির ব্যাপক ব্যবহার করে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমে।
৯. পৃথিবীর কেন্দ্রে ঘনত্ব বেশি কেন?
উত্তরঃ পৃথিবী সৃষ্টির সময় ভারী পদার্থগুলো অভিকর্ষের টানে কেন্দ্রের দিকে চলে যায়। এর ফলে কেন্দ্রে লোহা ও নিকেলের মতো ভারী পদার্থ জমা হয় এবং ঘনত্ব বেশি হয়।
১০. ঘনত্ব বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ একক আয়তনে কোনো পদার্থের ভরের পরিমাণকে ঘনত্ব বলে। ঘনত্ব বেশি হলে একই আয়তনের বস্তু ভারী হয়।
১১. ভূমিকম্প তরঙ্গ কীভাবে পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে তথ্য দেয়?
উত্তরঃ ভূমিকম্প তরঙ্গ বিভিন্ন স্তরের মধ্যে দিয়ে ভিন্ন গতিতে চলাচল করে। এই গতির পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গঠন জানতে পারেন।
১২. P ও S তরঙ্গের পার্থক্য লেখো।
উত্তরঃ P তরঙ্গ কঠিন ও তরল উভয় মাধ্যমেই চলতে পারে। কিন্তু S তরঙ্গ শুধু কঠিন মাধ্যমে চলতে পারে, তরল মাধ্যমে চলতে পারে না।
১৩. পৃথিবীর অভ্যন্তরের স্তরগুলো কী কী?
উত্তরঃ পৃথিবীর অভ্যন্তর প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত। এগুলো হলো ভূত্বক, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল।
১৪. ভূত্বকের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তরঃ ভূত্বক পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের ও পাতলা স্তর। এই স্তরে নানা খনিজ সম্পদ ও মাটি পাওয়া যায়।
১৫. সিয়াল ও সিমা স্তরের পার্থক্য লেখো।
উত্তরঃ সিয়াল স্তর সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে গঠিত এবং এটি হালকা। সিমা স্তর সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়াম দিয়ে গঠিত এবং তুলনামূলকভাবে ভারী।
১৬. গুরুমণ্ডলের প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তরঃ গুরুমণ্ডল ভূত্বকের নীচে প্রায় ২৯০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরে তাপ ও চাপ খুব বেশি এবং পদার্থ বিভিন্ন অবস্থায় থাকে।
১৭. অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার কী?
উত্তরঃ অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার গুরুমণ্ডলের উপরের অংশে অবস্থিত একটি দুর্বল ও সান্দ্র স্তর। এখানে পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয়।
১৮. শিলামণ্ডল বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের উপরিভাগ মিলিয়ে শিলামণ্ডল গঠিত। এর গভীরতা প্রায় ১০০ কিমি।
১৯. কেন্দ্রমণ্ডলের গঠন সম্পর্কে লেখো।
উত্তরঃ কেন্দ্রমণ্ডল প্রধানত লোহা ও নিকেল দিয়ে গঠিত। এটি অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল ও বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে বিভক্ত।
২০. পৃথিবীর চৌম্বকত্ব কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তরঃ বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে তরল অবস্থায় থাকা লোহা ও নিকেল দ্রুত ঘূর্ণনের ফলে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। এই ক্ষেত্র থেকেই পৃথিবীর চৌম্বকত্বের উৎপত্তি।
২১. ক্রোফেসিমা স্তরের গঠন সম্পর্কে লেখ।
উত্তরঃ গুরুমণ্ডলের ৩০-৭০০ কিমি পর্যন্ত অংশে ক্রোমিয়াম (Cr), লোহা (Fe), সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) প্রাধান্য দেখা যায়। এটি হলো ক্লোফেসিমা (Cro + Fe + Si + Ma) স্তর।
২২. নিফেসিমা স্তরের গঠন সম্পর্কে লেখ।
উত্তরঃ গুরুমণ্ডলের ৭০০- ২৯০০ কিমি পর্যন্ত অংশে নিকেল (Ni), লোহা (Fe) সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) আধিক্যের জন্য এই স্তর হলো নিফেসিমা (Ni + Fe + Si + Ma)।
∆ নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান ৩
১. কেন পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া অসম্ভব?
উত্তরঃ পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬৩৭০ কিলোমিটার। ভূপৃষ্ঠ থেকে গভীরে নামলে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় তাপমাত্রা প্রায় ১০° সেলসিয়াস বাড়ে। গভীরে চাপও অত্যন্ত বেশি হয়। এই অতিরিক্ত তাপ ও চাপ আধুনিক যন্ত্রপাতি সহ্য করতে পারে না। তাই পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া অসম্ভব।
২. রবিনসন ডীপ খনির গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তরঃ রবিনসন ডীপ দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিখ্যাত সোনার খনি। এটি পৃথিবীর গভীরতম খনিগুলোর একটি। খনিটির গভীরতা প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার। এখানকার শ্রমিকদের অত্যধিক তাপ সহ্য করে কাজ করতে হয়। এই খনি পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপমাত্রা সম্পর্কে ধারণা দেয়। তাই ভূগোল শিক্ষায় এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
৩. পৃথিবীর সৃষ্টি ও প্রাথমিক অবস্থা বর্ণনা করো।
উত্তরঃ পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে। সৃষ্টির সময় পৃথিবী ছিল একটি উত্তপ্ত গ্যাসীয় পিণ্ড। তখন এর তাপমাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর উপরিভাগ ঠান্ডা হতে থাকে। পরে সেই উপরিভাগ শক্ত হয়ে ভূত্বকে পরিণত হয়। কিন্তু অভ্যন্তরভাগ আজও প্রচণ্ড উত্তপ্ত রয়েছে।
৪. ম্যাগমা ও লাভা সম্পর্কে লেখো।
উত্তরঃ ভূগর্ভে উচ্চ তাপ ও চাপে শিলাগুলি গলিত অবস্থায় থাকে। এই গলিত পদার্থকে ম্যাগমা বলা হয়। ম্যাগমার মধ্যে নানা গ্যাস ও বাষ্প মিশে থাকে। ভূত্বকে ফাটল সৃষ্টি হলে ম্যাগমা উপরের দিকে উঠে আসে। ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসা ম্যাগমাকে লাভা বলা হয়। লাভা ঠান্ডা হয়ে আগ্নেয় শিলা গঠন করে।
৫. উষ্ণ প্রস্রবণ কীভাবে সৃষ্টি হয় ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচুর তাপ রয়েছে। ভূগর্ভস্থ জল এই তাপের সংস্পর্শে আসে। ফলে জল উত্তপ্ত হয়ে ফুটতে শুরু করে। ভূপৃষ্ঠে থাকা ফাটল দিয়ে এই গরম জল বেরিয়ে আসে। এই ঘটনাকে উষ্ণ প্রস্রবণ বলা হয়। বক্রেশ্বরের উষ্ণ প্রস্রবণ এর একটি উদাহরণ।
৬. ভূ-তাপ শক্তি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ ভূ-তাপ হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপশক্তি। এই তাপ ধীরে ধীরে ভূপৃষ্ঠের দিকে আসে। এই শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। আইসল্যান্ড তাদের বিদ্যুতের প্রায় ৩০ শতাংশ ভূ-তাপ থেকে পায়। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ভূ-তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে। এটি পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস।
৭. পৃথিবীর ঘনত্ব সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তরঃ ভূপৃষ্ঠের গড় ঘনত্ব ২.৬ থেকে ৩.৩ গ্রাম প্রতি ঘনসেমি। গভীরে গেলে ঘনত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। পৃথিবীর কেন্দ্রে ঘনত্ব প্রায় ১৩–১৪ গ্রাম প্রতি ঘনসেমি। ভারী পদার্থ কেন্দ্রের দিকে জমা হওয়ায় এমনটি ঘটে। চাপ বৃদ্ধির কারণেও ঘনত্ব বাড়ে। তাই পৃথিবীর গড় ঘনত্ব হয় ৫.৫ গ্রাম প্রতি ঘনসেমি।
৮. ভূমিকম্প তরঙ্গ পৃথিবীর অভ্যন্তর জানতে কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তরঃ ভূমিকম্পের সময় বিভিন্ন ধরনের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। এই তরঙ্গগুলো পৃথিবীর অভ্যন্তরের স্তর ভেদ করে চলে। বিভিন্ন মাধ্যমে তরঙ্গের গতি পরিবর্তিত হয়। P তরঙ্গ কঠিন ও তরল উভয় মাধ্যমে চলতে পারে। কিন্তু S তরঙ্গ তরল মাধ্যমে চলতে পারে না। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে স্তরগুলোর গঠন জানা যায়।
৯. ভূত্বক সম্পর্কে ছটি বাক্যে লেখো।
উত্তরঃ ভূত্বক পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের স্তর। এটি অত্যন্ত পাতলা এবং ভঙ্গুর প্রকৃতির। মহাসাগরের নীচে ভূত্বক প্রায় ৫ কিমি পুরু। মহাদেশের নীচে এর গভীরতা প্রায় ৬০ কিমি। ভূত্বকে নানা খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়। মাটি ভূত্বকের উপরিভাগে অবস্থান করে।
১০. সিয়াল ও সিমা স্তরের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তরঃ সিয়াল স্তর সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে গঠিত। এটি তুলনামূলকভাবে হালকা প্রকৃতির। এই স্তর মহাদেশের নীচে অবস্থান করে। সিমা স্তর সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়াম দিয়ে গঠিত। এটি ভারী এবং ব্যাসল্ট শিলা দিয়ে তৈরি। সিয়াল স্তর সমুদ্রের নীচে অনুপস্থিত।
১১. গুরুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তরঃ গুরুমণ্ডল ভূত্বকের নীচে অবস্থিত। এর গভীরতা প্রায় ২৯০০ কিলোমিটার। এই স্তরে তাপমাত্রা ২০০০° থেকে ৩০০০° সেলসিয়াস। এখানে লোহা, নিকেল ও ম্যাগনেশিয়ামের আধিক্য রয়েছে। পদার্থ কখনো কঠিন আবার কখনো অর্ধতরল অবস্থায় থাকে। ভূত্বকের গতিবিধিতে গুরুমণ্ডলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
১২. অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার সম্পর্কে লেখো।
উত্তরঃ অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার গুরুমণ্ডলের উপরের অংশে অবস্থিত। এই স্তরকে দুর্বল স্তর বলা হয়। এখানে শিলা সান্দ্র অবস্থায় থাকে। অতিরিক্ত তাপ ও চাপে শিলা নরম হয়ে যায়। এখানে পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয়। এই স্রোত ভূত্বকের চলাচলে সাহায্য করে।
১৩. শিলামণ্ডল কী?
উত্তরঃ ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের উপরিভাগ নিয়ে শিলামণ্ডল গঠিত। এর গড় গভীরতা প্রায় ১০০ কিলোমিটার। এটি শক্ত ও কঠিন প্রকৃতির। মহাদেশ ও মহাসাগরীয় প্লেট এই স্তরের অংশ। ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। শিলামণ্ডল ভাঙনের ফলেই প্লেট চলাচল ঘটে।
১৪. কেন্দ্রমণ্ডলের গঠন আলোচনা করো।
উত্তরঃ কেন্দ্রমণ্ডল পৃথিবীর সবচেয়ে ভিতরের স্তর। এটি প্রধানত লোহা ও নিকেল দিয়ে তৈরি। এর তাপমাত্রা প্রায় ৫০০০° সেলসিয়াস। কেন্দ্রমণ্ডল দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি হলো অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল ও অন্যটি বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল। অন্তঃকেন্দ্র কঠিন হলেও বহিঃকেন্দ্র অর্ধতরল।
১৫. পৃথিবীর চৌম্বকত্বের উৎস ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ পৃথিবীর চৌম্বকত্ব কেন্দ্রমণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্কিত। বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে লোহা ও নিকেল অর্ধতরল অবস্থায় থাকে। এই পদার্থগুলো পৃথিবীর অক্ষের চারদিকে ঘোরে। এই ঘূর্ণনের ফলে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। সেই প্রবাহ থেকে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এইভাবেই পৃথিবীর চৌম্বকত্বের সৃষ্টি।
∆ নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫
১. পৃথিবীর অভ্যন্তর কেন এত অজানা ও রহস্যময় ?
উত্তরঃ পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬৩৭০ কিমি, যা অত্যন্ত গভীর। মানুষের খনির গভীরতার সীমা ৩–১২ কিমি মাত্র। এতদূর পর্যন্ত যাওয়া যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি দিয়ে সম্ভব নয়। গভীরে তাপমাত্রা প্রতি ৩৩ মিটারে প্রায় ১০° সেলসিয়াস করে বৃদ্ধি পায়। চাপও অসীমভাবে বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত তাপ ও চাপের কারণে ধাতু ও শিলা গলতে শুরু করে। ফলে কোনো সরাসরি পরীক্ষা করা যায় না। বিজ্ঞানীরা তাই ভূমিকম্পের তরঙ্গ ও আগ্নেয়গিরির পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করেন। ভূমিকম্পের P তরঙ্গ কঠিন ও তরল মাধ্যম দুইয়ে চলে। কিন্তু S তরঙ্গ তরল বা অর্ধতরল মাধ্যমে চলতে পারে না। এ তথ্য বিশ্লেষণ করে স্তরগুলো চিহ্নিত করা হয়। তাই পৃথিবীর ভেতরের অঙ্গভঙ্গি জানা অত্যন্ত জটিল।
২. পৃথিবীর অভ্যন্তরের প্রধান স্তরগুলো ও তাদের বৈশিষ্ট্য কী ?
উত্তরঃ পৃথিবীর অভ্যন্তর প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত। সবচেয়ে বাইরে ভূত্বক, এর নিচে গুরুমণ্ডল এবং সবচেয়ে নীচে কেন্দ্রমণ্ডল। ভূত্বক পাতলা, শক্ত এবং খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। গুরুমণ্ডল তাপ ও চাপের কারণে বিভিন্ন অবস্থায় থাকে, কখনো কঠিন, কখনো অর্ধতরল। এই স্তরে লোহা, নিকেল, ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন থাকে। কেন্দ্রমণ্ডল দুটি ভাগে বিভক্ত, অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল কঠিন এবং বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল অর্ধতরল। কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ৫০০০° সেলসিয়াস। গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যেই বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। এই প্রবাহ পৃথিবীর চৌম্বকত্বের উৎস। ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝখানে মোহোরোভিসিক বিযুক্তিরেখা রয়েছে। গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝখানে গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা আছে। পৃথিবীর অভ্যন্তর অগভীর থেকে গভীর পর্যন্ত তাপ, চাপ ও পদার্থের ঘনত্বে পরিবর্তিত হয়।
৩. ম্যাগমা, লাভা এবং উষ্ণ প্রস্রবণ কী এবং কীভাবে সৃষ্টি হয় ?
উত্তরঃ ভূগর্ভে উচ্চ তাপ ও চাপের কারণে শিলা গলিত অবস্থায় থাকে, যা ম্যাগমা নামে পরিচিত। ম্যাগমা মধ্যে গ্যাস ও বাষ্প মিশে থাকে। যখন এটি ফাটল বা ভূপৃষ্ঠের ফাটলের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে, তখন তা লাভা নামে পরিচিত। লাভা ঠান্ডা হয়ে আগ্নেয়শিলা তৈরি করে। উষ্ণ প্রস্রবণ হলো ভূগর্ভের জল যা ভূ-তাপের সংস্পর্শে গরম হয়ে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে। এটি প্রাকৃতিক তাপশক্তির সূচনা। উষ্ণ প্রস্রবণ মানুষের জন্য খনিজ ও স্বাস্থ্যকর পানির উৎস। এটি ভূ-তাপ শক্তির প্রমাণ দেয়। ভূ-তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ। আইসল্যান্ড ভূ-তাপ বিদ্যুতের ৩০% উৎপন্ন করে। উষ্ণ প্রস্রবণ ও আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ পৃথিবীর অভ্যন্তরের অদৃশ্য শক্তি সম্পর্কে তথ্য দেয়। এই প্রক্রিয়াগুলো পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ ও পদার্থের অবস্থার সাক্ষ্য দেয়। তাই ম্যাগমা, লাভা ও উষ্ণ প্রস্রবণ ভূগর্ভের গঠন বোঝার মূল চাবিকাঠি।
৪. ভূমিকম্প তরঙ্গ ও তাদের সাহায্যে পৃথিবীর অভ্যন্তর কেমনভাবে চিহ্নিত করা হয়?
উত্তরঃ ভূমিকম্পে বিভিন্ন ধরনের তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, প্রধানত P ও S তরঙ্গ। P তরঙ্গ কঠিন ও তরল দুই মাধ্যমে চলতে পারে, S তরঙ্গ শুধুমাত্র কঠিন মাধ্যমে চলে। বিভিন্ন স্তরের ঘনত্ব ও পদার্থের প্রকৃতির কারণে তরঙ্গের গতি ও অভিমুখ পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা স্তর ও বিযুক্তিরেখা শনাক্ত করেন। ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝে মোহোরোভিসিক, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা চিহ্নিত করা যায়। S তরঙ্গ না চলার কারণে তরল স্তর বোঝা যায়। P তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘনত্ব ও পদার্থের প্রকার বোঝা যায়। এই বিশ্লেষণ পৃথিবীর অভ্যন্তরের মৌলিক গঠন প্রকাশ করে। এটি কেবল তত্ত্ব নয়, বাস্তব পর্যবেক্ষণ ভিত্তিক তথ্য। ভূমিকম্প তরঙ্গগুলো নকশা করা আধুনিক ভূতত্ত্বের মূল হাতিয়ার। তরঙ্গ বিশ্লেষণ ছাড়া পৃথিবীর ভিতরের স্তর চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। তাই ভূমিকম্প গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ।
৫. কেন্দ্রমণ্ডল ও গুরুমণ্ডলের মধ্যে সম্পর্ক এবং পৃথিবীর চৌম্বকত্বের উৎস কী?
উত্তরঃ গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝখানে গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা রয়েছে। কেন্দ্রমণ্ডল দুটি ভাগে বিভক্ত, অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল কঠিন এবং বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল অর্ধতরল। বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের তরল লোহা ও নিকেল দ্রুত ঘূর্ণন করে বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি করে। এই বৈদ্যুতিক প্রবাহ থেকে পৃথিবীর চৌম্বকত্বের উৎপত্তি। গুরুমণ্ডল উপরের দিকে তাপ পরিবহণ করে ও পরিচলন স্রোত তৈরি করে। কেন্দ্রমণ্ডল ও গুরুমণ্ডলের সম্পর্ক ভূত্বক ও প্লেট চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গুরুমণ্ডলের তাপ ও সান্দ্র পদার্থ, কেন্দ্রমণ্ডলের ঘূর্ণনশক্তির সঙ্গে মিলিত হয়ে পৃথিবীর অভ্যন্তরকে গতিশীল রাখে। এই স্তরগুলো না থাকলে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র ও অভ্যন্তরীণ তাপ স্রোত সম্ভব হতো না। পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ, চাপ ও পদার্থের বৈশিষ্ট্য একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে জটিল প্রক্রিয়া চালায়। কেন্দ্রমণ্ডলের ঘূর্ণন পৃথিবীর অভ্যন্তরীয় শক্তি ভারসাম্য রাখে। এই প্রক্রিয়াগুলো না বোঝা গেলে ভূ-তাপ, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির ব্যাখ্যা অসম্পূর্ণ থাকে। তাই কেন্দ্রমণ্ডল ও গুরুমণ্ডলের অধ্যয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
📌 আরো দেখুনঃ
📌 অষ্টম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ
📌 অষ্টম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
