অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর | Class 8 History Chapter 4 Anushiloni Question Answer wbbse

অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর | Class 8 History Chapter 4 Anushiloni Question Answer wbbse

ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র
চতুর্থ অধ্যায়
অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস

📌 অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

ভেবে দেখো খুঁজে দেখো প্রশ্নোত্তর : অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় | Bhebe Dekho Khuje Dekho Question Answer Class 8 History Chapter 4 wbbse

১। ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।

(ক) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন (হেস্টিংস / কর্নওয়ালিস / ডালহৌসি)।

উত্তরঃ কর্নওয়ালিস।

(খ) মহলওয়ারি ব্যবস্থা চালু হয়েছিল (বাংলায় / উত্তর ভারতে / দক্ষিণ ভারতে)।

উত্তরঃ উত্তর ভারতে।

(গ) ‘দাদন’ বলতে বোঝায় (অগ্রিম অর্থ / আবওয়াব / বেগার শ্রম)।

উত্তরঃ অগ্রিম অর্থ।

(ঘ) ঔপনিবেশিক ভারতে প্রথম পাটের কারখানা চালু হয়েছিল (রিষড়ায় / কলকাতায় / বোম্বাইতে)।

উত্তরঃ রিষড়ায়।

(ঙ) দেশের সম্পদ দেশের বাইরে চলে যাওয়াকে বলে- (সম্পদের বহির্গমন / অবশিল্পায়ন / বর্গাদারি ব্যবস্থা)।

উত্তরঃ সম্পদের বহির্গমন।

২। নীচের বিবৃতিগুলির কোনটি ঠিক কোনটি ভুল বেছে নাও :

(ক) ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হয়।

উত্তরঃ ভূল

ব্যাখ্যা: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হয়েছিল ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে, লর্ড কর্নওয়ালিসের সময়ে। ১৭৯৪ নয়, তাই বিবৃতিটি ভুল।

(খ) নীল বিদ্রোহ হয়েছিল মাদ্রাজে।

উত্তরঃ ভূল

ব্যাখ্যা: নীল বিদ্রোহ হয়েছিল মূলত বাংলা ও বিহারের অঞ্চলে (নদীয়া, যশোর, পাবনা প্রভৃতি জায়গায়)। মাদ্রাজে নয়, তাই এই বিবৃতিটি ভুল।

(গ) দাক্ষিণাত্যে তুলো চাষের সঙ্গে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের বিষয় জড়িত ছিল।

উত্তরঃ ঠিক

(ঘ) রেলপথের বিস্তারের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যে ভারতের বাজার ছেয়ে গিয়েছিল।

উত্তরঃ ভুল।

ব্যাখ্যা: রেলপথের বিস্তারের ফলে ভারতের বাজার ইংল্যান্ডের শিল্পজাত পণ্যে ভরে গিয়েছিল, দেশীয় পণ্যে নয়। এর ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বিবৃতিটি ভুল।

(ঙ) টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা কোম্পানি-শাসনের কথা মাথায় রেখে বানানো হয়েছিল।

উত্তরঃ ঠিক।

৩। অতি সংক্ষেপে উত্তর দাও (৩০-৪০টি শব্দ) :

(ক) ‘সূর্যাস্ত আইন’ কাকে বলে ?

উত্তরঃ জমির অধিকার জমিদারের দখলে থাকলেও আসলে সমস্ত জমির চূড়ান্ত মালিকানা ছিল কোম্পানির হাতে। নির্দিষ্ট একটি তারিখে সূর্য ডোবার আগে ধার্য রাজস্ব কোম্পানিকে দিতে বাধ্য থাকতো জমিদাররা। এই ব্যবস্থা ‘সূর্যাস্ত আইন’ নামে পরিচিত ছিল। ওই নির্দিষ্ট তারিখে সূর্য ডোবার আগে ধার্য রাজস্ব কোম্পানিকে জমা দিতে না পারলে জমিদারের সম্পত্তি বিক্রি করে রাজস্ব আদায়ের অধিকার ছিল কোম্পানির।

(খ) কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ বলতে কী বোঝো ?

উত্তরঃ উপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকার বাণিজ্যের প্রয়োজনে চা, নীল, পাট, তুলো প্রভৃতি ফসল চাষের ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়। কোম্পানির সরকার এই সমস্ত ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের বাধ্য করে। এসব কৃষিজ ফসল কে বাণিজ্যের মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া হল কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ।

(গ) ‘দাক্ষিণাত্য হাঙ্গামা’ কেন হয়েছিল ?

উত্তরঃ আমার ধারনায় দাক্ষিণাত্য হাঙ্গামার মূল কারণ ছিল কুনবি কৃষকদের দুরবস্থা। মহারাষ্ট্রের পুনা ও আহম্মদনগর জেলার কুনবি সম্প্রদায়ভুক্ত কৃষকরা সাউকার (মহাজন) বা বণিকদের (গ্রামীণ মহাজন) হাতে শোষিত ও অত্যাচারিত হতেন, ফলে তারা বাধ্য হয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।

(ঘ) সম্পদের বহির্গমন কাকে বলে ?

উত্তরঃ পলাশীর যুদ্ধ জয়ের পর ব্রিটিশ কোম্পানি ভারতের সম্পদকে ব্রিটেনের স্বার্থে ব্যবহার করতে শুরু করে। ভারত থেকে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ কোম্পানি ব্রিটেনে চালান করে। উপনিবেশিক ভারতের সম্পদ ব্রিটেনে চালান হওয়াকে সম্পদের বহির্গমন বলে।

(ঙ) অবশিল্পায়ন বলতে কী বোঝো ?

উত্তরঃ বৈষম্যমূলক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়ে ধীরে ধীরে ভারতে দেশীয় শিল্পগুলি ধ্বংস হতে থাকে। ভারতীয় দেশীয় শিল্পের অবলুপ্তির এই প্রক্রিয়াকে অবশিল্পায়ন বলে। বিভিন্ন শিল্প বিশেষত সুতিবস্ত্র শিল্পে নিযুক্ত বিভিন্ন ধরনের মানুষ অবশিল্পায়নের ফলে জীবিকা হীন হয়ে পড়েন।

৪। নিজের ভাষায় লেখো (১২০-১৬০টি শব্দ) :

(ক) বাংলার কৃষক সমাজের উপর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাব কেমন ছিল বলে তোমার মনে হয় ?

উত্তরঃ সূচনা: কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় রাজস্ব আদায়ের জন্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাব / ফলাফল—

(১) জমিদারদের সমৃদ্ধি : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাবে জমিদারদের সমৃদ্ধি বাড়ে, কৃষকরা জমিদারের অনুগ্রহ নির্ভর হয়ে পড়েন।

(২) কৃষকদের অবস্থার অবনতি : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে কৃষকের অবস্থার কোন উন্নতি ঘটেনি। উঁচু হারের রাজস্ব নেওয়া হলে কৃষকের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপে। তাছাড়া প্রায়ই নানা ধরনের বেআইনি কর নেওয়া হলে কৃষকদের অবস্থা আরো খারাপ হয়। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে কৃষকের স্তত্বকে খারিজ করে তাকে কৃষিশ্রমিক বা ভাগচাষীতে পরিণত করা হয়। ফলে নানা দিক থেকে চাপে পড়ে কৃষকের অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে।

(৩) জমিদারের জমি নিলাম : জমির অধিকার জমিদারের দখলে থাকলেও বাস্তবে সমস্ত জমির চূড়ান্ত মালিকানা ছিল কোম্পানির হাতে। নির্দিষ্ট দিনে সূর্য ডোবার আগে প্রাপ্ত রাজস্ব কোম্পানিকে জমা দিতে না পারলে জমিদারদের জমি নিলামে উঠতো। অনেক সময় জমিদারের সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে কোম্পানি তার প্রাপ্য রাজস্ব বুঝে নিত।

(৪) কোম্পানির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় সমাজ ও অর্থনীতিতে কোম্পানির কর্তৃত্ব দৃঢ় হয়েছিল।

(খ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সঙ্গে রায়তওয়ারি ও মহলওয়ারি বন্দোবস্তগুলির তুলনামূলক আলোচনা করো। তিনটির মধ্যে কোনটি কৃষকদের জন্য কম ক্ষতিকারক বলে তোমার মনে হয় ? যুক্তি দিয়ে লেখো।

উত্তরঃ ১৭৯৩ সালে কোম্পানি দশশালা ব্যবস্থাকে চিরস্থায়ী ব্যবস্থা বলে ঘোষণা করে। এর ফলে জমিদারদের কাছ থেকে সরকার তাদের প্রাপ্যগুলি সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়। করের হার চড়া হয়েছিল। কর দিতে না পারলে জমিদারগণ চাষিকে যে কোনো সময় উচ্ছেদ করতে পারত। জমির উপর চাষিদের কোনো অধিকার ছিল না। অন্যদিকে, মহলওয়ারি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রেও রাজস্ব আদায়ের জন্য ঔপনিবেশিক সরকার মহলের জমিদার বা প্রধানের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। অবশ্য চুক্তির সঙ্গে গোটা গ্রাম সমাজকে ধরা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকদের সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি। উঁচু হারে রাজস্ব দিতে না পারলে তা মেটাতে গিয়ে কৃষকদের ধার করতে হতো। ধার শোধ করতে না পারলে অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হতো কৃষকদের। জমিগুলি মহাজন ও ব্যবসায়ীদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেখানে রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত চালু হয়। এই বন্দোবস্তের শর্ত ছিল ঠিক সময়ে রায়তকে ভূমি-রাজস্ব জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাজস্বের পরিমাণ সংশোধন করা হতো। জমিতে কৃষকদের কোনও অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়নি। কৃষকরা আসলে ঔপনিবেশিক শাসনের ভাড়াটে চাষি হিসাবে জমিতে চাষের অধিকার পেয়েছিল। মোট উৎপাদনের ৪৫-৫৫ শতাংশ খাজনা হিসাবে নেওয়া হতো। প্রাকৃতিক দুর্যোগেও খাজনা কমত না।

(গ) কৃষির বাণিজ্যিকীকরণের সঙ্গে কৃষক-অসন্তোষ ও বিদ্রোহের কী সরাসরি সম্পর্ক ছিল ? সেই নিরিখে ‘দাক্ষিণাত্যের হাঙ্গামা’কে তুমি কীভাবে বিচার করবে ?

উত্তরঃ কৃষির বাণিজ্যিকীকরণের সঙ্গে কৃষক অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সরাসরি সম্পর্ক ছিলএকথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে কোম্পানি ধান, গম ইত্যাদির পরিবর্তে বাণিজ্যের কাজে প্রয়াজেনীয় কৃষিজ ফসল চা, নীল, পাট, তুলা ইত্যাদি ফসল চাষ করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। কৃষকদের প্রথমে ওই সমস্ত ফসল চাষ করার জন্য রাজি করানারে চেষ্টা করা হত। যদি রাজি না হত তখন একরকম জোর করেই প্রয়াজেনে অগ্রিম টাকা বা দাদন দিয়ে চাষ করতে বাধ্য করা হত। বিশেষ করে পূর্ব ভারতে নীলচাষকে কেন্দ্র করে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। নীলচাষের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কোম্পানি প্রত্যক্ষ উদ্যোগ নিয়েছিল ইংল্যান্ডের কাপড়কলে নীলের চাহিদার কথা মাথায় রেখে। তা ছাড়া একসাথে অনেক দিন ধরে নীল চাষ করার জন্য দমন-পীড়ন শুরু হলে বাংলায় নীল বিদ্রোহ হয়েছিল।

কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ এবং কৃষক অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সরাসরি সম্পর্কের নিরিখে বিচার করে দাক্ষিণাত্যের হাঙ্গামাকে কোনাক্রেমেই অযৌক্তিক বলা যায় না। কৃষির বাণিজ্যিকীকরণের নেতিবাচক ফল ছিল দাক্ষিণাত্যের হাঙ্গামা। উনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ভাগে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের প্রভাবেই কার্পাস তুলারে চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল।

তার ফলে কাপস তুলারে চাষও বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু গৃহযুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর দাক্ষিণাত্যের তুলার দাম অনেক কমে গিয়েছিল। চড়া হারে রাজস্বের ভার থাকায় এবং খরা ও অজন্মার ফলে কৃষকরা চরম দুর্দশার মুখে পড়েছিল। এইরূপ দুর্দশার সময় স্থানীয় সাহুকার মহাজনেরা কৃষকদের ঋণ দেওয়া শুরু করেছিল ও উৎপন্ন ফসলের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছিল। এর বিরুদ্ধে দাক্ষিণাত্যের তুলা চাষিরা বিদ্রোহী হয়ে সাহুকার মহাজনদের ওপর আক্রমণ করে, তাদের দখলে থাকা কাগজপত্রগুলি পুড়িয়ে দেয়।

(ঘ) বাংলার বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে কোম্পানির বাণিজ্যনীতির কী ধরনের সম্পর্ক ছিল ? কেন দেশীয় ব্যাংক ও বিমা কোম্পানি তৈরি করে ভারতীয়রা ?

উত্তরঃ বাংলার সুতিবস্ত্র শিল্প এক সময় বিশ্ববাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যনীতি এই শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। ব্রিটিশ বস্ত্র উৎপাদকরা ভারতীয় কাপড়ের রপ্তানি বন্ধে চাপ সৃষ্টি করলে ১৭২০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনে ভারতীয় সুতিবস্ত্র ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং আমদানির ওপর চড়া শুল্ক বসানো হয়।

পলাশির যুদ্ধের পর কোম্পানি বাংলার রাজস্ব লুঠ করে ভারতের দ্রব্য রপ্তানিতে ব্যবহার করতে থাকে। দেশীয় বণিকদের শুল্ক দিয়ে ব্যবসা করতে হলেও কোম্পানি ছিল শুল্কমুক্ত। ফলে তাঁতিরা বাধ্য হয়ে কম মজুরিতে কোম্পানির জন্য কাজ করতেন এবং সস্তায় কাপড় বিক্রি করতেন। তারা কাঁচা সুতো কিনতেন বেশি দামে, আর কাপড় বিক্রি করতেন কম দামে। এর ফলে বাংলার বস্ত্রশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অন্যদিকে, ঔপনিবেশিক প্রশাসন ব্যাংক ও বিমা ক্ষেত্রে শুধু বিদেশি পুঁজিপতিদের সুবিধা দিত, যার ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রেই ঋণ বা আর্থিক সহায়তা পেতেন না। এই বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে ভারতীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নিজেরাই দেশীয় ব্যাংক ও বিমা সংস্থা গড়ে তোলেন, যেমন— পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (১৯২০-র দশক), ইন্ডিয়ান মার্চেন্টস চেম্বার, ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান।

এইসব প্রতিষ্ঠান একদিকে আর্থিক আত্মনির্ভরতা গড়ে তোলে, অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী ভাবনার বিকাশেও সাহায্য করে।

(ঙ) ভারতে কোম্পানি শাসন বিস্তারের প্রেক্ষিতে রেলপথ ও টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার বিকাশের তুলনামূলক আলাচেনা করো।

উত্তরঃ ভারতে কোম্পানির শাসন বিস্তারের সঙ্গে রেলপথ ও টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার বিকাশ ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। এই দুই প্রযুক্তির প্রসার শাসনের গতি ও পরিসর বাড়িয়ে দেয়। লর্ড ডালহৌসির আমলে ১৮৫৩ সালে প্রথম রেলপথ নির্মাণ শুরু হয়। এর মাধ্যমে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে সেনাবাহিনী দ্রুত পাঠানো সম্ভব হয়। পাশাপাশি ঘাঁটি, বন্দর ও কাঁচামাল উৎপাদনের স্থানগুলিকে সংযুক্ত করে ভারতের বাজারকে ব্রিটিশ পণ্যের উপযোগী করে তোলা হয়।

রেলপথের সাথে সাথে টেলিগ্রাফ ব্যবস্থারও বিকাশ ঘটে। রেল লাইনের বরাবর টেলিগ্রাফ লাইন বসানো হয়, যার ফলে স্টেশনগুলোর মধ্যে দ্রুত বার্তা আদান-প্রদান ও রেলের সিগন্যাল ব্যবস্থায় সুবিধা হয়। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ দমনে টেলিগ্রাফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিভিন্ন স্থানের বিদ্রোহের খবর দ্রুত প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। এমনকি দ্বিতীয় ইঙ্গ-বার্মা যুদ্ধেও লর্ড ডালহৌসি টেলিগ্রাফ মারফত রেঙ্গুন বিজয়ের খবর পান।

১৮৭০-এর মধ্যে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে টেলিগ্রাফ যোগাযোগ স্থাপিত হয়। সুতরাং, কোম্পানির শাসন বিস্তারে রেল ও টেলিগ্রাফ উভয় ব্যবস্থাই একে অপরের পরিপূরক ছিল এবং ব্রিটিশ স্বার্থরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ছিল।

📌 আরো দেখুনঃ

📌 অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ

📌 অষ্টম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 অষ্টম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply

  • Post comments:0 Comments
  • Reading time:8 mins read