2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 10 (X) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER
Class 10 Bengali 2nd Unit Test Question Paper Set-4 | দশম শ্রেণি বাংলা দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন সেট-৪
📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় প্রশ্নপত্র Click Here
Set-4
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
দশম শ্রেণি
বিষয় : বাংলা
পূর্ণমান : ৪০ সময় : ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নাও : ১×৭=৭
১.১ যার লিচু বাগানে হরিদা পুলিশ সেজে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি হলেন–
(ক) কুণালবাবু (খ) দীনেশ বাবু
(গ) দয়ালবাবু (ঘ) বিনয় বাবু
১.২ মেঘনাদ শত্রুপক্ষকে কোন্ অস্ত্রে ঘায়েল করতে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন ?
(ক) ক্ষেপণাস্ত্র (খ) গদা (গ) বায়ু অস্ত্র (ঘ) চক্র
১.৩ ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!’ – বাক্যটি প্রলয়োল্লাস কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে–
(ক) ১৬ বার (খ) ২৯ বার (গ) ১৮ বার (ঘ) ১৯ বার
১.৪ গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁক থেকে গন্ডা ছয়েক পয়সার সঙ্গে বেরোল–
(ক) একটি টাকা (খ) দুটি টাকা
(গ) তিনটি টাকা (ঘ) দশটি টাকা
১.৫ ‘প্রতিদিন’ শব্দের সমাসটি গড়ে উঠেছে–
(ক) সাদৃশ্য অর্থে (খ) সামীপ্য অর্থে
(গ) বীপ্সা অর্থে (ঘ) পশ্চাৎ অর্থে
১.৬ পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়–
(ক) দ্বিগু ও দ্বন্দ্ব সমাসে
(খ) কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাসে
(গ) দ্বিগু ও তৎপুরুষ সমাসে
(ঘ) দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব সমাসে
১.৭ হরিদার শরীরটা দেখে মনে হয়েছিল –
(ক) অশরীরী (খ) মহাপুরুষ (গ) অতি মানব (ঘ) কোনোটিই নয়
২. কমবেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো : ১×৮=৮
২.১ “সন্নাসী হাসলেন আর চলে গেলেন।”– সন্ন্যাসী কী দেখে হাসলেন আর চলে গেলেন ?
২.২ “কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে”– কোন্ প্রসঙ্গে বক্তা এমন উক্তি করেছেন ?
২.৩ “হায়, বিধি বাম মম প্রতি”-বক্তার এরুপ মনে হওয়ার কারণ কী ?
২.৪ “ওই আসে সুন্দর।”—সুন্দর কেমন ভাবে আসে ?
২.৫ ‘তেমাথা’ দ্বিগু সমাসের উদাহরণ, অথচ ‘দশানন’ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কেন ?
২.৬ একশেষ দ্বন্দ্ব কাকে বলে ? উদাহরণ-সহ বুঝিয়ে দাও।
২.৭ ‘মাতৃদেবী’ ও ‘গৌরাঙ্গ’ শব্দ দুটির ব্যাসবাক্য-সহ সমাস লেখো।
২.৮ উপমান ও উপমিত কর্মধারয় সমাসের একটি পার্থক্য লেখো।
৩. কমবেশি ৬০টি শব্দে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৩×২=৬
৩.১ “তোরা সব জয়ধ্বনি কর, বধূরা প্রদীপ তুলে ধর”–কবি কাদের জয়ধ্বনি করার কথা বলেছেন ? বধূদের প্রদীপ তুলে ধরার অর্থ কী ? ১+২
৩.২ “যাকে খুঁজছেন সে যে এ নয়, তার আমি জামিন হতে পারি”—কাকে খোঁজবার কথা বলা হয়েছে ? বক্তা কীভাবে এতখানি সুনিশ্চিত হলেন ? ১+২
৩.৩ “সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ বীরআভরণে” — বীরের সাজ কেমন ছিল বর্ণনা করো। ৩
৪. কমবেশি ১৫০টি শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১=৫
৪.১ “আসছে নবীন জীবনহারা অসুন্দর করতে ছেদন”—“জীবনহারা অসুন্দর’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন ? নবীনদের কাছে কবি কীরূপ প্রত্যাশা করেছেন তা কবিতা অবলম্বনে লেখো। (৩+২)
৪.২ ‘পথের দাবী’ রচনাংশে অপূর্ব ভারতীয় হওয়ার কারণে কীভাবে অপমানিত হয়েছিলেন তা কাহিনি অবলম্বনে লেখো। প্রসঙ্গক্রমে তাঁর স্বদেশপ্রেমের দিকটি কীভাবে প্রকাশ পায় তা সংক্ষেপে লেখো। (২+৩)
৫. কমবেশি ১২৫টি শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৪×১=৪
৫.১ ‘সিরাজদৌল্লা’ নাট্যাংশ অবলম্বনে ঘসেটি বেগম চরিত্রটি আলোচনা করো।
৫.২ সিরাজ ও লুৎফা বেগমের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে সিরাজের পতনের যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় তা লেখো।
৬. কমবেশি ১৫০টি শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১=৫
৬.১ “বিষ্টুধর চমকে উঠল”—বিষ্টু ধরের পরিচয় দাও। তার চমকে ওঠার কারণ উল্লেখ করো। ১+৪
৬.২ “এরপর ক্ষিতীশ লক্ষ করল কোনি জল থেকে উঠতে দেরি করছে।”—প্রসঙ্গ উল্লেখ করো। উক্ত অংশে কোনির মানসিকতার পরিচয় দাও। ২+৩
৭. কমবেশি ১৫০টি শব্দে একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো : ৫×১=৫
৭.১ অসহনীয় দ্রারিদ্রকে জয় করে একজন ছাত্রী মাধ্যমিক সাফল্য পেয়েছে। তার সংগ্রাম বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
৭.২ তোমাদের বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হল।
ANSWER KEY (উত্তরপত্র)
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নাও : ১×৭=৭
১.১ উত্তরঃ (গ) দয়ালবাবু, ১.২ উত্তরঃ (গ) বায়ু অস্ত্র, ১.৩ উত্তরঃ (গ) ১৮ বার, ১.৪ উত্তরঃ (ক) একটি টাকা, ১.৫ উত্তরঃ (গ) বীপ্সা অর্থে, ১.৬ উত্তরঃ (ঘ) দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব সমাসে, ১.৭ উত্তরঃ (ক) অশরীরী।
২. কমবেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো : ১×৮=৮
২.১ “সন্নাসী হাসলেন আর চলে গেলেন।”– সন্ন্যাসী কী দেখে হাসলেন আর চলে গেলেন ?
উত্তরঃ সন্ন্যাসী জগদীশবাবুর হাতে একশো এক টাকার থলিটা দেখে হাসলেন আর চলে গেলেন।
২.২ “কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে”– কোন্ প্রসঙ্গে বক্তা এমন উক্তি করেছেন ?
উত্তরঃ বক্তা রেঙ্গুন পুলিশের বড়োকর্তা নিমাইবাবু গিরিশ মহাপাত্রের পোশাক বা বেশভূষার বাহার প্রসঙ্গে উক্তিটি করেছেন।
২.৩ “হায়, বিধি বাম মম প্রতি”-বক্তার এরুপ মনে হওয়ার কারণ কী ?
উত্তরঃ পাঠ্য অভিষেক কবিতায় বক্তা রাক্ষস রাজ রাবণ। বীর বাহুর মৃত্যু এবং ইন্দ্রজিতের হাতে মৃত রামের পুনর্জীবন লাভ প্রভৃতি অদ্ভুত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উপলব্ধি হয়েছিল যে ঈশ্বর তাঁর প্রতি বিরূপ হয়েছেন।
২.৪ “ওই আসে সুন্দর।”—সুন্দর কেমন ভাবে আসে ?
উত্তরঃ প্রলয়োল্লাস কবিতা অনুসারে ‘সুন্দর’, ‘কাল ভয়ংকরের বেশে’ অর্থাৎ রুদ্ররূপী প্রলয়ের রূপ ধরে আসে।
২.৫ ‘তেমাথা’ দ্বিগু সমাসের উদাহরণ, অথচ ‘দশানন’ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কেন ?
উত্তরঃ দ্বিগু ও সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের পার্থক্য নির্ণয় করার জন্য আমাদের সমস্তপদের অর্থটি খেয়াল করতে হবে। দ্বিগু সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান হয়, অপরদিকে বহুব্রীহি সমাসে অন্য পদের অর্থ প্রাধান্য পায়। উদ্ধৃত প্রশ্নে ‘তেমাথা’ বললে তিন মাথার সমাহার বোঝায়। এখানে মাথা’র অর্থই প্রধান। কিন্তু ‘দশানন’ বললে দশ আনন যাঁর, অর্থাৎ রাবণকে বোঝায়।
২.৬ একশেষ দ্বন্দ্ব কাকে বলে ? উদাহরণ-সহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তরঃ যে দ্বন্দ্ব সমাসের সমস্তপদটি একটিমাত্র সমস্যমান পদের বহুবচনের রূপের সাহায্যে গঠিত হয়, তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে। যেমন: আমি, তুমি ও সে = আমরা, তুমি ও সে = তোমরা ইত্যাদি।
২.৭ ‘মাতৃদেবী’ ও ‘গৌরাঙ্গ’ শব্দ দুটির ব্যাসবাক্য-সহ সমাস লেখো।
উত্তরঃ
» মাতৃদেবী = যিনি মাতৃ তিনি দেবী – সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
» ‘গৌরাঙ্গ’ = গৌর অঙ্গ যার – সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
২.৮. উপমান ও উপমিত কর্মধারয় সমাসের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তরঃ উপমান কর্মধারয় সমাসে উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক শব্দের সমাস হয়। অন্যদিকে উপমিত কর্মধারয় সমাসে উপমান পদের সঙ্গে উপমেয় পদের সমাস হয়।
৩. কমবেশি ৬০টি শব্দে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৩×২=৬
৩.১ “তোরা সব জয়ধ্বনি কর, বধূরা প্রদীপ তুলে ধর”–কবি কাদের জয়ধ্বনি করার কথা বলেছেন ? বধূদের প্রদীপ তুলে ধরার অর্থ কী ? ১+২
উত্তরঃ কাদের জয়ধ্বনি: কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি পরাধীন ভারতবর্ষের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে তথা আপামর দেশবাসীকে রুদ্ররূপী কালভৈরব বা বিপ্লবী যুবসমাজের আগমন উপলক্ষে জয়ধ্বনি করার কথা বলেছেন।
প্রদীপ তুলে ধরার অর্থ: সনাতন ভারতীয় সংস্কৃতিতে যেকোনো শুভ কাজের শুরুতে বা নতুন কোনো মঙ্গলময় শক্তির আবাহনে বধূরা প্রদীপ জ্বালিয়ে বরণ করে নেয়। এখানে ‘বধূদের প্রদীপ তুলে ধরা’ বলতে কবি বুঝিয়েছেন যে, বিপ্লবী যুবসমাজ যে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে তা অমঙ্গলজনক নয়, বরং তা পরাধীনতার অন্ধকার দূর করে স্বাধীনতার এক নতুন ও সুন্দর সকাল আনবে। তাই সেই পরম পবিত্র ও মঙ্গলময় সৃষ্টিশীল ধ্বংসকে বরণ করে নেওয়ার জন্যই প্রদীপ তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।
৩.২ “যাকে খুঁজছেন সে যে এ নয়, তার আমি জামিন হতে পারি”—কাকে খোঁজবার কথা বলা হয়েছে ? বক্তা কীভাবে এতখানি সুনিশ্চিত হলেন ? ১+২
উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশে পলিটিক্যাল সাসপেক্ট গিরীশ মহাপাত্রকে খোঁজার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শী এবং বিলেতফেরত ডাক্তার সব্যসাচী মল্লিকের সঙ্গে নেবুর তেলের গন্ধবিলাসী গিরীশ মহাপাত্রের সত্যিই কোনো মিল ছিল না। এইজন্য অপূর্ব নিশ্চিতভাবে বলেছিল যেপুলিশ যাকে খুঁজছিল সেই ব্যক্তি গিরীশ মহাপাত্র নয়।
৩.৩ “সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ বীরআভরণে” — বীরের সাজ কেমন ছিল বর্ণনা করো। ৩
উত্তরঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে ‘রথীন্দ্রর্ষভ’ বা রথীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মেঘনাদ তাঁর প্রিয় কনিষ্ঠ ভাই বীরবাহুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধযাত্রার উদ্দেশ্যে বীরের সাজে সেজে ওঠেন।
মেঘনাদের এই রণসজ্জা ছিল অত্যন্ত মহিমান্বিত ও ভয়ঙ্কর, যাকে কবি তারকাসুর বধের আগে মহাবলী কার্তিকেয় অথবা গোধন উদ্ধারের আগে অর্জুনের শঙ্খধ্বনির রণরূপের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বীর মেঘনাদের মেঘবর্ণ রথের চাকা থেকে বিদ্যুতের গতি বের হচ্ছিল, তাতে ক্ষিপ্র ঘোড়া জোড়া হলো এবং রথের মাথায় বীরত্বের প্রতীক মহাধ্বজ বা পতাকা উড়তে লাগল। এই বীরের সাজে সেজে তিনি লঙ্কাপুরী কাঁপিয়ে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
৪. কমবেশি ১৫০টি শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১=৫
৪.১ “আসছে নবীন জীবনহারা অসুন্দর করতে ছেদন”— “জীবনহারা অসুন্দর’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন ? নবীনদের কাছে কবি কীরূপ প্রত্যাশা করেছেন তা কবিতা অবলম্বনে লেখো। (৩+২)
উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘জীবনহারা অ-সুন্দর’ বলতে পরাধীন ভারতবর্ষের বুকে গেড়ে বসা ব্রিটিশ রাজশক্তি, সমাজব্যবস্থার স্থবিরতা, কুসংস্কার এবং জড়তাকে বোঝানো হয়েছে। যা কিছু সমাজকে মৃতপ্রায় করে রাখে, মানুষের প্রাণশক্তিকে শ্বাসরোধ করে এবং ন্যায়ের পথকে অবরুদ্ধ করে, কবি তাকেই প্রাণহীন ও ‘অ-সুন্দর’ বলে অভিহিত করেছেন।
নবীনদের কাছে কবির প্রত্যাশা: কবি নজরুল নবীন তথা বিপ্লবী যুবসমাজকে মহাকালের রুদ্ররূপী শিব বা কালভৈরব রূপে প্রত্যাশা করেছেন। কবিতা অনুযায়ী, এই নবীনরা আসবে ঝোড়ো গতিতে, যাদের চুলে থাকবে ধোঁয়াটে আগুন এবং জটায় থাকবে বিদ্যুতের তীব্র আলো। তারা চিরকালের সুন্দর এবং সত্যের দূত। কবি বিশ্বাস করেন, এই তরুণেরা তাদের প্রলয়ংকরী উল্লাস ও অট্টহাসির মাধ্যমে পরাধীনতার সমস্ত শৃঙ্খল ভেঙে চুরমার করে দেবে। তারা মৃতপ্রায় জগতকে ধ্বংস করে এক নতুন, প্রাণবন্ত এবং স্বাধীন সকাল উপহার দেবে। অর্থাৎ, ধ্বংসের মধ্য দিয়েই তারা নব সৃষ্টির বার্তা বয়ে আনবে।
৪.২ ‘পথের দাবী’ রচনাংশে অপূর্ব ভারতীয় হওয়ার কারণে কীভাবে অপমানিত হয়েছিলেন তা কাহিনি অবলম্বনে লেখো। প্রসঙ্গক্রমে তাঁর স্বদেশপ্রেমের দিকটি কীভাবে প্রকাশ পায় তা সংক্ষেপে লেখো। (২+৩)
উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশে অপূর্ব প্রথম শ্রেণীর যাত্রী হওয়া সত্ত্বেও কেবল ‘কালো আদমি’ বা ভারতীয় হওয়ার অপরাধে কয়েকজন ফিরিঙ্গি (ইংরেজ) যুবকের হাতে নির্মমভাবে লাঞ্ছিত হয়। তারা তাকে বিনা কারণে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়, লাথি মেরে প্ল্যাটফর্মে ফেলে দেয় এবং তার জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলে। অপূর্ব এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় স্টেশন মাস্টারের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে, সে কোনো বিচার তো করেইনি, উল্টে অপূর্বকে সাহেবদের কামরা থেকে অত্যন্ত অপমানজনকভাবে তাড়িয়ে দেয়।
স্বদেশপ্রেমের প্রকাশ: এই চরম অপমানের ঘটনাটি অপূর্বর ভেতরের ঘুমন্ত স্বদেশপ্রেমকে জাগিয়ে তোলে। রামদাসের সামনে তার ক্ষোভ প্রকাশ পায় যখন সে বলে যে, এই অন্যায়ের চেয়েও বেশি তাকে ব্যথিত করেছে স্টেশনের বাকি ভারতীয়দের জড়তা ও নীরবতা। অপূর্ব স্পষ্ট ভাষায় জানায়, নিজের দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিদেশি সাহেবদের এই অত্যাচার সে কোনোদিন ভুলবে না। সাহেবের লাথি খেয়েও তার নিজের মঙ্গলের চেয়ে দেশের এই পরাধীন লাঞ্ছনা তাকে বেশি দগ্ধ করেছে। নিজের আত্মমর্যাদাকে দেশের মর্যাদার সাথে এক করে দেখার এই মানসিকতাই অপূর্বর গভীর ও নিঃস্বার্থ স্বদেশপ্রেমকে ফুটিয়ে তোলে।
৫. কমবেশি ১২৫টি শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৪×১=৪
৫.১ ‘সিরাজদৌল্লা’ নাট্যাংশ অবলম্বনে ঘসেটি বেগম চরিত্রটি আলোচনা করো।
উত্তরঃ শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাট্যাংশে ঘসেটি বেগম এক অত্যন্ত কুটিল, প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং ট্র্যাজিক খলচরিত্র। আলিবর্দি খাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যা ও সিরাজের মাসি হওয়া সত্ত্বেও, সিরাজের সিংহাসন লাভ তিনি মেনে নিতে পারেননি। তাঁর পালিত পুত্র শওকত জং-এর মৃত্যুর পর সিরাজের প্রতি তাঁর ক্ষোভ ও ঈর্ষা চরম রূপ ধারণ করে।
রাজনীতি থেকে নির্বাসিত ঘসেটি নিজের সমস্ত ঐশ্বর্য ও ক্ষমতা হারিয়ে কেবল প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিলেন। তিনি প্রকাশ্য দরবারেই সিরাজের ধ্বংস কামনা করে বলেন যে, তাঁর একমাত্র সুখ হলো সিরাজের পতন দেখা। মীরজাফর ও ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি বাংলার স্বাধীনতার সওদা করতেও দ্বিধা করেননি। এক অন্ধ প্রতিহিংসা কীভাবে এক রাজপরিবারের নারীকে পরম শত্রুতে পরিণত করতে পারে, ঘসেটি বেগম তাঁরই এক জীবন্ত প্রতীক।
৫.২ সিরাজ ও লুৎফা বেগমের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে সিরাজের পতনের যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় তা লেখো।
উত্তরঃ নাট্যাংশে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং তাঁর সহধর্মিণী লুৎফুন্নিসার (লুৎফা) মধ্যের সংক্ষিপ্ত ও আবেগঘন কথোপকথনটি বাংলার আসন্ন ও অনিবার্য পতনের এক করুণ পূর্বাভাস।
সিরাজ তাঁর অন্তরের ক্লান্তি ও অসহায়তা লুৎফার কাছে ব্যক্ত করেন। তিনি জানান যে, চারপাশের বিশ্বস্ত মানুষদের চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং প্রতিনিয়ত চলতে থাকা চক্রান্তের কারণে তিনি অত্যন্ত একাকী ও অবসন্ন। লুৎফা যখন তাঁকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার প্রেরণা দেন, তখন সিরাজ আক্ষেপ করে বলেন যে, মানুষের ওপর থেকে তাঁর বিশ্বাস পুরোপুরি উঠে গেছে। সিরাজের মুখে “বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা” এবং পলাশী প্রান্তরকে “রাক্ষসী পলাশি” বলে সম্বোধন করার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, যুদ্ধের আগেই নবাব মানসিকভাবে নিজের পরাজয় ও বাংলার পরাধীনতার নির্মম ভবিষ্যৎকে তীব্রভাবে উপলব্ধি করেছিলেন।
৬. কমবেশি ১৫০টি শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১=৫
৬.১ “বিষ্টুধর চমকে উঠল”—বিষ্টু ধরের পরিচয় দাও। তার চমকে ওঠার কারণ উল্লেখ করো। (১+৪)
উত্তরঃ মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে বিষ্টু চরণ ধর (বিষ্টুধর) হলেন কলকাতার একজন ধনী ব্যবসায়ী, সাড়ে সাঁত্রাগাছির একটি ক্লাবের সভাপতি এবং আসন্ন নির্বাচনের এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজনৈতিক প্রার্থী।
চমকে ওঠার কারণ: পাড়ায় রকে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় ক্ষিতীশ সিংহ হঠাৎ বিষ্টুধরের কাছে এসে তাঁর শরীরচর্চা ও সাঁতার শেখার জন্য উপযুক্ত এক প্রশিক্ষক বা কোচের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ক্ষিতীশ তাঁর চেনা জুপিটার ক্লাব ছেড়ে চলে এসেছেন জেনে বিষ্টুধর তাঁকে নিজের ক্লাবের ট্রেনার হওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু এর পরেই ক্ষিতীশ নিজের পারিশ্রমিক বা মাইনে হিসেবে মাসে চারশো টাকা দাবি করে বসেন। একজন সাধারণ সাঁতারের কোচের মুখে সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এত বিপুল অঙ্কের টাকার দাবি শুনবেন— এটা বিষ্টুধর ভাবতেও পারেননি। ক্ষিতীশের এই অবিশ্বাস্য ও চড়া পারিশ্রমিকের কথা শুনেই বিষ্টুধর চরম বিস্ময়ে চমকে উঠেছিলেন।
৬.২ “এরপর ক্ষিতীশ লক্ষ করল কোনি জল থেকে উঠতে দেরি করছে।”—প্রসঙ্গ উল্লেখ করো। উক্ত অংশে কোনির মানসিকতার পরিচয় দাও। (২+৩)
উত্তরঃ
প্রসঙ্গ নির্দেশ: জুপিটার ক্লাবের চক্রান্তে মাদ্রাজ (চেন্নাই) জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতার মূল দল থেকে বাদ পড়ে কোনি চরম অপমানে একা ঘরে কাঁদছিল। ঠিক সেই সময় তার কোচ ক্ষিতীশ সিংহ হুট করে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে সান্ত্বনা দেন এবং তীব্র ভাষায় উদ্দীপিত করেন। ক্ষিতীশের এই জাদুকরী অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কোনি যখন অনুশীলনের জন্য পুলে নামে, তখন ক্ষিতীশ লক্ষ্য করেন যে সে জল থেকে উঠতে দেরি করছে।
কোনির মানসিকতার পরিচয়: এই অংশটিতে কোনির ইস্পাতকঠিন জেদ, কঠোর মানসিকতা এবং অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার তীব্র আকুলতা প্রকাশ পায়। কর্মকর্তাদের নোংরা রাজনীতি তাকে সাময়িকভাবে ভেঙে ফেললেও, ক্ষিতীশের ‘চিঁড়িয়া’ বা জেদ জাগানোর মন্ত্র তার মনের সব দুর্বলতা ধুয়ে সাফ করে দেয়। কোনি বুঝতে পেরেছিল যে, মুখের কথায় নয়, বরং জলের বুকেই তাকে এই চরম অপমানের যোগ্য জবাব দিতে হবে। নিজের সর্বস্ব উজাড় করে অনুশীলনে ডুবে যাওয়া এবং জলের প্রতি এক অন্যরকম গভীর একাত্মতাই তার এই দেরিতে জল থেকে ওঠার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।
৭. কমবেশি ১৫০টি শব্দে একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো : ৫×১=৫
৭.১ অসহনীয় দ্রারিদ্রকে জয় করে একজন ছাত্রী মাধ্যমিক সাফল্য পেয়েছে। তার সংগ্রাম বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
অসহনীয় দারিদ্র্যকে জয় করে মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় স্থান পেল প্রান্তিক ঘরের কন্যা
নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার, ৩রা মার্চ, ২০২৬: সদ্য প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিকের ফলাফল। অভাবের অন্ধকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবারের মেধা তালিকায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠে এসেছে অনন্যা দাস। প্রত্যন্ত খয়রাশোল গ্রামের এক নিতান্তই দিনমজুর পরিবারের এই কন্যা ৬৭০ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান অধিকার করেছে।
অনন্যার এই সাফল্যের পথটা কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। সংসারে নিত্যদিনের অনটন, নুন আনতে পান্তা ফুরনোর দশা। দুবেলা দুমুঠো ভাতের জোগাড় করতেই যেখানে অনন্যার বাবাকে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো ছিল আকাশকুসুম কল্পনা। অনন্যা জানায়, অনেক দিন এমনও গেছে যখন খিদের পেটে স্রেফ জল খেয়ে তাকে লণ্ঠনের আলোয় পড়তে হয়েছে। গৃহশিক্ষক রাখার সামর্থ্য ছিল না, কিন্তু স্কুলের শিক্ষকদের অকুণ্ঠ সাহায্য এবং নিজের ইস্পাতকঠিন জেদই তাকে আজ এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।
ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে গ্রামের দরিদ্র মানুষের সেবা করতে চায় অনন্যা। তবে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার বিপুল খরচ কীভাবে আসবে, সেই চিন্তায় অনন্যার বাবা-মায়ের চোখে আজ আনন্দের পাশাপাশি উদ্বেগের জল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, “অনন্যা আমাদের স্কুলের গর্ব। ওর উচ্চশিক্ষার জন্য আমরা সবরকম চেষ্টা করব।” অনন্যার এই লড়াই প্রমাণ করে দিল— প্রবল ইচ্ছা আর পরিশ্রমের কাছে দারিদ্র্যও হার মানতে বাধ্য।
৭.২ তোমাদের বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হল।
‘মোদের গরব, মোদের আশা’: বিদ্যালয়ে মহাসমারোহে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল এবিসি উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হলো। বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিন সকাল সাড়ে সাতটায় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এক বর্ণাঢ্য ‘প্রভাতফেরি’ ও পদযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” গানটি সমগ্র এলাকাকে আবেগঘন করে তোলে। এরপর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে প্রধান শিক্ষক মহাশয় এবং অন্যান্য শিক্ষকেরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন।
মূল মঞ্চের অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জীবনানন্দ দাশের বাংলা ভাষা বিষয়ক কবিতা আবৃত্তি করে। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার গুরুত্ব ও বর্তমান যুগে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে একটি আকর্ষক বিতর্ক সভার আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান শিক্ষক মহাশয় তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ইংরেজি বা অন্য ভাষা শেখার পাশাপাশি আমাদের নিজেদের মাতৃভাষাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে ও সম্মান করতে হবে।” সমগ্র অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মনে দেশাত্মবোধ ও ভাষার প্রতি মমত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
📌 আরো দেখুনঃ
📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় প্রশ্নপত্র Click Here
