Class 9 History 2nd Unit Test Question Paper Set-2 wbbse | নবম শ্রেণি ইতিহাস দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট সেট-২

2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 9 (IX) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER

Set-2

Class 9 History 2nd Unit Test Question Paper Set-2 wbbse | নবম শ্রেণি ইতিহাস দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট সেট-২

📌নবম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সমস্ত বিষয় | Class 9 All Subject Unit Test Question Paper Click Here

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
নবম শ্রেণি   বিষয় : ইতিহাস
সময় : ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট              পূর্ণ মান : ৪০

১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১×৮=৮

(ক) ভিয়েনা সম্মেলন হয়েছিল—
(i) 1812 খ্রিস্টাব্দে (ⅱ) 1815 খ্রিস্টাব্দে
(iii) 1816 খ্রিস্টাব্দে (iv) 1817 খ্রিস্টাব্দে

(খ) ‘ন্যাশনাল গার্ড’ একটি—
(i) সৈন্যবাহিনী (ii) রক্ষীবাহিনী
(iii) সংবাদপত্র (iv) গোষ্ঠী

(গ) ‘কূটনীতির জাদুকর’ বলা হয়—
(i) বিসমার্ককে (ii) মেটারনিখকে
(iii) ক্যাচুরকে (iv) প্রথম উইলিয়ামকে

(ঘ) কোন পন্যকে কেন্দ্র করে প্রথম শিল্পবিপ্লব হয়েছিল ?
(i) লোহা (ⅱ) ইস্পাত (iii) রেলপথ (iv) বস্ত্র

(৪) সেফটি ল্যাম্প আবিষ্কার করেন—
(i) জন কে (ii) গ্রাহাম বেল
(iii) হামফ্রে ডেভি (iv) জেমস ওয়াট

(চ) ইউটোপীয় সমাজতন্ত্রবাদের আদিগুরু ছিলেন—
(i) কার্ল মার্কস (ii) ফ্রেডরিক এঙ্গেলস
(iii) ভি আই লেনিন (iv) সাঁ সিমৌ

(ছ) রাশিয়ার পার্লামেন্টকে বলে—
(i) ডুমা (ii) লোকসভা (iii) ইলদুচে (iv) পার্লামেন্ট

(জ) জাতিসংঘের লিগ পরিষদের স্থায়ী সদস্যের সংখ্যা—
(i) 4 জন (ii) 5 জন (iii) 6 জন (iv) 7 জন

২। নির্দেশ অনুযায়ী নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

২.১ এককথায় উত্তর দাও : ১×৪=৪

(ক) কার শাসনকালে ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লব হয়েছিল ?

(খ) স্পিনিং জেনি কে আবিষ্কার করেন ?

(গ) সুয়েজ খাল খনন কত খ্রিস্টাব্দে শেষ হয় ?

(ঘ) কে ফ্যাসিস্ট দল প্রতিষ্ঠা করেন ?

২.২ ঠিক বা ভুল নির্ধারণ করো : ১×৪=৪

(ক) রাশিয়ার ভূমিদাস প্রথার উচ্ছেদ করেন দ্বিতীয় আলেকজান্ডার।

(খ) 1898 খ্রিস্টাব্দে ভাস্কো-দা-গামা ভারতে আসেন।

(গ) শিল্পবিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ড পরিণত হয় বিশ্বের কারখানায়।

(ঘ) হিটলারের উপাধি ছিল ফুয়েরার।

৩। দু-তিনটি বাক্যে উত্তর লেখো : (যে-কোনো চারটি) : ২×৪=৮

(ক) কার্লসবার্ড ডিক্রি বলতে কী বোঝো ?

(খ) চার প্রধান বলতে কী বোঝো ?

(গ) ত্রিশক্তি মৈত্রী কবে, কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ?

(ঘ) ভারতে প্রথম কবে, কোথায় রেলপথ চালু হয় ?

(ঙ) NEP কথার অর্থ কী ? এটি কে প্রবর্তন করেন ?

(চ) ‘রক্তাক্ত রবিবার’ বলতে কী বোঝো ?

৪। সাত-আটটি বাক্যে উত্তর দাও : (যে-কোনো দুটি) : ৪×২=৮

(ক) 1848 খ্রিস্টাব্দে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের কারণগুলি লেখো।

(খ) প্যারি কমিউন কী ?

(গ) 1929 খ্রিস্টাব্দে মহামন্দার প্রভাব আলোচনা করো।

৫। পনেরো-ষোলোটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো একটি) : ৮×১=৮

(ক) ইটালির ঐক্য আন্দোলনে ক্যাচুর ও গ্যারিবন্ডির অবদান বর্ণনা করো।

(খ) ইংল্যান্ডে প্রথম কেন শিল্পবিপ্লব হয়েছিল লেখো।

(গ) জাতিসংঘ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

—সমস্ত প্রশ্নের উত্তর—

১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো। ১×৮=৮

(ক) ভিয়েনা সম্মেলন হয়েছিল— (ii) 1815 খ্রিস্টাব্দে

(খ) ‘ন্যাশনাল গার্ড’ একটি— (ii) রক্ষীবাহিনী

(গ) ‘কূটনীতির জাদুকর’ বলা হয়— (ii) মেটারনিখকে

(ঘ) কোন পন্যকে কেন্দ্র করে প্রথম শিল্পবিপ্লব হয়েছিল ? (iv) বস্ত্র

(ঙ) সেফটি ল্যাম্প আবিষ্কার করেন— (iii) হামফ্রে ডেভি (নোট: প্রশ্নে ‘৪’ প্রিন্টিং মিস্টেক ছিল, এটি ‘ঙ’ নম্বর প্রশ্ন)

(চ) ইউটোপীয় সমাজতন্ত্রবাদের আদিগুরু ছিলেন— (iv) সাঁ সিমৌ

(ছ) রাশিয়ার পার্লামেন্টকে বলে— (i) ডুমা

(জ) জাতিসংঘের লিগ পরিষদের স্থায়ী সদস্যের সংখ্যা— (i) 4 জন (নোট: প্রতিষ্ঠার সময় ১৯২০ সালে স্থায়ী সদস্য ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জাপান)

২.১ এককথায় উত্তর দাও : ১×৪=৪

(ক) কার শাসনকালে ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লব হয়েছিল ?

উত্তরঃ রাজা দশম চার্লস-এর শাসনকালে (১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে) ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লব হয়েছিল।

(খ) স্পিনিং জেনি কে আবিষ্কার করেন ?

উত্তরঃ ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে জেমস হারগ্রিবস স্পিনিং জেনি আবিষ্কার করেন।

(গ) সুয়েজ খাল খনন কত খ্রিস্টাব্দে শেষ হয় ?

উত্তরঃ ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে সুয়েজ খাল খননের কাজ শেষ হয় এবং তা যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

(ঘ) কে ফ্যাসিস্ট দল প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তরঃ ইতালির একনায়ক বেনিটো মুসোলিনি ফ্যাসিস্ট দল প্রতিষ্ঠা করেন।

২.২ ঠিক বা ভুল নির্ধারণ করো : ১×৪=৪

(ক) রাশিয়ার ভূমিদাস প্রথার উচ্ছেদ করেন দ্বিতীয় আলেকজান্ডার।

উত্তরঃ ঠিক (১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভূমিদাস প্রথার উচ্ছেদ ঘটান)।

(খ) 1898 খ্রিস্টাব্দে ভাস্কো-দা-গামা ভারতে আসেন।

উত্তরঃ ভুল (সঠিক সালটি হলো ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দ)।

(গ) শিল্পবিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ড পরিণত হয় বিশ্বের কারখানায়।

উত্তরঃ ঠিক।

(ঘ) হিটলারের উপাধি ছিল ফুয়েরার।

উত্তরঃ ঠিক।

৩। দু-তিনটি বাক্যে উত্তর লেখো : (যে-কোনো চারটি) : ২×৪=৮

(ক) কার্লসবার্ড ডিক্রি বলতে কী বোঝো ?

উত্তরঃ ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী মেটারনিক জার্মানির ছাত্র আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করার জন্য ‘কার্লসবার্ড ডিক্রি’ বা নির্দেশনামা জারি করেন। এর মাধ্যমে জার্মানির সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র সংগঠনগুলির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হয় এবং প্রগতিশীল সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।

(খ) চার প্রধান বলতে কী বোঝো ?

উত্তরঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে প্যারিসের শান্তি সম্মেলনে বিজয়ী রাষ্ট্র জোটের যে চারজন প্রধান নেতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের একসঙ্গে ‘চার প্রধান’ (Big Four) বলা হয়। এই চারজন নেতা হলেন— আমেরিকার রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড লয়েড জর্জ, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জর্জেস ক্লেমেনসো এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী ভিত্তোরিও অরল্যান্ডো।

(গ) ত্রিশক্তি মৈত্রী কবে, কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ?

উত্তরঃ ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপে ‘ত্রিশক্তি মৈত্রী’ (Triple Alliance) স্বাক্ষরিত হয়। এই সামরিক চুক্তিটি জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এবং ইতালি— এই তিন দেশের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছিল।

(ঘ) ভারতে প্রথম কবে, কোথায় রেলপথ চালু হয় ?

উত্তরঃ ভারতে প্রথম ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই এপ্রিল রেলপথ চালু হয়। ওই দিন বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) থেকে থানে পর্যন্ত ২১ মাইল দীর্ঘ পথে ভারতের প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চলেছিল।

(ঙ) NEP কথার অর্থ কী ? এটি কে প্রবর্তন করেন ?

উত্তরঃ NEP কথার পুরো অর্থ হলো ‘নিউ ইকোনমিক পলিসি’ (New Economic Policy) বা ‘নতুন অর্থনৈতিক নীতি’। সোভিয়েত রাশিয়ার অর্থনৈতিক সংকট কাটানোর জন্য ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে বলশেভিক নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন এই নীতি প্রবর্তন করেন।

(চ) ‘রক্তাক্ত রবিবার’ বলতে কী বোঝো ?

উত্তরঃ ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ২২শে জানুয়ারি (রবিবার) রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ফাদার গ্যাপনের নেতৃত্বে একদল শান্তিকামী শ্রমিক জারের প্রাসাদের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যান। জারের রক্ষীবাহিনী এই নিরস্ত্র মিছিলের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে বহু মানুষ মারা যান, ইতিহাসের এই নির্মম ঘটনাটিই ‘রক্তাক্ত রবিবার’ (Bloody Sunday) নামে পরিচিত।

৪। সাত-আটটি বাক্যে উত্তর দাও : (যে-কোনো দুটি) : ৪×২=৮

(ক) ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের কারণগুলি লেখো।

উত্তরঃ ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের জুলাই রাজতন্ত্রের শাসক লুই ফিলিপের বিরুদ্ধে যে বিপ্লব ঘটেছিল, তা ফেব্রুয়ারি বিপ্লব নামে পরিচিত। এই বিপ্লবের প্রধান কারণগুলি ছিল—

শাসকের অযোগ্যতাঃ রাজা লুই ফিলিপ ছিলেন অত্যন্ত বুর্জোয়া ঘেঁষা এবং দূরদর্শিতাহীন। তিনি দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হন।

গিজোর নীতিঃ লুই ফিলিপের প্রধানমন্ত্রী গিজো ছিলেন চরম রক্ষণশীল। তিনি কোনো রকম সংস্কারের পক্ষে ছিলেন না এবং ফ্রান্সে ধনতন্ত্রের বিকাশ ঘটিয়ে শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করেন।

অর্থনৈতিক সংকটঃ ১৮৪৬-৪৭ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে তীব্র খরা ও শস্যহানি ঘটে। এর ফলে খাদ্যভাব, মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্ব চরম আকার ধারণ করলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ে।

ভোটাধিকারের দাবিঃ ফ্রান্সের শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত সমাজ সার্বিক ভোটাধিকারের দাবি জানাচ্ছিল, কিন্তু সরকার তা বারবার প্রত্যাখ্যান করে।

ভোজসভা নিষিদ্ধকরণঃ ১৮৪৮ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি প্যারিসে সংস্কারপন্থীদের একটি রাজনৈতিক ভোজসভা সরকার নিষিদ্ধ করলে জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং বিপ্লবের সূচনা হয়।

(খ) প্যারি কমিউন কী ?

উত্তরঃ ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিপ্লবী শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের উদ্যোগে গঠিত একটি স্বশাসিত বৈপ্লবিক সরকারকে ‘প্যারি কমিউন’ বলা হয়।

পটভূমিঃ ফরাসি-প্রুশীয় যুদ্ধে ফ্রান্সের পরাজয়ের পর দেশের থিয়েরের নেতৃত্বাধীন বুর্জোয়া সরকার প্যারিসের শ্রমিকদের ওপর দমননীতি চালায়। এর প্রতিবাদে প্যারিসের শ্রমিক শ্রেণী ১৮৭১ সালের ১৮ই মার্চ এক গণঅভ্যুত্থান ঘটায়।

গঠনঃ এই আন্দোলনের জেরে ২৮শে মার্চ প্যারিসের নাগরিকরা নিজেদের একটি স্বাধীন কাউন্সিল গঠন করেন, যা ‘প্যারি কমিউন’ নামে পরিচিত হয়।

উদ্দেশ্য ও কাজঃ এই কমিউনের মূল লক্ষ্য ছিল শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা, বিনামূল্যে শিক্ষার প্রসার, চার্চের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

পতনঃ এটি ছিল বিশ্বের প্রথম শ্রমিক শ্রেণীর সরকার। তবে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। মাত্র ৭২ দিন পর ফরাসি সরকারি সেনাবাহিনী অত্যন্ত নির্মমভাবে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে এই কমিউনের পতন ঘটায়।

(গ) ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে মহামন্দার প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তরঃ ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে ধস নামার ফলে যে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দেয়, তাকে ‘মহামন্দা’ বলা হয়। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবগুলি নিচে আলোচনা করা হলো—

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ধস: মহামন্দার ফলে বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদা ও দাম মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পায়।

ব্যাংক ও শিল্প বন্ধ: কেবল আমেরিকাতেই হাজার হাজার ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। শিল্প উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় ইউরোপ ও আমেরিকার কলকারখানাগুলোতে তালা ঝোলে।

চরম বেকারত্ব: বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন। আমেরিকা ও জার্মানিতে বেকারত্ব আকাশছোঁয়া রূপ নেয়, যা তীব্র সামাজিক অসন্তোষের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা: এই মন্দা ইউরোপের গণতান্ত্রিক সরকারগুলির প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়। জার্মানিতে এই অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়েই হিটলার ও তাঁর নাসি দলের উত্থান ঘটেছিল।

৫। পনেরো-ষোলোটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো একটি) : ৮×১=৮

(ক) ইটালির ঐক্য আন্দোলনে ক্যাভুর ও গ্যারিবল্ডির অবদান বর্ণনা করো।

উত্তরঃ ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে ইটালি বিভিন্ন ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ছিল এবং উত্তর ইটালিতে অস্ট্রিয়ার আধিপত্য ছিল। এই ইটালিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার প্রধানমন্ত্রী কাউন্ট ক্যামিলো বেনসো ডি ক্যাভুর এবং বীর বিপ্লবী জুসেপ্পে গ্যারিবল্ডির অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

কাউন্ট ক্যাভুরের অবদান—

কূটনৈতিক দূরদর্শিতা: ক্যাভুর বিশ্বাস করতেন যে বিদেশি শক্তির সাহায্য ছাড়া অস্ট্রিয়াকে ইটালি থেকে তাড়ানো অসম্ভব। তাই তিনি ইটালির সমস্যাকে আন্তর্জাতিক রূপ দেন।

ক্রিমিয়ার যুদ্ধ ও লম্বার্ডি উদ্ধার: ১৮৫৪ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধে ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে সাহায্য করে তিনি ফ্রান্সের সহানুভূতি লাভ করেন। এরপর ১৮৫৮ সালে ফরাসি সম্রাট দ্বিতীয় নেপোলিয়নের সাথে ‘প্লোম্বিয়ার্সের চুক্তি’ করে অস্ট্রিয়াকে যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং লম্বার্ডি উদ্ধার করে উত্তর ইটালিকে ঐক্যবদ্ধ করেন।

মধ্য ইটালি সংযুক্তি: তাঁর চতুর কূটনীতির প্রভাবে গণভোটের মাধ্যমে পার্মা, মোডেনা, টাস্কানি প্রভৃতি মধ্য ইটালির রাজ্যগুলি পিডমন্টের সাথে যুক্ত হয়।

জুসেপ্পে গ্যারিবল্ডির অবদান—

লালকোর্তা বাহিনী ও দক্ষিণ ইটালি জয়: চরম জাতীয়তাবাদী নেতা গ্যারিবল্ডি তাঁর ১০০০ জন ‘লালকোর্তা’ নামক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী নিয়ে ১৮৬০ সালে দক্ষিণ ইটালির সিসিলি ও নেপলস আক্রমণ করেন। সেখানকার বোরবন রাজতন্ত্রের অত্যাচারী শাসন উচ্ছেদ করে তিনি দক্ষিণ ইটালিকে মুক্ত করেন।

ব্যক্তিগত ত্যাগ ও মহত্ত্ব: গ্যারিবল্ডি সমগ্র ইটালিতে সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইটালির বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে তিনি নিজের জয় করা দক্ষিণ ইটালিকে পিডমন্টের রাজা দ্বিতীয় ভিক্টর ইমানুয়েলের হাতে নিঃশর্তে তুলে দেন এবং নিজে নিঃস্ব অবস্থায় দ্বীপে ফিরে যান।

উপসংহার: ক্যাভুরের মস্তিষ্ক এবং গ্যারিবল্ডির তরবারির যুগলবন্দীতেই শেষ পর্যন্ত রোম ও ভেনিস ছাড়া সমগ্র ইটালি ঐক্যবদ্ধ রূপ লাভ করে এবং ১৮৬১ সালে ‘ইটালি রাজ্য’ ঘোষিত হয়।

(খ) ইংল্যান্ডে প্রথম কেন শিল্পবিপ্লব হয়েছিল লেখো।

উত্তরঃ অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বের অন্যান্য দেশকে পছনে ফেলে ইংল্যান্ডেই প্রথম শিল্পবিপ্লব বা যন্ত্রের সাহায্যে উৎপাদনে আমূল পরিবর্তন ঘটেছিল। এর পেছনে একাধিক অনুকূল ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ ছিল:

খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য: ইংল্যান্ডের একই অঞ্চলে লোহা ও কয়লার খনিগুলি পাশাপাশি অবস্থিত ছিল। ফলে ভারী যন্ত্রপাতি তৈরি এবং তা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান খুব সহজেই পাওয়া যেত।

মূলধনের সহজলভ্যতা: অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডের বৈদেশিক বাণিজ্য ও ঔপনিবেশিক লুণ্ঠন থেকে প্রচুর উদ্বৃত্ত পুঁজি বা মূলধন জমা হয়েছিল। দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা উন্নত থাকায় শিল্পপতিরা খুব কম সুদে ঋণ পেতেন।

শ্রমিকের জোগান: ‘ঘেরা প্রথা’ বা এনক্লোজার সিস্টেমের ফলে গ্রাম থেকে জমিহারা বহু ক্ষুদ্র কৃষক ও খেতমজুর শহরে চলে আসেন। এই উদ্বৃত্ত জনসংখ্যা কারখানায় সস্তায় শ্রম দিতে বাধ্য হয়।

প্রযুক্তির আবিষ্কার: ইংল্যান্ডের বিজ্ঞানমনস্ক পরিবেশ নতুন নতুন আবিষ্কারে জোয়ার এনেছিল। জন কে-র ফ্লাইং শাটল, জেমস হারগ্রিভসের স্পিনিং জেনি, রিচার্ড আরকরাইটের ওয়াটার ফ্রেম এবং জেমস ওয়াটের স্টিম ইঞ্জিন বস্ত্র ও ভারী শিল্পকে বহুগুণ সচল করে তোলে।

উপনিবেশ ও বাজার: এশিয়া ও আমেরিকায় ইংল্যান্ডের বিশাল সাম্রাজ্য বা উপনিবেশ ছিল। এই উপনিবেশগুলি একদিকে যেমন সস্তায় কাঁচামাল সরবরাহের উৎস ছিল, অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির নিশ্চিত বাজার হিসেবে কাজ করেছিল।

স্থিতিশীল রাজনীতি ও ভৌগোলিক অবস্থান: ১৬৮৮ সালের গৌরবময় বিপ্লবের পর ইংল্যান্ডে এক স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়। পাশাপাশি চারদিকে সমুদ্র থাকায় বিদেশি আক্রমণ থেকে মুক্ত থেকে ব্যবসায়ীরা শান্তিতে বাণিজ্য করতে পেরেছিলেন।

(গ) জাতিসংঘ বা লিগ অব নেশনস সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) ভয়াবহ ধ্বংসলীলার পর বিশ্বের শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রনেতারা ভবিষ্যতে আর একটি বিশ্বযুদ্ধ রুখতে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১০ই জানুয়ারি ‘জাতিসংঘ’ বা ‘লিগ অব নেশনস’ প্রতিষ্ঠা করেন।

পটভূমি ও প্রতিষ্ঠাতা: মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসনের বিখ্যাত ‘চৌদ্দ দফা নীতি’-র ওপর ভিত্তি করে প্যারিসের শান্তি সম্মেলনে এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি গড়ে ওঠে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে এর প্রধান কার্যালয় স্থাপিত হয়।

মূল উদ্দেশ্য: জাতিসংঘের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি ছিল— আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করা, সদস্য রাষ্ট্রগুলির স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষা করা, চোরাগোপ্তা কূটনীতি বন্ধ করা এবং বিশ্বজুড়ে নিরস্ত্রীকরণ বা যুদ্ধাস্ত্রের পরিমাণ হ্রাস করা।

সাংগঠনিক কাঠামো: জাতিসংঘ মূলত পাঁচটি প্রধান বিভাগের মাধ্যমে কাজ করত— সাধারণ সভা, পরিষদ, সচিবালয়, আন্তর্জাতিক আদালত এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা।

সাফল্য: ১৯২০-এর দশকে জাতিসংঘ কিছু ছোটখাটো আন্তর্জাতিক বিরোধের সফল সমাধান করেছিল। যেমন— অল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের বিতর্ক, এবং গ্রিস ও বুলগেরিয়ার সীমান্ত সংঘর্ষ থামানো। এছাড়া যুদ্ধবন্দীদের উদ্ধার ও সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে এটি ভালো কাজ করে।

ব্যর্থতা ও পতন: বড় শক্তির আগ্রাসন থামাতে জাতিসংঘ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ১৯৩০-এর দশকে জাপানের মাঞ্চুরিয়া দখল, ইতালির আবিসিনিয়া আক্রমণ এবং হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণের বিরুদ্ধে লিগ কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী না থাকা এবং আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশের সদস্য না হওয়া এর পতনের প্রধান কারণ ছিল। শেষ পর্যন্ত ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে জাতিসংঘের চূড়ান্ত ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়।

📌আরও পড়ুনঃ

📌নবম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সমস্ত বিষয় | Class 9 All Subject Unit Test Question Paper Click Here

📌 নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply